চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে এক বিএনপি নেতা ও ঠিকাদারের বিরুদ্ধে সড়ক নির্মাণে ব্যাপক অনিয়ম ও নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। অনিয়ম ও নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের কারনে স্থানীয়রা কাজে বাধা দিলেও কোন সুরাহা না পেয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর-এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন স্থানীয়রা। এদিকে, সরেজমিনেও নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের সত্যতা মিলেছি। অভিযুক্ত ঠিকাদার শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব মো. তোসিকুল ইসলাম।
স্থানীয় বাসিন্দা, পথচারী ও অভিযোগের নথি সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে কাঁচা সড়ক ছিল ছিল ধাইনগর ইউনিয়নের বলিহারপুর থেকে জাবড়ী কাজীপাড়া পর্যন্ত। অবশেষে সড়কটি নির্মাণের উদ্যোগ নেয় সরকার। কিন্তু ঠিকাদারের বিরুদ্ধে অভিযোগ কাজ শুরুর পর মাটি কাটার পর বেড রোলিং করা হয়নি। এছাড়াও বালু ভরাটের পর নির্ধারিত নিয়ম অনুসারে যথাযথভাবে পানি প্রয়োগ ও রোলিং সম্পন্ন করা হয়নি। অভিযোগ উঠেছে, জনসম্মুখে কাজ সম্পাদনের পরিবর্তে লোকচক্ষুর আড়ালে রাতের অন্ধকারে কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে, যা মানসম্মত নির্মাণ প্রক্রিয়ার পরিপন্থী।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, নিয়ম অনুযায়ী রাস্তার ভিত্তি তৈরিতে প্রথম শ্রেণীর ইটের খোয়া ব্যবহারের নির্দেশনা থাকলেও সড়কটির নির্মাণকাজে পুরাতন ও নিম্নমানের ০২ ও ০৩ নম্বর ইটের খোয়া ব্যবহার করা হয়েছে। এমনকি বালুর উপরে বালু ও খোয়ার মিশ্রণের অনুপাত সমান থাকার কথা থাকলেও বালুর পরিমাণ অনেক বেশি দেয়া হয়েছে। সঠিক ও মজবুত করতে রোলিং করার নিয়ম থাকলেও তা করা হয়নি। এমনকি এলজিইডির দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলীর উপস্থিতিতে প্রতিটি ধাপ পরীক্ষা নিরীক্ষার কথা থাকলেও বাস্তবে কোনো প্রকৌশলীর উপস্থিতি ছাড়াই ঠিকাদার সম্পূর্ণ নিজের খেয়ালখুশিমতো নিম্নমানের কাজ করা হয়েছে বলে অভিযোগ তাদের।
সাদিকুল ইসলাম, আব্দুস সামাদ, খাইরুল ইসলামসহ কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, মাটি খুঁড়ে বালু ভরাটের পর থেকে সম্পন্ন করা সকল স্তরে অনিয়ম করা হয়েছে। এখন উপরে খোয়া দেয়ার কাজ চলছে। সেখানে ০২, ০৩, ০৪ নম্বর ইটের খোয়া ব্যবহার করা হচ্ছে৷ স্থানীয় প্রতিবাদ করলেও পাত্তা দিচ্ছে না ঠিকাদার ও এলজিইডির কর্মকর্তারা। উভয়ের যোগসাজশে এমন অনিয়ম চলছে৷ দফায় দফায় অভিযোগ দিলেও কাজের মান উন্নত হয়নি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক যুবক বলেন, আমরা শুরুতেই নিম্নমানের কাজ দেখে বাধা দিয়েছিলাম। কিন্তু ঠিকাদার অনেক প্রভাবশালী বিএনপির নেতা হওয়ায় তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি। এমনকি প্রতিবাদকারী অনেককেই হুমকি দেয়া হয়েছে ঠিকাদারের লোকজনের পক্ষ থেকে। আমরা চাই, সঠিকভাবে সঠিক মান বজায় রেখে কাজ সম্পন্ন করা হোক। কাজের মানের উন্নয়ন না হলে কঠোর ব্যবস্থা গ্রামবাসী কঠোর ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবে বলে জানান তিনি।
এবিষয়ে শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব ও ঠিকাদার মো. তোসিকুল ইসলাম মুঠোফোনে জানান, কাজের মান শতভাগ ঠিক আছে। কোন অনিময় ও নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে না। তারা যেহেতু অভিযোগ দিয়েছে, এলজিইডি দেখবে কি অনিময় হয়েছে। এসময় তিনি নির্বাহী প্রকৌশলী বরাবর কে বা কারা লিখিত অভিযোগ দিয়েছে কয়েক দফায় তাদের নাম জানতে চান।
এনিয়ে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও পাওয়া যায়নি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর-এলজিইডি চাঁপাইনবাবগঞ্জ কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আনোয়ার হোসেনকে। এমনকি এনিয়ে কথা বলতে তার অফিসে গেলেও তিনি দেখা করেননি।
মোঃ জাহিদ হাসান চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা 





















