ঢাকা ০৩:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬, ১৬ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
দেড়শো বছরের ব্রাহ্মণবাড়ির নবীনগর আদালত পুকুর বিলুপ্তপ্রায়! তার চোর’ আনোয়ার! যুক্তরাষ্ট্রের ব্র্যান্ডের আড়ালে কোটি টাকার কারসাজি, সংসদে শব্দ বিভ্রাটে ফাঁস হলো অন্ধকার রহস্য রেলওয়েতে নাবিল সিন্ডিকেট এখনো দৃশ্যমান, নীরব রেল প্রশাসন গণপূর্তে ‘চার জনে’র বদলি বাণিজ্য সিন্ডিকেট, ভাঙতে চান মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী বন বিভাগের দুর্নীতির নেপথ্যে বন সংরক্ষক ও ডিএফও সিন্ডিকেট বদলি ও টেন্ডার বাণিজ্যসহ আধিপত্য বিস্তারের ব্যাপক অভিযোগ গণপূর্তের প্রধান প্রকৌশলী খালেকুজ্জামানের বিরুদ্ধে খাদ্য কর্মকর্তা আদমের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ কাস্টমস কমিশনার ‘ঘুষ’ নেন ডলারে, অনুসন্ধানে দুদক সাতক্ষীরা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ জামালপুরে স্ত্রীকে হত্যার দায়ে স্বামীর মৃত্যুদণ্ড

নাচোলে ইউএনওর সিএ’র অর্থ আত্মসাৎ

  • মোঃ মামুন হোসেন
  • আপডেট সময় ১২:৩১:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬
  • ৫১৩ বার পড়া হয়েছে

চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সিএ (কনফিডেন্সিয়াল অ্যাসিস্টেন্ট) উপ-প্রশাসনিক কর্মকর্তা রবিউল ইসলামের বিরুদ্ধে নানা দুর্নীতিসহ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। নাচোলে যোগদানের পর থেকেই বিভিন্ন অনিয়মে জড়িয়ে পড়েছেন রবিউল ইসলাম। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করলেও রবিউল ইসলাম তা পরোয়া করছেন না।
জানা যায়, গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রাজস্ব তহবিলের আওতায় উপজেলার ফতেপুর ইউপির আলিশাপুর দাখিল মাদ্রাসা সংস্কারে দুই লক্ষ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। পিআইসি কমিটির মাধ্যমে ওই কাজ করার কথা থাকলেও রবিউল ইসলাম ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে নিজেই ওই কাজ দায়সারাভাবে করে বেশির ভাগ অর্থ লোপাট করেছেন।
কমিটির সভাপতি ফতেপুর ইউপির সংরক্ষিত মহিলা সদস্য ইশমাত আরা বলেন, আলিশাপুর দাখিল মাদ্রাসা সংস্কারে পিআইসি প্রকল্পের সভাপতি আমাকে করা হয়েছে, অথচ সে প্রকল্প সম্পর্কে আমি অবগত নই। কাজ আদৌ হয়েছে কিনা তা আমি বলতে পারব না। এলজিইডির পারভীন একদিন আমাকে অফিসে ডেকে কাগজে সই নেন। পরে শুনছি একটা কোন প্রকল্পে আমাকে সভাপতি করা হয়েছে কিন্তু কাজ হয়েছে কিনা তা আমি জানি না।
এদিকে এলজিইডির কার্য সহকারী পারভীন বলেন,
আলিশাপুর মাদ্রাসা সংস্কারের কাজ ইউএনও স্যারের সিএ রবিউল করেছে। এদিকে রোববার সকালে আলিশাপুর মাদ্রাসায় সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, নিম্নমানের ৫/৬ বান্ডিল ডেউটিন দিয়ে অর্থাৎ ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকার কাজ করে বাকি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।
অপরদিকে জানা যায়, ইলামিত্র সংগ্রহশালা সংস্কারে ২০০৫-২৬ অর্থবছরে এডিপি থেকে ২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। চলতি মাসে ইলামিত্র সংগ্রহশালার নামমাত্র ৫০ হাজার টাকার রং করণ কাজ করেই রবিউল ইসলাম একলক্ষ ২০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেন। ইউএনওর নাম ব্যবহার করে পিআইসির মাধ্যমে ওই কাজ দায়সারাভাবে করে অর্থ লোপাট করেছেন রবিউল এমনটাই দাবি নাম না প্রকাশে এক প্রকৌশলীর। এছাড়া, রবিউল ইসলামের বিরুদ্ধে ইউএনওর নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন ঠিকাদারের কাছে ফাইল প্রতি ৫ পার্সেন্ট হারে ঘুস নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
এবিষয়ে নাচোল ইউএনওর সিএ রবিউল ইসলাম বলেন, এসব কাজ পিআইসির মাধ্যমে করা হয়েছে, আমি তদারকি করেছি। তবে অর্থ আত্মসাতের বিষয়ে তিনি জড়িত নন বলে জানান। এ বিষয়ে নাচোল ইউএনও (ভারপ্রাপ্ত) মোছা. সুলতানা রাজিয়া বলেন, অভিযোগগুলো তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এবিষয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মো. মুসা জঙ্গী বলেন, অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

