ঢাকা ০২:১২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
লালমোহন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে দুর্নীতির অভিযোগ সোনার বাংলা ইন্স্যুরেন্সে ৯.০৭ কোটি টাকার নিরীক্ষা-অসঙ্গতি কাজ না করেই ৬ কোটি টাকা উত্তোলনের অভিযোগ, প্রকৌশলী সাইফুজ্জামানের বিরুদ্ধে বিতর্কিত অজিতকে সিইও নিয়োগের উদ্যোগে বিতর্কে যমুনা লাইফ! ডিসি আলমগীরের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ, বরখাস্তের পরও ডাবল প্রমোশন নিয়ে বিতর্ক দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত, তবুও ঢাকা মেট্রো জোনে বহাল আলিফ বিসিএসআইআর স্কুল অ্যান্ড কলেজে প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলা ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ জাইকা প্রকল্পে টেন্ডার অনিয়মের অভিযোগ, ৪১ কোটি টাকার অতিরিক্ত ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন ভারতের ইন্দো-প্যাসিফিক অগ্রযাত্রা এবং বাংলাদেশের কৌশলগত সিদ্ধান্ত ভারী বৃষ্টি ও উজানের ঢলে তিস্তার পানি বিপৎসীমার ওপরে

চায়ের রাজ্যেও আকাশচুম্বী লেবুর দাম

শ্রীমঙ্গল-চায়ের রাজধানী খ্যাত এই উপজেলায় লেবু ও আনারসের জন্যও দেশজুড়ে সমাদৃত দেশে ও বিদেশে। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এখানকার কাগজি, জারা ও চায়না জাতের লেবু রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন পাইকারি আড়তে সরবরাহ করা হয়। তবে চলতি মৌসুমে আকস্মিকভাবে লেবুর দাম বেড়ে সাধারণ ক্রেতারা পড়েছেন চরম বিপাকে।

মাত্র এক মাস আগেও যেখানে প্রতি হালি লেবু বিক্রি হতো ২৫ থেকে ৪০ টাকায়, সেখানে বর্তমানে খুচরা বাজারে সাইজভেদে ৮০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত দাম হাঁকা হচ্ছে। বড় সাইজের লেবু বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকা পর্যন্ত, মাঝারি ১৫০–১৭৫ টাকা এবং ছোট ৮০–১০০ টাকা দরে।

বৃহস্পতিবার (১৮ই ফেব্রুয়ারি) শহরের বিভিন্ন বাজার ও আড়ত ঘুরে দেখা যায়, বাজারে লেবুর সরবরাহ তুলনামূলক কম। অনেক বিক্রেতা সীমিত পরিমাণ লেবু নিয়ে ক্রেতার অপেক্ষায় বসে থাকলেও উচ্চ দামের কারণে বিক্রি কমে গেছে।

খুচরা বিক্রেতারা জানান, আড়ত থেকে আকারভেদে প্রতি পিস লেবু ২০ থেকে ৫০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। শ্রমিক মজুরি, পরিবহন ও বাজার খরচ যোগ করে ন্যূনতম লাভে বিক্রি করতে গিয়ে হালিপ্রতি দাম ১০০ থেকে ২০০ টাকায় তুলতে হচ্ছে।

বিক্রেতা মুসাব্বির মিয়া বলেন, চাহিদার তুলনায় বাজারে লেবুর সরবরাহ এক-চতুর্থাংশ। আড়তে গিয়েও পর্যাপ্ত লেবু পাওয়া যাচ্ছে না। বেশি দামে কিনে কম লাভে বিক্রি করতে হচ্ছে।

অপর বিক্রেতা রিপন মিয়া জানান, আগে প্রতিদিন ৫-৬ শত পিস লেবু বিক্রি হলেও এখন বিক্রি নেমে এসেছে ১০০-১৫০ পিসে। দাম শুনে অনেক ক্রেতাই ফিরে যাচ্ছেন।

ক্রেতাদের অভিযোগ, রমজানে ইফতারে লেবুর সরবতের বিকল্প নেই। কিন্তু আকাশচুম্বি দামের কারণে অনেকে লেবু কিনতে পারছেন না। ক্রেতা মাসুম আহমদ বলেন, শ্রীমঙ্গল লেবুর জন্য বিখ্যাত, অথচ এখানকার মানুষই চাহিদামতো লেবু কিনতে পারছেন না।

লেবু ব্যবসায়ী বারিক মিয়া জানান, দীর্ঘদিন বৃষ্টিপাত না হওয়ায় পাহাড়ি বাগানগুলোতে পানির অভাব দেখা দিয়েছে। ফলে ফলন স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক কম। ভরা মৌসুমে যেখানে প্রতি গাছে ২৫০-৩০০টি লেবু হয়, সেখানে এখন অনেক বাগানে ১০–১৫টির বেশি ফলন নেই।

শ্রীমঙ্গল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. আলাউদ্দিন বলেন, পুরো উপজেলায় ১ হাজার ২৩৫ হেক্টর জমিতে লেবু চাষাবাদ হয়। লেবু চাষিদের কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা প্রদান করা হচ্ছে। চলতি মৌসুমে বৃষ্টিপাত না হওয়ায় বর্তমানে লেবুর ফলন অনেকটা কম।

শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইসলাম উদ্দিন বলেন, উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর মৌলভীবাজারের উপ-পরিচালক, পুলিশ, উপজেলা ও পৌর প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং পুলিশের সমন্বয়ে গত বুধবার সকালে বাজার মনিটরিং করা হয়েছে। বাজার মনিটরিংয়ে আমরা খুচরা ও পাইকারি বিক্রেতাদের সতর্ক করেছি।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

লালমোহন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে দুর্নীতির অভিযোগ

চায়ের রাজ্যেও আকাশচুম্বী লেবুর দাম

আপডেট সময় ০৭:০৯:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

শ্রীমঙ্গল-চায়ের রাজধানী খ্যাত এই উপজেলায় লেবু ও আনারসের জন্যও দেশজুড়ে সমাদৃত দেশে ও বিদেশে। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এখানকার কাগজি, জারা ও চায়না জাতের লেবু রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন পাইকারি আড়তে সরবরাহ করা হয়। তবে চলতি মৌসুমে আকস্মিকভাবে লেবুর দাম বেড়ে সাধারণ ক্রেতারা পড়েছেন চরম বিপাকে।

মাত্র এক মাস আগেও যেখানে প্রতি হালি লেবু বিক্রি হতো ২৫ থেকে ৪০ টাকায়, সেখানে বর্তমানে খুচরা বাজারে সাইজভেদে ৮০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত দাম হাঁকা হচ্ছে। বড় সাইজের লেবু বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকা পর্যন্ত, মাঝারি ১৫০–১৭৫ টাকা এবং ছোট ৮০–১০০ টাকা দরে।

বৃহস্পতিবার (১৮ই ফেব্রুয়ারি) শহরের বিভিন্ন বাজার ও আড়ত ঘুরে দেখা যায়, বাজারে লেবুর সরবরাহ তুলনামূলক কম। অনেক বিক্রেতা সীমিত পরিমাণ লেবু নিয়ে ক্রেতার অপেক্ষায় বসে থাকলেও উচ্চ দামের কারণে বিক্রি কমে গেছে।

খুচরা বিক্রেতারা জানান, আড়ত থেকে আকারভেদে প্রতি পিস লেবু ২০ থেকে ৫০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। শ্রমিক মজুরি, পরিবহন ও বাজার খরচ যোগ করে ন্যূনতম লাভে বিক্রি করতে গিয়ে হালিপ্রতি দাম ১০০ থেকে ২০০ টাকায় তুলতে হচ্ছে।

বিক্রেতা মুসাব্বির মিয়া বলেন, চাহিদার তুলনায় বাজারে লেবুর সরবরাহ এক-চতুর্থাংশ। আড়তে গিয়েও পর্যাপ্ত লেবু পাওয়া যাচ্ছে না। বেশি দামে কিনে কম লাভে বিক্রি করতে হচ্ছে।

অপর বিক্রেতা রিপন মিয়া জানান, আগে প্রতিদিন ৫-৬ শত পিস লেবু বিক্রি হলেও এখন বিক্রি নেমে এসেছে ১০০-১৫০ পিসে। দাম শুনে অনেক ক্রেতাই ফিরে যাচ্ছেন।

ক্রেতাদের অভিযোগ, রমজানে ইফতারে লেবুর সরবতের বিকল্প নেই। কিন্তু আকাশচুম্বি দামের কারণে অনেকে লেবু কিনতে পারছেন না। ক্রেতা মাসুম আহমদ বলেন, শ্রীমঙ্গল লেবুর জন্য বিখ্যাত, অথচ এখানকার মানুষই চাহিদামতো লেবু কিনতে পারছেন না।

লেবু ব্যবসায়ী বারিক মিয়া জানান, দীর্ঘদিন বৃষ্টিপাত না হওয়ায় পাহাড়ি বাগানগুলোতে পানির অভাব দেখা দিয়েছে। ফলে ফলন স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক কম। ভরা মৌসুমে যেখানে প্রতি গাছে ২৫০-৩০০টি লেবু হয়, সেখানে এখন অনেক বাগানে ১০–১৫টির বেশি ফলন নেই।

শ্রীমঙ্গল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. আলাউদ্দিন বলেন, পুরো উপজেলায় ১ হাজার ২৩৫ হেক্টর জমিতে লেবু চাষাবাদ হয়। লেবু চাষিদের কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা প্রদান করা হচ্ছে। চলতি মৌসুমে বৃষ্টিপাত না হওয়ায় বর্তমানে লেবুর ফলন অনেকটা কম।

শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইসলাম উদ্দিন বলেন, উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর মৌলভীবাজারের উপ-পরিচালক, পুলিশ, উপজেলা ও পৌর প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং পুলিশের সমন্বয়ে গত বুধবার সকালে বাজার মনিটরিং করা হয়েছে। বাজার মনিটরিংয়ে আমরা খুচরা ও পাইকারি বিক্রেতাদের সতর্ক করেছি।