ঢাকা ০৯:১০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২৬, ৯ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
হরমুজ প্রণালিকে মুক্ত করতে বেশি সময় লাগবে না : ট্রাম্প কেন্দ্রীয় চুক্তিতে যে পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে ভারত পিএসএলে নিরাপত্তা নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার উদ্বেগ, যা বলছে পিসিবি যমুনায় সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন প্রধানমন্ত্রী পাটুরিয়ায় যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়, পারাপারে চলছে ১৮টি লঞ্চ চট্টগ্রামে ডিসির নির্দেশে যন্ত্রপাতি বিক্রি করে শ্রমিকদের বকেয়া পরিশোধ মন্ত্রী-এমপিরা কে কোথায় ঈদ করবেন? ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন শরীয়তপুর জেলা বি এন পি সাংগঠনিক সম্পাদক ও সখিপুর থানা বি এন পির আহ্বায়ক এস এম এ হামিদ ঈশ্বরদী থেকে এলো উদ্ধারকারী ট্রেন, সৈয়দপুর থেকে আসছে আরেকটি রূহানীনগর এর পক্ষ থেকে সম্মানিত ইমাম-মুয়াজ্জিনগণকে  হাদিয়া প্রদান

কুমিল্লা মনোহরগঞ্জ শাহ শরীফ মসজিদ তৈরির অনন্য কাহিনি

কুমিল্লার মনোহরগঞ্জে হিন্দু রাজার অধীনে কাজ করতেন হায়াত আবদে করিম। ২৭ বছর ধরে ঐতিহাসিক মসজিদ নির্মাণ করে তিনি অনন্য কীর্তি গড়েন। ৫০০বছর আগে নির্মিত শাহ শরীফ মসজিদটি এখন ঐতিহাসিক স্থাপনা হিসেবে পরিচিত। জানা যায়, উপজেলার ১নং বাইশগাঁও ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী গ্রাম ‘বড় শরীফপুর’।
পাশে রয়েছে চাঁদপুর ও নোয়াখালী জেলার সীমানা শুরু। বড় শরীফপুরে ১৫৩২ সালে নির্মিত হয় একটি দৃষ্টিনন্দন মসজিদ। মসজিদটি এখনো দৃষ্টিনন্দন। ৫০০ বছরেও এর সৌন্দর্য নষ্ট হয়নি।কথিত আছে, হায়াত আবদে করিম নামে এক ব্যক্তি এ মসজিদটি নির্মাণ করেন। তৎকালীন ওই এলাকাটি শাসন করতেন রাজা নাটেশ্বর রায়। হায়াত আবদে করিম নাটেশ্বর রাজার বাড়িতে চাকরি করতেন। একদিন ওই এলাকায় শাহ শরীফ বোগদাদী (রহ.) নামে এক পীরের আবির্ভাব ঘটে।
পরে হায়াত আবদে করিম তার অনুসারী হন। একসময় রাজা নাটেশ্বর ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। অন্যদিকে নিঃসন্তান হায়াত আবদে করিম রাজা নাটেশ্বর রায়ের অধীনে কাজ করে নিজের বেতনের টাকায় দীর্ঘ ২৭ বছর ধরে ঐতিহাসিক শাহী জামে মসজিদটির নির্মাণকাজ শেষ করেন। ইট পুড়িয়ে অত্যন্ত সুন্দর ও নিখুঁত নকশায় টালি ইট ও চুন-সুরকির ওপর খোদাই করে নির্মাণ করা হয় ঐতিহাসিক মসজিদটি। মসজিদের বাইরের দৈর্ঘ্য ১৪ দশমিক ৪৮ মিটার ও প্রস্থ ৫ দশমিক ৯৪ মিটার।
মসজিদের ওপরে তিনটি গম্বুজ রয়েছে। গম্বুজে পদ্মফুলের নকশা রয়েছে। মসজিদের সামনের দেয়ালে ফার্সি ভাষায় শিলালিপি রয়েছে। এটি বাংলাদেশের ঐতিহাসিক ৩৬০টি মসজিদের মধ্যে একটি বলে জানা গেছে। ঐতিহাসিক এ মসজিদটির পাশে রয়েছে নাটেশ্বর দীঘি। রাজা নাটেশ্বর তার নামানুসারে এই দীঘি খনন করেন। ৩৭ একর জমির ওপর দীঘিটি খনন করা হয়। রাজা নাটেশ্বর দীঘির পশ্চিমপাড়ে রায়েরবাগ নামে একটি গ্রাম প্রতিষ্ঠা করেন। নাটেশ্বর দীঘির পূর্ব-দক্ষিণ কোণে রয়েছে পীর হজরত শাহ শরীফ বোগদাদী (রহ.)-এর মাজার। সমতল ভূমি থেকে ৩০ ফুট উঁচুতে অবস্থিত এ মাজারটিতে প্রতিবছর আয়োজন করা হয় ওরস ও ওয়াজ মাহফিল। এতে সমাগম ঘটে লক্ষাধিক ভক্তের। মসজিদের পূর্ব পাশ দিয়ে বয়ে গেছে ডাকাতিয়া নদী- খাল। আর পশ্চিম-দক্ষিণ পাড় ও কোনায় রয়েছে, কেন্দ্রীয় বিএনপি’র সাবেক বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক কুমিল্লা ৯ আসনের সাবেক এমপি মরহুম কর্নেল (অবঃ)এম আনোয়ারুল আজিম এর কবর,এবং একিটি এতিমখানা ও মাদরাসা,বিশাল দুটি দীঘি, যা জোড় সতীনের দীঘি নামে পরিচিত। দর্শনার্থীরা জানান, প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপরূপ এ স্থানগুলো ঘুরে বেড়ালে মনটা আনন্দে ভরে যায়। ঐতিহাসিক স্থাপনাসমূহের শোভাবর্ধন করা হলে হতে পারে আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র। ইতঃপূর্বে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর এলাকাটি অধিগ্রহণ করে পুরাকীর্তি হিসেবে ঘোষণা করলেও পর্যটন কেন্দ্রে রূপান্তরে এখনো কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তবে স্থানটিকে আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্রে রূপান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে বলে কুমিল্লা প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

