ঢাকা ০৬:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬, ৪ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
টিকিটের অগ্নিমূল্যে যাত্রীদের নাভিশ্বাস ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় পোর্টেবল সিগন্যাল লাইট ব্যবহার শুরু পুলিশের ঈদযাত্রায় ‘তেলের টেনশনে’ শিডিউল বিপর্যয়ের শঙ্কা সালমান আগার রান আউট বিতর্কে যা বলছে এমসিসি ঈদযাত্রা নিরাপদ রাখতে নোয়াখালীতে র‍্যাবের কঠোর অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান ইরানের সর্বোচ্চ নেতার ঈদযাত্রায় সাভারে সড়কে মানুষের ঢল, বেড়েছে গণপরিবহনের চাপ কক্সবাজার সৈকতে বারুণী স্নান ও গঙ্গাপূজায় পুণ্যার্থীর ঢল মতিঝিলে চোর-পুলিশ খেলা, গুলিস্তানে পুলিশের সামনে নতুন নোট বিক্রি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, দুই পরিবহনকে জরিমানা
পীরগঞ্জে বিএডিসির বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও হয়রানির অভিযোগ

কৃষকদের অভিযোগের পাহাড়, ইউএনও কার্যালয়ে একাধিক লিখিত অভিযোগ

রংপুরের পীরগঞ্জে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) কার্যালয়ের প্রকৌশলী নাজমুস সাদাত ও অফিস সহকারী আলমগীর হোসেনের বিরুদ্ধে কৃষকদের কাছ থেকে নানা ধরনের অভিযোগ উঠেছে। সেচ লাইসেন্স প্রদান, নবায়ন, বৈদ্যুতিক সংযোগ ও কমান্ডিং এরিয়া ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম, উৎকোচ দাবি ও হয়রানির অভিযোগ এনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে একাধিক লিখিত ও মৌখিক অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগীরা।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বিএডিসি প্রকৌশলী নাজমুস সাদাতের বিরুদ্ধে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা উপেক্ষা করে ইচ্ছামতো সেচ লাইসেন্স প্রদান, বৈদ্যুতিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন এবং একই কমান্ডিং এরিয়ায় একাধিক সেচ পাম্পের অনুমোদন দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এতে বিভিন্ন এলাকায় কৃষকদের মধ্যে বিরোধ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।

কাবিলপুর ইউনিয়নের জয়পুর গ্রামের কৃষক আব্দুল লতিফ জানান, ২০২২ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি তিনি বিএডিসি থেকে অগভীর নলকূপ স্থাপনের জন্য সেচ লাইসেন্স (নং–২৬৯৩) পান। প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ক্রয় ও বৈদ্যুতিক সংযোগের প্রস্তুতি নেওয়ার পর হঠাৎ তার লাইসেন্স বাতিল করে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। পরে বিষয়টি নিয়ে প্রকৌশলী নাজমুস সাদাতের সাথে যোগাযোগ করলে তাকে অফিস সহকারী আলমগীরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়। দীর্ঘ চার বছর পেরিয়ে গেলেও তিনি এখনো সেচ লাইসেন্স ও সংযোগ পাননি বলে দাবি করেন। এতে তার প্রায় ৮ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

শানেরহাট ইউনিয়নের হরিরাম সাহাপুর গ্রামের কৃষক মিন্টু মিয়া অভিযোগ করেন, সেচ লাইসেন্স স্থাপনের জন্য চার লক্ষের অধিক অর্থ ব্যয় করার পরও লাইসেন্স নবায়নের জন্য তার কাছে ৫০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। টাকা দিতে অপারগতা জানালে তার কমান্ডিং এরিয়ায় অন্য ব্যক্তিকে সেচ পাম্পের লাইসেন্স দেওয়া হয়। এ বিষয়ে ইউএনও বরাবর অভিযোগ করলে উল্টো লাইসেন্স বাতিলের হুমকি এবং অসৈজন্য মূলক আচরণ করা হয় বলেও দাবি করেন তিনি।

একই ইউনিয়নের রাউতপাড়া (ঘোষপুর) গ্রামের ফজলুল হক বারী মন্ডল অভিযোগ করেন, তার কমান্ডিং এরিয়ায় মোটা অংকের উৎকোচ নিয়ে অন্য ব্যক্তিকে সেচ লাইসেন্স প্রদান করা হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় বিরোধের সৃষ্টি হয়েছে বলে জানান তিনি।

