সংবাদ শিরোনাম ::
কেপ ভার্দে ও আর্জেন্টিনার মধ্যে কে জিতবে জানালেন ঘানার সেই তান্ত্রিক প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বাজেট-পরবর্তী নৈশভোজ বাতিল, সাশ্রয় ৫০ লাখ টাকা শত্রুতার জেরে পেট্রোল ঢেলে আগুন, পুড়লো বসতবাড়ি ৫ আগস্টের পর ভাগ্য বদলে গেছে জামায়াত নেতার ছেলের রোহিঙ্গা প্রকল্পের অর্থে প্রতিমন্ত্রীর পিএস-এপিএসের ইউরোপ সফর, উঠছে নানা প্রশ্ন ঢাকার গুলিস্তানে সিলগালা ভেঙে পার্কিংয়ে সহস্রাধিক অবৈধ দোকান কাজ না করেই সরকারি প্রকল্পের ১২ কোটি টাকা নিয়ে গেল ঠিকাদার বিপিসির আহম্মদুল্লাহর ঢাকায় বহুতল ভবন, গ্রামে বিলাসবহুল ডুপ্লেক্স বাড়ি রাষ্ট্রের টাকায় ব্যক্তিগত ‘ভবিষ্যৎ’ গড়লেন সামি! নেইমারকে না নামানোর কারণ জানালেন আনচেলত্তি

