ঢাকা ১১:১৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬, ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
অস্তিত্বহীন অফিসে গণপূর্তের ৩১১ কর্মকর্তার পদায়ন নিয়ে উঠেছে অভিযোগ আমানতকারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বড় পদক্ষেপের ঘোষণা অর্থমন্ত্রীর মিসরের বিপক্ষে জয়ের পর কেন কেঁদেছিলেন মেসি? নিজ দলের কর্মীদের পেটালেন মমতা পোষা পাখি মরে যাওয়ায় কান্না, শাসন করায় ছোট ভাইয়ের ছুরিকাঘাতে নিহত বড় ভাই মির্জাপুরে মাদকবিরোধী অভিযানে গাঁ’জা গাছ ও ই’য়া’বা উদ্ধার চীফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনির সাথে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের মহাপরিচালকের সৌজন্য সাক্ষাৎ জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় টাঙ্গাইলে ‘সবুজ পৃথিবী’র ঔষধি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অপু বিশ্বাস কি আবার বিয়ে করেছেন? প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা সবার জন্য বিনামূল্যে থাকবে: সমাজকল্যাণমন্ত্রী

গত ৭ বছরে আবাদি জমির পরিমাণ কমেছে প্রায় দুই হাজার হেক্টর

নওগাঁর আত্রাইয়ে রাতের অন্ধকারে ফসলি জমিতে অবাধে চলছে পুকুর খননের কাজ প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে পুকুর খনন উৎসবে মেতেছে অসাধু একটি চক্র। জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করে অনুমোদন না নিয়ে স্থানীয়দের ম্যানেজ করে চলছে তড়িঘড়ি পুকুর খননের কাজ। এমন অব্যাহত পুকুর খনন চললে খাদ্যের ঘাটতি দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কায় আছেন কৃষি বিভাগ।

উপজেলা কৃষি ও মৎস্য অফিস সূত্রে জানা যায়, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে জেলায় আবাদি জমির পরিমাণ ছিল দুই লাখ ৭২ হাজার ২৭৬ হেক্টর। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ছিল একই পরিমাণ ২০১৬-১৭অর্থবছরে ছিল দুই লাখ ৭৩ হাজার ৬১২ হেক্টর এবং ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ছিল দুই লাখ ৭৩ হাজার ৯৯৮ হেক্টর। গত সাত বছরে আবাদি জমির পরিমাণ কমেছে এক হাজার ৯২২ হেক্টর। আত্রাই উপজেলায় বর্তমানে ফসলি জমির পরিমাণ ২৪ হাজার ১০০ হেক্টর।

অন্যদিকে বর্তমানে সরকারি পুকুর রয়েছে ২২৪টি এবং ব্যক্তিগত পুকুর রয়েছে দুই হাজার ৮৩৭টি। গত সাত বছরের ব্যবমানে ব্যক্তিগত পুকুর বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় ৩৫০টি।

জমির প্রকৃতি পরিবর্তন বিষয়ে নীতিমালা থাকলেও আত্রাই উপজেলায় ফসলি জমিগুলোকে পরিণত করা হচ্ছে পুকুরে। জমির মালিকদের সাতপাঁচ বুঝা নিয়ে কয়েক বছরের জন্য সামান্য টাকায় মূল্যবান ফললি জমি ইজারা নিচ্ছে পুকুর ব্যবসায়ী নামে একটি চক্র। অসাধু একটি চক্র বিভিন্ন মহলকে নিয়ন্ত্রণ করে পুকুর খনন করছে বলে সচেতন মহলের অভিযোগ। পুকুর খনন করতে টাকা খরচ করতে হয় না চক্রটির। ইটভাটার মালিকরা তাদের প্রয়োজনে ইচ্ছে মতো মাটি কেটে ভাটায় নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।

একইভাবে উপজেলার সাহাগোলা ইউনিয়নের সাহাগোলা কয়সা আকবরপুর ও চিলাহার মৌজায় আবাদি জমিতে ও কালিকাপুর, হাটকালুপাড়া ইউনিয়নে পুকুর খনন করে মাছ চাষ করা হচ্ছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানায়। আত্রাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রসেনজিৎ তালুকদার বলেন, আবাদি জমিতে পুকুর খননের জন্য ফসলি জমির পরিমাণ অনেকটাই কমেছে পাশাপাশি অবৈধভাবে এ পুকুর খনন বন্ধ করা না হলে কৃষি খাদ্যে অসম্পূর্ণতা বৃদ্ধি পাবে।

আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ আলাউল ইসলাম বলেন,জেলা প্রশাসক যদি পুকুর খননের জন্য অনুমতি দেন তাহলে খনন করতে পারবেন। তাছাড়া আত্রাইয়ে অবৈধভাবে পুকুর খননের কোন রকম সুযোগ নেই
অবৈধ পুকুর খনন বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ উপজেলা প্রশাসনের।

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অস্তিত্বহীন অফিসে গণপূর্তের ৩১১ কর্মকর্তার পদায়ন নিয়ে উঠেছে অভিযোগ

গত ৭ বছরে আবাদি জমির পরিমাণ কমেছে প্রায় দুই হাজার হেক্টর

আপডেট সময় ০১:৫৭:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬

নওগাঁর আত্রাইয়ে রাতের অন্ধকারে ফসলি জমিতে অবাধে চলছে পুকুর খননের কাজ প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে পুকুর খনন উৎসবে মেতেছে অসাধু একটি চক্র। জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করে অনুমোদন না নিয়ে স্থানীয়দের ম্যানেজ করে চলছে তড়িঘড়ি পুকুর খননের কাজ। এমন অব্যাহত পুকুর খনন চললে খাদ্যের ঘাটতি দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কায় আছেন কৃষি বিভাগ।

উপজেলা কৃষি ও মৎস্য অফিস সূত্রে জানা যায়, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে জেলায় আবাদি জমির পরিমাণ ছিল দুই লাখ ৭২ হাজার ২৭৬ হেক্টর। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ছিল একই পরিমাণ ২০১৬-১৭অর্থবছরে ছিল দুই লাখ ৭৩ হাজার ৬১২ হেক্টর এবং ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ছিল দুই লাখ ৭৩ হাজার ৯৯৮ হেক্টর। গত সাত বছরে আবাদি জমির পরিমাণ কমেছে এক হাজার ৯২২ হেক্টর। আত্রাই উপজেলায় বর্তমানে ফসলি জমির পরিমাণ ২৪ হাজার ১০০ হেক্টর।

অন্যদিকে বর্তমানে সরকারি পুকুর রয়েছে ২২৪টি এবং ব্যক্তিগত পুকুর রয়েছে দুই হাজার ৮৩৭টি। গত সাত বছরের ব্যবমানে ব্যক্তিগত পুকুর বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় ৩৫০টি।

জমির প্রকৃতি পরিবর্তন বিষয়ে নীতিমালা থাকলেও আত্রাই উপজেলায় ফসলি জমিগুলোকে পরিণত করা হচ্ছে পুকুরে। জমির মালিকদের সাতপাঁচ বুঝা নিয়ে কয়েক বছরের জন্য সামান্য টাকায় মূল্যবান ফললি জমি ইজারা নিচ্ছে পুকুর ব্যবসায়ী নামে একটি চক্র। অসাধু একটি চক্র বিভিন্ন মহলকে নিয়ন্ত্রণ করে পুকুর খনন করছে বলে সচেতন মহলের অভিযোগ। পুকুর খনন করতে টাকা খরচ করতে হয় না চক্রটির। ইটভাটার মালিকরা তাদের প্রয়োজনে ইচ্ছে মতো মাটি কেটে ভাটায় নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।

একইভাবে উপজেলার সাহাগোলা ইউনিয়নের সাহাগোলা কয়সা আকবরপুর ও চিলাহার মৌজায় আবাদি জমিতে ও কালিকাপুর, হাটকালুপাড়া ইউনিয়নে পুকুর খনন করে মাছ চাষ করা হচ্ছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানায়। আত্রাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রসেনজিৎ তালুকদার বলেন, আবাদি জমিতে পুকুর খননের জন্য ফসলি জমির পরিমাণ অনেকটাই কমেছে পাশাপাশি অবৈধভাবে এ পুকুর খনন বন্ধ করা না হলে কৃষি খাদ্যে অসম্পূর্ণতা বৃদ্ধি পাবে।

আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ আলাউল ইসলাম বলেন,জেলা প্রশাসক যদি পুকুর খননের জন্য অনুমতি দেন তাহলে খনন করতে পারবেন। তাছাড়া আত্রাইয়ে অবৈধভাবে পুকুর খননের কোন রকম সুযোগ নেই
অবৈধ পুকুর খনন বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ উপজেলা প্রশাসনের।