সংবাদ শিরোনাম ::
অ্যাভিয়েশন খাতে বিনিয়োগের আগ্রহ ব্রিটিশ সরকারের ১৫ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক মাধ্যম নিষিদ্ধ করলো আমিরাত বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে পাকিস্তানের হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ বর্তমান সংসদের কোনো সদস্য ঋণখেলাপি নন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চীনের রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ নীলফামারীতে পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত, সম্মাননা দেয়া হলো তিনটি স্কুলকে আত্রাইয়ে ৫০ জাতের দেশীয় ফলের প্রদর্শনী নিয়ে ব্যতিক্রমী ফল উৎসব অনুষ্ঠিত নি’হ’ত নন্দিনীর বাড়িতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ছুটে গেলেন ত্রাণমন্ত্রী ঝালকাঠি পৌর প্রশাসক ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী খেলায় ৯নং ওয়ার্ডের জয় কালিহাতীতে মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা, অভিযুক্ত গ্রেপ্তার

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা ব্যবস্থাকে জোরদারের আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর নেতৃত্বে বাংলাদেশ শান্তিরক্ষাকে শুধু একটি দায়িত্ব নয়, মানবতার প্রতি গভীর নৈতিক অঙ্গীকার হিসেবে বিবেচনা করে।

মরক্কোর রাজধানী রাবাত-এ অনুষ্ঠিত ফরাসিভাষী দেশগুলোর শান্তিরক্ষা বিষয়ক দ্বিতীয় মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বহুপাক্ষিকতার প্রতি বাংলাদেশের অবিচল অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশ অন্যতম বৃহৎ অবদানকারী দেশ। বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আত্মোৎসর্গকারী ১৭৪ জন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীর প্রতিও তিনি গভীর শ্রদ্ধা জানান।

তিনি নারী শান্তিরক্ষীদের মাধ্যমে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান ও কার্যকর অবদানের বিষয়টি তুলে ধরেন। একই সঙ্গে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-এর গড়ে তোলা এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া-এর সময়ে আরও শক্তিশালী হওয়া বাংলাদেশের শান্তিমুখী পররাষ্ট্রনীতির ধারাবাহিকতার কথাও উল্লেখ করেন।

প্রতিমন্ত্রী সামাজিক সুরক্ষা, শিক্ষা সংস্কার এবং নারী ক্ষমতায়নে চলমান জাতীয় উদ্যোগগুলোর ওপর গুরুত্বারোপ করে এগুলোকে টেকসই শান্তির অপরিহার্য ভিত্তি হিসেবে অভিহিত করেন। পাশাপাশি ‘নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা’ কর্মসূচির গুরুত্ব তুলে ধরে আরও কার্যকর শান্তিরক্ষা ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় এর প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন।

আধুনিক শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে উদ্ভূত চ্যালেঞ্জগুলোর মধ্যে ভুল তথ্য প্রচার, ডিজিটাল হয়রানি এবং প্রযুক্তির নৈতিক ও দায়িত্বশীল ব্যবহারের বিষয়েও দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী ও যুগোপযোগী করার আহ্বান জানিয়ে শামা ওবায়েদ বলেন, সুস্পষ্ট ও বাস্তবসম্মত ম্যান্ডেট, পর্যাপ্ত সম্পদ, সৈন্য ও পুলিশ সরবরাহকারী দেশগুলোর সঙ্গে বর্ধিত সমন্বয় এবং শান্তিরক্ষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে আরও কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন। তিনি বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পিস সাপোর্ট অপারেশন ট্রেনিং (বিআইপিএসওটি)-এর মতো প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রাক-মোতায়েন প্রশিক্ষণ জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং পরিবেশবান্ধব শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

মরক্কো ও ফ্রান্স সরকারের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ সম্মেলনের প্রথম আয়োজন ২০১৬ সালে প্যারিস-এ অনুষ্ঠিত হয়েছিল। অনুষ্ঠানে মরক্কোয় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত সাদিয়া ফাইজুন্নেসা প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন। সন্ধ্যায় শামা ওবায়েদ রাবাতের ফোর সিজনস হোটেল রাবাত অ্যাট কাসর আল বাহর-এ অনুষ্ঠিত ‘গ্লোবাল গ্রোথ কনফারেন্স ২০২৬’-এর “বিভাজনের ভূ-রাজনীতি: ক্ষমতা, উত্তেজনা বৃদ্ধি ও কৌশলগত পুনর্গঠন” শীর্ষক অধিবেশনে মূল বক্তা হিসেবে অংশ নেন। সেখানে তিনি পরিবর্তিত বৈশ্বিক ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতা, ক্ষমতার ভারসাম্যের পরিবর্তন এবং আন্তর্জাতিক বিভাজনের কৌশলগত প্রভাবের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অ্যাভিয়েশন খাতে বিনিয়োগের আগ্রহ ব্রিটিশ সরকারের

