রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার কাবিলপুর ইউনিয়ন পরিষদের সচিবের বিরুদ্ধে তিন নারীকে কুপ্রস্তাব দেওয়া ও অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানিয়েছেন এবং প্রশাসনের কাছে নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারের দাবি করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে কাবিলপুর ইউনিয়নের আওতাভুক্ত এলাকায় খানা জরিপ ও বসতবাড়ির কর আদায় কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ৯ সদস্যের একটি দল গঠন করা হয়। এ দলে ৪ জন নারী ও ৫ জন পুরুষ ছিলেন। প্যানেল চেয়ারম্যানসহ কয়েকজন ইউপি সদস্যের সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে তারা এ কার্যক্রম শুরু করেন। কাজের সুবিধার্থে ইউনিয়ন পরিষদের দ্বিতীয় তলায় একটি কক্ষে তাদের রাত্রিযাপনের ব্যবস্থা করা হয়।
দলটির সদস্যরা সেখানে অবস্থান করার সময় ইউনিয়ন পরিষদের সচিব সিরাজুল ইসলাম-এর সঙ্গে তাদের পরিচয় হয়। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, পরিচয়ের পর থেকেই সচিব তাদের মধ্যে এক নারী **যুথি (ছদ্মনাম)**সহ আরও দুই নারীকে বিভিন্ন সময়ে অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি ও কুপ্রস্তাব দিতে থাকেন। এমনকি তাদের মুঠোফোনেও বিভিন্ন সময়ে ইঙ্গিতপূর্ণ প্রস্তাব ও প্রলোভন দেখানো হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ২৬ ফেব্রুয়ারি দুপুর প্রায় ১টার দিকে সচিব সিরাজুল ইসলাম পরিষদের দ্বিতীয় তলার কক্ষে প্রবেশ করে তাদের ইজ্জতহানির চেষ্টা করেন। এ সময় তাদের চিৎকারে তিনি দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। পরে তারা বিষয়টি তাদের ম্যানেজার লতিফুল ইসলাম লিখন-কে জানান।
ম্যানেজার লিখন বিষয়টি নিয়ে সচিবের কাছে জানতে চাইলে, অভিযোগ অনুযায়ী সচিব নাকি দুইজন নারীকে “দিতে হবে” বলে দাবি করেন। এতে তিনি রাজি না হলে খানা জরিপের কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া এবং তাদের কক্ষ থেকে বের করে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
পরবর্তীতে ভুক্তভোগীরা ইউনিয়ন পরিষদ ছেড়ে পাশের জামালপুর গ্রামের মতিয়ার রহমানের বাড়ি ভাড়া নিয়ে সেখান থেকে কাজ পরিচালনা করতে থাকেন। এদিকে অভিযোগ রয়েছে, সচিব সিরাজুল ইসলাম কৌশলে ম্যানেজার লিখনের ব্যবহৃত মোটরসাইকেল আটক করেন। পরে পুনরায় চুক্তি সম্পাদনের সময় লিখনের কাছ থেকে ডাচ-বাংলা ব্যাংকের দুটি স্বাক্ষরিত ফাঁকা চেক নেওয়া হয়। বর্তমানে ওই চেকের মামলার হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে জানান ম্যানেজার লিখন। বিষয়টি নিয়ে ম্যানেজার লিখন কাবিলপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম-কে অবহিত করলে তিনি বিষয়টি দেখবেন বলে জানান। এ ব্যাপারে পীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পপি খাতুন বলেন, অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে থানা ইনচার্জ সোহেল রানা জানান, অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত স্বাপেক্ষে দ্রুতই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভুক্তভোগী নারীরা জানান, ঘটনার পর থেকে তারা আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তারা প্রশাসনের কাছে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
তারিকুল ইসলাম তারিক পীরগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি : 





















