ঢাকা ০৮:৩৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬, ৪ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
টিকিটের অগ্নিমূল্যে যাত্রীদের নাভিশ্বাস ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় পোর্টেবল সিগন্যাল লাইট ব্যবহার শুরু পুলিশের ঈদযাত্রায় ‘তেলের টেনশনে’ শিডিউল বিপর্যয়ের শঙ্কা সালমান আগার রান আউট বিতর্কে যা বলছে এমসিসি ঈদযাত্রা নিরাপদ রাখতে নোয়াখালীতে র‍্যাবের কঠোর অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান ইরানের সর্বোচ্চ নেতার ঈদযাত্রায় সাভারে সড়কে মানুষের ঢল, বেড়েছে গণপরিবহনের চাপ কক্সবাজার সৈকতে বারুণী স্নান ও গঙ্গাপূজায় পুণ্যার্থীর ঢল মতিঝিলে চোর-পুলিশ খেলা, গুলিস্তানে পুলিশের সামনে নতুন নোট বিক্রি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, দুই পরিবহনকে জরিমানা
৬,৫০০ কোটির ‘সাগর চুরি’ কাণ্ড!

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর–এ পিডি এনামুলের সাম্রাজ্য, ঘুষ–স্বজনপ্রীতিতে লুটের মহোৎসব

নিজস্ব প্রতিবেদক : ৬ হাজার ৫০০ কোটি টাকার জলবায়ু সহনীয়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ক্ষুদ্র পানি সম্পদ উন্নয়ন প্রকল্প—উন্নয়নের নামে যেন ‘সাগর চুরি’র মহাযজ্ঞ! স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর এই মেগা প্রকল্পকে ঘিরে প্রকল্প পরিচালক (পিডি) মো. এনামুল কবিরের বিরুদ্ধে উঠেছে বিস্ফোরক দুর্নীতির অভিযোগ। অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি, ভুয়া বিল, ক্ষমতার অপব্যবহার আর শত শত কোটি টাকা লোপাটের অভিযোগে তোলপাড় সংশ্লিষ্ট মহল।
গত ২৮ অক্টোবর স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ শামীম বেপারীর স্বাক্ষরিত চিঠিতে ৩ দিনের মধ্যে ব্যাখ্যা চাওয়া হলেও নির্ধারিত সময় পেরিয়ে সন্তোষজনক জবাব মেলেনি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।

কালীগঞ্জের সাধারণ ঘর থেকে ‘নতুন জমিদার’!
কালীগঞ্জ উপজেলার বুযিডাঙ্গা গ্রামের এক নিম্নআয়ের পরিবারের সন্তান এনামুল। বাবা ইছরাইল হোসেন সংসার চালাতে মহাজনের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন—সেই পরিবারের সন্তান আজ শত শত বিঘা জমির মালিক! গ্রামে গড়ে তুলেছেন রাজকীয় ডুপ্লেক্স ভবন। এলাকাবাসীর ভাষায়—তিনি এখন ‘নতুন জমিদার’।
অভিযোগ রয়েছে, বড় ভাইয়ের মাধ্যমে অর্থ লেনদেন করে গড়েছেন সম্পদের পাহাড়। হেলিকপ্টারে গ্রামে যাতায়াতের গল্প এখন লোকমুখে আলোচিত কিংবদন্তি।

আগের পোস্টিংয়েও ছিল অনিয়মের ছায়া
সিলেটে নির্বাহী প্রকৌশলী থাকাকালে তার বিরুদ্ধে ভুয়া বিল ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। পরে প্রধান প্রকৌশলীর স্টাফ অফিসার থাকাকালেও অভিযোগের তালিকা দীর্ঘ হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

প্রকল্পে যোগ দিয়েই ‘ব্যক্তিগত সাম্রাজ্য’র পাহাড় — ২০২৩–২৪ অর্থবছরে শুরু হওয়া প্রকল্পের প্রথম পিডি শেখ নূরুল ইসলাম পদোন্নতি পাওয়ার পর দায়িত্ব নেন এনামুল কবির। অভিযোগ, দায়িত্ব পেয়েই পুরো প্রকল্পকে বানান ব্যক্তিগত নিয়ন্ত্রণের দুর্গ—যেখানে তার কথাই শেষ কথা।