বড় আলমপুর ইউনিয়নের শহিদুল ইসলাম জানান, সেচ লাইসেন্স নবায়নের জন্য অফিস সহকারী আলমগীরের কাছে টাকা ও কাগজপত্র জমা দেওয়ার পরও দীর্ঘদিন ধরে তাকে ঘুরানো হয়। পরে লাইসেন্স হারিয়ে গেছে বলে জানিয়ে পুনরায় টাকা জমা দিতে বলা হয়। তবে জমাকৃত অর্থ ও লাইসেন্স কোনোটিই এখনো ফেরত পাননি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এদিকে ভেন্ডাবাড়ি ইউনিয়নের বেহরতপুর গ্রামের আজিজুল ইসলাম অভিযোগ করেন, তার এলাকায় বিএডিসির লাইসেন্স ছাড়াই পল্লী বিদ্যুতের মাধ্যমে অবৈধভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে সেচ পাম্প চালুর সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। একই এলাকার কৃষক ওহাব মিয়া অভিযোগ করেন, উৎকোচ না দেয়ার কারণে কমান্ডিং এরিয়ার বাইরে হলেও তার আবেদন বারবার প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।

এছাড়াও আরও একাধিক ভুক্তভোগী কৃষক বিএডিসি প্রকৌশলী ও অফিস সহকারী আলমগীর হোসেনের বিরুদ্ধে মৌখিক ও লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছে বলে জানা গেছে ।

ভুক্তভোগী কৃষকদের দাবি, সেচ লাইসেন্স নবায়নে উৎকোচ দাবি, সময়ক্ষেপণ, অযৌক্তিক হয়রানি ও হুমকির কারণে অনেক কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তারা অবৈধ লাইসেন্স ও বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ, বৈধ সংযোগ অযথা বিচ্ছিন্ন না করা এবং কমান্ডিং এরিয়ায় নিয়ম বহির্ভূত একাধিক সেচ পাম্প অনুমোদন বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

উল্লেখ্য, কৃষি কাজে ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবস্থাপনা বিধিমালা–২০১৯ এর ০৩ নং বিধি অনুযায়ী সেচ ব্যবস্থাপনা তদারকির জন্য একটি কমিটি গঠনের বিধান রয়েছে। তবে ভুক্তভোগী কৃষকদের অভিযোগ, কমিটিতে না থেকেও বাস্তবে বিএডিসি কার্যালয়ের প্রকৌশলী ও অফিস সহকারীই সেচ কার্যক্রমে এককভাবে প্রভাব বিস্তার করছেন। ফলে বিঘ্নিত হচ্ছে ২০১৯ এর বিধি মোতাবেক সুচারুরূপে প্রণীত সেচ বাস্তবায়ন ।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছাঃ পপি খাতুন বলেন, অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত স্বাপেক্ষে দ্রুতই আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী ও কৃষকরা।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

টিকিটের অগ্নিমূল্যে যাত্রীদের নাভিশ্বাস

পীরগঞ্জে বিএডিসির বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও হয়রানির অভিযোগ

কৃষকদের অভিযোগের পাহাড়, ইউএনও কার্যালয়ে একাধিক লিখিত অভিযোগ

আপডেট সময় ০৪:০৩:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬

রংপুরের পীরগঞ্জে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) কার্যালয়ের প্রকৌশলী নাজমুস সাদাত ও অফিস সহকারী আলমগীর হোসেনের বিরুদ্ধে কৃষকদের কাছ থেকে নানা ধরনের অভিযোগ উঠেছে। সেচ লাইসেন্স প্রদান, নবায়ন, বৈদ্যুতিক সংযোগ ও কমান্ডিং এরিয়া ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম, উৎকোচ দাবি ও হয়রানির অভিযোগ এনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে একাধিক লিখিত ও মৌখিক অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগীরা।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বিএডিসি প্রকৌশলী নাজমুস সাদাতের বিরুদ্ধে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা উপেক্ষা করে ইচ্ছামতো সেচ লাইসেন্স প্রদান, বৈদ্যুতিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন এবং একই কমান্ডিং এরিয়ায় একাধিক সেচ পাম্পের অনুমোদন দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এতে বিভিন্ন এলাকায় কৃষকদের মধ্যে বিরোধ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।