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা ব্যবস্থাকে জোরদারের আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর

আপডেট সময় ১২:০৫:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর নেতৃত্বে বাংলাদেশ শান্তিরক্ষাকে শুধু একটি দায়িত্ব নয়, মানবতার প্রতি গভীর নৈতিক অঙ্গীকার হিসেবে বিবেচনা করে।

মরক্কোর রাজধানী রাবাত-এ অনুষ্ঠিত ফরাসিভাষী দেশগুলোর শান্তিরক্ষা বিষয়ক দ্বিতীয় মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বহুপাক্ষিকতার প্রতি বাংলাদেশের অবিচল অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশ অন্যতম বৃহৎ অবদানকারী দেশ। বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আত্মোৎসর্গকারী ১৭৪ জন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীর প্রতিও তিনি গভীর শ্রদ্ধা জানান।

তিনি নারী শান্তিরক্ষীদের মাধ্যমে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান ও কার্যকর অবদানের বিষয়টি তুলে ধরেন। একই সঙ্গে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-এর গড়ে তোলা এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া-এর সময়ে আরও শক্তিশালী হওয়া বাংলাদেশের শান্তিমুখী পররাষ্ট্রনীতির ধারাবাহিকতার কথাও উল্লেখ করেন।

প্রতিমন্ত্রী সামাজিক সুরক্ষা, শিক্ষা সংস্কার এবং নারী ক্ষমতায়নে চলমান জাতীয় উদ্যোগগুলোর ওপর গুরুত্বারোপ করে এগুলোকে টেকসই শান্তির অপরিহার্য ভিত্তি হিসেবে অভিহিত করেন। পাশাপাশি ‘নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা’ কর্মসূচির গুরুত্ব তুলে ধরে আরও কার্যকর শান্তিরক্ষা ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় এর প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন।

আধুনিক শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে উদ্ভূত চ্যালেঞ্জগুলোর মধ্যে ভুল তথ্য প্রচার, ডিজিটাল হয়রানি এবং প্রযুক্তির নৈতিক ও দায়িত্বশীল ব্যবহারের বিষয়েও দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী ও যুগোপযোগী করার আহ্বান জানিয়ে শামা ওবায়েদ বলেন, সুস্পষ্ট ও বাস্তবসম্মত ম্যান্ডেট, পর্যাপ্ত সম্পদ, সৈন্য ও পুলিশ সরবরাহকারী দেশগুলোর সঙ্গে বর্ধিত সমন্বয় এবং শান্তিরক্ষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে আরও কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন। তিনি বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পিস সাপোর্ট অপারেশন ট্রেনিং (বিআইপিএসওটি)-এর মতো প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রাক-মোতায়েন প্রশিক্ষণ জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং পরিবেশবান্ধব শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

মরক্কো ও ফ্রান্স সরকারের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ সম্মেলনের প্রথম আয়োজন ২০১৬ সালে প্যারিস-এ অনুষ্ঠিত হয়েছিল। অনুষ্ঠানে মরক্কোয় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত সাদিয়া ফাইজুন্নেসা প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন। সন্ধ্যায় শামা ওবায়েদ রাবাতের ফোর সিজনস হোটেল রাবাত অ্যাট কাসর আল বাহর-এ অনুষ্ঠিত ‘গ্লোবাল গ্রোথ কনফারেন্স ২০২৬’-এর “বিভাজনের ভূ-রাজনীতি: ক্ষমতা, উত্তেজনা বৃদ্ধি ও কৌশলগত পুনর্গঠন” শীর্ষক অধিবেশনে মূল বক্তা হিসেবে অংশ নেন। সেখানে তিনি পরিবর্তিত বৈশ্বিক ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতা, ক্ষমতার ভারসাম্যের পরিবর্তন এবং আন্তর্জাতিক বিভাজনের কৌশলগত প্রভাবের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন।