ঢাকা ১১:৩৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬, ৫ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
হরমুজ প্রণালিকে মুক্ত করতে বেশি সময় লাগবে না : ট্রাম্প কেন্দ্রীয় চুক্তিতে যে পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে ভারত পিএসএলে নিরাপত্তা নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার উদ্বেগ, যা বলছে পিসিবি যমুনায় সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন প্রধানমন্ত্রী পাটুরিয়ায় যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়, পারাপারে চলছে ১৮টি লঞ্চ চট্টগ্রামে ডিসির নির্দেশে যন্ত্রপাতি বিক্রি করে শ্রমিকদের বকেয়া পরিশোধ মন্ত্রী-এমপিরা কে কোথায় ঈদ করবেন? ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন শরীয়তপুর জেলা বি এন পি সাংগঠনিক সম্পাদক ও সখিপুর থানা বি এন পির আহ্বায়ক এস এম এ হামিদ ঈশ্বরদী থেকে এলো উদ্ধারকারী ট্রেন, সৈয়দপুর থেকে আসছে আরেকটি রূহানীনগর এর পক্ষ থেকে সম্মানিত ইমাম-মুয়াজ্জিনগণকে  হাদিয়া প্রদান

আলুতে লোকসান, ঋণের বোঝায় নুয়ে পড়েছে বালিয়াডাঙ্গীর কৃষক

বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় চলতি মৌসুমে আলুর আবাদ হয়েছে ৩,২৬৫ হেক্টর জমিতে, যা গত বছরের তুলনায় কিছুটা কম। চাষিরা জানিয়েছেন, এবছর ফলন ভালো হলেও বাজারদরের পতনের কারণে তারা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
স্থানীয় বাজারে আলুর দাম প্রতি কেজি মাত্র ৮–৯ টাকা, যেখানে উৎপাদন খরচ পড়ছে গড়ে ১৪–১৭ টাকা। অনেক কৃষক জমি বন্ধক বা ঋণ নিয়ে আলু চাষ করেছেন, কিন্তু বাজারদরের কম হওয়ায় তাদের লোকসানই হয়েছে। ভানোর গ্রামের কৃষক ইউসুফ আলী বলেন, “এত খরচের পরও বাজারদর কম হওয়ায় লোকসান হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে ঋণ ও বন্ধক জমি দিয়ে চাষ চালিয়ে রাখা কঠিন।”
চাষিরা আরও জানিয়েছেন, “বেশির ভাগ কৃষক এমন অবস্থায় আছেন যে কীটনাশক বা সার বিক্রেতার বকেয়া টাকা পরিশোধ করার মতো অর্থও নেই। অনেকেই সব আলু বিক্রি করেও ঋণ শোধ করতে পারছেন না।”
উপজেলা কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, আবাদ কম হলেও ফলন ভালো হওয়ায় কৃষকরা কিছুটা আশাবাদী। তবে হিমাগারের সীমিত ধারণক্ষমতার কারণে আলুর বড় অংশ সংরক্ষণ করা সম্ভব হয়নি। অনেক কৃষক বাড়ির উঠান বা অস্থায়ী গুদামে আলু রাখায় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
দুওসুও ইউনিয়নের কৃষক মিলন মিয়া বলেন, “এভাবে বারবার লোকসান খেতে খেতে চলতে থাকলে আলু চাষ ছেড়ে দিতে হবে। এত কষ্ট করে চাষ করেও যদি ন্যায্য দাম না পাই, তাহলে ঋণ ও বকেয়া কীভাবে শোধ করব?”
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তামান্না ফেরদৌস জানান, “ফলন ভালো হলেও বাজারদর ও সংরক্ষণ সংকটের কারণে চাষিরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। হিমাগারের ধারণক্ষমতা বাড়ানো এবং স্থানীয় আলু প্রক্রিয়াজাত শিল্প গড়ে তোলা গেলে সমস্যার সমাধান হবে।”
কৃষকরা ন্যূনতম সহায়ক মূল্য নির্ধারণ, সরকারি ক্রয় কার্যক্রম এবং হিমাগার সম্প্রসারণের দাবি জানিয়েছেন। তারা সতর্ক করে জানিয়েছেন, দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে প্রতিবছরই একই সংকটের পুনরাবৃত্তি হবে এবং আলু চাষে আগ্রহ হারাবেন অনেক কৃষক।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

হরমুজ প্রণালিকে মুক্ত করতে বেশি সময় লাগবে না : ট্রাম্প

আলুতে লোকসান, ঋণের বোঝায় নুয়ে পড়েছে বালিয়াডাঙ্গীর কৃষক

আপডেট সময় ০৭:৫৩:২৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬

বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় চলতি মৌসুমে আলুর আবাদ হয়েছে ৩,২৬৫ হেক্টর জমিতে, যা গত বছরের তুলনায় কিছুটা কম। চাষিরা জানিয়েছেন, এবছর ফলন ভালো হলেও বাজারদরের পতনের কারণে তারা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
স্থানীয় বাজারে আলুর দাম প্রতি কেজি মাত্র ৮–৯ টাকা, যেখানে উৎপাদন খরচ পড়ছে গড়ে ১৪–১৭ টাকা। অনেক কৃষক জমি বন্ধক বা ঋণ নিয়ে আলু চাষ করেছেন, কিন্তু বাজারদরের কম হওয়ায় তাদের লোকসানই হয়েছে। ভানোর গ্রামের কৃষক ইউসুফ আলী বলেন, “এত খরচের পরও বাজারদর কম হওয়ায় লোকসান হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে ঋণ ও বন্ধক জমি দিয়ে চাষ চালিয়ে রাখা কঠিন।”
চাষিরা আরও জানিয়েছেন, “বেশির ভাগ কৃষক এমন অবস্থায় আছেন যে কীটনাশক বা সার বিক্রেতার বকেয়া টাকা পরিশোধ করার মতো অর্থও নেই। অনেকেই সব আলু বিক্রি করেও ঋণ শোধ করতে পারছেন না।”
উপজেলা কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, আবাদ কম হলেও ফলন ভালো হওয়ায় কৃষকরা কিছুটা আশাবাদী। তবে হিমাগারের সীমিত ধারণক্ষমতার কারণে আলুর বড় অংশ সংরক্ষণ করা সম্ভব হয়নি। অনেক কৃষক বাড়ির উঠান বা অস্থায়ী গুদামে আলু রাখায় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
দুওসুও ইউনিয়নের কৃষক মিলন মিয়া বলেন, “এভাবে বারবার লোকসান খেতে খেতে চলতে থাকলে আলু চাষ ছেড়ে দিতে হবে। এত কষ্ট করে চাষ করেও যদি ন্যায্য দাম না পাই, তাহলে ঋণ ও বকেয়া কীভাবে শোধ করব?”
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তামান্না ফেরদৌস জানান, “ফলন ভালো হলেও বাজারদর ও সংরক্ষণ সংকটের কারণে চাষিরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। হিমাগারের ধারণক্ষমতা বাড়ানো এবং স্থানীয় আলু প্রক্রিয়াজাত শিল্প গড়ে তোলা গেলে সমস্যার সমাধান হবে।”
কৃষকরা ন্যূনতম সহায়ক মূল্য নির্ধারণ, সরকারি ক্রয় কার্যক্রম এবং হিমাগার সম্প্রসারণের দাবি জানিয়েছেন। তারা সতর্ক করে জানিয়েছেন, দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে প্রতিবছরই একই সংকটের পুনরাবৃত্তি হবে এবং আলু চাষে আগ্রহ হারাবেন অনেক কৃষক।