হরমুজ প্রণালিকে মুক্ত করতে বেশি সময় লাগবে না : ট্রাম্প

কুমিল্লা মনোহরগঞ্জ শাহ শরীফ মসজিদ তৈরির অনন্য কাহিনি

আপডেট সময় ০৪:১৯:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬

কুমিল্লার মনোহরগঞ্জে হিন্দু রাজার অধীনে কাজ করতেন হায়াত আবদে করিম। ২৭ বছর ধরে ঐতিহাসিক মসজিদ নির্মাণ করে তিনি অনন্য কীর্তি গড়েন। ৫০০বছর আগে নির্মিত শাহ শরীফ মসজিদটি এখন ঐতিহাসিক স্থাপনা হিসেবে পরিচিত। জানা যায়, উপজেলার ১নং বাইশগাঁও ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী গ্রাম ‘বড় শরীফপুর’।
পাশে রয়েছে চাঁদপুর ও নোয়াখালী জেলার সীমানা শুরু। বড় শরীফপুরে ১৫৩২ সালে নির্মিত হয় একটি দৃষ্টিনন্দন মসজিদ। মসজিদটি এখনো দৃষ্টিনন্দন। ৫০০ বছরেও এর সৌন্দর্য নষ্ট হয়নি।কথিত আছে, হায়াত আবদে করিম নামে এক ব্যক্তি এ মসজিদটি নির্মাণ করেন। তৎকালীন ওই এলাকাটি শাসন করতেন রাজা নাটেশ্বর রায়। হায়াত আবদে করিম নাটেশ্বর রাজার বাড়িতে চাকরি করতেন। একদিন ওই এলাকায় শাহ শরীফ বোগদাদী (রহ.) নামে এক পীরের আবির্ভাব ঘটে।
পরে হায়াত আবদে করিম তার অনুসারী হন। একসময় রাজা নাটেশ্বর ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। অন্যদিকে নিঃসন্তান হায়াত আবদে করিম রাজা নাটেশ্বর রায়ের অধীনে কাজ করে নিজের বেতনের টাকায় দীর্ঘ ২৭ বছর ধরে ঐতিহাসিক শাহী জামে মসজিদটির নির্মাণকাজ শেষ করেন। ইট পুড়িয়ে অত্যন্ত সুন্দর ও নিখুঁত নকশায় টালি ইট ও চুন-সুরকির ওপর খোদাই করে নির্মাণ করা হয় ঐতিহাসিক মসজিদটি। মসজিদের বাইরের দৈর্ঘ্য ১৪ দশমিক ৪৮ মিটার ও প্রস্থ ৫ দশমিক ৯৪ মিটার।
মসজিদের ওপরে তিনটি গম্বুজ রয়েছে। গম্বুজে পদ্মফুলের নকশা রয়েছে। মসজিদের সামনের দেয়ালে ফার্সি ভাষায় শিলালিপি রয়েছে। এটি বাংলাদেশের ঐতিহাসিক ৩৬০টি মসজিদের মধ্যে একটি বলে জানা গেছে। ঐতিহাসিক এ মসজিদটির পাশে রয়েছে নাটেশ্বর দীঘি। রাজা নাটেশ্বর তার নামানুসারে এই দীঘি খনন করেন। ৩৭ একর জমির ওপর দীঘিটি খনন করা হয়। রাজা নাটেশ্বর দীঘির পশ্চিমপাড়ে রায়েরবাগ নামে একটি গ্রাম প্রতিষ্ঠা করেন। নাটেশ্বর দীঘির পূর্ব-দক্ষিণ কোণে রয়েছে পীর হজরত শাহ শরীফ বোগদাদী (রহ.)-এর মাজার। সমতল ভূমি থেকে ৩০ ফুট উঁচুতে অবস্থিত এ মাজারটিতে প্রতিবছর আয়োজন করা হয় ওরস ও ওয়াজ মাহফিল। এতে সমাগম ঘটে লক্ষাধিক ভক্তের। মসজিদের পূর্ব পাশ দিয়ে বয়ে গেছে ডাকাতিয়া নদী- খাল। আর পশ্চিম-দক্ষিণ পাড় ও কোনায় রয়েছে, কেন্দ্রীয় বিএনপি’র সাবেক বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক কুমিল্লা ৯ আসনের সাবেক এমপি মরহুম কর্নেল (অবঃ)এম আনোয়ারুল আজিম এর কবর,এবং একিটি এতিমখানা ও মাদরাসা,বিশাল দুটি দীঘি, যা জোড় সতীনের দীঘি নামে পরিচিত। দর্শনার্থীরা জানান, প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপরূপ এ স্থানগুলো ঘুরে বেড়ালে মনটা আনন্দে ভরে যায়। ঐতিহাসিক স্থাপনাসমূহের শোভাবর্ধন করা হলে হতে পারে আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র। ইতঃপূর্বে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর এলাকাটি অধিগ্রহণ করে পুরাকীর্তি হিসেবে ঘোষণা করলেও পর্যটন কেন্দ্রে রূপান্তরে এখনো কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তবে স্থানটিকে আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্রে রূপান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে বলে কুমিল্লা প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে।