ঢাকা ০৯:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২৬, ২৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সিঙ্গেল ডিজিটে সুদহার ও রিজার্ভ থেকে অর্থ চান ব্যবসায়ীরা শিক্ষার্থীর চেয়ে শিক্ষক বেশি, মাদ্রাসা যেন দুর্নীতির আখড়া! ইডেন কলেজ ছাত্রলীগ সভাপতি রিভার জামিন এফওয়াইপির আয়োজনে ‘পালস বাংলাদেশ কনফারেন্স’ অনুষ্ঠিত সংসদে ‘ভোটার তালিকা সংশোধন বিল ২০২৬’ পাস সংবিধান পুরোপুরি বাতিল করার সুযোগ নেই, প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনতে হবে এবার পরীক্ষায় নকল হবে না : শিক্ষামন্ত্রী সোনারগাঁয়ে মহাসড়কের ওপর গড়ে ওঠা এক হাজার অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদ ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েলে ধ্বংসস্তূপ ভবন, নিহত ৪ কর্মজীবনের শেষ যাত্রায় ভালোবাসার বহর, ঘোড়ার গাড়িতে ফুলবাড়ী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষকে ব্যতিক্রমী বিদায়

শিক্ষার্থীর চেয়ে শিক্ষক বেশি, মাদ্রাসা যেন দুর্নীতির আখড়া!

জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার বোড়াই রাহিমা খাতুন দাখিল মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীর তুলনায় শিক্ষক বেশি থাকার অস্বাভাবিক চিত্র সামনে এসেছে। মাত্র ৯ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে এখানে ১৭ জন শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন, যা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে প্রতিষ্ঠানটির কার্যকারিতা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৮০ সালের ১ জানুয়ারি মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠিত হয়। তবে দীর্ঘদিন ধরে অকার্যকর ব্যবস্থাপনা ও দুর্বল প্রশাসনিক তৎপরতার কারণে শিক্ষার্থী আকর্ষণে ব্যর্থ হয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। ফলে দিন দিন শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমলেও শিক্ষক নিয়োগ কমেনি।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত মোট উপস্থিত শিক্ষার্থী মাত্র ৯ জন। অথচ পূর্বে তৈরি করা তালিকায় ২৪৫ জন শিক্ষার্থীর নাম রয়েছে। বাস্তবে উপস্থিতির হার অত্যন্ত কম।

এছাড়া মাদ্রাসার মাঠ ও শ্রেণিকক্ষ ব্যবহার না করে সেখানে আলু সংরক্ষণ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মাদ্রাসার এক কর্মচারী জানান, বর্তমান কমিটির সভাপতি রবিউল ইসলাম শ্রেণিকক্ষ বন্ধ রেখে সেখানে আলু সংরক্ষণ করছেন। বিষয়টি নিয়ে অনুরোধ করা হলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

মাদ্রাসার এক শিক্ষার্থী আব্দুল কাইয়ুম জানায়, একজন শিক্ষার্থীর বিপরীতে প্রায় দুইজন শিক্ষক থাকলেও এখানে পড়তে শিক্ষার্থীরা আগ্রহী নয়। অনেক শিক্ষক নিজেদের সন্তানদের অন্য প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করান, কিন্তু এখানে শিক্ষার্থীর নাম দেখিয়ে উপবৃত্তির টাকা তোলা হয়।

আরেক শিক্ষার্থী জানায়, নিয়মিত ক্লাস হলেও শিক্ষার্থী উপস্থিতি খুবই কম। অনেক সময় একটি শ্রেণিতে দুই-তিনজনের বেশি শিক্ষার্থী থাকে না।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ৫ আগস্টের পর ১১ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হলেও এ বিষয়ে অভিভাবক বা দাতা সদস্যদের অনেকেই অবগত নন।

এ বিষয়ে মাদ্রাসার সুপারের কাছে জানতে চাইলে তিনি সন্তোষজনক কোনো উত্তর দিতে পারেননি। হাজিরা খাতা দেখতে চাইলে সেটিও দেখানো হয়নি। এ সময় কৃষি শিক্ষিকা সুলতানা রাজিয়া উপস্থিত থেকে হাজিরা খাতা দেখাতে অস্বীকৃতি জানান এবং উত্তেজিত আচরণ করেন।

কালাই উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. জাবেদ ইকবাল হাসান বলেন, আমি এখনও ওই প্রতিষ্ঠানে পরিদর্শনে যাইনি। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে পরে জানানো হবে।

কালাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীম আরা বলেন, বিষয়টি শিক্ষা অফিসকে জানানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সিঙ্গেল ডিজিটে সুদহার ও রিজার্ভ থেকে অর্থ চান ব্যবসায়ীরা

শিক্ষার্থীর চেয়ে শিক্ষক বেশি, মাদ্রাসা যেন দুর্নীতির আখড়া!

আপডেট সময় ০৮:৫৭:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬
জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার বোড়াই রাহিমা খাতুন দাখিল মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীর তুলনায় শিক্ষক বেশি থাকার অস্বাভাবিক চিত্র সামনে এসেছে। মাত্র ৯ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে এখানে ১৭ জন শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন, যা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে প্রতিষ্ঠানটির কার্যকারিতা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৮০ সালের ১ জানুয়ারি মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠিত হয়। তবে দীর্ঘদিন ধরে অকার্যকর ব্যবস্থাপনা ও দুর্বল প্রশাসনিক তৎপরতার কারণে শিক্ষার্থী আকর্ষণে ব্যর্থ হয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। ফলে দিন দিন শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমলেও শিক্ষক নিয়োগ কমেনি।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত মোট উপস্থিত শিক্ষার্থী মাত্র ৯ জন। অথচ পূর্বে তৈরি করা তালিকায় ২৪৫ জন শিক্ষার্থীর নাম রয়েছে। বাস্তবে উপস্থিতির হার অত্যন্ত কম।

এছাড়া মাদ্রাসার মাঠ ও শ্রেণিকক্ষ ব্যবহার না করে সেখানে আলু সংরক্ষণ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মাদ্রাসার এক কর্মচারী জানান, বর্তমান কমিটির সভাপতি রবিউল ইসলাম শ্রেণিকক্ষ বন্ধ রেখে সেখানে আলু সংরক্ষণ করছেন। বিষয়টি নিয়ে অনুরোধ করা হলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

মাদ্রাসার এক শিক্ষার্থী আব্দুল কাইয়ুম জানায়, একজন শিক্ষার্থীর বিপরীতে প্রায় দুইজন শিক্ষক থাকলেও এখানে পড়তে শিক্ষার্থীরা আগ্রহী নয়। অনেক শিক্ষক নিজেদের সন্তানদের অন্য প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করান, কিন্তু এখানে শিক্ষার্থীর নাম দেখিয়ে উপবৃত্তির টাকা তোলা হয়।

আরেক শিক্ষার্থী জানায়, নিয়মিত ক্লাস হলেও শিক্ষার্থী উপস্থিতি খুবই কম। অনেক সময় একটি শ্রেণিতে দুই-তিনজনের বেশি শিক্ষার্থী থাকে না।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ৫ আগস্টের পর ১১ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হলেও এ বিষয়ে অভিভাবক বা দাতা সদস্যদের অনেকেই অবগত নন।

এ বিষয়ে মাদ্রাসার সুপারের কাছে জানতে চাইলে তিনি সন্তোষজনক কোনো উত্তর দিতে পারেননি। হাজিরা খাতা দেখতে চাইলে সেটিও দেখানো হয়নি। এ সময় কৃষি শিক্ষিকা সুলতানা রাজিয়া উপস্থিত থেকে হাজিরা খাতা দেখাতে অস্বীকৃতি জানান এবং উত্তেজিত আচরণ করেন।

কালাই উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. জাবেদ ইকবাল হাসান বলেন, আমি এখনও ওই প্রতিষ্ঠানে পরিদর্শনে যাইনি। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে পরে জানানো হবে।

কালাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীম আরা বলেন, বিষয়টি শিক্ষা অফিসকে জানানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।