ঢাকা ০২:০৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬, ৫ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
হরমুজ প্রণালিকে মুক্ত করতে বেশি সময় লাগবে না : ট্রাম্প কেন্দ্রীয় চুক্তিতে যে পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে ভারত পিএসএলে নিরাপত্তা নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার উদ্বেগ, যা বলছে পিসিবি যমুনায় সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন প্রধানমন্ত্রী পাটুরিয়ায় যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়, পারাপারে চলছে ১৮টি লঞ্চ চট্টগ্রামে ডিসির নির্দেশে যন্ত্রপাতি বিক্রি করে শ্রমিকদের বকেয়া পরিশোধ মন্ত্রী-এমপিরা কে কোথায় ঈদ করবেন? ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন শরীয়তপুর জেলা বি এন পি সাংগঠনিক সম্পাদক ও সখিপুর থানা বি এন পির আহ্বায়ক এস এম এ হামিদ ঈশ্বরদী থেকে এলো উদ্ধারকারী ট্রেন, সৈয়দপুর থেকে আসছে আরেকটি রূহানীনগর এর পক্ষ থেকে সম্মানিত ইমাম-মুয়াজ্জিনগণকে  হাদিয়া প্রদান

স্যার কে.জি. গুপ্ত : কৃতিত্ব থাকলেও পালন করা হয় না জন্মবার্ষিকী

স্যার কৃষ্ণ গোবিন্দ গুপ্ত ( কে. জি. গুপ্তের) অবদান থাকলেও পালন করা হয় না তার জন্মবার্ষিকী। ২৮ ফেরুয়ারী স্যার কৃষ্ণ গোবিন্দ গুপ্তের ( কে. জি. গুপ্ত) ১৭৫ তম জন্মবার্ষিকী ।অবিভক্ত বাংলার কৃতি সন্তান কে. জি. গুপ্ত ১৮৫১ খৃস্টাব্দের বর্তমান নরসিংদী জেলার ভাটপাড়া গ্রামে গুপ্ত জমিদার পরিবারে ২৮ ফেরুয়ারী কে. জি. গুপ্ত জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম কালী নারায়ন গুপ্ত, মাতার নাম অন্নদা সুন্দরী গুপ্ত ।
১৮৬০ খ্রিস্টাব্দে তিনি পোগজ স্কুলে ভর্তি হয়ে সেখান থেকেই ১৮৬৬ সালে কৃতিত্বের সাথে এন্ট্রান্স পাশ করেন। পরে কে. জি. গুপ্ত উচ্চ শিক্ষার জন্য কলকাতা যান। ১৮৭২ খ্রিস্টাব্দে বিলেতের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে কৃতিত্বের সাথে পাশ করেন। তিনি লিংকন্স ইন থেকে বার-এট-ল’ সম্পন্ন করেন। ১৮৭১ সালে তিনি আইসিএস উত্তীর্ণ হয়ে দেশে প্রত্যাবর্তন করেন। কৃষ্ণ গোবিন্দ গুপ্ত ছিলেন পূর্ব বাংলার প্রথম আই সি এস অফিসার। তিনি দীর্ঘ কর্মজীবনে মহকুমা প্রশাসক, জেলা প্রশাসক, আবগারি কমিশনার, বিভাগীয় কমিশনার, বোর্ড অব রেভিনিউ-এর সদস্যসহ সরকারের বিভিন্ন উচ্চ পদে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি একই সঙ্গে হাউস অব কমন্স-এর একমাত্র ভারতীয় সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯০৬ সালে তিনি সরকারি চাকুরি থেকে অবসর গ্রহণ করেন। তৎকালীন বৃটিশ সরকার তাকে স্যার উপাধিতে ভূষিত করেন।
কৃষ্ণ গোবিন্দ গুপ্তের কর্মকান্ডের স্বীকৃতিস্বরূপ ব্রিটিশ সরকার তাকে‘কে.সি.এস.আই’ ( knight commander of the stars of India)
উপাধিতে ভূষিত করে। কৃষ্ণ গোবিন্দ গুপ্ত ছিলেন এ উপাধি প্রাপ্ত প্রথম বাঙ্গালী। ১৯১৯ সালে তার নামে নরসিংদীর পাঁচদোনায় স্যার কৃষ্ণ গোবিন্দ গুপ্ত উচ্চ বিদ্যালয় স্হাপন করা হয়।
১৯২৬ সালের ২৯ মার্চ ভারতীয় উপমহাদেশের কিংবদন্তী কে.জি. বাঙ্গালী কলকাতার বালীগঞ্জে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
স্যার কৃষ্ণ গোবিন্দ গুপ্তের কৃতিত্বময় শিক্ষা জীবন, সফল কর্মজীবন ও সমাজ সংস্কারে তাঁর অবিস্মরণীয় ভূমিকার কথা স্মরণ করেন। কে, জি গুপ্তের অসাম্প্রদায়িক জীবনাদর্শে অণুপ্রাণিত হয়ে সমাজ থেকে সাম্প্রদায়িকতা ও ধর্মীয় কুসংস্কার দূরীকরণে ভূমিকা রাখতে তরুণ প্রজন্মের প্রতি আহ্বান জানানো হয় । দীর্ঘদিন অবহেলায় থাকার পর কে. জি. গুপ্তের স্মৃতিকে সকলের কাছে তুলে ধরার আহ্বান করা হয়।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

