ঢাকা ০৫:০২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬, ২৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
অস্তিত্বহীন অফিসে গণপূর্তের ৩১১ কর্মকর্তার পদায়ন নিয়ে উঠেছে অভিযোগ আমানতকারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বড় পদক্ষেপের ঘোষণা অর্থমন্ত্রীর মিসরের বিপক্ষে জয়ের পর কেন কেঁদেছিলেন মেসি? নিজ দলের কর্মীদের পেটালেন মমতা পোষা পাখি মরে যাওয়ায় কান্না, শাসন করায় ছোট ভাইয়ের ছুরিকাঘাতে নিহত বড় ভাই মির্জাপুরে মাদকবিরোধী অভিযানে গাঁ’জা গাছ ও ই’য়া’বা উদ্ধার চীফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনির সাথে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের মহাপরিচালকের সৌজন্য সাক্ষাৎ জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় টাঙ্গাইলে ‘সবুজ পৃথিবী’র ঔষধি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অপু বিশ্বাস কি আবার বিয়ে করেছেন? প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা সবার জন্য বিনামূল্যে থাকবে: সমাজকল্যাণমন্ত্রী

রাজশাহীতে নিষিদ্ধ দলকে সক্রিয় করার অভিযোগ

কার্যক্রম নিষিদ্ধ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ–এর কোনো গুরুত্বপূর্ণ নেতাকর্মী বা অর্থ যোগানদাতা জামিনে মুক্তি পেলে অন্য মামলায় ‘শ্যোন অ্যারেস্ট’ দেখানোর নির্দেশ দিয়েছেন রাজশাহী রেঞ্জ ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহান। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) তার স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে রেঞ্জের অধীন আট জেলার পুলিশ সুপারদের এ নির্দেশনা বাস্তবায়নের কথা বলা হয়।

তবে এ নির্দেশনার মধ্যেই আলোচনায় এসেছে মোখলেসুর রহমান মুকুল ওরফে ‘হুন্ডি মুকুল’-এর নাম। এলাকাবাসীর অভিযোগ, তিনি জামিনে মুক্তি পাওয়ার পরও প্রকাশ্যে চলাফেরা করছেন এবং নিষিদ্ধ দলটির নেতাকর্মীদের সংগঠিত করতে অর্থ সহায়তা দিচ্ছেন।

জানা যায়, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে রাজশাহীতে ছাত্র-জনতার ওপর হামলার একাধিক মামলায় দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর গত বছরের ৬ আগস্ট ভোরে সুগন্ধা বিচ থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তিনি জামিনে মুক্তি পান।

রাজশাহী নগরীর কাঁঠালবাড়িয়া গোবিন্দপুর মহল্লার বাসিন্দা মুকুলের বিরুদ্ধে ২০১৮ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে তৎকালীন পুলিশ প্রধানের কাছে পাঠানো এক প্রতিবেদনে হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে টাকা পাচারের তালিকায় রাজশাহীর ‘মূল হোতা’ হিসেবে তার নাম ২ নম্বরে ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

এলাকাবাসীর ভাষ্য, “এক সময় পাড়ায় মুদিদোকান চালাতেন মুকুল। এখন তিনি হাজার কোটি টাকার মালিক। এত অল্প সময়ে এই সম্পদের উৎস কী—তা খতিয়ে দেখা দরকার।”

আরও অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে তাকে রাজনৈতিকভাবে আগলে রেখেছিলেন সাবেক সিটি মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন। পরবর্তীতে তিনি ঠিকাদারি ব্যবসায় যুক্ত হয়ে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন–এর প্রায় ৩০০ কোটি টাকার কাজ করেছেন বলে স্থানীয়দের দাবি।

এছাড়া রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে গোদাগাড়ীতে একটি বালুমহাল ইজারা পান মুকুল। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরও একই বালুমহাল পুনরায় ইজারা পাওয়াকে ঘিরে তখন রাজশাহীতে বিক্ষোভ হয়। আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে ইজারার চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

ডিআইজির চিঠিতে বলা হয়েছে, কার্যক্রম নিষিদ্ধ বা স্থগিত ঘোষিত সংগঠনের যেসব নেতা-কর্মী জামিনে মুক্তি পেয়ে পুনরায় সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করবেন, তাদের জামিনের পরপরই অন্য মামলায় গ্রেপ্তার দেখাতে হবে। কিন্তু এলাকাবাসীর দাবি, “মুকুল এলাকায় প্রকাশ্যে চলাফেরা করলেও তাকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।”

