সংবাদ শিরোনাম ::
অ্যাভিয়েশন খাতে বিনিয়োগের আগ্রহ ব্রিটিশ সরকারের ১৫ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক মাধ্যম নিষিদ্ধ করলো আমিরাত বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে পাকিস্তানের হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ বর্তমান সংসদের কোনো সদস্য ঋণখেলাপি নন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চীনের রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ নীলফামারীতে পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত, সম্মাননা দেয়া হলো তিনটি স্কুলকে আত্রাইয়ে ৫০ জাতের দেশীয় ফলের প্রদর্শনী নিয়ে ব্যতিক্রমী ফল উৎসব অনুষ্ঠিত নি’হ’ত নন্দিনীর বাড়িতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ছুটে গেলেন ত্রাণমন্ত্রী ঝালকাঠি পৌর প্রশাসক ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী খেলায় ৯নং ওয়ার্ডের জয় কালিহাতীতে মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা, অভিযুক্ত গ্রেপ্তার

চীনের ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা জারির প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বৈধ নথিপত্র বিহীন নাগরিকদের ফিরিয়ে নিতে গাফিলতি করায় চীনের ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা জারির প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন প্রশাসনের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

রয়টার্সকে ওই কর্মকর্তা আরও বলেছেন, চীন যদি শিগগিরিই তাদের নথিবিহীন নাগরিকদের ফিরিয়ে না নেয়— তালে এই পরিকল্পনা কার্যকর করবে ওয়াশিংটন এবং যেসব অবৈধ চীনা অভিবাসনপ্রত্যাশী যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন— তাদের ফেরত পাঠানো শুরু করবে।

আগামী ১৪ এবং ১৫ মে বেইজিং সফরে যাবেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং এই সফরটি তার জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। কারণ তার এই সফরের উদ্দেশ্য হলো বেইজিংয়ের কাছ থেকে এমন কিছু বাণিজ্যিক সুবিধা ও ছাড় আদায় করা, যা আগামী নভেম্বরে যুক্তরাষ্টের পার্লামেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্পের দল রিপাবলিকান পার্টি ভোটারদের সামনে হাজির করতে পারবে।

এমন একটি সময়ে যুক্তরাষ্ট্র চীনের ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা জারির প্রস্তুতি নিচ্ছে।

তবে যুক্তরাষ্ট্রকে ‘অবৈধ অভিবাসীমুক্ত’ করার যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হয়েছেন ট্রাম্প, তা পালন করতে হলে তাকে কখনও না কখনও এ পদক্ষেপ নিতে হতোই।

কারণ সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের আমলে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চলীয় সীমান্ত দিয়ে প্রায় নিয়মিতই শত শত, হাজার হাজার চীনা নাগরিক প্রবেশ করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি তথ্য অনুসারে— বর্তমানে দেশটিতে বসবাস করছেন ১ লাখেরও বেশি নথিবিহীন চীনা নাগরিক। তাদের মধ্যে ৩০ হাজারেরও বেশি সংখ্যককে দেশে ফেরত পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

এ ব্যাপারে চীনকে জানানো হলে দেশটির সরকার ২০২৫ সালে কয়েক দফায় ৩ হাজার নাগরিককে ফেরত নিয়ে গেছে; কিন্তু এই প্রক্রিয়াটি থেমে আছে ৬ মাস ধরে। গত ৬ মাসে একজন নাগরিককেও ফেরত নেয়নি চীন।

ট্রাম্প প্রশাসনের ওই কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এই অভিবাসীদের ফেরত নিতে বেইজিংয়ের সঙ্গে কয়েকবার যোগাযোগ করেছে ওয়াশিংটন; কিন্তু কোনো কার্যকর সাড়া বেইজিংয়ের কাছ থেকে এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।

“উপরন্তু, বেইজিং পরোক্ষভাবে জানিয়েছে এ ইস্যুতে তারা আমাদের পূর্ণমাত্রায় সহযোগিতা করতে আগ্রহী নয়। বেইজিংয়ের এই অসহযোগিতাপূর্ণ মনোভাব স্বাভাবিকভাবেই অদূর ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে চীনের বৈধ দর্শনার্থীদের প্রবেশেও বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।”

রয়টার্সকে ওই কর্মকর্তা জানান, তারা আরও কিছুদিন ধৈর্য ধরবেন। তারপরও যদি কিছু না হয়— সেক্ষেত্রে প্রথম পর্যায়ে চীনা দর্শনার্থীদের জন্য ভিসা ফি ব্যাপকভাবে বাড়ানো, ভিসা বাতিলের হার বৃদ্ধি ইত্যাদি পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং শেষে স্থায়ীভাবে ভিসা নিষেধাজ্ঞা জারি হবে।

