ঢাকা ০৯:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬, ১৫ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
রংপুর বিভাগের ৮ জেলায় জ্বালানি তেল সরবরাহ অনির্দিষ্টকালে জন্য বন্ধ ব্রাহ্মণপাড়ায় রহস্যজনক মৃত্যু: আত্মহত্যা নাকি পরিকল্পিত হত্যা? জিরো টলারেন্স ঘোষণার পরও থামেনি প্যারাবন নিধন—প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্নে সরব জনমত মোহনপুরে কৃষক লীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা জনস্বাস্থের নির্বাহী প্রকৌশলী আহসান হাবিব:জেফরি এপস্টেইনের নতুন সংস্করণ ! যাত্রাবাড়ী-গুলিস্তান ফ্লাইওভারের টোল আদায়ে অনিয়মের অভিযোগ সরকারি রাস্তার বরাদ্দের ইট দিয়ে নিজ বাড়ির রাস্তা করলেন ইউপি সদস্য দেবিদ্বার-চান্দিনা সড়ককে হাইওয়ে করার দাবি হাসনাত আবদুল্লাহর অনুষ্ঠানে প্রিয়াঙ্কাকে উপেক্ষা হলিউড তারকাদের, নানা বিতর্ক! কনটেন্ট ক্রিয়েটর আর এস ফাহিম আটক

জনস্বাস্থের নির্বাহী প্রকৌশলী আহসান হাবিব:জেফরি এপস্টেইনের নতুন সংস্করণ !

আমেরিকার যৌন কেলেংকারির আলোচিত মুখ কুখ্যাত জেফরি এপস্টেইন এর নতুন সংস্করণ আবির্ভূত হয়েছে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে। বহু বিবাহ, অন্তত এক ডজন মুতা বিবাহ,অসংখ্য নারী কেলেংকারীর সাথে সম্পৃক্ত হয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী পকৌশলী আহসান হাবিব ” জেফরি এপস্টেইন” আখ্যা পেয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানাগেছে, পতিত স্বৈরাচার ফ্যাসিস্ট আওয়ামী দোসর ও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী আহসান হাবীব নারী কেলেংকারীর পাশাপাশি ক্ষমতার অপব্যবহার করে অনিয়ম,দুর্নীতির মাধ্যমে শত কোটি টাকার সম্পদের মালিক হয়ে গেছেন। যা তার জ্ঞাত আয়ের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। আহসান হাবীব ও তার পরিবারের সদস্যদের জাতীয় পরিচয় পত্রের বিপরীতে সম্পদের অনুসন্ধান করলে অভিযোগের প্রমান পাওয়া যাবে।
সূত্রমতে,জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের ঠাকুরগাঁও নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আহসান হাবিবের কাজ না করিয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স এন কে কর্পোরেশনকে ২ কোটি ৫০ লাখ টাকার বিল প্রদান করেছেন। মো. আহসান হাবিব জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর নোয়াখালী জেলায় নির্বাহী প্রকৌশলীর দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে “সমগ্র দেশে নিরাপদ পানি সরবরাহ” প্রকল্প থেকে হাতিয়া উপজেলায় মেসার্স এন কে কর্পোরেশন ২ কোটি ৯৯ লাখ ৩১ হাজার ৩৫৫ টাকার কার্যাদেশ পায়। উক্ত কাজের প্যাকেজে টেস্ট টিউবওয়েল, প্রোডাকশন টিউবওয়েল, ওভারহেড ট্যাংক, পাইপলাইন ও ট্রিটমেন্ট প্লান্টের কার্যাদেশ ছিল। এ সকল কাজের ব্যয় ধরা ছিল ২ কোটি ৫০ লাখ টাকা। