ঢাকা ০২:৪৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬, ১২ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
শাস্তির বদলে পদোন্নতি, বন বিভাগে দেড় কোটি টাকা আত্মসাতের মহোৎসব জালিয়াতি ও লুটপাটে আঙুল ফুলে কলাগাছ ওয়াসার প্রকৌশলী জুনায়েদ সিএমএসডিতে অনিয়মের পাহাড়: ডা. তৌহিদের দুর্নীতির জালে বন্দি স্বাস্থ্যখাতের কোটি কোটি টাকা ডুবে যাওয়া বাস থেকে ১৬ লাশ উদ্ধার, মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ১৮ কুমিল্লায় বাস-প্রাইভেটকার সংঘর্ষে নিহত ৫ রাজপথে সাহসী, জনসেবায় আস্থার প্রতীক ঢাকা উত্তরের সাজ্জাদুল মিরাজ অবশেষে বদলি ‘দুর্নীতির বরপুত্র’ চট্টগ্রামের বন সংরক্ষক মোল্যা রেজাউল হরমুজ প্রণালিকে মুক্ত করতে বেশি সময় লাগবে না : ট্রাম্প কেন্দ্রীয় চুক্তিতে যে পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে ভারত পিএসএলে নিরাপত্তা নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার উদ্বেগ, যা বলছে পিসিবি

শাস্তির বদলে পদোন্নতি, বন বিভাগে দেড় কোটি টাকা আত্মসাতের মহোৎসব

  • স্টাফ রিপোর্টার:
  • আপডেট সময় ০২:৪৭:১৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬
  • ৫০১ বার পড়া হয়েছে

বন বিভাগের কর্মকর্তাদের ঘুষ-দুর্নীতি ও সরকারি অর্থ আত্মসাতের দীর্ঘদিনের অভিযোগ এবার আরও প্রকট হয়ে উঠেছে। টেকসই বন ও জীবিকা (সুফল) প্রকল্পের আওতায় বাগান তৈরির নামে প্রায় দেড় কোটি টাকা আত্মসাতের ঘটনা এক বছর ধরে ‘ওপেন সিক্রেট’ হলেও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বন অধিদপ্তর। উল্টো অভিযোগ উঠেছে, তদন্ত ধামাচাপা দিয়ে অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের পদোন্নতি ও ‘প্রাইজ পোস্টিং’ দিয়ে পুরস্কৃত করা হয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের কুমিরা রেঞ্জে ১৭০ হেক্টর ও ১০ হেক্টরের দুটি দ্রুত বর্ধনশীল বাগান সৃজনে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী বাগানে অন্তত ৮০ শতাংশ চারা জীবিত থাকার কথা থাকলেও জরিপে দেখা গেছে কোথাও ৬০ শতাংশ, আবার কোথাও মাত্র ৫০ শতাংশ চারা টিকে আছে। বনায়ন না করেই প্রকল্পের এই বিশাল অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়েছে একটি সংঘবদ্ধ চক্র।

এই চক্রের মূলহোতা হিসেবে পরিচিত সাদেকুর রহমানকে শাস্তির বদলে সম্প্রতি ডেপুটি রেঞ্জার পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, তাকে বন বিভাগের অত্যন্ত ‘লোভনীয়’ পোস্টিং হিসেবে পরিচিত কক্সবাজারের ফাঁসিয়াখালী রেঞ্জ কর্মকর্তার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সিন্ডিকেটের অন্য দুই সদস্য—তৎকালীন ডিসিএফ এস.এম কায়চার (বর্তমানে পরিচালক, চট্টগ্রাম বোটানিক্যাল গার্ডেন) এবং সহকারী বন সংরক্ষক জয়নাল আবেদীনও বহাল তবিয়তে প্রভাবশালী পদে আসীন।

অভিযোগ রয়েছে, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন ইউনিটের উপবন সংরক্ষক উম্মে হাবিবা গত বছরের এপ্রিল ও নভেম্বর মাসে দুবার চিঠি দিয়ে দায়ীদের তালিকা চাইলেও রহস্যজনক কারণে তা কার্যকর হয়নি। সংশ্লিষ্ট মহলে গুঞ্জন আছে, চট্টগ্রাম অঞ্চলের বন সংরক্ষক ড. মোল্যা রেজাউল করিমের ঘনিষ্ঠ হওয়ায় এই কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। এমনকি পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন ইউনিটকে মোটা অংকের ঘুষ দিয়ে ম্যানেজ করার প্রচারণাও চলছে বন দপ্তরে।

দুর্নীতির বিষয়ে সরাসরি প্রশ্ন করা হলে অভিযুক্ত সাদেকুর রহমান ও এস.এম কায়চার বিষয়টি এড়িয়ে যান। সহকারী বন সংরক্ষক মো. জয়নাল আবেদীন নিজেকে ‘অভিযুক্ত’ স্বীকার করে মন্তব্য করতে রাজি হননি। অন্যদিকে, উপবন সংরক্ষক উম্মে হাবিবা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। বন রক্ষায় নিয়োজিত এই কর্মকর্তাদের এমন বেপরোয়া কাণ্ডে বর্তমানে বন অধিদপ্তরের ভেতরে তীব্র অস্থিরতা বিরাজ করছে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শাস্তির বদলে পদোন্নতি, বন বিভাগে দেড় কোটি টাকা আত্মসাতের মহোৎসব

শাস্তির বদলে পদোন্নতি, বন বিভাগে দেড় কোটি টাকা আত্মসাতের মহোৎসব

আপডেট সময় ০২:৪৭:১৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬

বন বিভাগের কর্মকর্তাদের ঘুষ-দুর্নীতি ও সরকারি অর্থ আত্মসাতের দীর্ঘদিনের অভিযোগ এবার আরও প্রকট হয়ে উঠেছে। টেকসই বন ও জীবিকা (সুফল) প্রকল্পের আওতায় বাগান তৈরির নামে প্রায় দেড় কোটি টাকা আত্মসাতের ঘটনা এক বছর ধরে ‘ওপেন সিক্রেট’ হলেও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বন অধিদপ্তর। উল্টো অভিযোগ উঠেছে, তদন্ত ধামাচাপা দিয়ে অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের পদোন্নতি ও ‘প্রাইজ পোস্টিং’ দিয়ে পুরস্কৃত করা হয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের কুমিরা রেঞ্জে ১৭০ হেক্টর ও ১০ হেক্টরের দুটি দ্রুত বর্ধনশীল বাগান সৃজনে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী বাগানে অন্তত ৮০ শতাংশ চারা জীবিত থাকার কথা থাকলেও জরিপে দেখা গেছে কোথাও ৬০ শতাংশ, আবার কোথাও মাত্র ৫০ শতাংশ চারা টিকে আছে। বনায়ন না করেই প্রকল্পের এই বিশাল অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়েছে একটি সংঘবদ্ধ চক্র।

এই চক্রের মূলহোতা হিসেবে পরিচিত সাদেকুর রহমানকে শাস্তির বদলে সম্প্রতি ডেপুটি রেঞ্জার পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, তাকে বন বিভাগের অত্যন্ত ‘লোভনীয়’ পোস্টিং হিসেবে পরিচিত কক্সবাজারের ফাঁসিয়াখালী রেঞ্জ কর্মকর্তার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সিন্ডিকেটের অন্য দুই সদস্য—তৎকালীন ডিসিএফ এস.এম কায়চার (বর্তমানে পরিচালক, চট্টগ্রাম বোটানিক্যাল গার্ডেন) এবং সহকারী বন সংরক্ষক জয়নাল আবেদীনও বহাল তবিয়তে প্রভাবশালী পদে আসীন।

অভিযোগ রয়েছে, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন ইউনিটের উপবন সংরক্ষক উম্মে হাবিবা গত বছরের এপ্রিল ও নভেম্বর মাসে দুবার চিঠি দিয়ে দায়ীদের তালিকা চাইলেও রহস্যজনক কারণে তা কার্যকর হয়নি। সংশ্লিষ্ট মহলে গুঞ্জন আছে, চট্টগ্রাম অঞ্চলের বন সংরক্ষক ড. মোল্যা রেজাউল করিমের ঘনিষ্ঠ হওয়ায় এই কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। এমনকি পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন ইউনিটকে মোটা অংকের ঘুষ দিয়ে ম্যানেজ করার প্রচারণাও চলছে বন দপ্তরে।

দুর্নীতির বিষয়ে সরাসরি প্রশ্ন করা হলে অভিযুক্ত সাদেকুর রহমান ও এস.এম কায়চার বিষয়টি এড়িয়ে যান। সহকারী বন সংরক্ষক মো. জয়নাল আবেদীন নিজেকে ‘অভিযুক্ত’ স্বীকার করে মন্তব্য করতে রাজি হননি। অন্যদিকে, উপবন সংরক্ষক উম্মে হাবিবা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। বন রক্ষায় নিয়োজিত এই কর্মকর্তাদের এমন বেপরোয়া কাণ্ডে বর্তমানে বন অধিদপ্তরের ভেতরে তীব্র অস্থিরতা বিরাজ করছে।