সংবাদ শিরোনাম ::
মুকসুদপুরে জাল নোট প্রচলন প্রতিরোধে জন সচেতনতা বৃদ্ধিমুলক ওয়ার্কসপ কিশোর নিবিরের প্রেমের বিয়ে, ৮ মাস পর রহস্যজনক মৃত্যু  কোটালীপাড়ায় নিবন্ধিত জেলেদের মাঝে বকনা বাছুর বিতরণ দৈনিক আমাদের মাতৃভূমির চট্টগ্রাম ব্যুরো চিফ মুরাদকে অব্যাহতি তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিতে গঙ্গাচড়ায় হাজারো মানুষের মানববন্ধন ফরিদপুর এডুকেশন এনকারেজিং সোসাইটির আয়োজনে বিভিন্ন ক্যাটাগরীতে পুরস্কার বিতরণ ও সংবর্ধনা মুরাদনগরে কর্মরত এসি ল্যান্ড সাকিব হাসানের ওপর ডাকাত দলের বর্বরোচিত হামলা, দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ রংপুরে পাটক্ষেতে মিলল নিখোঁজ শিশুর মরদেহ, আতঙ্কে এলাকাবাসী চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ২০৭ পিস ভারতীয় যানবাহনের যন্ত্রাংশ আটক বড়লেখা হাজীগন্জ বাজার বনিক সমিতির সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দিতা করবেন ফখরুল ইসলাম পারুল
ডিপিডিসিতে ‘চেয়ার বাণিজ্য’ অভিযোগ

জুরাইন নির্বাহী প্রকৌশলীর পদে বসতে ২০ লাখ টাকার লেনদেন!

  • মোঃ মামুন হোসেন
  • আপডেট সময় ১২:১৭:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬
  • ৫৯৮ বার পড়া হয়েছে

ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (DPDC)-এর জুরাইন ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলীর পদকে ঘিরে ঘুষ ও দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, এই পদে বসতে প্রায় ২০ লাখ টাকা ঘুষ দিয়েছেন নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মুহিবুল্লাহ (পরিচিতি নং ১১১১৬)। সংস্থার অভ্যন্তরীণ একাধিক সূত্র এবং সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যে বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

প্রকৌশলীর ঘনিষ্ঠ এক প্রতিনিধির স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, ডিপিডিসিতে গুরুত্বপূর্ণ পদে বসতে হলে ঘুষ দেওয়া যেন এক প্রকার অলিখিত নিয়মে পরিণত হয়েছে। তিনি বলেন, “টাকা ছাড়া চেয়ার পাওয়া যায় না। বড় কর্তাদের ম্যানেজ করেই পদায়ন নিতে হয়। আমি বাধ্য হয়েই তা করেছি।” এই বক্তব্য সংস্থার অভ্যন্তরে বিদ্যমান দুর্নীতির সংস্কৃতির দিকে স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়।

এ ঘটনায় ‘আলদ্দিন’ নামে এক ব্যক্তির স্বাক্ষরিত লিখিত অভিযোগ দুর্নীতি দমন কমিশন-এ জমা পড়েছে বলে জানা গেছে। অভিযোগ জমা পড়ার পর থেকেই ডিপিডিসির ভেতরে তীব্র অসন্তোষ ও অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, মাতুয়াইল ডিভিশনে কর্মরত থাকাকালে মো. মুহিবুল্লাহ অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে প্রায় ৫০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেন। এর ফলে সরকার কোটি টাকার রাজস্ব হারিয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট তদন্তে তার বিরুদ্ধে বিদ্যুৎ চুরির অভিযোগ প্রমাণিত হয় এবং শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে তাকে সাময়িক অব্যাহতি ও দুটি ইনক্রিমেন্ট বন্ধ রাখা হয়।

ডিপিডিসির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক বিকাশ দেওয়ান এ বিষয়ে বলেন, “মুহিবুল্লাহর বিরুদ্ধে বিদ্যুৎ চুরির অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে। এ ধরনের অপরাধ ক্ষমার অযোগ্য। বিদ্যুৎ আইন অনুযায়ী তার চাকরিচ্যুত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু কিছু অসাধু কর্মকর্তার কারণে তিনি পার পেয়ে যাচ্ছেন।”

