ঢাকা ০৪:২৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬, ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বন্যাকবলিত ১১ জেলায় চিকিৎসক-স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটি বাতিল: স্বাস্থ্যমন্ত্রী মানবপাচার চক্রের অভিযোগ: বারী মোল্লাকে ঘিরে অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসছে নানা তথ্য রংপুর কারাগারে বিদ্রোহের প্রধান কারারক্ষী ছামিউলকে ঘিরে তদন্তে মিলছে নানা তথ্য খালিয়াজুরী খাদ্যগুদামে ধান ক্রয়ে অনিয়মের অভিযোগ, ক্ষুব্ধ কৃষকরা কুড়িগ্রামে কাবিখা-কাবিটা প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ অনিয়মের অভিযোগের মধ্যেই বরিশালে বদলি ঢাকা দক্ষিণ সিটির প্রকৌশলী বোরহান পূর্ব রেলের ডিএফএ-স্টোর্সের এও কাজী সাঈদার অঢেল সম্পদের অভিযোগ দুর্নীতির অভিযোগের পরও ইইডির ঢাকা মেট্রো জোনে বহাল সাবেক প্রকৌশল নেতা শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সরকারি বরাদ্দ বণ্টনে অনিয়মের অভিযোগ ৩৫ কোটি টাকার মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে ফ্লাইট এক্সপার্টের বিরুদ্ধে মামলা

৪টা ডিমের দামেও একটি লেবু মিলছে না

আকাশে চাঁদ দেখার উপর নির্ভর করে আজ বুধবার রাতে সেহরি খেয়ে আগামীকাল থেকে পবিত্র মাহে রমজান শুরু হতে পারে। অনেকেই রোজার জন্য আজ বাজার করতে ভিড় করছেন পাড়া-মহল্লার দোকান ও কাঁচাবাজারে। ব্যবসায়ীরাও প্রতিবছরের মতো সুযোগ নিতে ভূল করছেন না। সরবরাহ সংকটের অযুহাতে বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়িয়ে বিক্রি করছেন। এই তালিকায় কাঁচাবাজারের একটি পণ্য লেবু শীর্ষে অবস্থান করছে। মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে রমজান উপলক্ষ্যে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে পণ্যটির দাম ৬ গুণ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

বুধবার দুপুরে রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, তিনটি ভিন্ন ভিন্ন সাইজ ও ধরনের লেবু বিক্রি হচ্ছে পাড়া-মহল্লার কাঁচাবাজারে। এর মধ্যে ছোট সাইজের একহালি লেবু বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৮০ টাকা দরে। আর মাঝারি আকারের লেবু বিক্রি হচ্ছে ৯০-১০০ টাকায়। এছাড়া বড় সাইজের লেবু ১২০ টাকা পর্যন্ত দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

তবে, এই বাড়তি দামে এক হালি না কিনে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণীকে দুই-একটা লেবু কিনতে দেখা গেছে। এক্ষেত্রে বিক্রেতারা নিচ্ছেন বাড়তি সুবিধা। বড় সাইজের একটি লেবু কিনতে হচ্ছে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা দিয়ে।

মুগদা বাজার থেকে লেবু কেনার পর অভিযোগ করে ভ্যান চালক শিমুল মোল্লা বলেন, আমার ৫ বছরের মেয়েটা লেবুর সরবত খেতে পছন্দ করে। প্রথম রমজানের ইফতারে মেয়েটার মন রক্ষা করতে বাধ্য হয়ে ৪০ টাকা দিয়ে একটি লেবু কিনলাম। একটা লেবুর দামে এক হালি (৪টা) ডিম কিনতে পারতাম, যা দিয়ে আমার সংসারের একদিনের বাজার হয়ে যেত।

মাত্র দুই সপ্তাহ আগে প্রতি হালি লেবু মানভেদে ২০ থেকে ৩৫ টাকা দরে বিক্রি হতো। এই দুই সপ্তাহের ব্যবধানর একটু একটু দাম বেড়ে এখন সেটি ১২০ টাকা হালিতে ঠেকেছে। সে হিসেবে মাত্র দুই সপ্তাহে দাম বেড়েছে ৬ গুণ পর্যন্ত। আর খুরচা একটি কিনলে ৪০ টাকা হিসেবে এক হালি লেবুর দাম দাঁড়াচ্ছে ১৬০ টাকা।

খুরচা বাজারের বিক্রেতারা বলছেন, পাইকারি বাজারে সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। বিপরীতে রোজা উপলক্ষে বাড়তি চাহিদা তৈরি হয়েছে। ফলে চাহিদার তুলনায় বাজারে লেবুর পরিমাণ কম থাকায় দ্রুতই দাম বাড়ছে।

তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, একটি শ্রেনী চাহিদার তুলনায় বাসা-বাড়িতে বাড়তি মজুদ করায় ব্যবসায়ীরা এই কৃত্রিম সংকট তৈরির সুযোগ পাচ্ছেন। ফ্রিজে অধিক পরিমান লেবু মজুদ রাখছেন কেউ কেউ। অন্তত এক সপ্তাহ আগে থেকেই অনেকে বেশি পরিমান লেবু কিনে নেয়ায় চাহিদার তুলনায় এই সংকটের তৈরি হয়েছে।

কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) ভাইস প্রেসিডেন্ট এসএম নাজের হোসাইন বলেন, প্রতি বছর রোজা শুরুর আগে এসব পণ্যের চাহিদা তৈরি হয়। তাই সুযোগ বুঝে বাড়তি দাম নিয়ে বিক্রেতারা ক্রেতাকে ঠকায়।

