ঢাকা ০৫:১৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬, ৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
টিকিটের অগ্নিমূল্যে যাত্রীদের নাভিশ্বাস ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় পোর্টেবল সিগন্যাল লাইট ব্যবহার শুরু পুলিশের ঈদযাত্রায় ‘তেলের টেনশনে’ শিডিউল বিপর্যয়ের শঙ্কা সালমান আগার রান আউট বিতর্কে যা বলছে এমসিসি ঈদযাত্রা নিরাপদ রাখতে নোয়াখালীতে র‍্যাবের কঠোর অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান ইরানের সর্বোচ্চ নেতার ঈদযাত্রায় সাভারে সড়কে মানুষের ঢল, বেড়েছে গণপরিবহনের চাপ কক্সবাজার সৈকতে বারুণী স্নান ও গঙ্গাপূজায় পুণ্যার্থীর ঢল মতিঝিলে চোর-পুলিশ খেলা, গুলিস্তানে পুলিশের সামনে নতুন নোট বিক্রি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, দুই পরিবহনকে জরিমানা
তথ্য চাওয়ায় হুমকি

বিএলআরআইয়ের ১৩৪ কোটি টাকার পোল্ট্রি প্রকল্পে ড. সাজেদুল করিমকে ঘিরে প্রশ্ন

  • মোঃ মামুন হোসেন
  • আপডেট সময় ১২:৩৩:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬
  • ৫৩৭ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএলআরআই)-এর পোল্ট্রি গবেষণা ও উন্নয়ন জোরদারকরণ প্রকল্পকে ঘিরে নানা অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও অর্থ ব্যবস্থাপনায় অসঙ্গতির অভিযোগ উঠেছে। প্রায় ১৩৪ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন এ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ও বিএলআরআইয়ের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. সাজেদুল করিম সরকারকে কেন্দ্র করে এসব অভিযোগ সামনে এসেছে। সংশ্লিষ্ট মহলের অভিযোগ, প্রকল্পের মূল লক্ষ্য ছিল গবেষণা ও প্রযুক্তি উদ্ভাবনের মাধ্যমে দেশের পোল্ট্রি খাতকে শক্তিশালী করা, কিন্তু প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার সময় ঘনিয়ে এলেও উল্লেখযোগ্য কোনো গবেষণা ফলাফল বা প্রযুক্তি উদ্ভাবনের বাস্তব অগ্রগতি দৃশ্যমান হয়নি। বরং প্রকল্পের বড় অংশের অর্থ ব্যয় হয়েছে অবকাঠামো নির্মাণ, জমি ক্রয় এবং বিভিন্ন ধরনের যন্ত্রপাতি কেনাকাটায়।

সূত্র জানায়, ২০১৯ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত সাত বছর মেয়াদে প্রায় ১৩৪ কোটি টাকা ব্যয়ে “পোল্ট্রি গবেষণা ও উন্নয়ন জোরদারকরণ” শীর্ষক প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য ছিল বৈজ্ঞানিক গবেষণা, উন্নত প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং আধুনিক পোল্ট্রি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে দেশের পোল্ট্রি খাতকে আরও শক্তিশালী করা। প্রকল্পের আওতায় দেশীয় পোল্ট্রি প্রজাতির সংরক্ষণ ও উন্নয়ন, পোল্ট্রি খাদ্যের পুষ্টিমান নির্ধারণ, নিরাপদ মাংস ও ডিম উৎপাদন বৃদ্ধি, খামারিদের জন্য আধুনিক প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান এবং গবেষণা অবকাঠামো উন্নয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু প্রকল্পের অগ্রগতি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ঘোষিত লক্ষ্য অনুযায়ী গবেষণা ও প্রযুক্তি উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি অর্জিত হয়নি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, প্রকল্পের বড় অংশের কাজ সীমাবদ্ধ রয়েছে অবকাঠামো উন্নয়ন এবং যন্ত্রপাতি ক্রয়ের মধ্যে। বিশেষ করে বিএলআরআইয়ের সৈয়দপুর আঞ্চলিক গবেষণা কেন্দ্রকে ঘিরে বিভিন্ন ধরনের নির্মাণকাজ এবং সরঞ্জাম ক্রয়ের কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু প্রকল্পের ঘোষিত লক্ষ্য অনুযায়ী পোল্ট্রি গবেষণা, নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন বা খামারিদের জন্য কার্যকর প্রযুক্তি হস্তান্তরের উল্লেখযোগ্য কোনো সাফল্য এখনো দৃশ্যমান হয়নি। এতে প্রকল্পের কার্যকারিতা এবং এত বড় অর্থ ব্যয়ের যৌক্তিকতা নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে প্রশ্ন উঠেছে।