ডিপিডিসির একাধিক কর্মকর্তা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, এ ধরনের অভিযোগ সংস্থার প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ভেঙে দিতে পারে এবং দাপ্তরিক কার্যক্রমে অচলাবস্থা সৃষ্টি করতে পারে। তাদের মতে, যদি ঘুষের বিনিময়ে পদায়ন অব্যাহত থাকে, তাহলে দক্ষতা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে পদায়নের সংস্কৃতি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যাবে।

প্রকৌশলীদের অভিযোগ অনুযায়ী, মো. মুহিবুল্লাহর প্রায় প্রতিটি বদলি ও পদায়নই ছিল বিতর্কিত। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এবং সিনিয়র কর্মকর্তাদের ডিঙিয়ে তিনি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পেয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, সাবেক বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু-এর আশীর্বাদে তিনি দীর্ঘদিন সুপার ডিভিশনে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং মোটা অঙ্কের মাসোহারা দিয়ে একই পদে বহাল থেকেছেন।

সাম্প্রতিক এক অফিস আদেশে গত ১১ মার্চ তাকে বদলি করা হলেও, অভিযোগ রয়েছে যে তিনি নানা কৌশলে ডিপিডিসির ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক নূর আহমদ-কে প্রভাবিত করে পুনরায় জুরাইন ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলীর দায়িত্ব নেন।

এর আগে জুরাইন ডিভিশনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. রাহাত চৌধুরীকে। কিন্তু মাত্র এক মাসের মধ্যেই তাকে স্বামীবাগ ডিভিশনে বদলি করা হয়, যা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ৩ বছরের আগে বদলি না করার নির্দেশনার পরিপন্থী বলে অভিযোগ উঠেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রকৌশলী বলেন, “ভারপ্রাপ্ত এমডি যোগদানের পরপরই এই বদলির আদেশ জারি হয়। এখানে ২০ লাখ টাকা লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। যেহেতু মুহিবুল্লাহ বিদ্যুৎ চোর হিসেবে প্রমাণিত, তাই বিষয়টি নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া জরুরি।”

এ বিষয়ে মো. মুহিবুল্লাহর সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি সাংবাদিক পরিচয় শুনেই কল কেটে দেন। পরবর্তীতে একাধিকবার ফোন ও বার্তা পাঠিয়েও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। একইভাবে ভারপ্রাপ্ত এমডি নূর আহমদের সঙ্গেও যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।

এ বিষয়ে Transparency International Bangladesh-এর নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “ব্যক্তিস্বার্থে বদলি ও পদায়ন নিঃসন্দেহে দুর্নীতির অন্তর্ভুক্ত। এ ধরনের ঘটনায় জড়িত কর্মকর্তাদের চিহ্নিত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।”

বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিপিডিসির মতো গুরুত্বপূর্ণ সেবা সংস্থায় এ ধরনের অনিয়ম শুধু প্রতিষ্ঠানটির ভাবমূর্তিকেই ক্ষতিগ্রস্ত করছে না, বরং সামগ্রিক বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনাকেও ঝুঁকির মুখে ফেলছে। অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জোরালো হচ্ছে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মুকসুদপুরে জাল নোট প্রচলন প্রতিরোধে জন সচেতনতা বৃদ্ধিমুলক ওয়ার্কসপ

ডিপিডিসিতে ‘চেয়ার বাণিজ্য’ অভিযোগ

জুরাইন নির্বাহী প্রকৌশলীর পদে বসতে ২০ লাখ টাকার লেনদেন!

আপডেট সময় ১২:১৭:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬

ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (DPDC)-এর জুরাইন ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলীর পদকে ঘিরে ঘুষ ও দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, এই পদে বসতে প্রায় ২০ লাখ টাকা ঘুষ দিয়েছেন নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মুহিবুল্লাহ (পরিচিতি নং ১১১১৬)। সংস্থার অভ্যন্তরীণ একাধিক সূত্র এবং সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যে বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

প্রকৌশলীর ঘনিষ্ঠ এক প্রতিনিধির স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, ডিপিডিসিতে গুরুত্বপূর্ণ পদে বসতে হলে ঘুষ দেওয়া যেন এক প্রকার অলিখিত নিয়মে পরিণত হয়েছে। তিনি বলেন, “টাকা ছাড়া চেয়ার পাওয়া যায় না। বড় কর্তাদের ম্যানেজ করেই পদায়ন নিতে হয়। আমি বাধ্য হয়েই তা করেছি।” এই বক্তব্য সংস্থার অভ্যন্তরে বিদ্যমান দুর্নীতির সংস্কৃতির দিকে স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়।

