ঢাকা ০২:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে ৩৬.৫৯ বিলিয়ন ডলার ছাত্রদলের পরিণতি ছাত্রলীগের চেয়েও খারাপ হবে : সারজিস আলম যাদের কমিশনার হওয়ার যোগ্যতা ছিল না, তারা উপদেষ্টা হয়েছিল : পার্থ ভারতে যাওয়ার সময় কৃষক লীগ নেতা গ্রেপ্তার হাসিনা কোনো বক্তব্য দিলে দায় নেবে না ভারত: রণধীর জয়সওয়াল আগামী প্রজন্মের স্বার্থেই সংবিধান সংশোধন করা হবে : চিফ হুইপ জনগণ পরিবর্তন চেয়েছে বলেই জুলাই আন্দোলন সফল : প্রধানমন্ত্রী ‘তৃতীয় ভাষা শিক্ষায় চীনা ভাষাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে’ জুলাই চেতনায় গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক ও বৈষম্যহীন দেশ গড়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির স্বামীর বন্ধুর সঙ্গে ২৮ দিনের সন্তান নিয়ে উধাও গৃহবধূ

অঙ্গহানি করে ভিক্ষাবৃত্তি : তিন আসামির আমৃত্যু, ২ জনের ১০ বছরের কারাদণ্ড

১৬ বছর আগে রাজধানীর কামরাঙ্গীচর থানাধীন এলাকায় সাত বছরের এক শিশুকে অঙ্গহানি করে ভিক্ষাবৃত্তি করানোর মামলায় তিন জনের আমৃত্যু কারাদণ্ড এবং দুই জনের দশ বছরের কারাদণ্ডের রায় ঘোষণা করেছেন ট্রাইব্যুনাল।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪ এর বিচারক মুন্সী মো. মশিউর রহমানের আদালত এই রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডের পাশাপাশি প্রত্যেকের পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ড, এই অর্থ অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

আমৃত্যু কারাদণ্ড প্রাপ্ত আসামিরা হলেন, সালাউদ্দিন, মো. শরিফুল ইসলাম ওরফে কোরবান মিয়া ও খন্দকার ওমর ফারুক। বয়স বিবেচনায় ১০ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি হলেন, মো. রমজান ও সাদ্দাম। এছাড়াও অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় কাউসার ও নাজমা আক্তার নামের দুই আসামিকে মামলা থেকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।

রায়ে আসামিদের স্থাবর/অস্থাবর সম্পত্তি প্রকাশ্য নিলামে বিক্রয় পূর্বক অর্থদণ্ডের টাকা আদায় করে ক্ষতিগ্রস্থ ভিকটিমের পরিবারকে দেওয়ার জন্য জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে আসামি শরিফুল ইসলাম ও খন্দকার ওমর ফারুক কারাগারে আছেন। তবে পলাতক থাকা সালাউদ্দিন, রমজান ও সাদ্দামের বিরুদ্ধে আদালত সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেন।

সংশ্লিষ্ট আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. আনোয়ারুল আমিন চৌধুরী (হারুন) এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ২০১০ সালের ৬ মে কামরাঙ্গীরচর এলাকা থেকে সাত বছরের এক শিশুকে ঘর থেকে ডেকে নিয়ে যায় আসামিরা। তাদের পরিকল্পনা ছিল শিশুটিকে আজীবনের জন্য পঙ্গু করে ভিক্ষাবৃত্তিতে নিয়োজিত করা। এই উদ্দেশ্যে তারা নির্জন স্থানে নিয়ে শিশুটির লিঙ্গ কর্তন করে এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্র ও ইট দিয়ে আঘাত করে গুরুতর জখম করে। পরে শিশুটিকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ওই ঘটনার পর শিশুটির মা বাদী হয়ে কামরাঙ্গীরচর থানায় মামলা করেন।

তদন্ত শেষে ২০১১ সালের ১৫ মে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা র‍্যাব-১ এর সহকারী পরিচালক এএসপি মোহাম্মদ আব্দুল বাতেন আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন৷ এরপর ট্রাইব্যুনাল আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন৷ মামলাটির বিচারকালে ২০ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন ট্রাইব্যুনাল।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে ৩৬.৫৯ বিলিয়ন ডলার

অঙ্গহানি করে ভিক্ষাবৃত্তি : তিন আসামির আমৃত্যু, ২ জনের ১০ বছরের কারাদণ্ড

আপডেট সময় ০৩:৫১:০২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৬

১৬ বছর আগে রাজধানীর কামরাঙ্গীচর থানাধীন এলাকায় সাত বছরের এক শিশুকে অঙ্গহানি করে ভিক্ষাবৃত্তি করানোর মামলায় তিন জনের আমৃত্যু কারাদণ্ড এবং দুই জনের দশ বছরের কারাদণ্ডের রায় ঘোষণা করেছেন ট্রাইব্যুনাল।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪ এর বিচারক মুন্সী মো. মশিউর রহমানের আদালত এই রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডের পাশাপাশি প্রত্যেকের পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ড, এই অর্থ অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

আমৃত্যু কারাদণ্ড প্রাপ্ত আসামিরা হলেন, সালাউদ্দিন, মো. শরিফুল ইসলাম ওরফে কোরবান মিয়া ও খন্দকার ওমর ফারুক। বয়স বিবেচনায় ১০ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি হলেন, মো. রমজান ও সাদ্দাম। এছাড়াও অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় কাউসার ও নাজমা আক্তার নামের দুই আসামিকে মামলা থেকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।

রায়ে আসামিদের স্থাবর/অস্থাবর সম্পত্তি প্রকাশ্য নিলামে বিক্রয় পূর্বক অর্থদণ্ডের টাকা আদায় করে ক্ষতিগ্রস্থ ভিকটিমের পরিবারকে দেওয়ার জন্য জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে আসামি শরিফুল ইসলাম ও খন্দকার ওমর ফারুক কারাগারে আছেন। তবে পলাতক থাকা সালাউদ্দিন, রমজান ও সাদ্দামের বিরুদ্ধে আদালত সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেন।

সংশ্লিষ্ট আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. আনোয়ারুল আমিন চৌধুরী (হারুন) এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ২০১০ সালের ৬ মে কামরাঙ্গীরচর এলাকা থেকে সাত বছরের এক শিশুকে ঘর থেকে ডেকে নিয়ে যায় আসামিরা। তাদের পরিকল্পনা ছিল শিশুটিকে আজীবনের জন্য পঙ্গু করে ভিক্ষাবৃত্তিতে নিয়োজিত করা। এই উদ্দেশ্যে তারা নির্জন স্থানে নিয়ে শিশুটির লিঙ্গ কর্তন করে এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্র ও ইট দিয়ে আঘাত করে গুরুতর জখম করে। পরে শিশুটিকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ওই ঘটনার পর শিশুটির মা বাদী হয়ে কামরাঙ্গীরচর থানায় মামলা করেন।

তদন্ত শেষে ২০১১ সালের ১৫ মে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা র‍্যাব-১ এর সহকারী পরিচালক এএসপি মোহাম্মদ আব্দুল বাতেন আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন৷ এরপর ট্রাইব্যুনাল আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন৷ মামলাটির বিচারকালে ২০ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন ট্রাইব্যুনাল।