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এন কে কর্পোরেশনকে দিয়ে এ সকল কাজ না করিয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আহসান হাবিব ওই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটিকে কাজের সম্পূর্ণ বিল ২ কোটি ৫০ লাখ টাকা প্রদান করেন।
এ বিষয়ে প্রকৌশলী আহসান হাবীবের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে ১২-৬-২০২৪ তারিখে ৩৬০৫ স্মারক মূলে প্রকল্প পরিচালক মোঃ হানিফ স্বাক্ষরিত দুই সদস্যর একটি পরিদর্শন টিম গঠন করা হয়। উক্ত পরিদর্শন টিমকে মাঠ পর্যায়ের কাজ পরিদর্শন করে ২৫ -৬- ২০২৪ তারিখের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়। ওই চিঠিতে এম বি, বিলের কপি, মালামাল পরীক্ষা রিপোর্ট ও পানি টেস্ট রিপোর্টসহ প্রয়োজনীয় সকল কাগজপত্র সংগ্রহ করতে বলা হয়।
এখানেই নির্বাহী প্রকৌশলী আহসান হাবীবের দুর্নীতির শেষ নয়। তিনি পাবনায় কর্মকালীন সময়ে সরকারি অর্থ লুটপাটে জড়িয়ে পড়েন। দুর্নীতির অভিযোগে পাবনায় দুর্নীতি দমন কমিশনে তার বিরুদ্ধে মামলাও রয়েছে। শুধু তাই নয় সরকারি কর্মচারী হওয়া সত্ত্বেও তথ্য গোপন করে সরকারের অনুমতি ব্যতীত অননুমোদিতভাবে প্রকৌশলী আহসান হাবীব বান্ধবীদের নিয়ে বিদেশ ভ্রমণ করেন। যা তার পাসপোর্ট পর্যালোচনা করলে বেরিয়ে আসবে।
এছাড়া,অবৈধভাবে উপার্জিত কালো টাকা দিয়ে বিদেশ ভ্রমণের পাশাপাশি নারীর পিছনেও ব্যয় করেন।সরকারি অনুমতি ছাড়া অননুমোদিতভাবে তিনি তৃতীয় বিয়ে করেন। গোপনে একাধিক মুতা বিবাহ(অস্থায়ী বিবাহ) করেছেন। ডাক্তার সুমনা ইসলাম নামে এক নারীকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে তিনি এই তৃতীয় বিয়ে করেছেন। নেত্রকোনায় নির্বাহী প্রকৌশলী চলতি দায়িত্বে থাকাকালীন তার তৃতীয় স্ত্রী ডাক্তার সুমনা ইসলামের নামে বাসুকা কর্পোরেশন নামীয় লাইসেন্স করে ওই লাইসেন্সে স্ত্রীকে তারই স্বাক্ষরে নেত্রকোনায় ১ কোটি ৩১ লাখ ২৭ হাজার ৩০০ দশমিক ৯০৬ টাকার নলকূপ বসানোর কার্যাদেশ দেন। প্রকৌশলী আহসান হাবীবের বিরুদ্ধে এ সকল অভিযোগ থাকায় ৯ মে ২০২২ তারিখ এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাকে রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে চাকুরি হতে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়। প্রকৌশলী আহসান হাবীব চাকুরী হতে বরখাস্ত হলেও তাকে বেশি দিন চাকুরীর বাহিরে থাকতে হয়নি। ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার লুটপাটের রাজ্যের অন্যতম অংশীদার প্রকৌশলী আহসান হাবিব অদৃশ্য শক্তির কেরামতিতে নোয়াখালীতে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে বসে যান। কিভাবে তার বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার হলো বা কিভাবে তিনি আবার চাকুরিতে ফিরে এলেন তা পুরোটাই রহস্যে ঘেরা।