নৌ মন্ত্রণালয়ে ১৬ সংস্থা, তবুও ঘাটতি ও অপূর্ণতা : নৌ পরিবহন মন্ত্রী

নৌ পরিবহন খাতের শ্রমিক, নাবিক, মালিক ও ব্যবস্থাপনায় সংশ্লিষ্ট সবার মধ্যে অসন্তোষ ও সমন্বয়হীনতা রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেছেন, একটি নৌযাত্রাকে নির্বিঘ্ন করতে যত দপ্তর ও সংস্থা প্রয়োজন, তার সবই দেশে রয়েছে। শুধু নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের অধীনেই প্রায় ১৬টি সংস্থা কাজ করছে। তারপরও ব্যবস্থাপনায় ঘাটতি ও অপূর্ণতা থেকে যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, এর দায় এককভাবে কারও নয়, বরং সবার। শ্রমিকরা দেশ নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন, কিন্তু রাষ্ট্রকে এগিয়ে নিতে মালিক, শ্রমিক ও কর্মকর্তাদের সম্মিলিতভাবে দায়িত্বশীল হতে হবে।
রোববার (১০ মে) রাজধানীর ঢাকা লেডিস ক্লাবে নৌ পরিবহন অধিদপ্তর আয়োজিত নৌ নিরাপত্তা সপ্তাহ ২০২৬ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
নৌপরিবহনমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি এখনও অনেকাংশে শ্রমনির্ভর। গার্মেন্টস শ্রমিক ও প্রবাসী শ্রমিকদের অবদান ছাড়া দেশের অর্থনীতি সচল রাখা সম্ভব নয়। একই সঙ্গে দেশের ভেতরের শ্রমজীবী মানুষেরাও নীরবে রাষ্ট্র গঠনে কাজ করে যাচ্ছেন। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় প্রাকৃতিক আশীর্বাদগুলোর একটি হলো প্রায় ১৬ হাজার কিলোমিটার নৌপথ।
অথচ এই বিশাল সম্পদকে সঠিকভাবে কাজে লাগানো যাচ্ছে না। বর্তমানে সাড়ে সাত হাজার কিলোমিটার নৌপথ সচল রাখা হয়েছে, আরও ১২০০ কিলোমিটারে ড্রেজিং চলছে এবং অতিরিক্ত সাড়ে চার হাজার কিলোমিটার নৌপথ সচল করার সুযোগ রয়েছে। তবে নৌযান ও ব্যবস্থাপনার সঙ্গে জড়িতদের মধ্যে এখনও জরাজীর্ণতা ও শৃঙ্খলার অভাব রয়েছে।
নৌ নিরাপত্তা সপ্তাহ উদযাপনের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, রমজান মাস যেমন মানুষকে আত্মশুদ্ধি ও সংযমের অনুশীলন শেখায়, তেমনি এই ধরনের আয়োজনও দায়িত্ব ও কর্তব্যে ফিরে আসার সুযোগ তৈরি করে। কর্মব্যস্ততা, সামাজিক চাপ ও ব্যক্তিগত স্বার্থের কারণে মানুষ দায়িত্ব থেকে বিচ্যুত হয়। তাই এ ধরনের সপ্তাহ পালন সবাইকে আবার সচেতন ও দায়িত্বশীল হতে সহায়তা করে। মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়মিত বৈঠকে বিভিন্ন সমস্যা ও বিচ্যুতি চিহ্নিত করে সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে। জনগণের স্বার্থে নিরাপদ নৌযাত্রা নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য।
নৌযাত্রাকে আরও নিরাপদ, শৃঙ্খলাপূর্ণ ও উপভোগ্য করতে মালিক, শ্রমিক ও সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানিয়ে রবিউল আলম বলেন, সদরঘাটে ঈদের সময় আগের চেয়ে ভালো ব্যবস্থাপনা দেখা গেছে, তবে আরও উন্নতির সুযোগ রয়েছে। এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে দুই থেকে তিন বছরের মধ্যেই দেশের নৌ ব্যবস্থাপনার চেহারা বদলে দেওয়া সম্ভব। শুধু আর্থিক বিনিয়োগে নয়, বরং মেধা, শ্রম, ত্যাগ ও দায়িত্ববোধের বিনিয়োগের মাধ্যমেই একটি দেশ সমৃদ্ধ হয়।
কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, নিজেদের পরিবার নিরাপদ হওয়ার পরে সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য আরও বেশি অবদান রাখতে হবে। তাহলেই দেশের পরিবর্তন সম্ভব হবে।
ঈদকে সামনে রেখে নৌপথে যাত্রীসেবায় আরও সতর্ক থাকার নির্দেশনা দিয়ে তিনি বলেন, গতবারের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার আরও প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। মালিক ও শ্রমিকরা ইতোমধ্যে সহযোগিতামূলক মনোভাব দেখিয়েছেন। ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থ নয়, রাষ্ট্র ও জনগণের সার্বজনীন স্বার্থে যেকোনো প্রয়োজনীয় উদ্যোগ সরকার গ্রহণ করবে।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান, নৌপরিবহন সচিব জাকারিয়া, বিআইডব্লিউটিএ-এর চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল আরিফ আহমেদ মোস্তফা, নৌপরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কমডোর মো. শফিউল বারী, চিফ ইঞ্জিনিয়ার অ্যান্ড শিপ সার্ভেয়ার মির্জা সাইফুর রহমান প্রমুখ।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কেপ ভার্দে ও আর্জেন্টিনার মধ্যে কে জিতবে জানালেন ঘানার সেই তান্ত্রিক