নিয়োগে অর্ধশতাধিক স্বজন, মাথাপিছু ৩–৫ লাখ টাকার ঘুষ!
৫০০-এর বেশি আউটসোর্সিং ও কনসালট্যান্ট নিয়োগে ব্যাপক বাণিজ্যের অভিযোগ। প্রতিটি পদের জন্য ৩ থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ নেওয়া হয়েছে বলে দাবি অভিযোগকারীদের। নিয়োগপ্রাপ্তদের বড় অংশই পিডির আত্মীয়–স্বজন—এমন অভিযোগও ঘুরপাক খাচ্ছে।

নিজস্ব ভবন ফেলে বিলাসী অফিস- এলজিইডির নিজস্ব বিশাল ভবন থাকা সত্ত্বেও রাজধানীর শেওড়াপাড়ার আগোরা ভবনে আলাদা অফিস ভাড়া নেওয়া হয়। কমার্শিয়াল স্পেস দেখিয়ে তিন গুণ বেশি ভাড়া, রাজকীয় সাজসজ্জা, ভুয়া বিল–ভাউচারে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ের অভিযোগ—সব মিলিয়ে প্রশ্নের পাহাড়।

শ্যালকের একচ্ছত্র দাপটে অতিষ্ঠ অধিদপ্তরের নিরীহ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একাংশ।
অফিসে কোনো সরকারি পদে না থেকেও পিডির শ্যালক ফরিদের প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ উঠেছে। কেনাকাটা থেকে রক্ষণাবেক্ষণ—সবখানেই তার নিয়ন্ত্রণ। সন্ধ্যার পর বহিরাগতদের নিয়ে অফিসে আড্ডা—এমন অভিযোগও রয়েছে।

প্রশ্ন তুললেই হুমকি?
দুর্নীতির বিষয়ে প্রশ্ন তুললে সাংবাদিকদের ‘দেখে নেওয়ার’ হুমকি দেওয়া হয়েছে—এমন অভিযোগ উঠেছে এনামুল কবিরের বিরুদ্ধে। যদিও তার সরাসরি বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

৬ হাজার ৫০০ কোটি টাকার এই প্রকল্প এখন প্রশ্নবিদ্ধ। উন্নয়নের নামে যদি ‘সাগর চুরি’ হয়—তবে দায় নেবে কে?
একজন সাধারণ পরিবারের সন্তান কীভাবে কয়েক বছরের ব্যবধানে শত শত কোটি টাকার সম্পদের মালিক হলেন—তার উত্তর খুঁজছে সংশ্লিষ্ট মহল।
তদন্ত হবে কি? নাকি প্রভাব–প্রতিপত্তির জোরে চাপা পড়বে সব অভিযোগ?
এখন চোখ সবার—কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপের দিকে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

টিকিটের অগ্নিমূল্যে যাত্রীদের নাভিশ্বাস

৬,৫০০ কোটির ‘সাগর চুরি’ কাণ্ড!

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর–এ পিডি এনামুলের সাম্রাজ্য, ঘুষ–স্বজনপ্রীতিতে লুটের মহোৎসব

আপডেট সময় ০৬:৪৩:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : ৬ হাজার ৫০০ কোটি টাকার জলবায়ু সহনীয়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ক্ষুদ্র পানি সম্পদ উন্নয়ন প্রকল্প—উন্নয়নের নামে যেন ‘সাগর চুরি’র মহাযজ্ঞ! স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর এই মেগা প্রকল্পকে ঘিরে প্রকল্প পরিচালক (পিডি) মো. এনামুল কবিরের বিরুদ্ধে উঠেছে বিস্ফোরক দুর্নীতির অভিযোগ। অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি, ভুয়া বিল, ক্ষমতার অপব্যবহার আর শত শত কোটি টাকা লোপাটের অভিযোগে তোলপাড় সংশ্লিষ্ট মহল।
গত ২৮ অক্টোবর স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ শামীম বেপারীর স্বাক্ষরিত চিঠিতে ৩ দিনের মধ্যে ব্যাখ্যা চাওয়া হলেও নির্ধারিত সময় পেরিয়ে সন্তোষজনক জবাব মেলেনি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।

কালীগঞ্জের সাধারণ ঘর থেকে ‘নতুন জমিদার’!
কালীগঞ্জ উপজেলার বুযিডাঙ্গা গ্রামের এক নিম্নআয়ের পরিবারের সন্তান এনামুল। বাবা ইছরাইল হোসেন সংসার চালাতে মহাজনের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন—সেই পরিবারের সন্তান আজ শত শত বিঘা জমির মালিক! গ্রামে গড়ে তুলেছেন রাজকীয় ডুপ্লেক্স ভবন। এলাকাবাসীর ভাষায়—তিনি এখন ‘নতুন জমিদার’।
অভিযোগ রয়েছে, বড় ভাইয়ের মাধ্যমে অর্থ লেনদেন করে গড়েছেন সম্পদের পাহাড়। হেলিকপ্টারে গ্রামে যাতায়াতের গল্প এখন লোকমুখে আলোচিত কিংবদন্তি।

আগের পোস্টিংয়েও ছিল অনিয়মের ছায়া
সিলেটে নির্বাহী প্রকৌশলী থাকাকালে তার বিরুদ্ধে ভুয়া বিল ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। পরে প্রধান প্রকৌশলীর স্টাফ অফিসার থাকাকালেও অভিযোগের তালিকা দীর্ঘ হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

প্রকল্পে যোগ দিয়েই ‘ব্যক্তিগত সাম্রাজ্য’র পাহাড় — ২০২৩–২৪ অর্থবছরে শুরু হওয়া প্রকল্পের প্রথম পিডি শেখ নূরুল ইসলাম পদোন্নতি পাওয়ার পর দায়িত্ব নেন এনামুল কবির। অভিযোগ, দায়িত্ব পেয়েই পুরো প্রকল্পকে বানান ব্যক্তিগত নিয়ন্ত্রণের দুর্গ—যেখানে তার কথাই শেষ কথা।

নিয়োগে অর্ধশতাধিক স্বজন, মাথাপিছু ৩–৫ লাখ টাকার ঘুষ!
৫০০-এর বেশি আউটসোর্সিং ও কনসালট্যান্ট নিয়োগে ব্যাপক বাণিজ্যের অভিযোগ। প্রতিটি পদের জন্য ৩ থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ নেওয়া হয়েছে বলে দাবি অভিযোগকারীদের। নিয়োগপ্রাপ্তদের বড় অংশই পিডির আত্মীয়–স্বজন—এমন অভিযোগও ঘুরপাক খাচ্ছে।

নিজস্ব ভবন ফেলে বিলাসী অফিস- এলজিইডির নিজস্ব বিশাল ভবন থাকা সত্ত্বেও রাজধানীর শেওড়াপাড়ার আগোরা ভবনে আলাদা অফিস ভাড়া নেওয়া হয়। কমার্শিয়াল স্পেস দেখিয়ে তিন গুণ বেশি ভাড়া, রাজকীয় সাজসজ্জা, ভুয়া বিল–ভাউচারে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ের অভিযোগ—সব মিলিয়ে প্রশ্নের পাহাড়।

শ্যালকের একচ্ছত্র দাপটে অতিষ্ঠ অধিদপ্তরের নিরীহ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একাংশ।
অফিসে কোনো সরকারি পদে না থেকেও পিডির শ্যালক ফরিদের প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ উঠেছে। কেনাকাটা থেকে রক্ষণাবেক্ষণ—সবখানেই তার নিয়ন্ত্রণ। সন্ধ্যার পর বহিরাগতদের নিয়ে অফিসে আড্ডা—এমন অভিযোগও রয়েছে।

প্রশ্ন তুললেই হুমকি?
দুর্নীতির বিষয়ে প্রশ্ন তুললে সাংবাদিকদের ‘দেখে নেওয়ার’ হুমকি দেওয়া হয়েছে—এমন অভিযোগ উঠেছে এনামুল কবিরের বিরুদ্ধে। যদিও তার সরাসরি বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

৬ হাজার ৫০০ কোটি টাকার এই প্রকল্প এখন প্রশ্নবিদ্ধ। উন্নয়নের নামে যদি ‘সাগর চুরি’ হয়—তবে দায় নেবে কে?
একজন সাধারণ পরিবারের সন্তান কীভাবে কয়েক বছরের ব্যবধানে শত শত কোটি টাকার সম্পদের মালিক হলেন—তার উত্তর খুঁজছে সংশ্লিষ্ট মহল।
তদন্ত হবে কি? নাকি প্রভাব–প্রতিপত্তির জোরে চাপা পড়বে সব অভিযোগ?
এখন চোখ সবার—কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপের দিকে।