সংবাদ শিরোনাম ::
আগস্টে ঢাকা-পাবনা সরাসরি ট্রেন চালু হচ্ছে: রেলমন্ত্রী কুলির চরিত্রে পর্দায় ফিরছেন ওমর সানী প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফর নিয়ে উসকানির আভাস পাচ্ছি : রিজভী গ্যালারিতে বসে দেশসেরা খুদে ফুটবলারদের খেলা দেখছেন প্রধানমন্ত্রী নওগাঁ টেলিভিশন জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাচন কমিশন গঠন সভা অনুষ্ঠিত মুকসুদপুরে জাল নোট প্রচলন প্রতিরোধে জন সচেতনতা বৃদ্ধিমুলক ওয়ার্কসপ কিশোর নিবিরের প্রেমের বিয়ে, ৮ মাস পর রহস্যজনক মৃত্যু  কোটালীপাড়ায় নিবন্ধিত জেলেদের মাঝে বকনা বাছুর বিতরণ দৈনিক আমাদের মাতৃভূমির চট্টগ্রাম ব্যুরো চিফ মুরাদকে অব্যাহতি তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিতে গঙ্গাচড়ায় হাজারো মানুষের মানববন্ধন

আগের মতোই চলছে চাঁদাবাজি প্রভাব কমেনি যুবলীগের

রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে চাঁদাবাজির ঘটনায় যুবলীগ নেতাদের পুলিশে ধরিয়ে দেওয়ার পর মামলায় ফেঁসেছেন যুবদলের নেতাকর্মীরা। অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারী সূত্রে জানা গেছে যুবলীগ আগের মতোই চাঁদাবাজি, দালালি করছে। তাদের প্রভাব কমেনি।
সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের নকলনবিশ অ্যাসোসিয়েশনের বিএনপিপন্থি সাধারণ সম্পাদক মাহবুব হোসেনের কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে। টাকা না পেয়ে যুবলীগ কর্মী ও নকলনবিশ গিয়াস উদ্দিন অস্ত্র নিয়ে হুমকি দেন মাহবুবকে। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি গিয়াস উদ্দিনের লোকজন মাহবুবের ওপর হামলা করে। এ ঘটনায় ওইদিন মাহবুবের স্ত্রী নাসরীন আক্তার তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।

বিএনপির নেতাকর্মীরা অভিযোগ করেন, সাবেক কমিশনার এবং তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি শফিউল্লাহ শফি এবং চিহ্নিত সন্ত্রাসী যুবলীগের সভাপতি নুর হোসেন লেদুর পৃষ্ঠপোষকতায় সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে কয়েক বছর ধরে গিয়াস উদ্দিন ও তাঁর অনুসারীরা চাঁদাবাজি করছেন। চাঁদা না পেয়ে ১ মার্চ গিয়াস উদ্দিন মাহবুবকে অবরুদ্ধ করেন। বিষয়টি জানতে পেরে স্থানীয় যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা মাহবুবকে উদ্ধার করে গিয়াস এবং কুনিপাড়া ইউনিটের ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আকিবকে থানার সোপর্দ করেন। এ সময় তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা বিএনপির আহ্বায়ক আইনুল ইসলাম চঞ্চল সেখানে উপস্থিত ছিলেন। সন্ধ্যায় তাদের থানা থেকে ছেড়ে দেওয়া হলে উল্টো বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা করেন গিয়াসউদ্দিন। তিনি অভিযোগ করেন, ১ মার্চ তাঁকে তেজগাঁও আদর্শ স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনে থেকে অপহরণ করা হয়েছিল।

মামলায় ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের আওতাধীন তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ আলী, মোহাম্মদ মুরাদ হোসেন এবং সাবেক সদস্য এইচ এম ফয়সাল, সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের নকলনবিশ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মাহবুব হোসেনসহ পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে। এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ৩ মার্চ কেন্দ্রীয় যুবদল ওই তিন নেতাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করে।
তবে যুবদল নেতা মোহাম্মদ আলী বলেন, যেখানে অপহরণের কোনো ঘটনা ঘটেনি। চাঁদাবাজির ঘটনায় স্থানীয়রা দুই চাঁদাবাজকে থানায় সোপর্দ করেন। ঘটনার দিন তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। এর পরও কারণ দর্শানোর নোটিশ ছাড়া, তাঁর কাছে ঘটনার বিষয়ে না জেনে বহিষ্কার করা হয়েছে।
ঘটনার বিষয়ে মাহবুব হোসেন বলেন, ‘আমরা পুরো প্যানেলসহ জয়লাভ করেছি। এরপর থেকে তারা আমাকে হুমকি-ধমকি দিচ্ছে। গত ১৮ ফেব্রুয়ারি আমার ওপর হামলা করেন গিয়াসউদ্দিনসহ তাঁর অনুসারীরা। গত রোববার তারা আবার আমাকে অবরুদ্ধ করলে স্থানীয়রা মুক্ত করে গিয়াস ও অন্য একজনকে থানায় সোপর্দ করেন। পরে জানতে পারি থানা থেকে সে মুক্ত হয়ে উল্টো মিথ্যা মামলা করেছে।’