বরখাস্তের পর নোয়াখালীর নির্বাহী পরকৌশলী হয়ে তিনি আবারও নানা অনিয়ম আর দুর্নীতির সাথে জড়িয়ে পড়েন। এন কে কর্পোরেশনকে কাজ ছাড়াই ২ কোটি ৫০ লাখ টাকার বিল দিয়ে দেন। তার বিরুদ্ধে এ ধরনের ভয়াবহ আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ ওঠায় তাকে নোয়াখালী থেকে ঠাকুরগাঁয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে বদলি করা হয়। ঠাকুরগাঁওয়েও তিনি বসে নেই। সেখানেও তিনি নারী কেলেংকারিসহ নানা আর্থিক অনিয়মের সাথে জড়িয়ে পড়েছেন। তার চাকুরি জীবনে তিনি যেখানেই দায়িত্ব পালন করেছেন সেখানেই তার বিরুদ্ধে সরকারি অর্থ লুট পাটের অভিযোগ উঠেছে । প্রকৌশলী আহসান হাবীব তার নিকট আত্মীয়দের নামে লাইসেন্স করে অধিকাংশ সময় সেই লাইসেন্সে কাজ দিয়ে সরকারি অর্থ লোপাট করে থাকেন। অন্য লাইসেন্সে কাজ দিলেও সেই ঠিকাদারের কাছ থেকে তিনি অনৈতিক উপায়ে অর্থ উপার্জন করেন। তিনি এখন শত কোটি টাকার মালিক হয়েছেন।
প্রকৌশলী আহসান হাবীব শুধু সরকারি অর্থ লুটপাটের ক্ষেত্রেই ভয়ংকর নয়, পারিবারিক জীবনেও তিনি ভয়ংকর। প্রেমের ফাঁদে ফেলে বিয়ে করা তার তৃতীয় স্ত্রী ডাক্তার সুমনা ইসলামকে তিনি গর্ভবতীকালিন অবস্থায় নানাভাবে শারীরিক, মানসিক নির্যাতন করেছেন। ডাক্তার সুমনা ইসলামের সাথে যৌথ মালিকানায় একটি ফ্লাট কিনে প্রকৌশলী আহসান হাবিব আইনগত প্রক্রিয়ায় তার অংশ ডাক্তার সুমানা ইসলামকে বুঝিয়ে দিলেও এখন আবার নানাভাবে মালিকানা দাবি করছেন। ডাক্তার সুমনা ইসলামকে ফ্লাট থেকে উচ্ছেদ করতে হয়রানি মূলক মামলাসহ সন্ত্রাসী পাঠিয়ে জীবননাশের হুমকি দিচ্ছে প্রকৌশলী আহসান হাবিব। এ বিষয়ে ডাক্তার সুমনা ইসলাম জীবনে নিরাপত্তা চেয়ে রাজধানীর ধানমন্ডি থানায় একাধিক সাধারণ ডায়েরি করেছেন।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের ”এপস্টেইন” খ্যাত নির্বাহী প্রকৌশলী আহসান হাবীব এর যৌন কেলেংকারী,অনিয়ম,দুর্নীতি ও অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধান ও ব্যবস্থা গ্রহনের দাবিতে এলজিআরডি মন্ত্রণালয়,দুর্নীতি দমন কমিশনসহ সরকারি দপ্তরসমুহে অভিযোগের পাহাড় জমেছে। কিন্তু রহস্যজনক কারনে তার বিরুদ্ধে কোন আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হচ্ছে না।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রংপুর বিভাগের ৮ জেলায় জ্বালানি তেল সরবরাহ অনির্দিষ্টকালে জন্য বন্ধ

জনস্বাস্থের নির্বাহী প্রকৌশলী আহসান হাবিব:জেফরি এপস্টেইনের নতুন সংস্করণ !

