ঢাকা ০৪:৩৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬, ৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
টিকিটের অগ্নিমূল্যে যাত্রীদের নাভিশ্বাস ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় পোর্টেবল সিগন্যাল লাইট ব্যবহার শুরু পুলিশের ঈদযাত্রায় ‘তেলের টেনশনে’ শিডিউল বিপর্যয়ের শঙ্কা সালমান আগার রান আউট বিতর্কে যা বলছে এমসিসি ঈদযাত্রা নিরাপদ রাখতে নোয়াখালীতে র‍্যাবের কঠোর অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান ইরানের সর্বোচ্চ নেতার ঈদযাত্রায় সাভারে সড়কে মানুষের ঢল, বেড়েছে গণপরিবহনের চাপ কক্সবাজার সৈকতে বারুণী স্নান ও গঙ্গাপূজায় পুণ্যার্থীর ঢল মতিঝিলে চোর-পুলিশ খেলা, গুলিস্তানে পুলিশের সামনে নতুন নোট বিক্রি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, দুই পরিবহনকে জরিমানা

কর কর্মকর্তা নেফাউল সরকারের বিরুদ্ধে ১০ কোটি টাকা ঘুষ নেয়ার অভিযোগ

  • মোঃ মামুন হোসেন
  • আপডেট সময় ০৪:১০:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬
  • ৫৪২ বার পড়া হয়েছে

বরিশালের সাবেক উপ কর কমিশনার মোঃ নেফাউল ইসলাম সরকারের বিরুদ্ধে ১০ কোটি টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ডাঃ এনামুল হক নামের একজন ব্যক্তি এনবিআরের চেয়ারম্যানের কাছে এই লিখিত অভিযোগ জমা দেন।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, ৩৩ ব্যাচের উপ কর কমিশনার মোঃ নেফাউল ইসলাম সরকার সরকারি রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতেন না। তিনি নিজের ব্যক্তিগত অর্থ বৃদ্ধির জন্য ডাক্তার ও ব্যবসায়ীদের টার্গেট করে ভয়ঙ্কর পদ্ধতি অবলম্বন করে ঘুষ নিতেন। বরিশাল কর অঞ্চলে কর্মরত থাকাকালীন সময়ে মানুষকে ভয় দেখিয়ে কর আদায়ের নামে ঘুষ নেওয়া ছিল নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা।

বরিশালের একজন করদাতা মোঃ জহিরুল ইসলাম উপ কর কমিশনার নেফাউল ইসলামকে নিয়ে একটি কবিতা লিখেছিলেন। কবিতার শিরোনাম ছিল: “কষ্ট করিয়া আমি আয় করি, ধনী হয় নেফাউল।” শিরোনামেই প্রকাশ পেয়েছিল নেফাউলের ভয়ঙ্কর দুর্নীতির চিত্র।

ডাঃ এনামুল হকের দেওয়া লিখিত অভিযোগ থেকে জানা গেছে, ঝালকাঠির মেসার্স জাবেদ ফ্লাওয়ার মিলসটির ফাইল ছিল বরিশাল সার্কেল-১ (কোম্পানিজ) এ। ২০১৬-২০১৭ করবর্ষ থেকে ছয় বছরের ব্যাংক তল্লাশি করে ১৬০০ কোটি টাকা ব্যাংকে জমা পাওয়া গেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, ব্যাংকে এত টাকা কীভাবে জমা হলো এবং নামমাত্র কর দিয়ে কিভাবে রেহাই পেল তা তদন্ত করলে সমস্ত গোপন তথ্য উন্মোচিত হবে।

নামমাত্র কর ধার্য্য করার কারণে এই মিলের মালিক থেকে উপ কর কমিশনার মোঃ নেফাউল ইসলাম ১০ কোটি টাকা ঘুষ নিয়েছেন। এছাড়া অভিযোগে বরিশালের আরিফ মেমোরিয়াল ক্লিনিকের নজরুল ইসলাম, নাসরিন জাহান ও আরিফ মেমোরিয়াল ক্লিনিক এন্ড হসপিটাল সম্পর্কিত তিনটি ফাইলেরও পরীক্ষা করার আবেদন করা হয়েছে।

নেফাউল ইসলাম সরকার বরিশালে থাকাকালীন সময়ে ডাক্তার ও ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। করদাতাদের কাছে তিনি আতঙ্কের নাম হিসেবে পরিচিত। তার কাছে করদাতার ফাইল মানেই মোটা অংকের ঘুষ। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, তিনি বরিশালে কর্মরত থাকাকালীন সময়ে কর বিভাগে ঘুষের রাজত্ব কায়েম করেছিলেন।

মোঃ নেফাউল ইসলাম সরকার ২০১৪ সালে সহকারী কর কমিশার পদে চট্টগ্রাম কর অঞ্চল-৩ এ যোগদান করেন। তিনি বরিশালে সার্কেল-৮, ৯ সহ বিভিন্ন সার্কেলে কর্মরত ছিলেন। ২০২৩ সালের ১ নভেম্বর বরিশাল থেকে তাকে ঢাকা কর অঞ্চল-১৫ এ বদলি করা হয়। ঢাকায় কর অঞ্চল-১৫ এর অধীনে সার্কেল ৩১৬, ৩১০ (কোম্পানিজ) এ কর্মরত থাকাকালীন ব্যক্তি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান রোষের শিকার হন। তিনি কর কর্মকর্তাদের মধ্যে নেতৃত্বপূর্ণ ছিলেন।

সম্প্রতি তিনি পদত্যাগও করেছেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, তিনি রাজস্ব আদায়ের পরিবর্তে নিজের সহায় সম্পদ বৃদ্ধির জন্য ঘুষ নেওয়ায় বেপরোয়া ছিলেন। তাকে ঢাকা থেকে খুলনায় বদলি করা হয়েছে। খুলনা কর কমিশনার কার্যালয়ের অধীনে সার্কেল-১ (কোম্পানিজ) ও সার্কেল-৮ (খুলনা সদর) এ উপ কর কমিশনার পদে কর্মরত রয়েছেন।

এনবিআর বিলুপ্ত করে মে মাসে রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ জারি হওয়ার পর শুরু হওয়া আন্দোলনের অন্যতম নায়ক ছিলেন নেফাউল ইসলাম সরকার। অধ্যাদেশ জারির পর সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামেন নেফাউল ইসলামসহ বিতর্কিত কর্মকর্তারা। অনেককে বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়া হলেও তার বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। নেফাউল সরকারের বিরুদ্ধে তখন সরকারবিরোধী আন্দোলনে জনমত গঠনেরও অভিযোগ উঠেছিল। এনবিআরের চেয়ারম্যানের পদত্যাগের দাবিতে শুরু হওয়া আন্দোলনের নেপথ্য নায়ক ছিলেন তিনি। তিনি কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচীর সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিলেন।

নেফাউল ইসলাম সরকারকে নিয়ে বরিশালের সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মোঃ জহিরুল ইসলাম তার ফেসবুকে একটি লেখা প্রকাশ করেছেন:

কষ্ট করিয়া আমি আয় করি ধনী হয় নেফাউল।

২০২৩ সালে বরিশালের আয়কর বিভাগের এই কর্মকর্তার ঘুষনির্যাতনের শিকার হয়ে ক্ষোভ, রাগ, দুঃখ ও অসহায়ত্ব নিয়ে এই ছড়াটি লেখা হয়েছিল। 당시 বরিশালে অগণিত মানুষ ঘুষনির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন। পরবর্তী ভয় থেকে কেউ মুখ খুলেননি। অভিযোগে বলা হয়েছে, নেফাউল ইসলাম সরকারের কাছে ১০ লাখ টাকা ঘুষ চাওয়া হয়েছিল। ঘুষ না দেওয়ার কারণে কল্পিত আয় ধরে যেই কর ধার্য্য করা হয়েছিল, তা পরিশোধ করতে ব্যাংক লোন নিতে হয়েছে।

মোঃ নেফাউল ইসলাম সরকারের মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়, ফলে তার বক্তব্য গ্রহণ সম্ভব হয়নি।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

টিকিটের অগ্নিমূল্যে যাত্রীদের নাভিশ্বাস

কর কর্মকর্তা নেফাউল সরকারের বিরুদ্ধে ১০ কোটি টাকা ঘুষ নেয়ার অভিযোগ

আপডেট সময় ০৪:১০:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬

বরিশালের সাবেক উপ কর কমিশনার মোঃ নেফাউল ইসলাম সরকারের বিরুদ্ধে ১০ কোটি টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ডাঃ এনামুল হক নামের একজন ব্যক্তি এনবিআরের চেয়ারম্যানের কাছে এই লিখিত অভিযোগ জমা দেন।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, ৩৩ ব্যাচের উপ কর কমিশনার মোঃ নেফাউল ইসলাম সরকার সরকারি রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতেন না। তিনি নিজের ব্যক্তিগত অর্থ বৃদ্ধির জন্য ডাক্তার ও ব্যবসায়ীদের টার্গেট করে ভয়ঙ্কর পদ্ধতি অবলম্বন করে ঘুষ নিতেন। বরিশাল কর অঞ্চলে কর্মরত থাকাকালীন সময়ে মানুষকে ভয় দেখিয়ে কর আদায়ের নামে ঘুষ নেওয়া ছিল নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা।

বরিশালের একজন করদাতা মোঃ জহিরুল ইসলাম উপ কর কমিশনার নেফাউল ইসলামকে নিয়ে একটি কবিতা লিখেছিলেন। কবিতার শিরোনাম ছিল: “কষ্ট করিয়া আমি আয় করি, ধনী হয় নেফাউল।” শিরোনামেই প্রকাশ পেয়েছিল নেফাউলের ভয়ঙ্কর দুর্নীতির চিত্র।