হরমুজ প্রণালিকে মুক্ত করতে বেশি সময় লাগবে না : ট্রাম্প

স্যার কে.জি. গুপ্ত : কৃতিত্ব থাকলেও পালন করা হয় না জন্মবার্ষিকী

আপডেট সময় ০১:০৬:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ মার্চ ২০২৬

স্যার কৃষ্ণ গোবিন্দ গুপ্ত ( কে. জি. গুপ্তের) অবদান থাকলেও পালন করা হয় না তার জন্মবার্ষিকী। ২৮ ফেরুয়ারী স্যার কৃষ্ণ গোবিন্দ গুপ্তের ( কে. জি. গুপ্ত) ১৭৫ তম জন্মবার্ষিকী ।অবিভক্ত বাংলার কৃতি সন্তান কে. জি. গুপ্ত ১৮৫১ খৃস্টাব্দের বর্তমান নরসিংদী জেলার ভাটপাড়া গ্রামে গুপ্ত জমিদার পরিবারে ২৮ ফেরুয়ারী কে. জি. গুপ্ত জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম কালী নারায়ন গুপ্ত, মাতার নাম অন্নদা সুন্দরী গুপ্ত ।
১৮৬০ খ্রিস্টাব্দে তিনি পোগজ স্কুলে ভর্তি হয়ে সেখান থেকেই ১৮৬৬ সালে কৃতিত্বের সাথে এন্ট্রান্স পাশ করেন। পরে কে. জি. গুপ্ত উচ্চ শিক্ষার জন্য কলকাতা যান। ১৮৭২ খ্রিস্টাব্দে বিলেতের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে কৃতিত্বের সাথে পাশ করেন। তিনি লিংকন্স ইন থেকে বার-এট-ল’ সম্পন্ন করেন। ১৮৭১ সালে তিনি আইসিএস উত্তীর্ণ হয়ে দেশে প্রত্যাবর্তন করেন। কৃষ্ণ গোবিন্দ গুপ্ত ছিলেন পূর্ব বাংলার প্রথম আই সি এস অফিসার। তিনি দীর্ঘ কর্মজীবনে মহকুমা প্রশাসক, জেলা প্রশাসক, আবগারি কমিশনার, বিভাগীয় কমিশনার, বোর্ড অব রেভিনিউ-এর সদস্যসহ সরকারের বিভিন্ন উচ্চ পদে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি একই সঙ্গে হাউস অব কমন্স-এর একমাত্র ভারতীয় সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯০৬ সালে তিনি সরকারি চাকুরি থেকে অবসর গ্রহণ করেন। তৎকালীন বৃটিশ সরকার তাকে স্যার উপাধিতে ভূষিত করেন।
কৃষ্ণ গোবিন্দ গুপ্তের কর্মকান্ডের স্বীকৃতিস্বরূপ ব্রিটিশ সরকার তাকে‘কে.সি.এস.আই’ ( knight commander of the stars of India)
উপাধিতে ভূষিত করে। কৃষ্ণ গোবিন্দ গুপ্ত ছিলেন এ উপাধি প্রাপ্ত প্রথম বাঙ্গালী। ১৯১৯ সালে তার নামে নরসিংদীর পাঁচদোনায় স্যার কৃষ্ণ গোবিন্দ গুপ্ত উচ্চ বিদ্যালয় স্হাপন করা হয়।
১৯২৬ সালের ২৯ মার্চ ভারতীয় উপমহাদেশের কিংবদন্তী কে.জি. বাঙ্গালী কলকাতার বালীগঞ্জে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
স্যার কৃষ্ণ গোবিন্দ গুপ্তের কৃতিত্বময় শিক্ষা জীবন, সফল কর্মজীবন ও সমাজ সংস্কারে তাঁর অবিস্মরণীয় ভূমিকার কথা স্মরণ করেন। কে, জি গুপ্তের অসাম্প্রদায়িক জীবনাদর্শে অণুপ্রাণিত হয়ে সমাজ থেকে সাম্প্রদায়িকতা ও ধর্মীয় কুসংস্কার দূরীকরণে ভূমিকা রাখতে তরুণ প্রজন্মের প্রতি আহ্বান জানানো হয় । দীর্ঘদিন অবহেলায় থাকার পর কে. জি. গুপ্তের স্মৃতিকে সকলের কাছে তুলে ধরার আহ্বান করা হয়।