ঢাকা ০৫:২৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
রোববার চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে যাবেন প্রধানমন্ত্রী অনেককেই এখন চেনেন না ইলিয়াস কাঞ্চন, মনেও রাখতে পারেন না কেউ যদি আমাকে গালি দেয় তাহলে আমার গুনাহ মাফ হবে: জামায়াত আমির  তরুণরা নেতৃত্ব দিলে প্রযুক্তিনির্ভর উন্নয়ন টেকসই হবে : তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী মানবিক অঙ্গীকার ধারণ করে ড্যাব ভবিষ্যতেও মানুষের পাশে দাঁড়াবে: ডা. জুবাইদা রহমান পে-স্কেল নিয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বড় সুখবর ‘সাংবাদিকের লেখায় কিছু যায় আসে না!’ বোরহানউদ্দিন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বেতন-টিএ-ডিএ নিয়ে প্রশ্ন, তদন্তের দাবি শরীয়তপুরে কু’প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তরুণীকে চুরির অপবাদে নি’র্যা’তন, গ্রে’প্তার ২ কুমিল্লায় মোহনা টেলিভিশন অফিসে লুট: দুই আসামি গ্রেপ্তার সোনামসজিদ বন্দরে অবকাঠামো সংকট ব্যবসায়ীদের ক্ষতি, সরকারের দৃষ্টি কামনা” আব্দুল ওয়াহেদর

এস আলমের প্রতিষ্ঠানকে কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি বিটিআরসির

বিতর্কিত ব্যবসায়ী এস আলমের প্রতিষ্ঠান ফার্স্ট কমিউনিকেশনস লিমিটেড (ফার্স্টকম বিডি)-কে আবারও বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনার অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। এ সিদ্ধান্তকে ঘিরে টেলিযোগাযোগ খাতে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

এর আগে নানা অনিয়ম, বকেয়া পরিশোধে ব্যর্থতা ও আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর প্রতিষ্ঠানটির ওপর ১০০ শতাংশ অপারেশনাল ক্যাপ আরোপ করা হয়। তখন আইজিডব্লিউ অপারেটরদের কাছে প্রায় ২ লাখ ২২ হাজার মার্কিন ডলার এবং বিটিআরসির কাছে প্রায় সাড়ে চার কোটি টাকা বকেয়া ছিল।

পরে আংশিক বকেয়া পরিশোধের ভিত্তিতে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরেই ওই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়। যদিও এর আগে জারি করা নির্দেশনায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সব বকেয়া পরিশোধ না করলে নতুন টপোলজিতে অংশগ্রহণের সুযোগ না থাকার কথা বলা হয়েছিল। সংশ্লিষ্টদের দাবি, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে বিটিআরসি নিজস্ব নির্দেশনাই লঙ্ঘন করেছে।

খাতসংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, সব পক্ষের আপত্তি থাকা সত্ত্বেও চলতি বছরের ১৬ মার্চ ফার্স্টকম বিডিকে পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম চালুর অনুমতি দেওয়া হয়েছে, যা নজিরবিহীন।

এদিকে, প্রতিষ্ঠানটির বকেয়া নিষ্পত্তি নিয়ে ২০২৬ সালের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। প্রথমে আংশিক অর্থ পরিশোধ এবং বাকি অর্থ কিস্তিতে দেওয়ার প্রস্তাব দিলেও সংশ্লিষ্ট অপারেটররা তা প্রত্যাখ্যান করেন। তাদের আশঙ্কা, অতীতের মতো আবারও দায় পরিশোধ না করেই প্রতিষ্ঠানটি সরে যেতে পারে।

অন্যদিকে, দুর্নীতি দমন কমিশনের আবেদনের পর আদালত এস আলম গ্রুপের কিছু সম্পদ জব্দের নির্দেশ দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জব্দ হওয়া প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমেই ফার্স্টকম বিডির উল্লেখযোগ্য শেয়ার নিয়ন্ত্রিত। এ অবস্থায় কার্যক্রম চালুর অনুমোদন কতটা আইনসংগত তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

এ বিষয়ে জানতে বিটিআরসির চেয়ারম্যান ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

খাতসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ ধরনের সিদ্ধান্তে নিয়ম মেনে চলা প্রতিষ্ঠানগুলো নিরুৎসাহিত হবে এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হতে পারে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রোববার চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে যাবেন প্রধানমন্ত্রী

এস আলমের প্রতিষ্ঠানকে কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি বিটিআরসির

আপডেট সময় ০৬:০৭:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬
বিতর্কিত ব্যবসায়ী এস আলমের প্রতিষ্ঠান ফার্স্ট কমিউনিকেশনস লিমিটেড (ফার্স্টকম বিডি)-কে আবারও বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনার অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। এ সিদ্ধান্তকে ঘিরে টেলিযোগাযোগ খাতে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

এর আগে নানা অনিয়ম, বকেয়া পরিশোধে ব্যর্থতা ও আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর প্রতিষ্ঠানটির ওপর ১০০ শতাংশ অপারেশনাল ক্যাপ আরোপ করা হয়। তখন আইজিডব্লিউ অপারেটরদের কাছে প্রায় ২ লাখ ২২ হাজার মার্কিন ডলার এবং বিটিআরসির কাছে প্রায় সাড়ে চার কোটি টাকা বকেয়া ছিল।

পরে আংশিক বকেয়া পরিশোধের ভিত্তিতে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরেই ওই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়। যদিও এর আগে জারি করা নির্দেশনায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সব বকেয়া পরিশোধ না করলে নতুন টপোলজিতে অংশগ্রহণের সুযোগ না থাকার কথা বলা হয়েছিল। সংশ্লিষ্টদের দাবি, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে বিটিআরসি নিজস্ব নির্দেশনাই লঙ্ঘন করেছে।

খাতসংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, সব পক্ষের আপত্তি থাকা সত্ত্বেও চলতি বছরের ১৬ মার্চ ফার্স্টকম বিডিকে পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম চালুর অনুমতি দেওয়া হয়েছে, যা নজিরবিহীন।

এদিকে, প্রতিষ্ঠানটির বকেয়া নিষ্পত্তি নিয়ে ২০২৬ সালের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। প্রথমে আংশিক অর্থ পরিশোধ এবং বাকি অর্থ কিস্তিতে দেওয়ার প্রস্তাব দিলেও সংশ্লিষ্ট অপারেটররা তা প্রত্যাখ্যান করেন। তাদের আশঙ্কা, অতীতের মতো আবারও দায় পরিশোধ না করেই প্রতিষ্ঠানটি সরে যেতে পারে।

অন্যদিকে, দুর্নীতি দমন কমিশনের আবেদনের পর আদালত এস আলম গ্রুপের কিছু সম্পদ জব্দের নির্দেশ দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জব্দ হওয়া প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমেই ফার্স্টকম বিডির উল্লেখযোগ্য শেয়ার নিয়ন্ত্রিত। এ অবস্থায় কার্যক্রম চালুর অনুমোদন কতটা আইনসংগত তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

এ বিষয়ে জানতে বিটিআরসির চেয়ারম্যান ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

খাতসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ ধরনের সিদ্ধান্তে নিয়ম মেনে চলা প্রতিষ্ঠানগুলো নিরুৎসাহিত হবে এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হতে পারে।