ঢাকা ০৯:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ২৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বন্যা মোকাবিলায় সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে : জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী দেশে বিপুল কর্মক্ষম জনসংখ্যা রয়েছে, যা বিশ্বের কোথাও নেই : শিক্ষামন্ত্রী বিএনপি মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক ডা. পাভেলকে দেখতে হাসপাতালে প্রধানমন্ত্রী আর্জেন্টিনার বিপক্ষে নামার আগে সেরা খেলোয়াড়কে হারাল সুইজারল্যান্ড ফরিদপুরে বাসচাপায় নিহত ৪ ‘জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে’ : ব্রাহ্মণপাড়ায় এমপি জসিম উদ্দিন প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া ও চীন সফর অর্থনৈতিক সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিটের দামে ধস ভেনেজুয়েলায় নি’হ’তে’র সংখ্যা ৪ হাজার ছাড়াল এবার শাহজালাল মাজারের দানবাক্সে মিলল ৪৭ লাখ টাকা

সারাদেশে সিলিন্ডার গ্যাসের তীব্র সংকট , ভোগান্তিতে মানুষ

সারাদেশে সিলিন্ডার গ্যাসের তীব্র সংকটে ভোগান্তিতে মানুষ। নির্ধারিত দামে সিলিন্ডার গ্যাস না পেয়ে সাধারন মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়েছে। কোথাও গ্যাস নেই, আবার কোথাও অতিরিক্ত দামে গ্রাহকরা গ্যাস কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবার,হোটেল – রেস্তোরাঁ ও ছোট খাবারের দোকান গুলো সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে। গ্যাস সিলিন্ডারের কারনে থমকে গেছে অনেক মানুষের জীবন জীবিকা।
ভোক্তাদের অভিযোগ, গ্যাস সরবরাহ কমে যাওযার অজুহাতে কয়েক দিনের ব্যবধানে সিলিন্ডার গ্যাসের দাম অস্বাভাবিক ভাবে বেড়ে গেছে। এতে পরিবারের রান্নার খরচ কয়েকগুন বেড়ে গেছে।
ব্যবসায়ীদের সাথে আলাপ করে জানা যায়, গ্যাস আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি ও সরবরাহ ব্যবস্হার জটিলতার কারনে গ্যাসের সংকট তৈরি হয়েছে।
নরসিংদীর চা দোকানদার বলেন, গ্যাস না পেয়ে চায়ের দোকান খুলতে পারি না। দোকান বন্ধ থাকায় পরিবার নিয়ে বিপদের মধ্যে আছি।
অভিজ্ঞ মহল মনে করেন, সিলিন্ডার গ্যাস সংকট নিয়ে এখনই কঠোর সিদ্ধান্ত না নিলে গ্যাস সংকট দীর্ঘস্হায়ী রুপ নিতে পারে। নজরদারি কম থাকায় এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী চক্র বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।