কাবিলপুর ইউনিয়নের জয়পুর গ্রামের কৃষক আব্দুল লতিফ জানান, ২০২২ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি তিনি বিএডিসি থেকে অগভীর নলকূপ স্থাপনের জন্য সেচ লাইসেন্স (নং–২৬৯৩) পান। প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ক্রয় ও বৈদ্যুতিক সংযোগের প্রস্তুতি নেওয়ার পর হঠাৎ তার লাইসেন্স বাতিল করে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। পরে বিষয়টি নিয়ে প্রকৌশলী নাজমুস সাদাতের সাথে যোগাযোগ করলে তাকে অফিস সহকারী আলমগীরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়। দীর্ঘ চার বছর পেরিয়ে গেলেও তিনি এখনো সেচ লাইসেন্স ও সংযোগ পাননি বলে দাবি করেন। এতে তার প্রায় ৮ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

শানেরহাট ইউনিয়নের হরিরাম সাহাপুর গ্রামের কৃষক মিন্টু মিয়া অভিযোগ করেন, সেচ লাইসেন্স স্থাপনের জন্য চার লক্ষের অধিক অর্থ ব্যয় করার পরও লাইসেন্স নবায়নের জন্য তার কাছে ৫০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। টাকা দিতে অপারগতা জানালে তার কমান্ডিং এরিয়ায় অন্য ব্যক্তিকে সেচ পাম্পের লাইসেন্স দেওয়া হয়। এ বিষয়ে ইউএনও বরাবর অভিযোগ করলে উল্টো লাইসেন্স বাতিলের হুমকি এবং অসৈজন্য মূলক আচরণ করা হয় বলেও দাবি করেন তিনি।

একই ইউনিয়নের রাউতপাড়া (ঘোষপুর) গ্রামের ফজলুল হক বারী মন্ডল অভিযোগ করেন, তার কমান্ডিং এরিয়ায় মোটা অংকের উৎকোচ নিয়ে অন্য ব্যক্তিকে সেচ লাইসেন্স প্রদান করা হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় বিরোধের সৃষ্টি হয়েছে বলে জানান তিনি।

বড় আলমপুর ইউনিয়নের শহিদুল ইসলাম জানান, সেচ লাইসেন্স নবায়নের জন্য অফিস সহকারী আলমগীরের কাছে টাকা ও কাগজপত্র জমা দেওয়ার পরও দীর্ঘদিন ধরে তাকে ঘুরানো হয়। পরে লাইসেন্স হারিয়ে গেছে বলে জানিয়ে পুনরায় টাকা জমা দিতে বলা হয়। তবে জমাকৃত অর্থ ও লাইসেন্স কোনোটিই এখনো ফেরত পাননি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এদিকে ভেন্ডাবাড়ি ইউনিয়নের বেহরতপুর গ্রামের আজিজুল ইসলাম অভিযোগ করেন, তার এলাকায় বিএডিসির লাইসেন্স ছাড়াই পল্লী বিদ্যুতের মাধ্যমে অবৈধভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে সেচ পাম্প চালুর সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। একই এলাকার কৃষক ওহাব মিয়া অভিযোগ করেন, উৎকোচ না দেয়ার কারণে কমান্ডিং এরিয়ার বাইরে হলেও তার আবেদন বারবার প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।

এছাড়াও আরও একাধিক ভুক্তভোগী কৃষক বিএডিসি প্রকৌশলী ও অফিস সহকারী আলমগীর হোসেনের বিরুদ্ধে মৌখিক ও লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছে বলে জানা গেছে ।

ভুক্তভোগী কৃষকদের দাবি, সেচ লাইসেন্স নবায়নে উৎকোচ দাবি, সময়ক্ষেপণ, অযৌক্তিক হয়রানি ও হুমকির কারণে অনেক কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তারা অবৈধ লাইসেন্স ও বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ, বৈধ সংযোগ অযথা বিচ্ছিন্ন না করা এবং কমান্ডিং এরিয়ায় নিয়ম বহির্ভূত একাধিক সেচ পাম্প অনুমোদন বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

উল্লেখ্য, কৃষি কাজে ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবস্থাপনা বিধিমালা–২০১৯ এর ০৩ নং বিধি অনুযায়ী সেচ ব্যবস্থাপনা তদারকির জন্য একটি কমিটি গঠনের বিধান রয়েছে। তবে ভুক্তভোগী কৃষকদের অভিযোগ, কমিটিতে না থেকেও বাস্তবে বিএডিসি কার্যালয়ের প্রকৌশলী ও অফিস সহকারীই সেচ কার্যক্রমে এককভাবে প্রভাব বিস্তার করছেন। ফলে বিঘ্নিত হচ্ছে ২০১৯ এর বিধি মোতাবেক সুচারুরূপে প্রণীত সেচ বাস্তবায়ন ।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছাঃ পপি খাতুন বলেন, অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত স্বাপেক্ষে দ্রুতই আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী ও কৃষকরা।