যুবলীগ নেতা ও নকলনবিশ গিয়াস উদ্দিন বলেন, যাদের বিরুদ্ধে তিনি মামলা করেছেন তারা তাঁকে হত্যার উদ্দেশ্যে অপহরণ করেছিল। কোথা থেকে এবং কীভাবে অপহরণ করা হয় সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু বলেননি। আওয়ামী লীগের সঙ্গে সখ্যর বিষয়ে তিনি বলেন, অফিসের কাজে তিনি তাদের সঙ্গে ছবি তুলেছেন।
তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা বিএনপির আহ্বায়ক আইনুল ইসলাম চঞ্চল বলেন, ঘটনার দিন আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্ট চিহ্নিত দুজনকে থানায় সোপর্দ করা হয়। কিন্তু উল্টো বিএনপি নেতাকর্মীদের নামেই মিথ্যা মামলা করেছেন গিয়াসউদ্দিন। বিএনপি ও যুবদলের অনেক নিরীহ নেতাকেও জড়িত করা হয়েছে।

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আগস্টে ঢাকা-পাবনা সরাসরি ট্রেন চালু হচ্ছে: রেলমন্ত্রী

আগের মতোই চলছে চাঁদাবাজি প্রভাব কমেনি যুবলীগের

আপডেট সময় ০২:২৭:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬

রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে চাঁদাবাজির ঘটনায় যুবলীগ নেতাদের পুলিশে ধরিয়ে দেওয়ার পর মামলায় ফেঁসেছেন যুবদলের নেতাকর্মীরা। অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারী সূত্রে জানা গেছে যুবলীগ আগের মতোই চাঁদাবাজি, দালালি করছে। তাদের প্রভাব কমেনি।
সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের নকলনবিশ অ্যাসোসিয়েশনের বিএনপিপন্থি সাধারণ সম্পাদক মাহবুব হোসেনের কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে। টাকা না পেয়ে যুবলীগ কর্মী ও নকলনবিশ গিয়াস উদ্দিন অস্ত্র নিয়ে হুমকি দেন মাহবুবকে। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি গিয়াস উদ্দিনের লোকজন মাহবুবের ওপর হামলা করে। এ ঘটনায় ওইদিন মাহবুবের স্ত্রী নাসরীন আক্তার তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।

বিএনপির নেতাকর্মীরা অভিযোগ করেন, সাবেক কমিশনার এবং তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি শফিউল্লাহ শফি এবং চিহ্নিত সন্ত্রাসী যুবলীগের সভাপতি নুর হোসেন লেদুর পৃষ্ঠপোষকতায় সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে কয়েক বছর ধরে গিয়াস উদ্দিন ও তাঁর অনুসারীরা চাঁদাবাজি করছেন। চাঁদা না পেয়ে ১ মার্চ গিয়াস উদ্দিন মাহবুবকে অবরুদ্ধ করেন। বিষয়টি জানতে পেরে স্থানীয় যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা মাহবুবকে উদ্ধার করে গিয়াস এবং কুনিপাড়া ইউনিটের ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আকিবকে থানার সোপর্দ করেন। এ সময় তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা বিএনপির আহ্বায়ক আইনুল ইসলাম চঞ্চল সেখানে উপস্থিত ছিলেন। সন্ধ্যায় তাদের থানা থেকে ছেড়ে দেওয়া হলে উল্টো বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা করেন গিয়াসউদ্দিন। তিনি অভিযোগ করেন, ১ মার্চ তাঁকে তেজগাঁও আদর্শ স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনে থেকে অপহরণ করা হয়েছিল।

মামলায় ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের আওতাধীন তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ আলী, মোহাম্মদ মুরাদ হোসেন এবং সাবেক সদস্য এইচ এম ফয়সাল, সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের নকলনবিশ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মাহবুব হোসেনসহ পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে। এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ৩ মার্চ কেন্দ্রীয় যুবদল ওই তিন নেতাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করে।
তবে যুবদল নেতা মোহাম্মদ আলী বলেন, যেখানে অপহরণের কোনো ঘটনা ঘটেনি। চাঁদাবাজির ঘটনায় স্থানীয়রা দুই চাঁদাবাজকে থানায় সোপর্দ করেন। ঘটনার দিন তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। এর পরও কারণ দর্শানোর নোটিশ ছাড়া, তাঁর কাছে ঘটনার বিষয়ে না জেনে বহিষ্কার করা হয়েছে।
ঘটনার বিষয়ে মাহবুব হোসেন বলেন, ‘আমরা পুরো প্যানেলসহ জয়লাভ করেছি। এরপর থেকে তারা আমাকে হুমকি-ধমকি দিচ্ছে। গত ১৮ ফেব্রুয়ারি আমার ওপর হামলা করেন গিয়াসউদ্দিনসহ তাঁর অনুসারীরা। গত রোববার তারা আবার আমাকে অবরুদ্ধ করলে স্থানীয়রা মুক্ত করে গিয়াস ও অন্য একজনকে থানায় সোপর্দ করেন। পরে জানতে পারি থানা থেকে সে মুক্ত হয়ে উল্টো মিথ্যা মামলা করেছে।’

যুবলীগ নেতা ও নকলনবিশ গিয়াস উদ্দিন বলেন, যাদের বিরুদ্ধে তিনি মামলা করেছেন তারা তাঁকে হত্যার উদ্দেশ্যে অপহরণ করেছিল। কোথা থেকে এবং কীভাবে অপহরণ করা হয় সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু বলেননি। আওয়ামী লীগের সঙ্গে সখ্যর বিষয়ে তিনি বলেন, অফিসের কাজে তিনি তাদের সঙ্গে ছবি তুলেছেন।
তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা বিএনপির আহ্বায়ক আইনুল ইসলাম চঞ্চল বলেন, ঘটনার দিন আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্ট চিহ্নিত দুজনকে থানায় সোপর্দ করা হয়। কিন্তু উল্টো বিএনপি নেতাকর্মীদের নামেই মিথ্যা মামলা করেছেন গিয়াসউদ্দিন। বিএনপি ও যুবদলের অনেক নিরীহ নেতাকেও জড়িত করা হয়েছে।