রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলায় বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক তরুণীকে ডেকে এনে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে প্রধান দুই আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বুধবার (৪ মার্চ) দুপুর দেড়টার দিকে পাংশা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মঈনুল ইসলাম গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন— পাংশা উপজেলার সরিষা ইউনিয়নের বহলাডাঙ্গা গ্রামের মকবুল মণ্ডলের ছেলে আকাশ মণ্ডল (২৯) এবং একই ইউনিয়নের বাজেয়াপ্ত বাগলী গ্রামের মো. আরশেদ মণ্ডলের ছেলে জামাল মণ্ডল (২২)।
পুলিশ জানায়, ভুক্তভোগী তহুরা বেগম (২২) ময়মনসিংহ জেলার নান্দাইল উপজেলার বাসিন্দা। তিনি স্বামী পরিত্যক্তা এবং তার চার বছরের এক কন্যা সন্তান রয়েছে। বর্তমানে তিনি গাজীপুর মহানগর এলাকায় বসবাস করেন।
মামলা সূত্রে জানা যায়, পাংশা উপজেলার সরিষা এলাকার জয়নাল মণ্ডলের ছেলে সৌদি প্রবাসী সজল মণ্ডলের সঙ্গে তহুরা বেগমের টিকটকের মাধ্যমে পরিচয় হয়। প্রায় সাত মাসের সম্পর্ক গত ১৪ ফেব্রুয়ারি বিচ্ছিন্ন হয়। পরে সজলের বন্ধু আকাশ মণ্ডল বিয়ে দেওয়ার কথা বলে তাকে পাংশায় ডেকে আনে।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১৪ ফেব্রুয়ারি রাত ১১টার পর বহলাডাঙ্গা সরকারি আশ্রয়ণ কেন্দ্রের একটি কক্ষে নিয়ে আকাশ মণ্ডল ও জামাল মণ্ডল পর্যায়ক্রমে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। এ সময় তার কাছে থাকা নগদ ১০ হাজার টাকা ও স্বর্ণের কানের দুল নিয়ে নেওয়া হয়।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পাংশা মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(৩) ধারায় মামলা দায়ের করেন।
ওসি শেখ মঈনুল ইসলাম জানান, ঘটনার পর থেকে আসামিরা আত্মগোপনে ছিল। মঙ্গলবার দিবাগত রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ঢাকার ধামরাই থানার ইসলামপুর এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা অপরাধের সত্যতা স্বীকার করেছে। তাদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি গ্রহণের জন্য আদালতে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও জানান, আকাশ মণ্ডলের বিরুদ্ধে ছয়টি এবং জামাল মণ্ডলের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও ডাকাতিসহ চারটি মামলা রয়েছে।
স্টাফ রিপোর্টার: 





















