ঢাকা ০৫:১৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬, ৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
টিকিটের অগ্নিমূল্যে যাত্রীদের নাভিশ্বাস ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় পোর্টেবল সিগন্যাল লাইট ব্যবহার শুরু পুলিশের ঈদযাত্রায় ‘তেলের টেনশনে’ শিডিউল বিপর্যয়ের শঙ্কা সালমান আগার রান আউট বিতর্কে যা বলছে এমসিসি ঈদযাত্রা নিরাপদ রাখতে নোয়াখালীতে র‍্যাবের কঠোর অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান ইরানের সর্বোচ্চ নেতার ঈদযাত্রায় সাভারে সড়কে মানুষের ঢল, বেড়েছে গণপরিবহনের চাপ কক্সবাজার সৈকতে বারুণী স্নান ও গঙ্গাপূজায় পুণ্যার্থীর ঢল মতিঝিলে চোর-পুলিশ খেলা, গুলিস্তানে পুলিশের সামনে নতুন নোট বিক্রি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, দুই পরিবহনকে জরিমানা

টাঙ্গাইল শহরে নবম শ্রেণির ছাত্রের রহস্যজনক মৃত্যু

টাঙ্গাইলে শহীদ একাডেমিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের মুঈদ নামে নবম শ্রেণির এক ছাত্রের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় জেলা জুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহত মুঈদ ভূঞাপুরে উপজেলার গোলাবাড়ি গ্রামের সোহেল রানার ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, মঙ্গলবার(১০ মার্চ) সকাল সাড়ে ৯টায় শহরের সাবালিয়াস্থ শহীদ একাডেমিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভবনের নিচ থেকে মুঈদ নামে ওই শিক্ষার্থীকে অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করে প্রতিষ্ঠানের এক আয়া হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক মুইদকে মৃত ঘোষণা করেন।

স্থানীয় ব্যবসায়ী লুৎফর রহমান জানান, সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে ক্লাস খোলা রাখায় এতবড় ধরনের দুঘর্টনা ঘটেছে। ইতোপূর্বেও টাঙ্গাইলের একাধিক বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হত্যাসহ একাধিক দুর্ঘটনা ঘটলেও সেগুলো ধামাচাপা পড়েছে।

পথচারী রাসেল মিয়া জানান, মুঈদের মৃত্যুর দায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এড়াতে পারে না। কারণ একজন অভিভাবক যখন শিক্ষার্থীকে আবাসিকে রেখে যান, তখন ওই শিক্ষার্থীর দায়ভার প্রতিষ্ঠানের ওপরই বর্তায়। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

মুঈদের মা লায়লা বেগম জানান, তার ছেলে অনেক সময় ফোন করে বলতো, স্কুলের সজীব স্যার ভালো না। সজীব স্যারের কারনে সে মারা যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করতো। সজিব নামের শিক্ষকও লায়লা বেগমকে ফোন করে মুঈদের বিষয়ে নানা অভিযোগ দিতেন।

শহীদ একাডেমিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান শহীদুল আলম শহীদ জানান, মুঈদের সাথে তার বাবা-মায়ের ঝগড়া হয়েছে। সে আবাসিক থেকে পালাতে গিয়ে ভবনের ছাদ থেকে পড়ে মারা গেছে। তিনি আরও জানান, স্কুল ও আবাসিক বন্ধ রাখলে অভিভাবকরা বেতন দেন না। তাই শিক্ষার্থীদের বেতন তোলার জন্য সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে প্রতিষ্ঠান খোলা রাখা হয়েছে।

টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রুহুল আমিন জানান, তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। মর্গে গিয়ে মরদেহটিও দেখে এসেছেন। ছেলেটির মুখ-মন্ডল থেতলে গিয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

টিকিটের অগ্নিমূল্যে যাত্রীদের নাভিশ্বাস

টাঙ্গাইল শহরে নবম শ্রেণির ছাত্রের রহস্যজনক মৃত্যু

আপডেট সময় ০৭:৫৬:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬

টাঙ্গাইলে শহীদ একাডেমিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের মুঈদ নামে নবম শ্রেণির এক ছাত্রের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় জেলা জুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহত মুঈদ ভূঞাপুরে উপজেলার গোলাবাড়ি গ্রামের সোহেল রানার ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, মঙ্গলবার(১০ মার্চ) সকাল সাড়ে ৯টায় শহরের সাবালিয়াস্থ শহীদ একাডেমিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভবনের নিচ থেকে মুঈদ নামে ওই শিক্ষার্থীকে অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করে প্রতিষ্ঠানের এক আয়া হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক মুইদকে মৃত ঘোষণা করেন।

স্থানীয় ব্যবসায়ী লুৎফর রহমান জানান, সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে ক্লাস খোলা রাখায় এতবড় ধরনের দুঘর্টনা ঘটেছে। ইতোপূর্বেও টাঙ্গাইলের একাধিক বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হত্যাসহ একাধিক দুর্ঘটনা ঘটলেও সেগুলো ধামাচাপা পড়েছে।

পথচারী রাসেল মিয়া জানান, মুঈদের মৃত্যুর দায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এড়াতে পারে না। কারণ একজন অভিভাবক যখন শিক্ষার্থীকে আবাসিকে রেখে যান, তখন ওই শিক্ষার্থীর দায়ভার প্রতিষ্ঠানের ওপরই বর্তায়। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

মুঈদের মা লায়লা বেগম জানান, তার ছেলে অনেক সময় ফোন করে বলতো, স্কুলের সজীব স্যার ভালো না। সজীব স্যারের কারনে সে মারা যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করতো। সজিব নামের শিক্ষকও লায়লা বেগমকে ফোন করে মুঈদের বিষয়ে নানা অভিযোগ দিতেন।

শহীদ একাডেমিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান শহীদুল আলম শহীদ জানান, মুঈদের সাথে তার বাবা-মায়ের ঝগড়া হয়েছে। সে আবাসিক থেকে পালাতে গিয়ে ভবনের ছাদ থেকে পড়ে মারা গেছে। তিনি আরও জানান, স্কুল ও আবাসিক বন্ধ রাখলে অভিভাবকরা বেতন দেন না। তাই শিক্ষার্থীদের বেতন তোলার জন্য সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে প্রতিষ্ঠান খোলা রাখা হয়েছে।

টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রুহুল আমিন জানান, তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। মর্গে গিয়ে মরদেহটিও দেখে এসেছেন। ছেলেটির মুখ-মন্ডল থেতলে গিয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।