অভিযোগ রয়েছে, সৈয়দপুর আঞ্চলিক গবেষণা কেন্দ্র স্থাপনের জন্য কৃষকদের কাছ থেকে যে জমি ক্রয় করা হয়েছে, সেই জমির প্রকৃত মূল্যের তুলনায় সরকারি নথিতে বেশি দাম দেখানো হয়েছে। একই সঙ্গে ওই এলাকায় প্রথমে মাটি ভরাটের জন্য বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় দেখানো হলেও পরে একই স্থানে পুনরায় মাটি খনন করে পুকুর তৈরির নামে আবার অর্থ উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ ধরনের কাজ প্রকল্প বাস্তবায়নে পরিকল্পনার ঘাটতি বা অনিয়মের ইঙ্গিত দেয়।

প্রকল্পের গবেষণা কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তথ্য অনুযায়ী, গত সাত বছরে সরাসরি গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রায় ৬ কোটি ৩০ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছিল। এছাড়া গবেষণার সহায়ক উপকরণ হিসেবে রাসায়নিক দ্রব্য, গ্লাসওয়ার, বিভিন্ন ধরনের স্পেয়ার পার্টস, পোল্ট্রি ফিড, ভ্যাকসিন ও ওষুধ ক্রয়ের জন্য বরাদ্দ ছিল আনুমানিক ১৫ কোটি টাকা। পাশাপাশি ল্যাবরেটরির যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য সরঞ্জাম ক্রয়ের জন্য প্রায় ২৫ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। কিন্তু এত বিপুল অর্থ বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও প্রকল্পের মূল লক্ষ্য অনুযায়ী গবেষণা ফলাফল বা প্রযুক্তি উদ্ভাবনের উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি দৃশ্যমান হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

সূত্র জানায়, প্রকল্পের আওতায় পরিচালিত বিভিন্ন গবেষণার প্রধান গবেষকরা গবেষণার জন্য নির্ধারিত অর্থের পূর্ণ অংশ পান না। অভিযোগ রয়েছে, অনেক ক্ষেত্রে বরাদ্দকৃত অর্থের ২৫ শতাংশেরও কম গবেষকদের হাতে পৌঁছায়। ফলে গবেষণা কার্যক্রম পরিকল্পনা অনুযায়ী বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। এ কারণে প্রকল্পের গবেষণা ফলাফলও প্রত্যাশিত মাত্রায় আসেনি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রকল্পের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম নিয়েও নানা প্রশ্ন উঠেছে। জানা গেছে, স্থানীয় প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রায় ৪ কোটি টাকা বরাদ্দ ছিল। কিন্তু অধিকাংশ প্রশিক্ষণ সীমিত পরিসরে সম্পন্ন হয়েছে এবং অনেক ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন ছাড়াই তা আয়োজন করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব প্রশিক্ষণের বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই প্রকল্প পরিচালকের স্ত্রী মোছা. ফারহানা শারমিনকে প্রশিক্ষক হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, প্রায় প্রতিটি প্রশিক্ষণ কর্মশালায় ফারহানা শারমিনকে একাধিক সেশন পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হতো। যদিও তিনি বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউটের একজন ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং পোল্ট্রি গবেষণা প্রকল্পের সঙ্গে তার সরাসরি কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। তবুও প্রকল্পের প্রশিক্ষণ কর্মশালায় তাকে নিয়মিতভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। উদাহরণ হিসেবে গত বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত একটি প্রশিক্ষণ কর্মশালার কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে “প্রাকৃতিক ফিড এডিটিভস প্রয়োগের মাধ্যমে পোল্ট্রির মাংস ও ডিমের গুণগত মান উন্নয়ন” বিষয়ে তিনি লেকচার দেন।

অভিযোগ রয়েছে, মোছা. ফারহানা শারমিন বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউটে যোগদানের আগে প্রকল্পের বিভিন্ন দরপত্র ও কোটেশন কার্যক্রমের সঙ্গেও অনানুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত ছিলেন। একই সঙ্গে ল্যাবরেটরির যন্ত্রপাতি ক্রয় এবং সংশ্লিষ্ট তদারকি কার্যক্রমেও তার ভূমিকা ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

প্রকল্পে পোস্ট ডক্টরাল ফেলোশিপ কর্মসূচি নিয়েও বিতর্ক দেখা দিয়েছে। তথ্য অনুযায়ী, এ খাতে প্রায় ৬৫ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছিল। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, এই অর্থের একটি বড় অংশ অনিয়মের মাধ্যমে প্রকল্প পরিচালকের স্ত্রীকে প্রদান করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে ব্যাপক আলোচনা চলছে।

এছাড়া প্রকল্পে স্বজনপ্রীতির অভিযোগও উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, প্রকল্প পরিচালকের ঘনিষ্ঠ আত্মীয়দের বিভিন্ন পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং তাদের মধ্যে কেউ কেউ মাস্টার রোলের আওতায় নিয়মিত পারিশ্রমিক গ্রহণ করছেন। উদাহরণ হিসেবে প্রকল্প পরিচালকের এক শ্যালকের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, যিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হওয়া সত্ত্বেও মাস্টার রোলের মাধ্যমে বেতন গ্রহণ করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

বিএলআরআইয়ের ভেতরের কয়েকজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, প্রকল্পটি দেশের পোল্ট্রি খাতের উন্নয়নের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কিন্তু প্রকল্পের বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে শুরু থেকেই নানা ধরনের প্রশ্ন ছিল। তারা বলেন, গবেষণা প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত ছিল নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং তা খামারিদের কাছে পৌঁছে দেওয়া। কিন্তু প্রকল্পের বড় অংশের অর্থ অবকাঠামো নির্মাণ ও সরঞ্জাম ক্রয়ের পেছনে ব্যয় হওয়ায় প্রকৃত গবেষণা কার্যক্রম অনেকটাই পিছিয়ে পড়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের পোল্ট্রি খাত দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে এবং দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ খাতের গুরুত্ব ক্রমেই বাড়ছে। তাই পোল্ট্রি গবেষণায় বিনিয়োগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু যদি এত বড় অর্থ ব্যয়ের একটি প্রকল্প থেকে প্রত্যাশিত গবেষণা ফলাফল না আসে, তাহলে তা দেশের গবেষণা ব্যবস্থার জন্য উদ্বেগজনক বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।

এদিকে ড. সাজেদুল করিম সরকারের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তিনি প্রকাশ্যে তৎকালীন সরকারের প্রতি সমর্থন জানাতেন এবং বিভিন্ন সভা-সেমিনার ও কর্মশালায় সরকারের প্রশংসা করতেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও তিনি নিয়মিতভাবে সরকারি নেতাদের বক্তব্য, সংবাদ এবং সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ প্রচার করতেন।

বিভিন্ন অনুষ্ঠানে প্রকল্পের অগ্রগতি উপস্থাপনের সময় তিনি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রশংসাসূচক ভাষায় উল্লেখ করতেন এবং একাধিক ক্ষেত্রে তাকে “এশিয়ার আয়রন লেডি” হিসেবে অভিহিত করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সমালোচকদের মতে, এ ধরনের প্রকাশ্য রাজনৈতিক অবস্থান একজন সরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তার নিরপেক্ষতার প্রশ্ন তুলতে পারে।

গত ৫ আগস্ট দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে পরিবর্তন আসার পর ড. সাজেদুল করিম সরকারের পূর্ববর্তী রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তার সহকর্মী ও সংশ্লিষ্ট মহলের অনেকেই এখন প্রশ্ন তুলছেন, একজন সরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা হিসেবে তার রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা কতটা বজায় ছিল।

এদিকে প্রকল্পের অনিয়ম নিয়ে তথ্য জানতে চাইলে সাংবাদিককে হুমকি দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে ড. সাজেদুল করিম সরকার বলেন, তার স্ত্রী ফারহানা শারমিন বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়েই প্রকল্পে প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করেছেন। তিনি আরও বলেন, “আপনি অফিসে আসেন, সরাসরি বসে আলোচনা করব। আর সঠিক তথ্য না জেনে নিউজ করলে সমস্যায় পড়বেন।”

তার এই বক্তব্যকে অনেকেই সাংবাদিকদের প্রতি পরোক্ষ হুমকি হিসেবে দেখছেন। সাংবাদিকদের একটি অংশ মনে করছেন, কোনো প্রকল্প নিয়ে তথ্য জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দায়িত্ব হচ্ছে স্বচ্ছভাবে তথ্য প্রদান করা। কিন্তু উল্টোভাবে সাংবাদিককে সতর্ক করার বিষয়টি গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও তথ্যপ্রাপ্তির অধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, এত বড় অর্থায়নের একটি গবেষণা প্রকল্প নিয়ে যখন নানা ধরনের অভিযোগ উঠছে, তখন এর কার্যক্রম, অর্থ ব্যবস্থাপনা এবং বাস্তবায়নের অগ্রগতি বিষয়ে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। এতে প্রকল্পের অর্থ যথাযথভাবে ব্যবহার হয়েছে কি না এবং ঘোষিত গবেষণা লক্ষ্য কতটা অর্জিত হয়েছে তা স্পষ্টভাবে নিরূপণ করা সম্ভব হবে।

তারা আরও বলেন, গবেষণা প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত দেশের জ্ঞানভিত্তিক উন্নয়নকে এগিয়ে নেওয়া। তাই এ ধরনের প্রকল্পে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং পেশাগত নৈতিকতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। অন্যথায় জনগণের অর্থ ব্যয়ে পরিচালিত গবেষণা প্রকল্পগুলো তাদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হবে এবং দেশের গবেষণা ব্যবস্থার ওপর জনগণের আস্থা কমে যেতে পারে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

টিকিটের অগ্নিমূল্যে যাত্রীদের নাভিশ্বাস

তথ্য চাওয়ায় হুমকি

বিএলআরআইয়ের ১৩৪ কোটি টাকার পোল্ট্রি প্রকল্পে ড. সাজেদুল করিমকে ঘিরে প্রশ্ন

আপডেট সময় ১২:৩৩:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬

বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএলআরআই)-এর পোল্ট্রি গবেষণা ও উন্নয়ন জোরদারকরণ প্রকল্পকে ঘিরে নানা অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও অর্থ ব্যবস্থাপনায় অসঙ্গতির অভিযোগ উঠেছে। প্রায় ১৩৪ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন এ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ও বিএলআরআইয়ের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. সাজেদুল করিম সরকারকে কেন্দ্র করে এসব অভিযোগ সামনে এসেছে। সংশ্লিষ্ট মহলের অভিযোগ, প্রকল্পের মূল লক্ষ্য ছিল গবেষণা ও প্রযুক্তি উদ্ভাবনের মাধ্যমে দেশের পোল্ট্রি খাতকে শক্তিশালী করা, কিন্তু প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার সময় ঘনিয়ে এলেও উল্লেখযোগ্য কোনো গবেষণা ফলাফল বা প্রযুক্তি উদ্ভাবনের বাস্তব অগ্রগতি দৃশ্যমান হয়নি। বরং প্রকল্পের বড় অংশের অর্থ ব্যয় হয়েছে অবকাঠামো নির্মাণ, জমি ক্রয় এবং বিভিন্ন ধরনের যন্ত্রপাতি কেনাকাটায়।

সূত্র জানায়, ২০১৯ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত সাত বছর মেয়াদে প্রায় ১৩৪ কোটি টাকা ব্যয়ে “পোল্ট্রি গবেষণা ও উন্নয়ন জোরদারকরণ” শীর্ষক প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য ছিল বৈজ্ঞানিক গবেষণা, উন্নত প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং আধুনিক পোল্ট্রি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে দেশের পোল্ট্রি খাতকে আরও শক্তিশালী করা। প্রকল্পের আওতায় দেশীয় পোল্ট্রি প্রজাতির সংরক্ষণ ও উন্নয়ন, পোল্ট্রি খাদ্যের পুষ্টিমান নির্ধারণ, নিরাপদ মাংস ও ডিম উৎপাদন বৃদ্ধি, খামারিদের জন্য আধুনিক প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান এবং গবেষণা অবকাঠামো উন্নয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু প্রকল্পের অগ্রগতি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ঘোষিত লক্ষ্য অনুযায়ী গবেষণা ও প্রযুক্তি উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি অর্জিত হয়নি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, প্রকল্পের বড় অংশের কাজ সীমাবদ্ধ রয়েছে অবকাঠামো উন্নয়ন এবং যন্ত্রপাতি ক্রয়ের মধ্যে। বিশেষ করে বিএলআরআইয়ের সৈয়দপুর আঞ্চলিক গবেষণা কেন্দ্রকে ঘিরে বিভিন্ন ধরনের নির্মাণকাজ এবং সরঞ্জাম ক্রয়ের কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু প্রকল্পের ঘোষিত লক্ষ্য অনুযায়ী পোল্ট্রি গবেষণা, নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন বা খামারিদের জন্য কার্যকর প্রযুক্তি হস্তান্তরের উল্লেখযোগ্য কোনো সাফল্য এখনো দৃশ্যমান হয়নি। এতে প্রকল্পের কার্যকারিতা এবং এত বড় অর্থ ব্যয়ের যৌক্তিকতা নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে প্রশ্ন উঠেছে।

অভিযোগ রয়েছে, সৈয়দপুর আঞ্চলিক গবেষণা কেন্দ্র স্থাপনের জন্য কৃষকদের কাছ থেকে যে জমি ক্রয় করা হয়েছে, সেই জমির প্রকৃত মূল্যের তুলনায় সরকারি নথিতে বেশি দাম দেখানো হয়েছে। একই সঙ্গে ওই এলাকায় প্রথমে মাটি ভরাটের জন্য বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় দেখানো হলেও পরে একই স্থানে পুনরায় মাটি খনন করে পুকুর তৈরির নামে আবার অর্থ উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ ধরনের কাজ প্রকল্প বাস্তবায়নে পরিকল্পনার ঘাটতি বা অনিয়মের ইঙ্গিত দেয়।

প্রকল্পের গবেষণা কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তথ্য অনুযায়ী, গত সাত বছরে সরাসরি গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রায় ৬ কোটি ৩০ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছিল। এছাড়া গবেষণার সহায়ক উপকরণ হিসেবে রাসায়নিক দ্রব্য, গ্লাসওয়ার, বিভিন্ন ধরনের স্পেয়ার পার্টস, পোল্ট্রি ফিড, ভ্যাকসিন ও ওষুধ ক্রয়ের জন্য বরাদ্দ ছিল আনুমানিক ১৫ কোটি টাকা। পাশাপাশি ল্যাবরেটরির যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য সরঞ্জাম ক্রয়ের জন্য প্রায় ২৫ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। কিন্তু এত বিপুল অর্থ বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও প্রকল্পের মূল লক্ষ্য অনুযায়ী গবেষণা ফলাফল বা প্রযুক্তি উদ্ভাবনের উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি দৃশ্যমান হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

সূত্র জানায়, প্রকল্পের আওতায় পরিচালিত বিভিন্ন গবেষণার প্রধান গবেষকরা গবেষণার জন্য নির্ধারিত অর্থের পূর্ণ অংশ পান না। অভিযোগ রয়েছে, অনেক ক্ষেত্রে বরাদ্দকৃত অর্থের ২৫ শতাংশেরও কম গবেষকদের হাতে পৌঁছায়। ফলে গবেষণা কার্যক্রম পরিকল্পনা অনুযায়ী বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। এ কারণে প্রকল্পের গবেষণা ফলাফলও প্রত্যাশিত মাত্রায় আসেনি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রকল্পের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম নিয়েও নানা প্রশ্ন উঠেছে। জানা গেছে, স্থানীয় প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রায় ৪ কোটি টাকা বরাদ্দ ছিল। কিন্তু অধিকাংশ প্রশিক্ষণ সীমিত পরিসরে সম্পন্ন হয়েছে এবং অনেক ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন ছাড়াই তা আয়োজন করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব প্রশিক্ষণের বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই প্রকল্প পরিচালকের স্ত্রী মোছা. ফারহানা শারমিনকে প্রশিক্ষক হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, প্রায় প্রতিটি প্রশিক্ষণ কর্মশালায় ফারহানা শারমিনকে একাধিক সেশন পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হতো। যদিও তিনি বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউটের একজন ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং পোল্ট্রি গবেষণা প্রকল্পের সঙ্গে তার সরাসরি কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। তবুও প্রকল্পের প্রশিক্ষণ কর্মশালায় তাকে নিয়মিতভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। উদাহরণ হিসেবে গত বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত একটি প্রশিক্ষণ কর্মশালার কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে “প্রাকৃতিক ফিড এডিটিভস প্রয়োগের মাধ্যমে পোল্ট্রির মাংস ও ডিমের গুণগত মান উন্নয়ন” বিষয়ে তিনি লেকচার দেন।

অভিযোগ রয়েছে, মোছা. ফারহানা শারমিন বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউটে যোগদানের আগে প্রকল্পের বিভিন্ন দরপত্র ও কোটেশন কার্যক্রমের সঙ্গেও অনানুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত ছিলেন। একই সঙ্গে ল্যাবরেটরির যন্ত্রপাতি ক্রয় এবং সংশ্লিষ্ট তদারকি কার্যক্রমেও তার ভূমিকা ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

প্রকল্পে পোস্ট ডক্টরাল ফেলোশিপ কর্মসূচি নিয়েও বিতর্ক দেখা দিয়েছে। তথ্য অনুযায়ী, এ খাতে প্রায় ৬৫ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছিল। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, এই অর্থের একটি বড় অংশ অনিয়মের মাধ্যমে প্রকল্প পরিচালকের স্ত্রীকে প্রদান করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে ব্যাপক আলোচনা চলছে।

এছাড়া প্রকল্পে স্বজনপ্রীতির অভিযোগও উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, প্রকল্প পরিচালকের ঘনিষ্ঠ আত্মীয়দের বিভিন্ন পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং তাদের মধ্যে কেউ কেউ মাস্টার রোলের আওতায় নিয়মিত পারিশ্রমিক গ্রহণ করছেন। উদাহরণ হিসেবে প্রকল্প পরিচালকের এক শ্যালকের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, যিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হওয়া সত্ত্বেও মাস্টার রোলের মাধ্যমে বেতন গ্রহণ করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

বিএলআরআইয়ের ভেতরের কয়েকজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, প্রকল্পটি দেশের পোল্ট্রি খাতের উন্নয়নের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কিন্তু প্রকল্পের বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে শুরু থেকেই নানা ধরনের প্রশ্ন ছিল। তারা বলেন, গবেষণা প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত ছিল নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং তা খামারিদের কাছে পৌঁছে দেওয়া। কিন্তু প্রকল্পের বড় অংশের অর্থ অবকাঠামো নির্মাণ ও সরঞ্জাম ক্রয়ের পেছনে ব্যয় হওয়ায় প্রকৃত গবেষণা কার্যক্রম অনেকটাই পিছিয়ে পড়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের পোল্ট্রি খাত দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে এবং দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ খাতের গুরুত্ব ক্রমেই বাড়ছে। তাই পোল্ট্রি গবেষণায় বিনিয়োগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু যদি এত বড় অর্থ ব্যয়ের একটি প্রকল্প থেকে প্রত্যাশিত গবেষণা ফলাফল না আসে, তাহলে তা দেশের গবেষণা ব্যবস্থার জন্য উদ্বেগজনক বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।

