ঢাকা ০৯:১৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬, ২৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
নিজ দলের কর্মীদের পেটালেন মমতা পোষা পাখি মরে যাওয়ায় কান্না, শাসন করায় ছোট ভাইয়ের ছুরিকাঘাতে নিহত বড় ভাই মির্জাপুরে মাদকবিরোধী অভিযানে গাঁ’জা গাছ ও ই’য়া’বা উদ্ধার চীফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনির সাথে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের মহাপরিচালকের সৌজন্য সাক্ষাৎ জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় টাঙ্গাইলে ‘সবুজ পৃথিবী’র ঔষধি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অপু বিশ্বাস কি আবার বিয়ে করেছেন? প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা সবার জন্য বিনামূল্যে থাকবে: সমাজকল্যাণমন্ত্রী ঢাকার যেসব এলাকায় সাড়ে ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না বৃহস্পতিবার সুরের জাদুতে মিশরে মঞ্চ মাতাবেন শাকিরা বেলুচিস্তানে নিরাপত্তা বাহিনী-সশস্ত্র গোষ্ঠীর সংঘর্ষে নিহত ৩০

জঙ্গল সলিমপুরে অভিযান

সেনাবাহিনী, র‌্যাব, বিজিবি ও পুলিশের যৌথ বাহিনী সোমবার বড় ধরনের এক অভিযান চালিয়ে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ‘সন্ত্রাসীদের দুর্গ’ হিসাবে পরিচিত জঙ্গল সলিমপুরকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। বিশেষভাবে উল্লেখ্য, এ অভিযানে সাঁজোয়াযান, হেলিকপ্টার ও ড্রোন ব্যবহার করা হয়। তাই এটিকে ‘মহা-অভিযান’ নামেও অভিহিত করা হচ্ছে। অভিযানে ১০-১৫ জন সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে বেশকিছু অস্ত্র। তবে এলাকার ত্রাস শীর্ষ সন্ত্রাসী ইয়াসিনসহ কয়েকজন সন্ত্রাসী পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। ধারণা করা যায়, আগেভাগে অভিযানের ঘোষণা শুনে তারা পালানোর পরিকল্পনা নিয়েছিল। এ প্রসঙ্গে আমরা বলতে চাই, যে কোনো অভিযানের সাফল্যের পূর্বশর্ত হলো তা আকস্মিকভাবে সূচনা করা। অপরাধীরা যদি আগে থেকেই জেনে যায় কখন ও কোথায় অভিযান পরিচালনা করা হবে, তাহলে তারা নিজেদের সুবিধামতো পালানোর সুযোগ করে নিতে পারে। ফলে অভিযানের মূল লক্ষ্য অর্থাৎ সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার এবং বিচারের আওতায় আনা আংশিক ব্যাহত হয়। তারপরও যৌথ বাহিনীর এ পদক্ষেপ সময়োচিত ও প্রশংসাযোগ্য।

জঙ্গল সলিমপুরের মতো দুর্গম ও অপরাধপ্রবণ এলাকাকে রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়াটি সহজ নয়। সেখানে গড়ে তোলা হয়েছিল অপরাধীদের একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট। তারা সরকারি বনভূমি কেটে সেখানে কেবল বসতি স্থাপনই করেনি, এই দুর্গম পাহাড়কে ঢাল হিসাবে ব্যবহার করে অস্ত্র ও মাদক ব্যবসা পরিচালনা করত। ১৯ জানুয়ারি সেখানে সন্ত্রাসীদের হামলায় প্রাণ হারান একজন র‌্যাব কর্মকর্তা। এছাড়া র‌্যাবের চার সদস্যকে বেধড়ক মারধরের ঘটনাও ঘটে। সেই বর্বরোচিত ঘটনার পর থেকেই এলাকাটি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া নজরদারিতে ছিল। ওই হত্যা মামলার কয়েকজন আসামি জঙ্গল সলিমপুরের পাহাড়েই আত্মগোপন করেছে-এমন তথ্যের ভিত্তিতে এ বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়।

তবে শুধু একটি অভিযানই জঙ্গল সলিমপুরের দীর্ঘদিনের সমস্যার সমাধান দিতে পারবে না। সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যাওয়া মানে তারা আবার ফিরে আসার সুযোগ খুঁজবে। তাই প্রশাসনের উচিত পাহাড়ের কৌশলগত পয়েন্টগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর স্থায়ী নজরদারি নিশ্চিত করা। কেন এবং কীভাবে অভিযানের খবর আগেই সন্ত্রাসীদের কানে পৌঁছালো, তা খতিয়ে দেখে অভ্যন্তরীণ ছিদ্রগুলো বন্ধ করা। এলাকাটিকে একটি সুপরিকল্পিত সরকারি প্রকল্পের আওতায় এনে সাধারণ মানুষকে অপরাধী চক্রের প্রভাব থেকে মুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। সলিমপুর দ্রুতই সাধারণ মানুষের জন্য একটি নিরাপদ স্থানে পরিণত হবে, এটাই কাম্য।

