ঢাকা ১০:০১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬, ৪ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
টিকিটের অগ্নিমূল্যে যাত্রীদের নাভিশ্বাস ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় পোর্টেবল সিগন্যাল লাইট ব্যবহার শুরু পুলিশের ঈদযাত্রায় ‘তেলের টেনশনে’ শিডিউল বিপর্যয়ের শঙ্কা সালমান আগার রান আউট বিতর্কে যা বলছে এমসিসি ঈদযাত্রা নিরাপদ রাখতে নোয়াখালীতে র‍্যাবের কঠোর অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান ইরানের সর্বোচ্চ নেতার ঈদযাত্রায় সাভারে সড়কে মানুষের ঢল, বেড়েছে গণপরিবহনের চাপ কক্সবাজার সৈকতে বারুণী স্নান ও গঙ্গাপূজায় পুণ্যার্থীর ঢল মতিঝিলে চোর-পুলিশ খেলা, গুলিস্তানে পুলিশের সামনে নতুন নোট বিক্রি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, দুই পরিবহনকে জরিমানা
গণপূর্তের টেন্ডার সিন্ডিকেট

অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী খাইরুল ইসলাম–এর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ

গণপূর্ত অধিদপ্তরের ঢাকা মেট্রোপলিটন জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মোঃ খাইরুল ইসলাম–কে ঘিরে একাধিক গুরুতর অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক প্রভাব খাটিয়ে বদলি বাণিজ্য, টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ, নিম্নমানের কাজের বিল অনুমোদন এবং ভুয়া বিল তৈরি করার অভিযোগ এসেছে।
অভিযোগের মূল বিষয়গুলো
প্রশাসনিক প্রভাব ও বদলি বাণিজ্য
অভিযোগ অনুযায়ী, খাইরুল ইসলাম কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বদলি ও পদায়নে ব্যক্তিগত প্রভাব ব্যবহার করেছেন। সুবিধাজনক স্থানে পদায়ন বা কম গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সরিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে তিনি এক নির্দিষ্ট প্রশাসনিক বলয় তৈরি করেছেন।
টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ ও সিন্ডিকেট
সূত্রের দাবি, তিনি ঢাকা মহানগর অঞ্চলের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে কার্যত নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছেন। এতে উন্মুক্ত প্রতিযোগিতামূলক টেন্ডার ব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হয়েছে এবং পছন্দের ঠিকাদাররা নিয়মিত কাজ পেতে সক্ষম হয়েছেন।
৫% কমিশন নেওয়ার অভিযোগ
বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের টেন্ডার প্রক্রিয়া ও কাজের বরাদ্দে ঠিকাদারদের কাছ থেকে ৫% কমিশন নেওয়া হতো বলে অভিযোগ উঠেছে। এই ব্যবস্থা প্রকল্প অনুমোদন ও বিল দ্রুত পাশ করানোর ক্ষেত্রে প্রভাবশালী ছিল।
ভুয়া বিল ও অতিরিক্ত ব্যয়
প্রকল্পের বাস্তব কাজের তুলনায় অতিরিক্ত ব্যয় দেখিয়ে বিল তৈরি এবং অনুমোদন দেওয়ার অভিযোগ আছে। এতে সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।
নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার
অভিযোগ অনুসারে, নির্ধারিত মান অনুসরণ না করে নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে। অসম্পূর্ণ বা নিম্নমানের কাজ হলেও প্রভাব খাটিয়ে দ্রুত বিল পাশ করা হয়েছে।
প্রভাব ও উদ্বেগ
সরকারি প্রকল্পের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা ক্ষুণ্ণ হচ্ছে
প্রকল্প বিলম্ব, অর্থের অপচয় ও নাগরিকদের ওপর প্রভাব
অন্যান্য যোগ্য ঠিকাদারদের জন্য প্রতিযোগিতা বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে
প্রশাসনিক সংস্কৃতি ও নৈতিকতার ওপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে এই ধরনের অভিযোগের সত্যতা যাচাই জরুরি। প্রয়োজনে স্বাধীন তদন্তের মাধ্যমে বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা উচিত।
উল্লেখ্য: উপরোক্ত অভিযোগগুলো বিভিন্ন মহলে আলোচিত হচ্ছে। তদন্ত শেষে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

টিকিটের অগ্নিমূল্যে যাত্রীদের নাভিশ্বাস

গণপূর্তের টেন্ডার সিন্ডিকেট

অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী খাইরুল ইসলাম–এর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ

আপডেট সময় ১১:৫৬:১১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬

গণপূর্ত অধিদপ্তরের ঢাকা মেট্রোপলিটন জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মোঃ খাইরুল ইসলাম–কে ঘিরে একাধিক গুরুতর অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক প্রভাব খাটিয়ে বদলি বাণিজ্য, টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ, নিম্নমানের কাজের বিল অনুমোদন এবং ভুয়া বিল তৈরি করার অভিযোগ এসেছে।
অভিযোগের মূল বিষয়গুলো
প্রশাসনিক প্রভাব ও বদলি বাণিজ্য
অভিযোগ অনুযায়ী, খাইরুল ইসলাম কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বদলি ও পদায়নে ব্যক্তিগত প্রভাব ব্যবহার করেছেন। সুবিধাজনক স্থানে পদায়ন বা কম গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সরিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে তিনি এক নির্দিষ্ট প্রশাসনিক বলয় তৈরি করেছেন।
টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ ও সিন্ডিকেট
সূত্রের দাবি, তিনি ঢাকা মহানগর অঞ্চলের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে কার্যত নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছেন। এতে উন্মুক্ত প্রতিযোগিতামূলক টেন্ডার ব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হয়েছে এবং পছন্দের ঠিকাদাররা নিয়মিত কাজ পেতে সক্ষম হয়েছেন।
৫% কমিশন নেওয়ার অভিযোগ
বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের টেন্ডার প্রক্রিয়া ও কাজের বরাদ্দে ঠিকাদারদের কাছ থেকে ৫% কমিশন নেওয়া হতো বলে অভিযোগ উঠেছে। এই ব্যবস্থা প্রকল্প অনুমোদন ও বিল দ্রুত পাশ করানোর ক্ষেত্রে প্রভাবশালী ছিল।
ভুয়া বিল ও অতিরিক্ত ব্যয়
প্রকল্পের বাস্তব কাজের তুলনায় অতিরিক্ত ব্যয় দেখিয়ে বিল তৈরি এবং অনুমোদন দেওয়ার অভিযোগ আছে। এতে সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।
নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার
অভিযোগ অনুসারে, নির্ধারিত মান অনুসরণ না করে নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে। অসম্পূর্ণ বা নিম্নমানের কাজ হলেও প্রভাব খাটিয়ে দ্রুত বিল পাশ করা হয়েছে।
প্রভাব ও উদ্বেগ
সরকারি প্রকল্পের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা ক্ষুণ্ণ হচ্ছে
প্রকল্প বিলম্ব, অর্থের অপচয় ও নাগরিকদের ওপর প্রভাব
অন্যান্য যোগ্য ঠিকাদারদের জন্য প্রতিযোগিতা বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে
প্রশাসনিক সংস্কৃতি ও নৈতিকতার ওপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে এই ধরনের অভিযোগের সত্যতা যাচাই জরুরি। প্রয়োজনে স্বাধীন তদন্তের মাধ্যমে বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা উচিত।
উল্লেখ্য: উপরোক্ত অভিযোগগুলো বিভিন্ন মহলে আলোচিত হচ্ছে। তদন্ত শেষে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।