এ ঘটনায় ‘আলদ্দিন’ নামে এক ব্যক্তির স্বাক্ষরিত লিখিত অভিযোগ দুর্নীতি দমন কমিশন-এ জমা পড়েছে বলে জানা গেছে। অভিযোগ জমা পড়ার পর থেকেই ডিপিডিসির ভেতরে তীব্র অসন্তোষ ও অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, মাতুয়াইল ডিভিশনে কর্মরত থাকাকালে মো. মুহিবুল্লাহ অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে প্রায় ৫০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেন। এর ফলে সরকার কোটি টাকার রাজস্ব হারিয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট তদন্তে তার বিরুদ্ধে বিদ্যুৎ চুরির অভিযোগ প্রমাণিত হয় এবং শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে তাকে সাময়িক অব্যাহতি ও দুটি ইনক্রিমেন্ট বন্ধ রাখা হয়।

ডিপিডিসির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক বিকাশ দেওয়ান এ বিষয়ে বলেন, “মুহিবুল্লাহর বিরুদ্ধে বিদ্যুৎ চুরির অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে। এ ধরনের অপরাধ ক্ষমার অযোগ্য। বিদ্যুৎ আইন অনুযায়ী তার চাকরিচ্যুত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু কিছু অসাধু কর্মকর্তার কারণে তিনি পার পেয়ে যাচ্ছেন।”

ডিপিডিসির একাধিক কর্মকর্তা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, এ ধরনের অভিযোগ সংস্থার প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ভেঙে দিতে পারে এবং দাপ্তরিক কার্যক্রমে অচলাবস্থা সৃষ্টি করতে পারে। তাদের মতে, যদি ঘুষের বিনিময়ে পদায়ন অব্যাহত থাকে, তাহলে দক্ষতা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে পদায়নের সংস্কৃতি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যাবে।

প্রকৌশলীদের অভিযোগ অনুযায়ী, মো. মুহিবুল্লাহর প্রায় প্রতিটি বদলি ও পদায়নই ছিল বিতর্কিত। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এবং সিনিয়র কর্মকর্তাদের ডিঙিয়ে তিনি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পেয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, সাবেক বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু-এর আশীর্বাদে তিনি দীর্ঘদিন সুপার ডিভিশনে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং মোটা অঙ্কের মাসোহারা দিয়ে একই পদে বহাল থেকেছেন।

সাম্প্রতিক এক অফিস আদেশে গত ১১ মার্চ তাকে বদলি করা হলেও, অভিযোগ রয়েছে যে তিনি নানা কৌশলে ডিপিডিসির ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক নূর আহমদ-কে প্রভাবিত করে পুনরায় জুরাইন ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলীর দায়িত্ব নেন।

এর আগে জুরাইন ডিভিশনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. রাহাত চৌধুরীকে। কিন্তু মাত্র এক মাসের মধ্যেই তাকে স্বামীবাগ ডিভিশনে বদলি করা হয়, যা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ৩ বছরের আগে বদলি না করার নির্দেশনার পরিপন্থী বলে অভিযোগ উঠেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রকৌশলী বলেন, “ভারপ্রাপ্ত এমডি যোগদানের পরপরই এই বদলির আদেশ জারি হয়। এখানে ২০ লাখ টাকা লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। যেহেতু মুহিবুল্লাহ বিদ্যুৎ চোর হিসেবে প্রমাণিত, তাই বিষয়টি নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া জরুরি।”

এ বিষয়ে মো. মুহিবুল্লাহর সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি সাংবাদিক পরিচয় শুনেই কল কেটে দেন। পরবর্তীতে একাধিকবার ফোন ও বার্তা পাঠিয়েও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। একইভাবে ভারপ্রাপ্ত এমডি নূর আহমদের সঙ্গেও যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।

এ বিষয়ে Transparency International Bangladesh-এর নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “ব্যক্তিস্বার্থে বদলি ও পদায়ন নিঃসন্দেহে দুর্নীতির অন্তর্ভুক্ত। এ ধরনের ঘটনায় জড়িত কর্মকর্তাদের চিহ্নিত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।”

বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিপিডিসির মতো গুরুত্বপূর্ণ সেবা সংস্থায় এ ধরনের অনিয়ম শুধু প্রতিষ্ঠানটির ভাবমূর্তিকেই ক্ষতিগ্রস্ত করছে না, বরং সামগ্রিক বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনাকেও ঝুঁকির মুখে ফেলছে। অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জোরালো হচ্ছে।