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নিজ দলের কর্মীদের পেটালেন মমতা

জঙ্গল সলিমপুরে অভিযান

আপডেট সময় ০৪:৫৪:০৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬

সেনাবাহিনী, র‌্যাব, বিজিবি ও পুলিশের যৌথ বাহিনী সোমবার বড় ধরনের এক অভিযান চালিয়ে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ‘সন্ত্রাসীদের দুর্গ’ হিসাবে পরিচিত জঙ্গল সলিমপুরকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। বিশেষভাবে উল্লেখ্য, এ অভিযানে সাঁজোয়াযান, হেলিকপ্টার ও ড্রোন ব্যবহার করা হয়। তাই এটিকে ‘মহা-অভিযান’ নামেও অভিহিত করা হচ্ছে। অভিযানে ১০-১৫ জন সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে বেশকিছু অস্ত্র। তবে এলাকার ত্রাস শীর্ষ সন্ত্রাসী ইয়াসিনসহ কয়েকজন সন্ত্রাসী পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। ধারণা করা যায়, আগেভাগে অভিযানের ঘোষণা শুনে তারা পালানোর পরিকল্পনা নিয়েছিল। এ প্রসঙ্গে আমরা বলতে চাই, যে কোনো অভিযানের সাফল্যের পূর্বশর্ত হলো তা আকস্মিকভাবে সূচনা করা। অপরাধীরা যদি আগে থেকেই জেনে যায় কখন ও কোথায় অভিযান পরিচালনা করা হবে, তাহলে তারা নিজেদের সুবিধামতো পালানোর সুযোগ করে নিতে পারে। ফলে অভিযানের মূল লক্ষ্য অর্থাৎ সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার এবং বিচারের আওতায় আনা আংশিক ব্যাহত হয়। তারপরও যৌথ বাহিনীর এ পদক্ষেপ সময়োচিত ও প্রশংসাযোগ্য।

জঙ্গল সলিমপুরের মতো দুর্গম ও অপরাধপ্রবণ এলাকাকে রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়াটি সহজ নয়। সেখানে গড়ে তোলা হয়েছিল অপরাধীদের একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট। তারা সরকারি বনভূমি কেটে সেখানে কেবল বসতি স্থাপনই করেনি, এই দুর্গম পাহাড়কে ঢাল হিসাবে ব্যবহার করে অস্ত্র ও মাদক ব্যবসা পরিচালনা করত। ১৯ জানুয়ারি সেখানে সন্ত্রাসীদের হামলায় প্রাণ হারান একজন র‌্যাব কর্মকর্তা। এছাড়া র‌্যাবের চার সদস্যকে বেধড়ক মারধরের ঘটনাও ঘটে। সেই বর্বরোচিত ঘটনার পর থেকেই এলাকাটি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া নজরদারিতে ছিল। ওই হত্যা মামলার কয়েকজন আসামি জঙ্গল সলিমপুরের পাহাড়েই আত্মগোপন করেছে-এমন তথ্যের ভিত্তিতে এ বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়।

তবে শুধু একটি অভিযানই জঙ্গল সলিমপুরের দীর্ঘদিনের সমস্যার সমাধান দিতে পারবে না। সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যাওয়া মানে তারা আবার ফিরে আসার সুযোগ খুঁজবে। তাই প্রশাসনের উচিত পাহাড়ের কৌশলগত পয়েন্টগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর স্থায়ী নজরদারি নিশ্চিত করা। কেন এবং কীভাবে অভিযানের খবর আগেই সন্ত্রাসীদের কানে পৌঁছালো, তা খতিয়ে দেখে অভ্যন্তরীণ ছিদ্রগুলো বন্ধ করা। এলাকাটিকে একটি সুপরিকল্পিত সরকারি প্রকল্পের আওতায় এনে সাধারণ মানুষকে অপরাধী চক্রের প্রভাব থেকে মুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। সলিমপুর দ্রুতই সাধারণ মানুষের জন্য একটি নিরাপদ স্থানে পরিণত হবে, এটাই কাম্য।