গ্যাসের অভাবে মানুষ বিকল্প জ্বালানির দিকে ঝুঁকছে। শহরের বাসা বাড়িতে ইন্ডাকশন চুলা, রাইস কুকারের ওপর মানুষ বেশি নির্ভর করেছে। গ্যাস না পেয়ে গ্রামের মানুষ বাধ্য হচ্ছে ইলেকট্রনিক, কেরোসিন, কাঠ,খড় ও কেরোসিনে জ্বালানো চুলা ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে শ্বাসকষ্ট ও শিশুদের শারীরিক সমস্যা বেড়েছে।
দেশের এলপিজি সিলিন্ডার উধাও হওয়ায় গ্যাসের সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে।নরসিংদী ও গাজীপুর জেলায় বিভিন্ন কোম্পানির প্রায় শতাধিক জন ডিলার রয়েছে। তাদের কারো কাছেই বর্তমানে গ্যাস সিলিন্ডার নেই বললেই চলে। ফলে বাসাবাড়িতে রান্নার কাজ অনেকাংশেই বন্ধের উপক্রম হয়ে পড়েছে। এতে করে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, কিছু ডিলার ও খুচরা বিক্রেতাদের কাছে ১২ কেজির গ্যাস সিলিন্ডার পাওয়া গেলেও সেগুলোর দাম আকাশছোঁয়া। সরকার নির্ধারিত ১২ কেজি সিলিন্ডার ১৩০৬ টাকা হলেও গ্যাস সংকটের কারণে তা ২০০০-২১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বিপাকে পড়ে অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে দ্বিগুণ দাম দিয়েই এসব গ্যাস সিলিন্ডার কিনছেন। শহর, উপজেলাসহ বিভিন্ন এলাকায় যারা বিল্ডিংয়ের বহুতল ভবনে বসবাস করেন তাদের দুর্ভোগ সবচেয়ে বেশি। এসব পরিবার ইচ্ছে করলেই চুলায় লাকড়ি দিয়ে রান্না করতে পারছেন না। তাছাড়া এসব ভবনে মাটির চুলাও নেই। অন্যদিকে গ্যাস সিলিন্ডার সংকট হওয়ায় গ্রামের অধিকাংশ গৃহিণী শীত উপেক্ষা করে ঘরের বাইরে মাটির চুলায় রান্নাবান্নার কাজ শেষ করছেন।
শিক্ষিকা শিলা রানী শাখারী জানান , স্কুল শেষ করে বাড়ি ফিরে একটু স্বস্তিতে রান্নার কাজ শেষ করবো সে কথা চিন্তাই করা এখন দুষ্কর। গ্যাস সংকটের কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছি। এমন সংকট চলতে থাকলে আগামী ২/১ দিনের মধ্যে বাসাবাড়িতে রান্না করা আরও কষ্টকর হয়ে উঠবে।
সিলিন্ডার কিনতে আসা ফরহাদ ও মাহবুব মিয়া বলেন, গ্যাসের কৃত্রিম সংকটের কারণে বাড়তি টাকা দিয়ে গ্যাস ক্রয় করতে হচ্ছে আমাদের। এভাবে চলতে থাকলে আমাদের পক্ষে সিলিন্ডার গ্যাস ব্যবহার করা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। গ্যাস না থাকলে আমরা রান্না করবো কীভাবে। বাধ্য হয়ে হোটেল-রেস্টুরেন্ট থেকে খাবার কিনে খেতে হবে।
গৃহকর্মী রমা বেগম বলেন, হঠাৎ করে সিলিন্ডারের সংকট হওয়ায় আমাদের খুব সমস্যা হচ্ছে। জরুরি ভিত্তিতে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে আমরা চরম দুর্ভোগে পড়বো।
নরসিংদী জেলা এলপিজি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. শামীম মিয়ার সাথে কথা হলে তিনি বলেন, সারাদেশে এলপিজি গ্যাস কোম্পানি রয়েছে ৩০টা। এর মধ্যে ২৪টা বন্ধ। বাকি ৫-৬টা কোম্পানি গ্যাস দিচ্ছে। কিন্তু চাহিদার তুলনায় অনেক কম।
এলপিজি ডিলার মনির খান বলেন, ১ জানুয়ারি থেকে গ্যাস কোম্পানিগুলো কোনো গ্যাস সিলিন্ডার সরবরাহ দিচ্ছে না। গাড়ি নিয়ে এলপিজি গ্যাস প্লান্টে গিয়ে সিরিয়াল দিয়ে ৬-৭ দিন অপেক্ষা করতে হয়। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ একেবারেই অপ্রতুল। ১ হাজার বোতলের চাহিদা দিলে মাত্র ২০০ বোতল সরবরাহ দেওয়া হচ্ছে। এতে করে পরিবহন ও অন্যান্য খরচ বেড়ে যাচ্ছে। ফলে গ্যাসের দাম বেশি পড়ছে এবং ভোক্তাদের বাধ্য হয়ে বাড়তি দামে গ্যাস কিনতে হচ্ছে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বন্যা মোকাবিলায় সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে : জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী

সারাদেশে সিলিন্ডার গ্যাসের তীব্র সংকট , ভোগান্তিতে মানুষ

আপডেট সময় ০৬:৩৮:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সারাদেশে সিলিন্ডার গ্যাসের তীব্র সংকটে ভোগান্তিতে মানুষ। নির্ধারিত দামে সিলিন্ডার গ্যাস না পেয়ে সাধারন মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়েছে। কোথাও গ্যাস নেই, আবার কোথাও অতিরিক্ত দামে গ্রাহকরা গ্যাস কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবার,হোটেল – রেস্তোরাঁ ও ছোট খাবারের দোকান গুলো সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে। গ্যাস সিলিন্ডারের কারনে থমকে গেছে অনেক মানুষের জীবন জীবিকা।
ভোক্তাদের অভিযোগ, গ্যাস সরবরাহ কমে যাওযার অজুহাতে কয়েক দিনের ব্যবধানে সিলিন্ডার গ্যাসের দাম অস্বাভাবিক ভাবে বেড়ে গেছে। এতে পরিবারের রান্নার খরচ কয়েকগুন বেড়ে গেছে।
ব্যবসায়ীদের সাথে আলাপ করে জানা যায়, গ্যাস আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি ও সরবরাহ ব্যবস্হার জটিলতার কারনে গ্যাসের সংকট তৈরি হয়েছে।
নরসিংদীর চা দোকানদার বলেন, গ্যাস না পেয়ে চায়ের দোকান খুলতে পারি না। দোকান বন্ধ থাকায় পরিবার নিয়ে বিপদের মধ্যে আছি।
অভিজ্ঞ মহল মনে করেন, সিলিন্ডার গ্যাস সংকট নিয়ে এখনই কঠোর সিদ্ধান্ত না নিলে গ্যাস সংকট দীর্ঘস্হায়ী রুপ নিতে পারে। নজরদারি কম থাকায় এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী চক্র বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।

