ঢাকা ০৬:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২৬, ৯ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
হরমুজ প্রণালিকে মুক্ত করতে বেশি সময় লাগবে না : ট্রাম্প কেন্দ্রীয় চুক্তিতে যে পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে ভারত পিএসএলে নিরাপত্তা নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার উদ্বেগ, যা বলছে পিসিবি যমুনায় সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন প্রধানমন্ত্রী পাটুরিয়ায় যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়, পারাপারে চলছে ১৮টি লঞ্চ চট্টগ্রামে ডিসির নির্দেশে যন্ত্রপাতি বিক্রি করে শ্রমিকদের বকেয়া পরিশোধ মন্ত্রী-এমপিরা কে কোথায় ঈদ করবেন? ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন শরীয়তপুর জেলা বি এন পি সাংগঠনিক সম্পাদক ও সখিপুর থানা বি এন পির আহ্বায়ক এস এম এ হামিদ ঈশ্বরদী থেকে এলো উদ্ধারকারী ট্রেন, সৈয়দপুর থেকে আসছে আরেকটি রূহানীনগর এর পক্ষ থেকে সম্মানিত ইমাম-মুয়াজ্জিনগণকে  হাদিয়া প্রদান

জাতীয় সংগীত লিখতে না পারায় ৩৮ প্রার্থীর কেউই উত্তীর্ণ নন

  • পঞ্চগড় প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় ০৪:৪৩:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৫৪৮ বার পড়া হয়েছে

পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলায় গ্রাম পুলিশ (মহল্লাদার) নিয়োগের বাছাই পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ৩৮ জন প্রার্থীর কেউই উত্তীর্ণ হতে পারেননি। লিখিত পরীক্ষায় জাতীয় সংগীত শুদ্ধভাবে লিখতে না পারায় তাদের কাউকেই পাস ঘোষণা করা হয়নি। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টায় উপজেলা পরিষদ হলরুমে এ নিয়োগ বাছাই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, তিরনইহাট, তেঁতুলিয়া, শালবাহান ও দেবনগর ইউনিয়ন পরিষদের পাঁচটি মহল্লাদার পদে গ্রাম পুলিশ নিয়োগের কার্যক্রম শুরু হয়। এসব পদের বিপরীতে মোট ৩৮ জন প্রার্থী আবেদন করেন।

পরীক্ষার শুরুতে প্রার্থীদের শারীরিক যোগ্যতা যাচাই করা হয়। পরে নিয়োগ কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মেধা যাচাইয়ের অংশ হিসেবে প্রার্থীদের জাতীয় সংগীত লিখতে দেওয়া হয়। এজন্য সময় নির্ধারণ করা হয় ১৫ মিনিট। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো প্রার্থীই সম্পূর্ণ ও শুদ্ধভাবে বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত লিখতে পারেননি। ফলে কাউকেই উত্তীর্ণ ঘোষণা করা হয়নি এবং নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত রাখা হয়েছে।

এ ধরনের ঘটনা এই প্রথম বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। স্থানীয় সচেতন মহলের কেউ কেউ বলছেন, গ্রাম পুলিশের মতো দায়িত্বশীল পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা ও সাধারণ জ্ঞানের মান নিশ্চিত করা প্রয়োজন। আবার মেধার ভিত্তিতে কঠোর যাচাই-বাছাই করায় নিয়োগ কমিটির সদস্যরা প্রশংসাও পাচ্ছেন।

নিয়োগ বাছাই কমিটিতে উপস্থিত ছিলেন- তেঁতুলিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস এম আকাশ, তেঁতুলিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাশেদুল ইসলাম, উপজেলা এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী ইদ্রিস আলী খান, উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা।

তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নিয়োগ কমিটির সভাপতি আফরোজ শাহীন খসরু বলেন, শারীরিক যোগ্যতা যাচাই শেষে প্রার্থীদের মেধা যাচাই করতে গিয়ে দেখা যায়, অত্যন্ত দুঃখজনকভাবে কেউই আমাদের জাতীয় সংগীত সঠিকভাবে লিখতে পারেননি। চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে সাধারণ জ্ঞান ও দেশপ্রেমের প্রাথমিক ধারণা থাকা আবশ্যক। জাতীয় সংগীতের মতো মৌলিক বিষয়ে এমন অজ্ঞতা উপস্থিত কর্মকর্তাদের হতবাক করেছে। উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, প্রার্থীরা উত্তীর্ণ না হওয়ায় পরবর্তী সময়ে পুনরায় নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

হরমুজ প্রণালিকে মুক্ত করতে বেশি সময় লাগবে না : ট্রাম্প

জাতীয় সংগীত লিখতে না পারায় ৩৮ প্রার্থীর কেউই উত্তীর্ণ নন

আপডেট সময় ০৪:৪৩:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলায় গ্রাম পুলিশ (মহল্লাদার) নিয়োগের বাছাই পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ৩৮ জন প্রার্থীর কেউই উত্তীর্ণ হতে পারেননি। লিখিত পরীক্ষায় জাতীয় সংগীত শুদ্ধভাবে লিখতে না পারায় তাদের কাউকেই পাস ঘোষণা করা হয়নি। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টায় উপজেলা পরিষদ হলরুমে এ নিয়োগ বাছাই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, তিরনইহাট, তেঁতুলিয়া, শালবাহান ও দেবনগর ইউনিয়ন পরিষদের পাঁচটি মহল্লাদার পদে গ্রাম পুলিশ নিয়োগের কার্যক্রম শুরু হয়। এসব পদের বিপরীতে মোট ৩৮ জন প্রার্থী আবেদন করেন।

পরীক্ষার শুরুতে প্রার্থীদের শারীরিক যোগ্যতা যাচাই করা হয়। পরে নিয়োগ কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মেধা যাচাইয়ের অংশ হিসেবে প্রার্থীদের জাতীয় সংগীত লিখতে দেওয়া হয়। এজন্য সময় নির্ধারণ করা হয় ১৫ মিনিট। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো প্রার্থীই সম্পূর্ণ ও শুদ্ধভাবে বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত লিখতে পারেননি। ফলে কাউকেই উত্তীর্ণ ঘোষণা করা হয়নি এবং নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত রাখা হয়েছে।

এ ধরনের ঘটনা এই প্রথম বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। স্থানীয় সচেতন মহলের কেউ কেউ বলছেন, গ্রাম পুলিশের মতো দায়িত্বশীল পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা ও সাধারণ জ্ঞানের মান নিশ্চিত করা প্রয়োজন। আবার মেধার ভিত্তিতে কঠোর যাচাই-বাছাই করায় নিয়োগ কমিটির সদস্যরা প্রশংসাও পাচ্ছেন।

নিয়োগ বাছাই কমিটিতে উপস্থিত ছিলেন- তেঁতুলিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস এম আকাশ, তেঁতুলিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাশেদুল ইসলাম, উপজেলা এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী ইদ্রিস আলী খান, উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা।

তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নিয়োগ কমিটির সভাপতি আফরোজ শাহীন খসরু বলেন, শারীরিক যোগ্যতা যাচাই শেষে প্রার্থীদের মেধা যাচাই করতে গিয়ে দেখা যায়, অত্যন্ত দুঃখজনকভাবে কেউই আমাদের জাতীয় সংগীত সঠিকভাবে লিখতে পারেননি। চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে সাধারণ জ্ঞান ও দেশপ্রেমের প্রাথমিক ধারণা থাকা আবশ্যক। জাতীয় সংগীতের মতো মৌলিক বিষয়ে এমন অজ্ঞতা উপস্থিত কর্মকর্তাদের হতবাক করেছে। উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, প্রার্থীরা উত্তীর্ণ না হওয়ায় পরবর্তী সময়ে পুনরায় নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।