তিনি মনে করেন, ক্রেতারা এক দিনের পণ্যের তুলনায় ১০ দিনের পণ্য কেনেন। যে কারণে বিক্রেতারা দাম বাড়াতে সুযোগ পান। তাই প্রয়োজনের তুলনায় বেশি পণ্য কেনা ঠিক হবে না। আর অযৌক্তিকভাবে পণ্যের দাম বাড়ানোর জন্য অসাধুদের আইনের আওতায় আনতে হবে।

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বন্যাকবলিত ১১ জেলায় চিকিৎসক-স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটি বাতিল: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

৪টা ডিমের দামেও একটি লেবু মিলছে না

আপডেট সময় ০৬:৪১:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আকাশে চাঁদ দেখার উপর নির্ভর করে আজ বুধবার রাতে সেহরি খেয়ে আগামীকাল থেকে পবিত্র মাহে রমজান শুরু হতে পারে। অনেকেই রোজার জন্য আজ বাজার করতে ভিড় করছেন পাড়া-মহল্লার দোকান ও কাঁচাবাজারে। ব্যবসায়ীরাও প্রতিবছরের মতো সুযোগ নিতে ভূল করছেন না। সরবরাহ সংকটের অযুহাতে বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়িয়ে বিক্রি করছেন। এই তালিকায় কাঁচাবাজারের একটি পণ্য লেবু শীর্ষে অবস্থান করছে। মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে রমজান উপলক্ষ্যে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে পণ্যটির দাম ৬ গুণ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

বুধবার দুপুরে রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, তিনটি ভিন্ন ভিন্ন সাইজ ও ধরনের লেবু বিক্রি হচ্ছে পাড়া-মহল্লার কাঁচাবাজারে। এর মধ্যে ছোট সাইজের একহালি লেবু বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৮০ টাকা দরে। আর মাঝারি আকারের লেবু বিক্রি হচ্ছে ৯০-১০০ টাকায়। এছাড়া বড় সাইজের লেবু ১২০ টাকা পর্যন্ত দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

তবে, এই বাড়তি দামে এক হালি না কিনে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণীকে দুই-একটা লেবু কিনতে দেখা গেছে। এক্ষেত্রে বিক্রেতারা নিচ্ছেন বাড়তি সুবিধা। বড় সাইজের একটি লেবু কিনতে হচ্ছে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা দিয়ে।

মুগদা বাজার থেকে লেবু কেনার পর অভিযোগ করে ভ্যান চালক শিমুল মোল্লা বলেন, আমার ৫ বছরের মেয়েটা লেবুর সরবত খেতে পছন্দ করে। প্রথম রমজানের ইফতারে মেয়েটার মন রক্ষা করতে বাধ্য হয়ে ৪০ টাকা দিয়ে একটি লেবু কিনলাম। একটা লেবুর দামে এক হালি (৪টা) ডিম কিনতে পারতাম, যা দিয়ে আমার সংসারের একদিনের বাজার হয়ে যেত।

মাত্র দুই সপ্তাহ আগে প্রতি হালি লেবু মানভেদে ২০ থেকে ৩৫ টাকা দরে বিক্রি হতো। এই দুই সপ্তাহের ব্যবধানর একটু একটু দাম বেড়ে এখন সেটি ১২০ টাকা হালিতে ঠেকেছে। সে হিসেবে মাত্র দুই সপ্তাহে দাম বেড়েছে ৬ গুণ পর্যন্ত। আর খুরচা একটি কিনলে ৪০ টাকা হিসেবে এক হালি লেবুর দাম দাঁড়াচ্ছে ১৬০ টাকা।

খুরচা বাজারের বিক্রেতারা বলছেন, পাইকারি বাজারে সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। বিপরীতে রোজা উপলক্ষে বাড়তি চাহিদা তৈরি হয়েছে। ফলে চাহিদার তুলনায় বাজারে লেবুর পরিমাণ কম থাকায় দ্রুতই দাম বাড়ছে।

তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, একটি শ্রেনী চাহিদার তুলনায় বাসা-বাড়িতে বাড়তি মজুদ করায় ব্যবসায়ীরা এই কৃত্রিম সংকট তৈরির সুযোগ পাচ্ছেন। ফ্রিজে অধিক পরিমান লেবু মজুদ রাখছেন কেউ কেউ। অন্তত এক সপ্তাহ আগে থেকেই অনেকে বেশি পরিমান লেবু কিনে নেয়ায় চাহিদার তুলনায় এই সংকটের তৈরি হয়েছে।

কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) ভাইস প্রেসিডেন্ট এসএম নাজের হোসাইন বলেন, প্রতি বছর রোজা শুরুর আগে এসব পণ্যের চাহিদা তৈরি হয়। তাই সুযোগ বুঝে বাড়তি দাম নিয়ে বিক্রেতারা ক্রেতাকে ঠকায়।

তিনি মনে করেন, ক্রেতারা এক দিনের পণ্যের তুলনায় ১০ দিনের পণ্য কেনেন। যে কারণে বিক্রেতারা দাম বাড়াতে সুযোগ পান। তাই প্রয়োজনের তুলনায় বেশি পণ্য কেনা ঠিক হবে না। আর অযৌক্তিকভাবে পণ্যের দাম বাড়ানোর জন্য অসাধুদের আইনের আওতায় আনতে হবে।