আপডেট সময় ০৮:০২:৫০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬

আমেরিকার যৌন কেলেংকারির আলোচিত মুখ কুখ্যাত জেফরি এপস্টেইন এর নতুন সংস্করণ আবির্ভূত হয়েছে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে। বহু বিবাহ, অন্তত এক ডজন মুতা বিবাহ,অসংখ্য নারী কেলেংকারীর সাথে সম্পৃক্ত হয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী পকৌশলী আহসান হাবিব ” জেফরি এপস্টেইন” আখ্যা পেয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানাগেছে, পতিত স্বৈরাচার ফ্যাসিস্ট আওয়ামী দোসর ও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী আহসান হাবীব নারী কেলেংকারীর পাশাপাশি ক্ষমতার অপব্যবহার করে অনিয়ম,দুর্নীতির মাধ্যমে শত কোটি টাকার সম্পদের মালিক হয়ে গেছেন। যা তার জ্ঞাত আয়ের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। আহসান হাবীব ও তার পরিবারের সদস্যদের জাতীয় পরিচয় পত্রের বিপরীতে সম্পদের অনুসন্ধান করলে অভিযোগের প্রমান পাওয়া যাবে।
সূত্রমতে,জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের ঠাকুরগাঁও নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আহসান হাবিবের কাজ না করিয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স এন কে কর্পোরেশনকে ২ কোটি ৫০ লাখ টাকার বিল প্রদান করেছেন। মো. আহসান হাবিব জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর নোয়াখালী জেলায় নির্বাহী প্রকৌশলীর দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে “সমগ্র দেশে নিরাপদ পানি সরবরাহ” প্রকল্প থেকে হাতিয়া উপজেলায় মেসার্স এন কে কর্পোরেশন ২ কোটি ৯৯ লাখ ৩১ হাজার ৩৫৫ টাকার কার্যাদেশ পায়। উক্ত কাজের প্যাকেজে টেস্ট টিউবওয়েল, প্রোডাকশন টিউবওয়েল, ওভারহেড ট্যাংক, পাইপলাইন ও ট্রিটমেন্ট প্লান্টের কার্যাদেশ ছিল। এ সকল কাজের ব্যয় ধরা ছিল ২ কোটি ৫০ লাখ টাকা। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এন কে কর্পোরেশনকে দিয়ে এ সকল কাজ না করিয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আহসান হাবিব ওই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটিকে কাজের সম্পূর্ণ বিল ২ কোটি ৫০ লাখ টাকা প্রদান করেন।
এ বিষয়ে প্রকৌশলী আহসান হাবীবের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে ১২-৬-২০২৪ তারিখে ৩৬০৫ স্মারক মূলে প্রকল্প পরিচালক মোঃ হানিফ স্বাক্ষরিত দুই সদস্যর একটি পরিদর্শন টিম গঠন করা হয়। উক্ত পরিদর্শন টিমকে মাঠ পর্যায়ের কাজ পরিদর্শন করে ২৫ -৬- ২০২৪ তারিখের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়। ওই চিঠিতে এম বি, বিলের কপি, মালামাল পরীক্ষা রিপোর্ট ও পানি টেস্ট রিপোর্টসহ প্রয়োজনীয় সকল কাগজপত্র সংগ্রহ করতে বলা হয়।
এখানেই নির্বাহী প্রকৌশলী আহসান হাবীবের দুর্নীতির শেষ নয়। তিনি পাবনায় কর্মকালীন সময়ে সরকারি অর্থ লুটপাটে জড়িয়ে পড়েন। দুর্নীতির অভিযোগে পাবনায় দুর্নীতি দমন কমিশনে তার বিরুদ্ধে মামলাও রয়েছে। শুধু তাই নয় সরকারি কর্মচারী হওয়া সত্ত্বেও তথ্য গোপন করে সরকারের অনুমতি ব্যতীত অননুমোদিতভাবে প্রকৌশলী আহসান হাবীব বান্ধবীদের নিয়ে বিদেশ ভ্রমণ করেন। যা তার পাসপোর্ট পর্যালোচনা করলে বেরিয়ে আসবে।