দেড়শো বছরের ব্রাহ্মণবাড়ির নবীনগর আদালত পুকুর বিলুপ্তপ্রায়!

নাচোলে ইউএনওর সিএ’র অর্থ আত্মসাৎ

আপডেট সময় ১২:৩১:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬

চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সিএ (কনফিডেন্সিয়াল অ্যাসিস্টেন্ট) উপ-প্রশাসনিক কর্মকর্তা রবিউল ইসলামের বিরুদ্ধে নানা দুর্নীতিসহ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। নাচোলে যোগদানের পর থেকেই বিভিন্ন অনিয়মে জড়িয়ে পড়েছেন রবিউল ইসলাম। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করলেও রবিউল ইসলাম তা পরোয়া করছেন না।
জানা যায়, গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রাজস্ব তহবিলের আওতায় উপজেলার ফতেপুর ইউপির আলিশাপুর দাখিল মাদ্রাসা সংস্কারে দুই লক্ষ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। পিআইসি কমিটির মাধ্যমে ওই কাজ করার কথা থাকলেও রবিউল ইসলাম ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে নিজেই ওই কাজ দায়সারাভাবে করে বেশির ভাগ অর্থ লোপাট করেছেন।
কমিটির সভাপতি ফতেপুর ইউপির সংরক্ষিত মহিলা সদস্য ইশমাত আরা বলেন, আলিশাপুর দাখিল মাদ্রাসা সংস্কারে পিআইসি প্রকল্পের সভাপতি আমাকে করা হয়েছে, অথচ সে প্রকল্প সম্পর্কে আমি অবগত নই। কাজ আদৌ হয়েছে কিনা তা আমি বলতে পারব না। এলজিইডির পারভীন একদিন আমাকে অফিসে ডেকে কাগজে সই নেন। পরে শুনছি একটা কোন প্রকল্পে আমাকে সভাপতি করা হয়েছে কিন্তু কাজ হয়েছে কিনা তা আমি জানি না।
এদিকে এলজিইডির কার্য সহকারী পারভীন বলেন,
আলিশাপুর মাদ্রাসা সংস্কারের কাজ ইউএনও স্যারের সিএ রবিউল করেছে। এদিকে রোববার সকালে আলিশাপুর মাদ্রাসায় সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, নিম্নমানের ৫/৬ বান্ডিল ডেউটিন দিয়ে অর্থাৎ ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকার কাজ করে বাকি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।
অপরদিকে জানা যায়, ইলামিত্র সংগ্রহশালা সংস্কারে ২০০৫-২৬ অর্থবছরে এডিপি থেকে ২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। চলতি মাসে ইলামিত্র সংগ্রহশালার নামমাত্র ৫০ হাজার টাকার রং করণ কাজ করেই রবিউল ইসলাম একলক্ষ ২০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেন। ইউএনওর নাম ব্যবহার করে পিআইসির মাধ্যমে ওই কাজ দায়সারাভাবে করে অর্থ লোপাট করেছেন রবিউল এমনটাই দাবি নাম না প্রকাশে এক প্রকৌশলীর। এছাড়া, রবিউল ইসলামের বিরুদ্ধে ইউএনওর নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন ঠিকাদারের কাছে ফাইল প্রতি ৫ পার্সেন্ট হারে ঘুস নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
এবিষয়ে নাচোল ইউএনওর সিএ রবিউল ইসলাম বলেন, এসব কাজ পিআইসির মাধ্যমে করা হয়েছে, আমি তদারকি করেছি। তবে অর্থ আত্মসাতের বিষয়ে তিনি জড়িত নন বলে জানান। এ বিষয়ে নাচোল ইউএনও (ভারপ্রাপ্ত) মোছা. সুলতানা রাজিয়া বলেন, অভিযোগগুলো তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এবিষয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মো. মুসা জঙ্গী বলেন, অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।