ঢাকার সাভার উপজেলার আমিনবাজার ভূমি অফিসের এক কর্মচারীকে ঘিরে আবারও ঘুষ লেনদেন ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। রাজস্ব সার্কেলের অধীনে কর্মরত নাজির কাম-ক্যাশিয়ার মোঃ সাজেদুল ইসলামের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অনিয়ম, ঘুষ গ্রহণ এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে বলে স্থানীয় একাধিক সূত্র দাবি করেছে। এ বিষয়ে ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসকের (ডিসি) বরাবর লিখিত অভিযোগও জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
প্রাপ্ত অভিযোগপত্রের তথ্য অনুযায়ী, আমিনবাজার ইউনিয়নের বাসিন্দা মোঃ হানিফ মিয়া জেলা প্রশাসকের কাছে একটি লিখিত আবেদন জমা দেন। অভিযোগপত্রে তিনি দাবি করেন, আমিনবাজার রাজস্ব সার্কেলের ভূমি অফিসে কর্মরত নাজির কাম-ক্যাশিয়ার সাজেদুল ইসলাম বিভিন্ন সময় স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের কাছ থেকে ঘুষ গ্রহণের মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করে আসছেন।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, প্রশাসনিক কার্যক্রম ও উচ্ছেদ অভিযানের বিষয়কে সামনে রেখে নানা অজুহাতে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ দাবি করা হয়। অভিযোগকারীর দাবি, নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে সরকারি দায়িত্ব পালনের পরিবর্তে ব্যক্তিগত সুবিধা আদায়ের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করেন।
অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। অভিযোগকারীর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রশাসনের দায়িত্বশীল পদে থেকে এ ধরনের কর্মকাণ্ড চলতে থাকলে সাধারণ মানুষের আস্থা ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে স্থানীয় কয়েকজন ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সাম্প্রতিক সময়েও আমিনবাজার ভূমি অফিসকে কেন্দ্র করে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ নতুন করে সামনে এসেছে। বিশেষ করে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার বিষয়কে ঘিরে কয়েকজন ব্যবসায়ী ও স্থানীয় ব্যক্তি অর্থ দাবির অভিযোগ তুলেছেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, আকরান বাজার সংলগ্ন এলাকায় পরিচালিত একটি উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে একাধিক ব্যক্তির কাছে অর্থ দাবি করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে নির্দিষ্ট অঙ্কের অর্থ দাবি করা হয়। এর মধ্যে এক লাখ টাকা পর্যন্ত দাবি করার অভিযোগও স্থানীয়দের পক্ষ থেকে উঠে এসেছে।
তবে এই অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অভিযোগকারী মোঃ হানিফ মিয়া তার লিখিত আবেদনে উল্লেখ করেন, প্রশাসনের কাছে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তিনি আবেদন জানিয়েছেন। অভিযোগপত্রে তিনি দাবি করেন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে তদন্ত করে সত্যতা যাচাই করা হলে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে।
অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। অভিযোগকারী মনে করেন, প্রশাসনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের মাধ্যমে বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্ত করা হলে সাধারণ মানুষ উপকৃত হবে এবং সরকারি দপ্তরের প্রতি আস্থা বজায় থাকবে।
এদিকে এলাকাবাসীর একাংশ দাবি করেন, যদি সরকারি দায়িত্বের সঙ্গে যুক্ত কোনো ব্যক্তি ব্যক্তিগতভাবে ঘুষ বা অর্থ লেনদেনের সঙ্গে জড়িত থাকেন, তবে তা প্রশাসনের ভাবমূর্তির জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। তারা দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় এক ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “ভূমি অফিসের অনেক কাজেই সাধারণ মানুষকে নানা জটিলতার মুখোমুখি হতে হয়। যদি কেউ ক্ষমতার অপব্যবহার করে অর্থ দাবি করে, তাহলে সাধারণ মানুষের জন্য তা বড় ধরনের সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।”
আরেকজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “যদি অভিযোগগুলো সত্য হয়, তাহলে বিষয়টি তদন্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। এতে প্রশাসনের প্রতি মানুষের আস্থা বাড়বে।”
এ বিষয়ে আমিনবাজার ভূমি অফিসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে প্রশাসনের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তা যথাযথভাবে তদন্ত করা হয়ে থাকে।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, ভূমি অফিস সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সেবাকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রশাসনের সরাসরি যোগাযোগ থাকে। ফলে এ ধরনের অভিযোগ উঠলে তা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা প্রয়োজন।
সুশাসন ও দুর্নীতি প্রতিরোধে কাজ করা একাধিক সংগঠনের মতে, প্রশাসনের যেকোনো স্তরে অনিয়ম বা দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা জরুরি। এতে সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতি মানুষের আস্থা অটুট থাকে।
এদিকে এলাকাবাসীর দাবি, অভিযোগের বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে সত্যতা যাচাই করা হলে পরিস্থিতি পরিষ্কার হবে। যদি অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তাহলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত বলে তারা মনে করেন।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো না হলেও অভিযোগকারী ও স্থানীয়রা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের মতে, সরকারি দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তারা আশা করছেন, অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে প্রশাসন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
সংবাদ শিরোনাম ::
আমিনবাজার ভূমি অফিসে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ
রাজস্ব সার্কেলের কর্মচারী সাজেদুল ইসলামকে ঘিরে নতুন বিতর্ক
-
নিজস্ব প্রতিবেদক - আপডেট সময় ১১:২৮:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬
- ৫১৭ বার পড়া হয়েছে
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

