নৌ মন্ত্রণালয়ে ১৬ সংস্থা, তবুও ঘাটতি ও অপূর্ণতা : নৌ পরিবহন মন্ত্রী

আপডেট সময় ০১:৩৯:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬

নৌ পরিবহন খাতের শ্রমিক, নাবিক, মালিক ও ব্যবস্থাপনায় সংশ্লিষ্ট সবার মধ্যে অসন্তোষ ও সমন্বয়হীনতা রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেছেন, একটি নৌযাত্রাকে নির্বিঘ্ন করতে যত দপ্তর ও সংস্থা প্রয়োজন, তার সবই দেশে রয়েছে। শুধু নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের অধীনেই প্রায় ১৬টি সংস্থা কাজ করছে। তারপরও ব্যবস্থাপনায় ঘাটতি ও অপূর্ণতা থেকে যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, এর দায় এককভাবে কারও নয়, বরং সবার। শ্রমিকরা দেশ নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন, কিন্তু রাষ্ট্রকে এগিয়ে নিতে মালিক, শ্রমিক ও কর্মকর্তাদের সম্মিলিতভাবে দায়িত্বশীল হতে হবে।
রোববার (১০ মে) রাজধানীর ঢাকা লেডিস ক্লাবে নৌ পরিবহন অধিদপ্তর আয়োজিত নৌ নিরাপত্তা সপ্তাহ ২০২৬ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
নৌপরিবহনমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি এখনও অনেকাংশে শ্রমনির্ভর। গার্মেন্টস শ্রমিক ও প্রবাসী শ্রমিকদের অবদান ছাড়া দেশের অর্থনীতি সচল রাখা সম্ভব নয়। একই সঙ্গে দেশের ভেতরের শ্রমজীবী মানুষেরাও নীরবে রাষ্ট্র গঠনে কাজ করে যাচ্ছেন। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় প্রাকৃতিক আশীর্বাদগুলোর একটি হলো প্রায় ১৬ হাজার কিলোমিটার নৌপথ।
অথচ এই বিশাল সম্পদকে সঠিকভাবে কাজে লাগানো যাচ্ছে না। বর্তমানে সাড়ে সাত হাজার কিলোমিটার নৌপথ সচল রাখা হয়েছে, আরও ১২০০ কিলোমিটারে ড্রেজিং চলছে এবং অতিরিক্ত সাড়ে চার হাজার কিলোমিটার নৌপথ সচল করার সুযোগ রয়েছে। তবে নৌযান ও ব্যবস্থাপনার সঙ্গে জড়িতদের মধ্যে এখনও জরাজীর্ণতা ও শৃঙ্খলার অভাব রয়েছে।
নৌ নিরাপত্তা সপ্তাহ উদযাপনের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, রমজান মাস যেমন মানুষকে আত্মশুদ্ধি ও সংযমের অনুশীলন শেখায়, তেমনি এই ধরনের আয়োজনও দায়িত্ব ও কর্তব্যে ফিরে আসার সুযোগ তৈরি করে। কর্মব্যস্ততা, সামাজিক চাপ ও ব্যক্তিগত স্বার্থের কারণে মানুষ দায়িত্ব থেকে বিচ্যুত হয়। তাই এ ধরনের সপ্তাহ পালন সবাইকে আবার সচেতন ও দায়িত্বশীল হতে সহায়তা করে। মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়মিত বৈঠকে বিভিন্ন সমস্যা ও বিচ্যুতি চিহ্নিত করে সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে। জনগণের স্বার্থে নিরাপদ নৌযাত্রা নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য।
নৌযাত্রাকে আরও নিরাপদ, শৃঙ্খলাপূর্ণ ও উপভোগ্য করতে মালিক, শ্রমিক ও সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানিয়ে রবিউল আলম বলেন, সদরঘাটে ঈদের সময় আগের চেয়ে ভালো ব্যবস্থাপনা দেখা গেছে, তবে আরও উন্নতির সুযোগ রয়েছে। এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে দুই থেকে তিন বছরের মধ্যেই দেশের নৌ ব্যবস্থাপনার চেহারা বদলে দেওয়া সম্ভব। শুধু আর্থিক বিনিয়োগে নয়, বরং মেধা, শ্রম, ত্যাগ ও দায়িত্ববোধের বিনিয়োগের মাধ্যমেই একটি দেশ সমৃদ্ধ হয়।
কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, নিজেদের পরিবার নিরাপদ হওয়ার পরে সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য আরও বেশি অবদান রাখতে হবে। তাহলেই দেশের পরিবর্তন সম্ভব হবে।
ঈদকে সামনে রেখে নৌপথে যাত্রীসেবায় আরও সতর্ক থাকার নির্দেশনা দিয়ে তিনি বলেন, গতবারের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার আরও প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। মালিক ও শ্রমিকরা ইতোমধ্যে সহযোগিতামূলক মনোভাব দেখিয়েছেন। ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থ নয়, রাষ্ট্র ও জনগণের সার্বজনীন স্বার্থে যেকোনো প্রয়োজনীয় উদ্যোগ সরকার গ্রহণ করবে।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান, নৌপরিবহন সচিব জাকারিয়া, বিআইডব্লিউটিএ-এর চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল আরিফ আহমেদ মোস্তফা, নৌপরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কমডোর মো. শফিউল বারী, চিফ ইঞ্জিনিয়ার অ্যান্ড শিপ সার্ভেয়ার মির্জা সাইফুর রহমান প্রমুখ।