এ ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া জানতে ওয়াশিংটনের চীনা দূতাবাসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল রয়টার্স, কিন্তু কোনো কর্মকর্তা এ ব্যাপারে মন্তব্য করতে চাননি।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অ্যাভিয়েশন খাতে বিনিয়োগের আগ্রহ ব্রিটিশ সরকারের

চীনের ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা জারির প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

আপডেট সময় ০৪:২৭:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বৈধ নথিপত্র বিহীন নাগরিকদের ফিরিয়ে নিতে গাফিলতি করায় চীনের ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা জারির প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন প্রশাসনের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

রয়টার্সকে ওই কর্মকর্তা আরও বলেছেন, চীন যদি শিগগিরিই তাদের নথিবিহীন নাগরিকদের ফিরিয়ে না নেয়— তালে এই পরিকল্পনা কার্যকর করবে ওয়াশিংটন এবং যেসব অবৈধ চীনা অভিবাসনপ্রত্যাশী যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন— তাদের ফেরত পাঠানো শুরু করবে।

আগামী ১৪ এবং ১৫ মে বেইজিং সফরে যাবেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং এই সফরটি তার জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। কারণ তার এই সফরের উদ্দেশ্য হলো বেইজিংয়ের কাছ থেকে এমন কিছু বাণিজ্যিক সুবিধা ও ছাড় আদায় করা, যা আগামী নভেম্বরে যুক্তরাষ্টের পার্লামেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্পের দল রিপাবলিকান পার্টি ভোটারদের সামনে হাজির করতে পারবে।

এমন একটি সময়ে যুক্তরাষ্ট্র চীনের ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা জারির প্রস্তুতি নিচ্ছে।

তবে যুক্তরাষ্ট্রকে ‘অবৈধ অভিবাসীমুক্ত’ করার যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হয়েছেন ট্রাম্প, তা পালন করতে হলে তাকে কখনও না কখনও এ পদক্ষেপ নিতে হতোই।

কারণ সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের আমলে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চলীয় সীমান্ত দিয়ে প্রায় নিয়মিতই শত শত, হাজার হাজার চীনা নাগরিক প্রবেশ করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি তথ্য অনুসারে— বর্তমানে দেশটিতে বসবাস করছেন ১ লাখেরও বেশি নথিবিহীন চীনা নাগরিক। তাদের মধ্যে ৩০ হাজারেরও বেশি সংখ্যককে দেশে ফেরত পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

এ ব্যাপারে চীনকে জানানো হলে দেশটির সরকার ২০২৫ সালে কয়েক দফায় ৩ হাজার নাগরিককে ফেরত নিয়ে গেছে; কিন্তু এই প্রক্রিয়াটি থেমে আছে ৬ মাস ধরে। গত ৬ মাসে একজন নাগরিককেও ফেরত নেয়নি চীন।

ট্রাম্প প্রশাসনের ওই কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এই অভিবাসীদের ফেরত নিতে বেইজিংয়ের সঙ্গে কয়েকবার যোগাযোগ করেছে ওয়াশিংটন; কিন্তু কোনো কার্যকর সাড়া বেইজিংয়ের কাছ থেকে এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।

“উপরন্তু, বেইজিং পরোক্ষভাবে জানিয়েছে এ ইস্যুতে তারা আমাদের পূর্ণমাত্রায় সহযোগিতা করতে আগ্রহী নয়। বেইজিংয়ের এই অসহযোগিতাপূর্ণ মনোভাব স্বাভাবিকভাবেই অদূর ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে চীনের বৈধ দর্শনার্থীদের প্রবেশেও বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।”

রয়টার্সকে ওই কর্মকর্তা জানান, তারা আরও কিছুদিন ধৈর্য ধরবেন। তারপরও যদি কিছু না হয়— সেক্ষেত্রে প্রথম পর্যায়ে চীনা দর্শনার্থীদের জন্য ভিসা ফি ব্যাপকভাবে বাড়ানো, ভিসা বাতিলের হার বৃদ্ধি ইত্যাদি পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং শেষে স্থায়ীভাবে ভিসা নিষেধাজ্ঞা জারি হবে।

এ ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া জানতে ওয়াশিংটনের চীনা দূতাবাসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল রয়টার্স, কিন্তু কোনো কর্মকর্তা এ ব্যাপারে মন্তব্য করতে চাননি।