এদিকে ড. সাজেদুল করিম সরকারের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তিনি প্রকাশ্যে তৎকালীন সরকারের প্রতি সমর্থন জানাতেন এবং বিভিন্ন সভা-সেমিনার ও কর্মশালায় সরকারের প্রশংসা করতেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও তিনি নিয়মিতভাবে সরকারি নেতাদের বক্তব্য, সংবাদ এবং সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ প্রচার করতেন।

বিভিন্ন অনুষ্ঠানে প্রকল্পের অগ্রগতি উপস্থাপনের সময় তিনি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রশংসাসূচক ভাষায় উল্লেখ করতেন এবং একাধিক ক্ষেত্রে তাকে “এশিয়ার আয়রন লেডি” হিসেবে অভিহিত করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সমালোচকদের মতে, এ ধরনের প্রকাশ্য রাজনৈতিক অবস্থান একজন সরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তার নিরপেক্ষতার প্রশ্ন তুলতে পারে।

গত ৫ আগস্ট দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে পরিবর্তন আসার পর ড. সাজেদুল করিম সরকারের পূর্ববর্তী রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তার সহকর্মী ও সংশ্লিষ্ট মহলের অনেকেই এখন প্রশ্ন তুলছেন, একজন সরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা হিসেবে তার রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা কতটা বজায় ছিল।

এদিকে প্রকল্পের অনিয়ম নিয়ে তথ্য জানতে চাইলে সাংবাদিককে হুমকি দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে ড. সাজেদুল করিম সরকার বলেন, তার স্ত্রী ফারহানা শারমিন বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়েই প্রকল্পে প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করেছেন। তিনি আরও বলেন, “আপনি অফিসে আসেন, সরাসরি বসে আলোচনা করব। আর সঠিক তথ্য না জেনে নিউজ করলে সমস্যায় পড়বেন।”

তার এই বক্তব্যকে অনেকেই সাংবাদিকদের প্রতি পরোক্ষ হুমকি হিসেবে দেখছেন। সাংবাদিকদের একটি অংশ মনে করছেন, কোনো প্রকল্প নিয়ে তথ্য জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দায়িত্ব হচ্ছে স্বচ্ছভাবে তথ্য প্রদান করা। কিন্তু উল্টোভাবে সাংবাদিককে সতর্ক করার বিষয়টি গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও তথ্যপ্রাপ্তির অধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, এত বড় অর্থায়নের একটি গবেষণা প্রকল্প নিয়ে যখন নানা ধরনের অভিযোগ উঠছে, তখন এর কার্যক্রম, অর্থ ব্যবস্থাপনা এবং বাস্তবায়নের অগ্রগতি বিষয়ে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। এতে প্রকল্পের অর্থ যথাযথভাবে ব্যবহার হয়েছে কি না এবং ঘোষিত গবেষণা লক্ষ্য কতটা অর্জিত হয়েছে তা স্পষ্টভাবে নিরূপণ করা সম্ভব হবে।

তারা আরও বলেন, গবেষণা প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত দেশের জ্ঞানভিত্তিক উন্নয়নকে এগিয়ে নেওয়া। তাই এ ধরনের প্রকল্পে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং পেশাগত নৈতিকতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। অন্যথায় জনগণের অর্থ ব্যয়ে পরিচালিত গবেষণা প্রকল্পগুলো তাদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হবে এবং দেশের গবেষণা ব্যবস্থার ওপর জনগণের আস্থা কমে যেতে পারে।