বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় চলতি মৌসুমে আলুর আবাদ হয়েছে ৩,২৬৫ হেক্টর জমিতে, যা গত বছরের তুলনায় কিছুটা কম। চাষিরা জানিয়েছেন, এবছর ফলন ভালো হলেও বাজারদরের পতনের কারণে তারা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
স্থানীয় বাজারে আলুর দাম প্রতি কেজি মাত্র ৮–৯ টাকা, যেখানে উৎপাদন খরচ পড়ছে গড়ে ১৪–১৭ টাকা। অনেক কৃষক জমি বন্ধক বা ঋণ নিয়ে আলু চাষ করেছেন, কিন্তু বাজারদরের কম হওয়ায় তাদের লোকসানই হয়েছে। ভানোর গ্রামের কৃষক ইউসুফ আলী বলেন, “এত খরচের পরও বাজারদর কম হওয়ায় লোকসান হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে ঋণ ও বন্ধক জমি দিয়ে চাষ চালিয়ে রাখা কঠিন।”
চাষিরা আরও জানিয়েছেন, “বেশির ভাগ কৃষক এমন অবস্থায় আছেন যে কীটনাশক বা সার বিক্রেতার বকেয়া টাকা পরিশোধ করার মতো অর্থও নেই। অনেকেই সব আলু বিক্রি করেও ঋণ শোধ করতে পারছেন না।”
উপজেলা কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, আবাদ কম হলেও ফলন ভালো হওয়ায় কৃষকরা কিছুটা আশাবাদী। তবে হিমাগারের সীমিত ধারণক্ষমতার কারণে আলুর বড় অংশ সংরক্ষণ করা সম্ভব হয়নি। অনেক কৃষক বাড়ির উঠান বা অস্থায়ী গুদামে আলু রাখায় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
দুওসুও ইউনিয়নের কৃষক মিলন মিয়া বলেন, “এভাবে বারবার লোকসান খেতে খেতে চলতে থাকলে আলু চাষ ছেড়ে দিতে হবে। এত কষ্ট করে চাষ করেও যদি ন্যায্য দাম না পাই, তাহলে ঋণ ও বকেয়া কীভাবে শোধ করব?”
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তামান্না ফেরদৌস জানান, “ফলন ভালো হলেও বাজারদর ও সংরক্ষণ সংকটের কারণে চাষিরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। হিমাগারের ধারণক্ষমতা বাড়ানো এবং স্থানীয় আলু প্রক্রিয়াজাত শিল্প গড়ে তোলা গেলে সমস্যার সমাধান হবে।”
কৃষকরা ন্যূনতম সহায়ক মূল্য নির্ধারণ, সরকারি ক্রয় কার্যক্রম এবং হিমাগার সম্প্রসারণের দাবি জানিয়েছেন। তারা সতর্ক করে জানিয়েছেন, দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে প্রতিবছরই একই সংকটের পুনরাবৃত্তি হবে এবং আলু চাষে আগ্রহ হারাবেন অনেক কৃষক।
সংবাদ শিরোনাম ::
আলুতে লোকসান, ঋণের বোঝায় নুয়ে পড়েছে বালিয়াডাঙ্গীর কৃষক
-
ফজলুর রহমান, ঠাকুরগাঁও - আপডেট সময় ০৭:৫৩:২৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬
- ৫২৬ বার পড়া হয়েছে
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ






