গ্যাসের অভাবে মানুষ বিকল্প জ্বালানির দিকে ঝুঁকছে। শহরের বাসা বাড়িতে ইন্ডাকশন চুলা, রাইস কুকারের ওপর মানুষ বেশি নির্ভর করেছে। গ্যাস না পেয়ে গ্রামের মানুষ বাধ্য হচ্ছে ইলেকট্রনিক, কেরোসিন, কাঠ,খড় ও কেরোসিনে জ্বালানো চুলা ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে শ্বাসকষ্ট ও শিশুদের শারীরিক সমস্যা বেড়েছে।
দেশের এলপিজি সিলিন্ডার উধাও হওয়ায় গ্যাসের সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে।নরসিংদী ও গাজীপুর জেলায় বিভিন্ন কোম্পানির প্রায় শতাধিক জন ডিলার রয়েছে। তাদের কারো কাছেই বর্তমানে গ্যাস সিলিন্ডার নেই বললেই চলে। ফলে বাসাবাড়িতে রান্নার কাজ অনেকাংশেই বন্ধের উপক্রম হয়ে পড়েছে। এতে করে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, কিছু ডিলার ও খুচরা বিক্রেতাদের কাছে ১২ কেজির গ্যাস সিলিন্ডার পাওয়া গেলেও সেগুলোর দাম আকাশছোঁয়া। সরকার নির্ধারিত ১২ কেজি সিলিন্ডার ১৩০৬ টাকা হলেও গ্যাস সংকটের কারণে তা ২০০০-২১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বিপাকে পড়ে অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে দ্বিগুণ দাম দিয়েই এসব গ্যাস সিলিন্ডার কিনছেন। শহর, উপজেলাসহ বিভিন্ন এলাকায় যারা বিল্ডিংয়ের বহুতল ভবনে বসবাস করেন তাদের দুর্ভোগ সবচেয়ে বেশি। এসব পরিবার ইচ্ছে করলেই চুলায় লাকড়ি দিয়ে রান্না করতে পারছেন না। তাছাড়া এসব ভবনে মাটির চুলাও নেই। অন্যদিকে গ্যাস সিলিন্ডার সংকট হওয়ায় গ্রামের অধিকাংশ গৃহিণী শীত উপেক্ষা করে ঘরের বাইরে মাটির চুলায় রান্নাবান্নার কাজ শেষ করছেন।
শিক্ষিকা শিলা রানী শাখারী জানান , স্কুল শেষ করে বাড়ি ফিরে একটু স্বস্তিতে রান্নার কাজ শেষ করবো সে কথা চিন্তাই করা এখন দুষ্কর। গ্যাস সংকটের কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছি। এমন সংকট চলতে থাকলে আগামী ২/১ দিনের মধ্যে বাসাবাড়িতে রান্না করা আরও কষ্টকর হয়ে উঠবে।
সিলিন্ডার কিনতে আসা ফরহাদ ও মাহবুব মিয়া বলেন, গ্যাসের কৃত্রিম সংকটের কারণে বাড়তি টাকা দিয়ে গ্যাস ক্রয় করতে হচ্ছে আমাদের। এভাবে চলতে থাকলে আমাদের পক্ষে সিলিন্ডার গ্যাস ব্যবহার করা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। গ্যাস না থাকলে আমরা রান্না করবো কীভাবে। বাধ্য হয়ে হোটেল-রেস্টুরেন্ট থেকে খাবার কিনে খেতে হবে।
গৃহকর্মী রমা বেগম বলেন, হঠাৎ করে সিলিন্ডারের সংকট হওয়ায় আমাদের খুব সমস্যা হচ্ছে। জরুরি ভিত্তিতে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে আমরা চরম দুর্ভোগে পড়বো।
নরসিংদী জেলা এলপিজি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. শামীম মিয়ার সাথে কথা হলে তিনি বলেন, সারাদেশে এলপিজি গ্যাস কোম্পানি রয়েছে ৩০টা। এর মধ্যে ২৪টা বন্ধ। বাকি ৫-৬টা কোম্পানি গ্যাস দিচ্ছে। কিন্তু চাহিদার তুলনায় অনেক কম।
এলপিজি ডিলার মনির খান বলেন, ১ জানুয়ারি থেকে গ্যাস কোম্পানিগুলো কোনো গ্যাস সিলিন্ডার সরবরাহ দিচ্ছে না। গাড়ি নিয়ে এলপিজি গ্যাস প্লান্টে গিয়ে সিরিয়াল দিয়ে ৬-৭ দিন অপেক্ষা করতে হয়। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ একেবারেই অপ্রতুল। ১ হাজার বোতলের চাহিদা দিলে মাত্র ২০০ বোতল সরবরাহ দেওয়া হচ্ছে। এতে করে পরিবহন ও অন্যান্য খরচ বেড়ে যাচ্ছে। ফলে গ্যাসের দাম বেশি পড়ছে এবং ভোক্তাদের বাধ্য হয়ে বাড়তি দামে গ্যাস কিনতে হচ্ছে।