রাজধানীর যাত্রাবাড়ী-গুলিস্তান হানিফ ফ্লাইওভার চালুর পর টোল আদায়ে ব্যাপক অনিয়ম ও রাজস্ব বঞ্চনার অভিযোগ উঠেছে। ২০১৩ সালের ১৩ অক্টোবর উদ্বোধনের পর থেকে ফ্লাইওভারটির টোল আদায়ের দায়িত্ব পায় অরিয়ন গ্রুপ। তবে দীর্ঘ সময় ধরে বিপুল পরিমাণ অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা না হওয়ার বিষয়টি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। প্রায় ২৫০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ফ্লাইওভারটি পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) প্রকল্পের আওতায় বাস্তবায়ন করা হয়। চুক্তি অনুযায়ী, টোল আদায় থেকে নির্দিষ্ট অংশ সরকারকে দেওয়ার কথা থাকলেও ২০২০ সালের জুন পর্যন্ত কোনো অর্থ রাজস্ব খাতে জমা পড়েনি বলে অভিযোগ রয়েছে। পরবর্তীতে ২০২০ সালের জুলাই মাসে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) তৎকালীন মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস উদ্যোগ নিয়ে অরিয়ন গ্রুপের সঙ্গে চুক্তি নবায়ন করেন।
তবে অরিয়ন গ্রুপ দাবি করে, প্রত্যাশিত পরিমাণ যানবাহন ফ্লাইওভার ব্যবহার না করায় তারা রাজস্ব দিতে অপারগ। অন্যদিকে সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তরের (সওজ) তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন গড়ে ৮ থেকে ১০ হাজার যানবাহন এই ফ্লাইওভার দিয়ে চলাচল করে। সেই হিসাবে বছরে প্রায় ৭০ কোটি ৮০ লাখ টাকা টোল আদায় হওয়ার কথা। সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, এ পর্যন্ত মোট আদায়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা, যার বড় একটি অংশ নিয়ে অস্বচ্ছতা রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা জুনায়েদ করিম সোহাগ জানান, ২০২৫ সালের ৪ এপ্রিল পর্যন্ত মোট ৪১৫৭ দিনের মধ্যে ২৩৯২ দিনের টোলের অর্থ এখনো বকেয়া রয়েছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক 


