কাশিয়াডাঙ্গা থানা–এর অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ফরহাদ আলী বলেন, এ ধরনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে তা গুরুত্বসহকারে দেখা হবে এবং যাচাই-বাছাই করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এব্যাপারে আরএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার গাজিউর রহমানকে ফোন দিলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি ফলে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অস্তিত্বহীন অফিসে গণপূর্তের ৩১১ কর্মকর্তার পদায়ন নিয়ে উঠেছে অভিযোগ

রাজশাহীতে নিষিদ্ধ দলকে সক্রিয় করার অভিযোগ

আপডেট সময় ১২:১৪:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ মার্চ ২০২৬

কার্যক্রম নিষিদ্ধ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ–এর কোনো গুরুত্বপূর্ণ নেতাকর্মী বা অর্থ যোগানদাতা জামিনে মুক্তি পেলে অন্য মামলায় ‘শ্যোন অ্যারেস্ট’ দেখানোর নির্দেশ দিয়েছেন রাজশাহী রেঞ্জ ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহান। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) তার স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে রেঞ্জের অধীন আট জেলার পুলিশ সুপারদের এ নির্দেশনা বাস্তবায়নের কথা বলা হয়।

তবে এ নির্দেশনার মধ্যেই আলোচনায় এসেছে মোখলেসুর রহমান মুকুল ওরফে ‘হুন্ডি মুকুল’-এর নাম। এলাকাবাসীর অভিযোগ, তিনি জামিনে মুক্তি পাওয়ার পরও প্রকাশ্যে চলাফেরা করছেন এবং নিষিদ্ধ দলটির নেতাকর্মীদের সংগঠিত করতে অর্থ সহায়তা দিচ্ছেন।

জানা যায়, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে রাজশাহীতে ছাত্র-জনতার ওপর হামলার একাধিক মামলায় দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর গত বছরের ৬ আগস্ট ভোরে সুগন্ধা বিচ থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তিনি জামিনে মুক্তি পান।

রাজশাহী নগরীর কাঁঠালবাড়িয়া গোবিন্দপুর মহল্লার বাসিন্দা মুকুলের বিরুদ্ধে ২০১৮ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে তৎকালীন পুলিশ প্রধানের কাছে পাঠানো এক প্রতিবেদনে হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে টাকা পাচারের তালিকায় রাজশাহীর ‘মূল হোতা’ হিসেবে তার নাম ২ নম্বরে ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

এলাকাবাসীর ভাষ্য, “এক সময় পাড়ায় মুদিদোকান চালাতেন মুকুল। এখন তিনি হাজার কোটি টাকার মালিক। এত অল্প সময়ে এই সম্পদের উৎস কী—তা খতিয়ে দেখা দরকার।”

আরও অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে তাকে রাজনৈতিকভাবে আগলে রেখেছিলেন সাবেক সিটি মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন। পরবর্তীতে তিনি ঠিকাদারি ব্যবসায় যুক্ত হয়ে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন–এর প্রায় ৩০০ কোটি টাকার কাজ করেছেন বলে স্থানীয়দের দাবি।

এছাড়া রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে গোদাগাড়ীতে একটি বালুমহাল ইজারা পান মুকুল। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরও একই বালুমহাল পুনরায় ইজারা পাওয়াকে ঘিরে তখন রাজশাহীতে বিক্ষোভ হয়। আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে ইজারার চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

ডিআইজির চিঠিতে বলা হয়েছে, কার্যক্রম নিষিদ্ধ বা স্থগিত ঘোষিত সংগঠনের যেসব নেতা-কর্মী জামিনে মুক্তি পেয়ে পুনরায় সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করবেন, তাদের জামিনের পরপরই অন্য মামলায় গ্রেপ্তার দেখাতে হবে। কিন্তু এলাকাবাসীর দাবি, “মুকুল এলাকায় প্রকাশ্যে চলাফেরা করলেও তাকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।”

কাশিয়াডাঙ্গা থানা–এর অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ফরহাদ আলী বলেন, এ ধরনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে তা গুরুত্বসহকারে দেখা হবে এবং যাচাই-বাছাই করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এব্যাপারে আরএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার গাজিউর রহমানকে ফোন দিলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি ফলে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।