ঢাকা ১২:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
গোপালগঞ্জে প্যারোলে মুক্তি পেয়ে পিতার জানাজায় আওয়ামী লীগ নেতা  নগর গুলিস্তান স্টপওভার বাস-মিনিবাস টার্মিনাল শ্রমিক পরিচালনা কমিটির পরিচিতি সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত গাজায় ধসে পড়া ভবনের নিচ থেকে ১৯ মরদেহ উদ্ধার দাম বাড়ানোর পর দেশে আজ সোনার ভরি কত? কক্সবাজারের মাতারবাড়ী পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী বেরোবির শিক্ষার্থীদের ‘দরিচা’, বিহারি নারীদের দক্ষতায় খুলছে সম্ভাবনার নতুন জানালা সাংবাদিক সুরক্ষা আইন প্রণয়নে সরকারকে ৩ মাসের আল্টিমেটাম চাঁপাইনবাবগঞ্জে ভারতীয় জাল টাকা তৈরির কারখানায় র‍্যাব-৫ এর অভিযান আটক ২  পঞ্চগড়ে ২৬৪-এর নবনির্বাচিত কমিটিকে সংবর্ধনা রোববার চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে যাবেন প্রধানমন্ত্রী

যাত্রাবাড়ী-গুলিস্তান ফ্লাইওভারের টোল আদায়ে অনিয়মের অভিযোগ

রাজধানীর যাত্রাবাড়ী-গুলিস্তান হানিফ ফ্লাইওভার চালুর পর টোল আদায়ে ব্যাপক অনিয়ম ও রাজস্ব বঞ্চনার অভিযোগ উঠেছে। ২০১৩ সালের ১৩ অক্টোবর উদ্বোধনের পর থেকে ফ্লাইওভারটির টোল আদায়ের দায়িত্ব পায় অরিয়ন গ্রুপ। তবে দীর্ঘ সময় ধরে বিপুল পরিমাণ অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা না হওয়ার বিষয়টি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। প্রায় ২৫০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ফ্লাইওভারটি পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) প্রকল্পের আওতায় বাস্তবায়ন করা হয়। চুক্তি অনুযায়ী, টোল আদায় থেকে নির্দিষ্ট অংশ সরকারকে দেওয়ার কথা থাকলেও ২০২০ সালের জুন পর্যন্ত কোনো অর্থ রাজস্ব খাতে জমা পড়েনি বলে অভিযোগ রয়েছে। পরবর্তীতে ২০২০ সালের জুলাই মাসে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) তৎকালীন মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস উদ্যোগ নিয়ে অরিয়ন গ্রুপের সঙ্গে চুক্তি নবায়ন করেন।

তবে অরিয়ন গ্রুপ দাবি করে, প্রত্যাশিত পরিমাণ যানবাহন ফ্লাইওভার ব্যবহার না করায় তারা রাজস্ব দিতে অপারগ। অন্যদিকে সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তরের (সওজ) তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন গড়ে ৮ থেকে ১০ হাজার যানবাহন এই ফ্লাইওভার দিয়ে চলাচল করে। সেই হিসাবে বছরে প্রায় ৭০ কোটি ৮০ লাখ টাকা টোল আদায় হওয়ার কথা। সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, এ পর্যন্ত মোট আদায়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা, যার বড় একটি অংশ নিয়ে অস্বচ্ছতা রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা জুনায়েদ করিম সোহাগ জানান, ২০২৫ সালের ৪ এপ্রিল পর্যন্ত মোট ৪১৫৭ দিনের মধ্যে ২৩৯২ দিনের টোলের অর্থ এখনো বকেয়া রয়েছে।

এদিকে পরিস্থিতি পর্যালোচনায় ২০২৫ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর ডিএনসিসির প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা মোবাশ্বের হাসানকে আহ্বায়ক করে ৫ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তবে চুক্তি অনুযায়ী প্রতি তিন বছর পরপর নবায়নের কথা থাকলেও তা যথাসময়ে করা হয়নি বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে অরিয়ন গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সালমান ওবায়দুল করিমের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। প্রতিষ্ঠানের এক কর্মকর্তা খালেদ মাহমুদ জানিয়েছেন, ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগ করলেই বিস্তারিত জানা সম্ভব। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, ফ্লাইওভারের টোল আদায়ের পূর্ণাঙ্গ হিসাব জনসম্মুখে প্রকাশ এবং বকেয়া অর্থ দ্রুত আদায়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

গোপালগঞ্জে প্যারোলে মুক্তি পেয়ে পিতার জানাজায় আওয়ামী লীগ নেতা 

যাত্রাবাড়ী-গুলিস্তান ফ্লাইওভারের টোল আদায়ে অনিয়মের অভিযোগ

আপডেট সময় ০৭:৫৭:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬

রাজধানীর যাত্রাবাড়ী-গুলিস্তান হানিফ ফ্লাইওভার চালুর পর টোল আদায়ে ব্যাপক অনিয়ম ও রাজস্ব বঞ্চনার অভিযোগ উঠেছে। ২০১৩ সালের ১৩ অক্টোবর উদ্বোধনের পর থেকে ফ্লাইওভারটির টোল আদায়ের দায়িত্ব পায় অরিয়ন গ্রুপ। তবে দীর্ঘ সময় ধরে বিপুল পরিমাণ অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা না হওয়ার বিষয়টি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। প্রায় ২৫০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ফ্লাইওভারটি পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) প্রকল্পের আওতায় বাস্তবায়ন করা হয়। চুক্তি অনুযায়ী, টোল আদায় থেকে নির্দিষ্ট অংশ সরকারকে দেওয়ার কথা থাকলেও ২০২০ সালের জুন পর্যন্ত কোনো অর্থ রাজস্ব খাতে জমা পড়েনি বলে অভিযোগ রয়েছে। পরবর্তীতে ২০২০ সালের জুলাই মাসে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) তৎকালীন মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস উদ্যোগ নিয়ে অরিয়ন গ্রুপের সঙ্গে চুক্তি নবায়ন করেন।

তবে অরিয়ন গ্রুপ দাবি করে, প্রত্যাশিত পরিমাণ যানবাহন ফ্লাইওভার ব্যবহার না করায় তারা রাজস্ব দিতে অপারগ। অন্যদিকে সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তরের (সওজ) তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন গড়ে ৮ থেকে ১০ হাজার যানবাহন এই ফ্লাইওভার দিয়ে চলাচল করে। সেই হিসাবে বছরে প্রায় ৭০ কোটি ৮০ লাখ টাকা টোল আদায় হওয়ার কথা। সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, এ পর্যন্ত মোট আদায়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা, যার বড় একটি অংশ নিয়ে অস্বচ্ছতা রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা জুনায়েদ করিম সোহাগ জানান, ২০২৫ সালের ৪ এপ্রিল পর্যন্ত মোট ৪১৫৭ দিনের মধ্যে ২৩৯২ দিনের টোলের অর্থ এখনো বকেয়া রয়েছে।

এদিকে পরিস্থিতি পর্যালোচনায় ২০২৫ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর ডিএনসিসির প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা মোবাশ্বের হাসানকে আহ্বায়ক করে ৫ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তবে চুক্তি অনুযায়ী প্রতি তিন বছর পরপর নবায়নের কথা থাকলেও তা যথাসময়ে করা হয়নি বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে অরিয়ন গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সালমান ওবায়দুল করিমের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। প্রতিষ্ঠানের এক কর্মকর্তা খালেদ মাহমুদ জানিয়েছেন, ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগ করলেই বিস্তারিত জানা সম্ভব। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, ফ্লাইওভারের টোল আদায়ের পূর্ণাঙ্গ হিসাব জনসম্মুখে প্রকাশ এবং বকেয়া অর্থ দ্রুত আদায়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি।