রংপুরের পীরগঞ্জে মধু মাসের আগমনী বার্তা দিচ্ছে আমের মুকুল। বাতাসে ভাসছে আমের মুকুলের মৌ-মৌ গন্ধ—যে ঘ্রাণ মুহূর্তেই মনকে বিমোহিত করে। গুনগুন শব্দে উড়ছে মৌমাছি, শীতের জড়তা কাটিয়ে কোকিলের কুহুতানে প্রকৃতি জানান দিচ্ছে ঋতুরাজ বসন্তের আগমন। ছোট-বড় আমগাছে ফুটতে শুরু করেছে নতুন মুকুল; ধীরে ধীরে গাছের প্রতিটি ডাল ছেয়ে যাচ্ছে হলুদাভ রঙে।
প্রকৃতি যেন আগাম বার্তাই দেয় তার পরিবর্তনের। তেমনি বসন্তের শুরুতেই পীরগঞ্জের বিভিন্ন গ্রাম-উপজেলায় আমগাছে মুকুল ফুটে উঠেছে মধু মাসের বার্তা নিয়ে। সরেজমিনে দেখা যায়, থানার পাশ, বাড়ির আঙিনা, পুকুরপাড় কিংবা রাস্তার ধারে—সবখানেই আমগাছগুলো মুকুলে সেজে উঠেছে।
স্থানীয়রা জানান, অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এবার বসন্তের আগেই আমগাছে মুকুল এসেছে। মাঘ শেষে ফাল্গুনের শুরুতেই অধিকাংশ গাছে পূর্ণমাত্রায় মুকুল ফুটতে দেখা গেছে। যদিও জেলায় বাণিজ্যিকভাবে বড় আকারে আমচাষ তেমন বিস্তৃত নয়, তবুও বিভিন্ন হাট-বাজার থেকে চারা সংগ্রহ করে বাড়ির আঙিনায় আমগাছ রোপণের প্রবণতা রয়েছে।
তাদের মতে, আমের মুকুলের প্রধান শত্রু কুয়াশা। অতিরিক্ত কুয়াশায় মুকুল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তবে এখন পর্যন্ত প্রয়োজনীয় আবহাওয়া বিরাজমান থাকায় মুকুল ভালো আছে। যথাযথ পরিচর্যা করা হলে ফলন ভালো হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন স্থানীয় কৃষকরা।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুমন আহমেদ জানান, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ২৩৬ হেক্টর জমিতে আমের আবাদ হয়েছে। এছাড়া বসতবাড়ির আঙিনা ও আশপাশের জমিতেও ব্যাপকভাবে আমচাষ করা হচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে লাভজনক উৎপাদন পাওয়া যাবে বলে আশা করছেন তিনি।
মিঠিপুর ইউনিয়নের রাজিব বলেন, “ফাল্গুনের শুরুতেই গাছে গাছে মুকুল ফুটেছে। এবার অন্য বছরের তুলনায় মুকুল বেশি। এখনো বৃষ্টি না হওয়ায় মুকুল নষ্ট হয়নি। প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে।”
পৌরসভার ধনশালা গ্রামের রফিকুল ইসলাম জানান, “এবার কিছুটা আগেই মুকুল এসেছে। তাই গাছের প্রাথমিক পরিচর্যা শুরু করেছি। কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী রোগবালাই দমনে প্রয়োজনীয় ওষুধ স্প্রে করছি।”
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আরও জানান, আগাম মুকুল আসায় উকুননাশক ও ছত্রাকনাশক স্প্রে করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। উপজেলার মাটি ও আবহাওয়া আমচাষের জন্য উপযোগী হওয়ায় আগ্রহীদের বাণিজ্যিকভাবে আমচাষে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হবে।
সব মিলিয়ে আমের মুকুলে সেজেছে পীরগঞ্জ। প্রকৃতির এই অপার সৌন্দর্য আর কৃষকদের আশাবাদে জেলায় বইছে বসন্তের প্রাণচাঞ্চল্য, সঙ্গে বাম্পার ফলনের স্বপ্ন।
তারিকুল ইসলাম তারিক, পীরগঞ্জ রংপুর প্রতিনিধি 





