এছাড়া,অবৈধভাবে উপার্জিত কালো টাকা দিয়ে বিদেশ ভ্রমণের পাশাপাশি নারীর পিছনেও ব্যয় করেন।সরকারি অনুমতি ছাড়া অননুমোদিতভাবে তিনি তৃতীয় বিয়ে করেন। গোপনে একাধিক মুতা বিবাহ(অস্থায়ী বিবাহ) করেছেন। ডাক্তার সুমনা ইসলাম নামে এক নারীকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে তিনি এই তৃতীয় বিয়ে করেছেন। নেত্রকোনায় নির্বাহী প্রকৌশলী চলতি দায়িত্বে থাকাকালীন তার তৃতীয় স্ত্রী ডাক্তার সুমনা ইসলামের নামে বাসুকা কর্পোরেশন নামীয় লাইসেন্স করে ওই লাইসেন্সে স্ত্রীকে তারই স্বাক্ষরে নেত্রকোনায় ১ কোটি ৩১ লাখ ২৭ হাজার ৩০০ দশমিক ৯০৬ টাকার নলকূপ বসানোর কার্যাদেশ দেন। প্রকৌশলী আহসান হাবীবের বিরুদ্ধে এ সকল অভিযোগ থাকায় ৯ মে ২০২২ তারিখ এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাকে রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে চাকুরি হতে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়। প্রকৌশলী আহসান হাবীব চাকুরী হতে বরখাস্ত হলেও তাকে বেশি দিন চাকুরীর বাহিরে থাকতে হয়নি। ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার লুটপাটের রাজ্যের অন্যতম অংশীদার প্রকৌশলী আহসান হাবিব অদৃশ্য শক্তির কেরামতিতে নোয়াখালীতে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে বসে যান। কিভাবে তার বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার হলো বা কিভাবে তিনি আবার চাকুরিতে ফিরে এলেন তা পুরোটাই রহস্যে ঘেরা।
বরখাস্তের পর নোয়াখালীর নির্বাহী পরকৌশলী হয়ে তিনি আবারও নানা অনিয়ম আর দুর্নীতির সাথে জড়িয়ে পড়েন। এন কে কর্পোরেশনকে কাজ ছাড়াই ২ কোটি ৫০ লাখ টাকার বিল দিয়ে দেন। তার বিরুদ্ধে এ ধরনের ভয়াবহ আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ ওঠায় তাকে নোয়াখালী থেকে ঠাকুরগাঁয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে বদলি করা হয়। ঠাকুরগাঁওয়েও তিনি বসে নেই। সেখানেও তিনি নারী কেলেংকারিসহ নানা আর্থিক অনিয়মের সাথে জড়িয়ে পড়েছেন। তার চাকুরি জীবনে তিনি যেখানেই দায়িত্ব পালন করেছেন সেখানেই তার বিরুদ্ধে সরকারি অর্থ লুট পাটের অভিযোগ উঠেছে । প্রকৌশলী আহসান হাবীব তার নিকট আত্মীয়দের নামে লাইসেন্স করে অধিকাংশ সময় সেই লাইসেন্সে কাজ দিয়ে সরকারি অর্থ লোপাট করে থাকেন। অন্য লাইসেন্সে কাজ দিলেও সেই ঠিকাদারের কাছ থেকে তিনি অনৈতিক উপায়ে অর্থ উপার্জন করেন। তিনি এখন শত কোটি টাকার মালিক হয়েছেন।
প্রকৌশলী আহসান হাবীব শুধু সরকারি অর্থ লুটপাটের ক্ষেত্রেই ভয়ংকর নয়, পারিবারিক জীবনেও তিনি ভয়ংকর। প্রেমের ফাঁদে ফেলে বিয়ে করা তার তৃতীয় স্ত্রী ডাক্তার সুমনা ইসলামকে তিনি গর্ভবতীকালিন অবস্থায় নানাভাবে শারীরিক, মানসিক নির্যাতন করেছেন। ডাক্তার সুমনা ইসলামের সাথে যৌথ মালিকানায় একটি ফ্লাট কিনে প্রকৌশলী আহসান হাবিব আইনগত প্রক্রিয়ায় তার অংশ ডাক্তার সুমানা ইসলামকে বুঝিয়ে দিলেও এখন আবার নানাভাবে মালিকানা দাবি করছেন। ডাক্তার সুমনা ইসলামকে ফ্লাট থেকে উচ্ছেদ করতে হয়রানি মূলক মামলাসহ সন্ত্রাসী পাঠিয়ে জীবননাশের হুমকি দিচ্ছে প্রকৌশলী আহসান হাবিব। এ বিষয়ে ডাক্তার সুমনা ইসলাম জীবনে নিরাপত্তা চেয়ে রাজধানীর ধানমন্ডি থানায় একাধিক সাধারণ ডায়েরি করেছেন।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের ”এপস্টেইন” খ্যাত নির্বাহী প্রকৌশলী আহসান হাবীব এর যৌন কেলেংকারী,অনিয়ম,দুর্নীতি ও অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধান ও ব্যবস্থা গ্রহনের দাবিতে এলজিআরডি মন্ত্রণালয়,দুর্নীতি দমন কমিশনসহ সরকারি দপ্তরসমুহে অভিযোগের পাহাড় জমেছে। কিন্তু রহস্যজনক কারনে তার বিরুদ্ধে কোন আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হচ্ছে না।