ঢাকা ০৩:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬, ১৭ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
রংপুরে ড্রাইভিং লাইসেন্স ও কাগজপত্র ছাড়া জ্বালানি তেল সরবরাহে নিষেধাজ্ঞা ফুলবাড়ীতে সর্দি, জ্বর ও ডায়েরিয়ার প্রাদুর্ভাবে, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বেড়েছে রোগীর চাপ বুকজুড়ে সবুজের সমারোহ কৃষকের মুখে হাসি  নোয়াখালী জেলা ক্রীড়া সংস্থার কারাতে কোচ হিসেবে দায়িত্ব পেয়ে আশরাফুল আলম সুমনকে ফুলেল শুভেচ্ছা নির্বাচন কমিশন ও শ্রম অধিদপ্তরের বিধি-বিধান অমান্য করায় বাংলাদেশ ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী জেলে সমিতির ৮ সদস্যকে বহিষ্কার নওগাঁয় গ্যারেজে থাকা বাসের  ভেতর থেকে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার রামপাল প্রেসক্লাবে আহ্বায়ক কমিটি গঠন দুর্নীতির অভিযোগ: পদত্যাগ করেছেন হাইকোর্টের বিচারপতি মো. রেজাউল হাসান শার্শায় পিআইও’র বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ: তদন্তের দাবি বরখাস্ত প্রত্যাহার করতে যমুনা অয়েল কর্তৃপক্ষকে সিবিএ নেতা এয়াকুবের অব্যাহত চাপ
শ্যামপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিস দলিল লেখক সমিতি

সম্পাদক ফারুকের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

  • মোঃ মামুন হোসেন
  • আপডেট সময় ১২:৪৩:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬
  • ৫১৪ বার পড়া হয়েছে

শ্যামপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিস দলিল লেখক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ফারুক হোসেনের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ আদায় ও সমিতির তহবিল লোপাটের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর সমিতির সাধারণ সদস্যদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
সমিতির একাধিক সদস্যের অভিযোগ, সাধারণ সম্পাদক ফারুক হোসেন দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের নাম ভাঙিয়ে সমিতির অর্থ আত্মসাৎ করে আসছেন। বিশেষ করে সাবেক সংসদ সদস্য সানজিদার নাম ব্যবহার করে প্রতি মাসে দুই লাখ ৫০ হাজার টাকা করে উত্তোলন করা হতো। সমিতির সদস্যদের দাবি, অর্থ উত্তোলনের এই প্রক্রিয়ায় সাধারণ সম্পাদক ছাড়া কার্যকরী কমিটির অধিকাংশ সদস্যই ছিলেন অন্ধকারে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন ওই দলের প্রভাবশালী নেতাদের নাম ব্যবহার করে তিনি অবৈধভাবে অর্থ আদায় করতেন। সরকার পরিবর্তনের পরও তিনি নিজের অবস্থান পরিবর্তন করে বর্তমানে বিভিন্ন প্রভাবশালী নেতাদের নাম ব্যবহার করে একই ধরনের অপতৎপরতা চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে সমিতির যুগ্ম-সম্পাদক মনিরুজ্জামান জানান, আওয়ামী লীগ সরকারের আমল থেকেই বিভিন্ন প্রভাবশালী নেতার নাম করে তিনি সমিতি থেকে টাকা নিতেন। গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনের পরেও তিনি একইভাবে টাকা উত্তোলনের চেষ্টা করেন। তবে সাধারণ সদস্যদের তীব্র প্রতিবাদের মুখে এবার তিনি ব্যর্থ হন।
তহবিলের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে সাধারণ সম্পাদক একেক সময় একেক ধরনের বক্তব্য দিয়ে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন। সদস্যদের অভিযোগ, অনেক ক্ষেত্রে তিনি এই অর্থকে ‘ধার’ হিসেবে অভিহিত করেছেন, যদিও এর সপক্ষে কোনো দালিলিক প্রমাণ বা সদস্যদের সম্মতি ছিল না।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সমিতির সভাপতি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। এছাড়া, নাম উল্লেখ করা সাবেক সংসদ সদস্য সানজিদার সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তহবিল তছরুপের ঘটনায় ক্ষুব্ধ দলিল লেখকরা বলেন, ‘সাধারণ দলিল লেখকদের কঠোর পরিশ্রমের উপার্জনে এই তহবিল গঠিত। এই অর্থের এমন অপব্যবহার কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।’ সমিতির সদস্যরা অবিলম্বে বিষয়টি তদন্তের জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা দ্রুত এই আর্থিক অনিয়মের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষী ব্যক্তির বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রংপুরে ড্রাইভিং লাইসেন্স ও কাগজপত্র ছাড়া জ্বালানি তেল সরবরাহে নিষেধাজ্ঞা