ডাঃ এনামুল হকের দেওয়া লিখিত অভিযোগ থেকে জানা গেছে, ঝালকাঠির মেসার্স জাবেদ ফ্লাওয়ার মিলসটির ফাইল ছিল বরিশাল সার্কেল-১ (কোম্পানিজ) এ। ২০১৬-২০১৭ করবর্ষ থেকে ছয় বছরের ব্যাংক তল্লাশি করে ১৬০০ কোটি টাকা ব্যাংকে জমা পাওয়া গেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, ব্যাংকে এত টাকা কীভাবে জমা হলো এবং নামমাত্র কর দিয়ে কিভাবে রেহাই পেল তা তদন্ত করলে সমস্ত গোপন তথ্য উন্মোচিত হবে।

নামমাত্র কর ধার্য্য করার কারণে এই মিলের মালিক থেকে উপ কর কমিশনার মোঃ নেফাউল ইসলাম ১০ কোটি টাকা ঘুষ নিয়েছেন। এছাড়া অভিযোগে বরিশালের আরিফ মেমোরিয়াল ক্লিনিকের নজরুল ইসলাম, নাসরিন জাহান ও আরিফ মেমোরিয়াল ক্লিনিক এন্ড হসপিটাল সম্পর্কিত তিনটি ফাইলেরও পরীক্ষা করার আবেদন করা হয়েছে।

নেফাউল ইসলাম সরকার বরিশালে থাকাকালীন সময়ে ডাক্তার ও ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। করদাতাদের কাছে তিনি আতঙ্কের নাম হিসেবে পরিচিত। তার কাছে করদাতার ফাইল মানেই মোটা অংকের ঘুষ। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, তিনি বরিশালে কর্মরত থাকাকালীন সময়ে কর বিভাগে ঘুষের রাজত্ব কায়েম করেছিলেন।

মোঃ নেফাউল ইসলাম সরকার ২০১৪ সালে সহকারী কর কমিশার পদে চট্টগ্রাম কর অঞ্চল-৩ এ যোগদান করেন। তিনি বরিশালে সার্কেল-৮, ৯ সহ বিভিন্ন সার্কেলে কর্মরত ছিলেন। ২০২৩ সালের ১ নভেম্বর বরিশাল থেকে তাকে ঢাকা কর অঞ্চল-১৫ এ বদলি করা হয়। ঢাকায় কর অঞ্চল-১৫ এর অধীনে সার্কেল ৩১৬, ৩১০ (কোম্পানিজ) এ কর্মরত থাকাকালীন ব্যক্তি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান রোষের শিকার হন। তিনি কর কর্মকর্তাদের মধ্যে নেতৃত্বপূর্ণ ছিলেন।

সম্প্রতি তিনি পদত্যাগও করেছেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, তিনি রাজস্ব আদায়ের পরিবর্তে নিজের সহায় সম্পদ বৃদ্ধির জন্য ঘুষ নেওয়ায় বেপরোয়া ছিলেন। তাকে ঢাকা থেকে খুলনায় বদলি করা হয়েছে। খুলনা কর কমিশনার কার্যালয়ের অধীনে সার্কেল-১ (কোম্পানিজ) ও সার্কেল-৮ (খুলনা সদর) এ উপ কর কমিশনার পদে কর্মরত রয়েছেন।

এনবিআর বিলুপ্ত করে মে মাসে রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ জারি হওয়ার পর শুরু হওয়া আন্দোলনের অন্যতম নায়ক ছিলেন নেফাউল ইসলাম সরকার। অধ্যাদেশ জারির পর সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামেন নেফাউল ইসলামসহ বিতর্কিত কর্মকর্তারা। অনেককে বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়া হলেও তার বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। নেফাউল সরকারের বিরুদ্ধে তখন সরকারবিরোধী আন্দোলনে জনমত গঠনেরও অভিযোগ উঠেছিল। এনবিআরের চেয়ারম্যানের পদত্যাগের দাবিতে শুরু হওয়া আন্দোলনের নেপথ্য নায়ক ছিলেন তিনি। তিনি কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচীর সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিলেন।

নেফাউল ইসলাম সরকারকে নিয়ে বরিশালের সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মোঃ জহিরুল ইসলাম তার ফেসবুকে একটি লেখা প্রকাশ করেছেন:

কষ্ট করিয়া আমি আয় করি ধনী হয় নেফাউল।

২০২৩ সালে বরিশালের আয়কর বিভাগের এই কর্মকর্তার ঘুষনির্যাতনের শিকার হয়ে ক্ষোভ, রাগ, দুঃখ ও অসহায়ত্ব নিয়ে এই ছড়াটি লেখা হয়েছিল। 당시 বরিশালে অগণিত মানুষ ঘুষনির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন। পরবর্তী ভয় থেকে কেউ মুখ খুলেননি। অভিযোগে বলা হয়েছে, নেফাউল ইসলাম সরকারের কাছে ১০ লাখ টাকা ঘুষ চাওয়া হয়েছিল। ঘুষ না দেওয়ার কারণে কল্পিত আয় ধরে যেই কর ধার্য্য করা হয়েছিল, তা পরিশোধ করতে ব্যাংক লোন নিতে হয়েছে।

মোঃ নেফাউল ইসলাম সরকারের মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়, ফলে তার বক্তব্য গ্রহণ সম্ভব হয়নি।