২৪-এর জুলাই স্বৈরাচার পতন আন্দোলনে তখন উত্তাল সারাদেশ। ছাত্রজনতার এই দুর্বার গণআন্দোলনে রাজপথে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের সদস্য সচিব সাজ্জাদুল মিরাজ। ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে পুলিশ ও পেটুয়া বাহিনীর বিপরীতে নিজেদের সাহসিকতার অনন্য উদাহরণ তৈরি করেন তিনি। রাজপথে ভিন্ন ভিন্ন কৌশলে তার গড়ে তোলা প্রতিরোধ স্বৈরাচার পতনে বড় ভূমিকা রাখে। শুধু আন্দোলনই নয়, স্বৈরাচার পতনের পর পরিস্থিতি শান্ত করতে এবং সহিংসতা দমনেও কাজ করেন সাজ্জাদুল মিরাজ। তার শক্তিশালী ও দূরদর্শী ভূমিকার কারণেই আন্দোলন পরবর্তী সময়ে কোনো বড় সহিংসতার ঘটনা ঘটেনি।
সেই উত্তাল দিনগুলোর কথা স্মরণ করে সাজ্জাদুল মিরাজ বলেন, “জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি আমরা মাঠে মরিয়া হয়ে আন্দোলন করেছি। যখন রাজপথে ছিলাম, একদিকে পেটুয়া বাহিনী ও পুলিশের বন্দুকের নল, অন্যদিকে আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা—সব মিলিয়ে নিজের দলের নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে আমরা দুর্বার প্রতিরোধ গড়ে তুলেছি।”
তিনি আরও জানান, শেখ হাসিনার পতনের পর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশ ছিল যেকোনো পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী সব সময় মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছি। এছাড়াও দলের প্রয়োজনে নিজেকে নিবেদিত রেখেছি।
জনকল্যাণে অভিনব উদ্যোগ ও মানবিকতা: আন্দোলনের মাঠের সাহসী এই নেতা জনকল্যাণমূলক কাজেও নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন সাজ্জাদুল মিরাজ। সাধারণ মানুষের যেকোনো অভাব-অভিযোগ শুনতে তিনি গ্রহণ করেছেন এক অভিনব উদ্যোগ। নিজ কার্যালয়ের সামনে স্থাপন করেছেন একটি ‘অভিযোগ বক্স’। এর ফলে রাজধানী মিরপুর এলাকার (ঢাকা-১৪ আসন) সাধারণ মানুষ ও দলীয় নেতাকর্মীরা সম্পূর্ণ গোপনে তাদের যেকোনো সমস্যা ও অভিযোগের কথা সরাসরি তাকে জানাতে পারছেন। এতে করে এলাকায় জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত হচ্ছে।
মানবিক কাজের অংশ হিসেবে প্রতি বছরের মতো পবিত্র রমজানেও ঢাকা উত্তরের বিভিন্ন এলাকায় নিজ হাতে ভ্রাম্যমাণ পথচারী, গরিব ও দুস্থদের মাঝে ইফতার তুলে দেন সাজ্জাদুল মিরাজ। মাসব্যাপী এই ইফতার বিতরণের পাশাপাশি অসহায় মানুষের মাঝে ঈদ উপহার সামগ্রীও বিতরণ করেন তিনি। শুধু তাই নয়, ঈদুল ফিতরের সময় ঘরমুখো মানুষের চাপে যখন রাস্তায় তীব্র যানজট, তখন নিজেই রাস্তায় দাঁড়িয়ে যানজট নিরসনে কাজ করে সাধারণ মানুষের ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছেন তিনি।
এছাড়া, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের প্রতীকের প্রতি অবিচল থেকে ধানের শীষের পক্ষে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালান এই যুবদল নেতা।
আগামীর পরিকল্পনা নিয়ে ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের এই সদস্য সচিব দৃঢ় প্রত্যয়ে বলেন, “ঢাকা মহানগর উত্তরের সকল জনহিতকর কাজে আমি নিজেকে বিলিয়ে দিতে চাই। মানুষের পাশে সব সময় থাকতে চাই। সাধারণ মানুষের অভিযোগ ও যেকোনো সমস্যা সমাধানে আমার জায়গা থেকে আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাবো।”
ছাত্রজনতার আন্দোলনে সাহসী নেতৃত্ব আর সাধারণ মানুষের বিপদে-আপদে পাশে দাঁড়িয়ে সাজ্জাদুল মিরাজ প্রমাণ করেছেন, তিনি শুধু একজন রাজনৈতিক নেতাই নন, বরং ঢাকা উত্তরের মানুষের আস্থার প্রতীক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
নিজস্ব প্রতিবেদক: 






