শ্যামপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিস দলিল লেখক সমিতি

সম্পাদক ফারুকের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

আপডেট সময় ১২:৪৩:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬

শ্যামপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিস দলিল লেখক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ফারুক হোসেনের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ আদায় ও সমিতির তহবিল লোপাটের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর সমিতির সাধারণ সদস্যদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
সমিতির একাধিক সদস্যের অভিযোগ, সাধারণ সম্পাদক ফারুক হোসেন দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের নাম ভাঙিয়ে সমিতির অর্থ আত্মসাৎ করে আসছেন। বিশেষ করে সাবেক সংসদ সদস্য সানজিদার নাম ব্যবহার করে প্রতি মাসে দুই লাখ ৫০ হাজার টাকা করে উত্তোলন করা হতো। সমিতির সদস্যদের দাবি, অর্থ উত্তোলনের এই প্রক্রিয়ায় সাধারণ সম্পাদক ছাড়া কার্যকরী কমিটির অধিকাংশ সদস্যই ছিলেন অন্ধকারে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন ওই দলের প্রভাবশালী নেতাদের নাম ব্যবহার করে তিনি অবৈধভাবে অর্থ আদায় করতেন। সরকার পরিবর্তনের পরও তিনি নিজের অবস্থান পরিবর্তন করে বর্তমানে বিভিন্ন প্রভাবশালী নেতাদের নাম ব্যবহার করে একই ধরনের অপতৎপরতা চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে সমিতির যুগ্ম-সম্পাদক মনিরুজ্জামান জানান, আওয়ামী লীগ সরকারের আমল থেকেই বিভিন্ন প্রভাবশালী নেতার নাম করে তিনি সমিতি থেকে টাকা নিতেন। গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনের পরেও তিনি একইভাবে টাকা উত্তোলনের চেষ্টা করেন। তবে সাধারণ সদস্যদের তীব্র প্রতিবাদের মুখে এবার তিনি ব্যর্থ হন।
তহবিলের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে সাধারণ সম্পাদক একেক সময় একেক ধরনের বক্তব্য দিয়ে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন। সদস্যদের অভিযোগ, অনেক ক্ষেত্রে তিনি এই অর্থকে ‘ধার’ হিসেবে অভিহিত করেছেন, যদিও এর সপক্ষে কোনো দালিলিক প্রমাণ বা সদস্যদের সম্মতি ছিল না।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সমিতির সভাপতি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। এছাড়া, নাম উল্লেখ করা সাবেক সংসদ সদস্য সানজিদার সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তহবিল তছরুপের ঘটনায় ক্ষুব্ধ দলিল লেখকরা বলেন, ‘সাধারণ দলিল লেখকদের কঠোর পরিশ্রমের উপার্জনে এই তহবিল গঠিত। এই অর্থের এমন অপব্যবহার কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।’ সমিতির সদস্যরা অবিলম্বে বিষয়টি তদন্তের জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা দ্রুত এই আর্থিক অনিয়মের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষী ব্যক্তির বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন।