গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাইফুজ্জামানের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, অর্থ আত্মসাৎ ও দুর্নীতির মাধ্যমে প্রায় ছয়শ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তার চাকুরির মেয়াদকালে বিভিন্ন সময় তিনি দুর্নীতির মাধ্যমে এই অর্থের মালিক হয়েছেন বলে জানা যায়। দুর্নীতির দায়ে বরখাস্ত হওয়া এই কর্মকর্তা সরকার দলীয় একজন উচ্চ-পদস্থ লোককে ধরে তার এই বরখাস্ত বাতিল করার তদবির করে যাচ্ছেন বলেও জানা যায়।
সাইফুজ্জামান গণপূর্ত অধিদপ্তরের সাবেক প্রধান প্রকৌশলী স্বঘোষিত পীর মো. শামীম আখতারের কাছ থেকে সবচেয়ে বেশি সুবিধা নিয়েছিলেন বলে জানা যায়। শামীম আখতারকে খুশি করতেই গণপুর্ত ডিভিশন-৪ এর জন্য এপিপি-এর বরাদ্দ থেকে প্রধান প্রকৌশলীর কার্যালয়কে সংস্কার করে নতুন রূপে সাজিয়ে দেন তিনি। সাইফুজ্জামান যে বিভাগেই পদায়িত হতেন সেই বিভাগের এপিপি-এর বরাদ্দের একটা অংশ নিজে আত্মসাৎ করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
বর্তমানে সাইফুজ্জামান সুপ্রিম কোর্টের রেকর্ড বিল্ডিং নির্মাণ প্রকল্পে কোনো কাজ না করেই ভুয়া বিলের মাধ্যমে ৬ কোটি ৩১ লাখ ৯৭ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত হয়েছেন। বরখাস্ত হওয়ার পরেই তিনি পুনরায় পদায়িত হওয়ার জন্য তদবির করে যাচ্ছেন। অভিযোগ উঠেছে, সাইফুজ্জামানকে লালমনিরহাট থেকে ঢাকায় রির্জাভে বদলি করা এই তদবিরেরই একটা অংশ। ঢাকায় এসে তিনি এখন তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত দুর্নীতির অভিযোগকে কারসাজি করার চেষ্টা করছেন। তদবির করছেন বর্তমান সরকারের মন্ত্রী পর্যায়েও বলে জানা যায়।
এর আগেও সাইফুজ্জামান গণপূর্ত অধিদপ্তরের মিরপুর বিভাগে থাকাকালীন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় তার বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের প্রমাণ পেয়েছিলো। মিরপুরের পাইকপাড়ায় পিডব্লিউডি ট্রেনিং সেন্টার (পুরাতন) এর ২য় তলায় সিড়ির পূর্ব পাশের পূর্ব প্রান্তে অবস্থিত ৭ ও ৮ নং কক্ষ দুটি পরিদর্শন বাংলো (আইবি)-তে রূপান্তরের লক্ষ্যে আনুসঙ্গিক সংস্কার ও আধুনিকায়নের জন্য ২০২২-২৩ অর্থবছরের বরাদ্দকৃত অর্থ ইতিমধ্যে উত্তোলনপূর্বক কাজ না করিয়েই সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে প্রদান করা হয়। সাইফুজ্জামান চুন্নুর বিরুদ্ধে উক্ত পরিদর্শন বাংলোর ২টি রুমে কাজের নামে ২৫ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করেন বলে অভিযোগ উঠেছলো। পরবর্তীতে বিষয়টি জানাজানি হলে তড়িঘড়ি করে কক্ষ দুটিতে লোক দেখানো মেরামত কাজ করতে গেলে গণপূর্ত অধিদপ্তরের তৎকালীন যুগ্ম সচিব মুহাম্মদ সোহেল হাসান সরেজমিনে কক্ষ দুটি পরিদর্শন করে গনপূর্ত অধিদপ্তরের সংস্থাপন বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আহম্মেদ আব্দুল্লাহ নূর এবং ই/এম বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী পবিত্র কুমার দাসকে উল্লেখিত ৭ ও ৮ নং কক্ষ দুটি সিলগালা করার এবং এই বিষয়টি যথাযথ তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। তদন্ত কমিটি সরেজমিনে পরিদর্শন করে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছিলেন এবং কক্ষ দুটি সিলগালা করে দিয়েছিলেন। কিন্তু কোন এক অজ্ঞাত কারণে সেই তদন্ত কমিটির রিপোর্ট আলোর মুখ দেখেনি। অভিযোগ রয়েছে তৎকালীন সরকারের সকল স্তরে টাকা দিয়েই বিষরটি মিটিয়ে ফেলেছিলেন তিনি।
জানা যায়, সাইফুজ্জামান চাকুরির শুরু থেকেই চাতুর্যের সাথে তার ঊর্ধ্বতন সকল কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে চলতেন। যাকে যেভাবে খুশি করা যায় সেভাবেই খুশি করতেন তিনি। আর এই খুশি করার বদলে তিনি তাদের কাছ থেকে বিশেষ সুবিধা নিতেন। এরই প্রেক্ষিতে লাগামহীন দুর্নীতির মাধ্যমে হাতিয়ে নিয়েছেন কোটি কোটি টাকা। পতিত আওয়ামী সরকারের আমলে সবচেয়ে বেশি দুর্নীতি করেছেন তিনি। রাষ্ট্রের একটি গোয়েন্দা সংস্থাকে নিজের প্রয়োজন মতো ব্যবহার করে ভয়ের রাজত্ব কায়েম করেছিলেন তিনি। তার সহকর্মী বা সংবাদ মাধ্যম যেখানেই সাইফুজ্জামানের দুর্নীতির বিষয়ে কথা বা লেখা হতো সেখানেই সেই গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে ভয়-ভীতি দেখিয়ে দুর্নীতির খবর ধামাচাপা দিতেন তিনি।
অভিযোগ রয়েছে যে সাইফুজ্জমান এভাবে বিপুল অংকের অর্থ আত্মসাৎ করে দুবাইয়ে বাড়ি কিনেছেন। যদি তিনি নিজেকে দুর্নীতির দায়ে নির্দোষ প্রমাণ করতে না পারেন তাহলে দেশ ত্যাগ করে সেখানে চলে যাবার সম্ভাবনা রয়েছে বলে অনেকে ধারণা করছেন।
এবিষয়ে বক্তব্যের জন্য গণপূর্ত অধিদপ্তরের বরখাস্তকৃত নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাইফুজ্জামানের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
নিজস্ব প্রতিবেদক 


















