সাভার উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। ভবনের নির্মাণকাজ অসম্পূর্ণ রেখেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পুরো বিল তুলে নিয়েছে বলে জানা গেছে। এই দুর্নীতির সাথে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) তৎকালীন উপজেলা প্রকৌশলী সরাসরি জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে। অন্যদিকে, কাজ অসম্পূর্ণ থাকা সত্ত্বেও ভবন বুঝে নেওয়ায় তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) ভূমিকা নিয়ে নানা গুঞ্জন ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, সাভার মডেল মসজিদের পাশে ২০২১-২০২২ অর্থবছরে দুই কোটি ৬৬ লাখ ৪৭ হাজার ৯২৯ টাকা ব্যয়ে তিন তলাবিশিষ্ট ‘সাভার উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স’ ভবনটির কাজ শেষ হওয়ার আগেই নথিপত্রে কাজ সম্পন্ন দেখিয়ে পুরো টাকা তুলে নেয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স কনটেমপোরারি’। ভবনটির প্রথম ও দ্বিতীয় তলায় দোকান এবং তৃতীয় তলায় মুক্তিযোদ্ধাদের অফিস। ভবনটি নির্মাণের পর সেখানে সোলার প্যানেল, জেনারেটর, মুক্তিযোদ্ধাদের অফিসের জন্য স্মার্ট টিভি, কম্পিউটার, মনিটর, ফার্নিচার, ইলেকট্রিক মালামাল, জাদুঘরের জন্য ৬৩টি বই এবং ১০টি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বাঁধাই করা ছবিসহ সাজানো-গোছানো থাকার কথা ছিল। তবে কাগজ-কলমে সাজানো থাকলেও বাস্তবে এর অস্তিত্ব নেই। তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০২৪ সালের ৩০ জুন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে কাগজ-কলমে ভবনটি বুঝে রাখেন তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাহুল চন্দ, উপজেলা প্রকৌশলী সালেহ হাসান প্রামাণিক ও উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. আব্দুর রাজ্জাক।
ভবনটি কাগজে-কলমে বুঝে নেওয়ার পর প্রায় দুই বছরেও স্থানীয় প্রশাসন তা মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে হস্তান্তর করেনি। কেন অসম্পূর্ণ ভবন বুঝে নেওয়া হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মুক্তিযোদ্ধারা। মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক জসিম উদ্দিন বলেন, আমি কয়েকবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলামের সাথে দেখা করেছি, কিন্তু তিনি শুধু আশ্বাসই দিচ্ছেন। ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের সময় সামান্য কিছু ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বর্তমানে বসার জায়গা না থাকায় আমরা বিভিন্ন স্থানে বসে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করছি।
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, অসম্পূর্ণ ভবনটি সংস্কার এবং নতুন করে আসবাবপত্র ও ইলেকট্রিক্যাল সামগ্রী কেনার অজুহাতে বর্তমান উপজেলা প্রকৌশলী মো. মাঈন উদ্দিন ও উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. সাইদুর রহমান ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে ৪১ লক্ষ ৪০ হাজার ১৯৬ টাকার বরাদ্দ চেয়েছেন। জসিম উদ্দিন বলেন, সংস্কারের জন্য বড়জোর ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা লাগার কথা, সেখানে এত বিশাল অঙ্কের বরাদ্দ চাওয়ায় নতুন করে অর্থ আত্মসাতের আশঙ্কা রয়েছে।
সাভার উপজেলা প্রকৌশলী মো. মাঈন উদ্দিন বলেন, এটি আমার সময়ের কাজ নয়। আমি ভবনটি পরিদর্শন করে অনেক অসংগতি দেখেছি এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। ফয়সালা না হওয়া পর্যন্ত ঠিকাদারের জামানত ছাড়া হবে না।, সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ভবনটি কীভাবে বুঝে নেওয়া হয়েছে তা আমরা তদন্ত করছি। ইতোমধ্যে মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসককে মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে। আমরা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ও অসম্পূর্ণ কাজের তালিকা তৈরি করছি। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের জামানত আটকে রাখা হয়েছে। মালামাল সরবরাহ না করা হলে বা চুরি হয়ে থাকলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স কনটেমপোরারি’-এর ফোন নম্বর না পাওয়ায় তাদের বক্তব্য গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি।
নিজস্ব প্রতিবেদক 
























