ঢাকা ১০:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬, ৫ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
হরমুজ প্রণালিকে মুক্ত করতে বেশি সময় লাগবে না : ট্রাম্প কেন্দ্রীয় চুক্তিতে যে পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে ভারত পিএসএলে নিরাপত্তা নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার উদ্বেগ, যা বলছে পিসিবি যমুনায় সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন প্রধানমন্ত্রী পাটুরিয়ায় যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়, পারাপারে চলছে ১৮টি লঞ্চ চট্টগ্রামে ডিসির নির্দেশে যন্ত্রপাতি বিক্রি করে শ্রমিকদের বকেয়া পরিশোধ মন্ত্রী-এমপিরা কে কোথায় ঈদ করবেন? ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন শরীয়তপুর জেলা বি এন পি সাংগঠনিক সম্পাদক ও সখিপুর থানা বি এন পির আহ্বায়ক এস এম এ হামিদ ঈশ্বরদী থেকে এলো উদ্ধারকারী ট্রেন, সৈয়দপুর থেকে আসছে আরেকটি রূহানীনগর এর পক্ষ থেকে সম্মানিত ইমাম-মুয়াজ্জিনগণকে  হাদিয়া প্রদান

৪টা ডিমের দামেও একটি লেবু মিলছে না

আকাশে চাঁদ দেখার উপর নির্ভর করে আজ বুধবার রাতে সেহরি খেয়ে আগামীকাল থেকে পবিত্র মাহে রমজান শুরু হতে পারে। অনেকেই রোজার জন্য আজ বাজার করতে ভিড় করছেন পাড়া-মহল্লার দোকান ও কাঁচাবাজারে। ব্যবসায়ীরাও প্রতিবছরের মতো সুযোগ নিতে ভূল করছেন না। সরবরাহ সংকটের অযুহাতে বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়িয়ে বিক্রি করছেন। এই তালিকায় কাঁচাবাজারের একটি পণ্য লেবু শীর্ষে অবস্থান করছে। মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে রমজান উপলক্ষ্যে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে পণ্যটির দাম ৬ গুণ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

বুধবার দুপুরে রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, তিনটি ভিন্ন ভিন্ন সাইজ ও ধরনের লেবু বিক্রি হচ্ছে পাড়া-মহল্লার কাঁচাবাজারে। এর মধ্যে ছোট সাইজের একহালি লেবু বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৮০ টাকা দরে। আর মাঝারি আকারের লেবু বিক্রি হচ্ছে ৯০-১০০ টাকায়। এছাড়া বড় সাইজের লেবু ১২০ টাকা পর্যন্ত দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

তবে, এই বাড়তি দামে এক হালি না কিনে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণীকে দুই-একটা লেবু কিনতে দেখা গেছে। এক্ষেত্রে বিক্রেতারা নিচ্ছেন বাড়তি সুবিধা। বড় সাইজের একটি লেবু কিনতে হচ্ছে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা দিয়ে।

মুগদা বাজার থেকে লেবু কেনার পর অভিযোগ করে ভ্যান চালক শিমুল মোল্লা বলেন, আমার ৫ বছরের মেয়েটা লেবুর সরবত খেতে পছন্দ করে। প্রথম রমজানের ইফতারে মেয়েটার মন রক্ষা করতে বাধ্য হয়ে ৪০ টাকা দিয়ে একটি লেবু কিনলাম। একটা লেবুর দামে এক হালি (৪টা) ডিম কিনতে পারতাম, যা দিয়ে আমার সংসারের একদিনের বাজার হয়ে যেত।

মাত্র দুই সপ্তাহ আগে প্রতি হালি লেবু মানভেদে ২০ থেকে ৩৫ টাকা দরে বিক্রি হতো। এই দুই সপ্তাহের ব্যবধানর একটু একটু দাম বেড়ে এখন সেটি ১২০ টাকা হালিতে ঠেকেছে। সে হিসেবে মাত্র দুই সপ্তাহে দাম বেড়েছে ৬ গুণ পর্যন্ত। আর খুরচা একটি কিনলে ৪০ টাকা হিসেবে এক হালি লেবুর দাম দাঁড়াচ্ছে ১৬০ টাকা।

খুরচা বাজারের বিক্রেতারা বলছেন, পাইকারি বাজারে সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। বিপরীতে রোজা উপলক্ষে বাড়তি চাহিদা তৈরি হয়েছে। ফলে চাহিদার তুলনায় বাজারে লেবুর পরিমাণ কম থাকায় দ্রুতই দাম বাড়ছে।

তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, একটি শ্রেনী চাহিদার তুলনায় বাসা-বাড়িতে বাড়তি মজুদ করায় ব্যবসায়ীরা এই কৃত্রিম সংকট তৈরির সুযোগ পাচ্ছেন। ফ্রিজে অধিক পরিমান লেবু মজুদ রাখছেন কেউ কেউ। অন্তত এক সপ্তাহ আগে থেকেই অনেকে বেশি পরিমান লেবু কিনে নেয়ায় চাহিদার তুলনায় এই সংকটের তৈরি হয়েছে।

কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) ভাইস প্রেসিডেন্ট এসএম নাজের হোসাইন বলেন, প্রতি বছর রোজা শুরুর আগে এসব পণ্যের চাহিদা তৈরি হয়। তাই সুযোগ বুঝে বাড়তি দাম নিয়ে বিক্রেতারা ক্রেতাকে ঠকায়।

তিনি মনে করেন, ক্রেতারা এক দিনের পণ্যের তুলনায় ১০ দিনের পণ্য কেনেন। যে কারণে বিক্রেতারা দাম বাড়াতে সুযোগ পান। তাই প্রয়োজনের তুলনায় বেশি পণ্য কেনা ঠিক হবে না। আর অযৌক্তিকভাবে পণ্যের দাম বাড়ানোর জন্য অসাধুদের আইনের আওতায় আনতে হবে।

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

হরমুজ প্রণালিকে মুক্ত করতে বেশি সময় লাগবে না : ট্রাম্প

৪টা ডিমের দামেও একটি লেবু মিলছে না

আপডেট সময় ০৬:৪১:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আকাশে চাঁদ দেখার উপর নির্ভর করে আজ বুধবার রাতে সেহরি খেয়ে আগামীকাল থেকে পবিত্র মাহে রমজান শুরু হতে পারে। অনেকেই রোজার জন্য আজ বাজার করতে ভিড় করছেন পাড়া-মহল্লার দোকান ও কাঁচাবাজারে। ব্যবসায়ীরাও প্রতিবছরের মতো সুযোগ নিতে ভূল করছেন না। সরবরাহ সংকটের অযুহাতে বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়িয়ে বিক্রি করছেন। এই তালিকায় কাঁচাবাজারের একটি পণ্য লেবু শীর্ষে অবস্থান করছে। মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে রমজান উপলক্ষ্যে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে পণ্যটির দাম ৬ গুণ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

বুধবার দুপুরে রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, তিনটি ভিন্ন ভিন্ন সাইজ ও ধরনের লেবু বিক্রি হচ্ছে পাড়া-মহল্লার কাঁচাবাজারে। এর মধ্যে ছোট সাইজের একহালি লেবু বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৮০ টাকা দরে। আর মাঝারি আকারের লেবু বিক্রি হচ্ছে ৯০-১০০ টাকায়। এছাড়া বড় সাইজের লেবু ১২০ টাকা পর্যন্ত দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

তবে, এই বাড়তি দামে এক হালি না কিনে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণীকে দুই-একটা লেবু কিনতে দেখা গেছে। এক্ষেত্রে বিক্রেতারা নিচ্ছেন বাড়তি সুবিধা। বড় সাইজের একটি লেবু কিনতে হচ্ছে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা দিয়ে।

মুগদা বাজার থেকে লেবু কেনার পর অভিযোগ করে ভ্যান চালক শিমুল মোল্লা বলেন, আমার ৫ বছরের মেয়েটা লেবুর সরবত খেতে পছন্দ করে। প্রথম রমজানের ইফতারে মেয়েটার মন রক্ষা করতে বাধ্য হয়ে ৪০ টাকা দিয়ে একটি লেবু কিনলাম। একটা লেবুর দামে এক হালি (৪টা) ডিম কিনতে পারতাম, যা দিয়ে আমার সংসারের একদিনের বাজার হয়ে যেত।

মাত্র দুই সপ্তাহ আগে প্রতি হালি লেবু মানভেদে ২০ থেকে ৩৫ টাকা দরে বিক্রি হতো। এই দুই সপ্তাহের ব্যবধানর একটু একটু দাম বেড়ে এখন সেটি ১২০ টাকা হালিতে ঠেকেছে। সে হিসেবে মাত্র দুই সপ্তাহে দাম বেড়েছে ৬ গুণ পর্যন্ত। আর খুরচা একটি কিনলে ৪০ টাকা হিসেবে এক হালি লেবুর দাম দাঁড়াচ্ছে ১৬০ টাকা।

খুরচা বাজারের বিক্রেতারা বলছেন, পাইকারি বাজারে সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। বিপরীতে রোজা উপলক্ষে বাড়তি চাহিদা তৈরি হয়েছে। ফলে চাহিদার তুলনায় বাজারে লেবুর পরিমাণ কম থাকায় দ্রুতই দাম বাড়ছে।

তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, একটি শ্রেনী চাহিদার তুলনায় বাসা-বাড়িতে বাড়তি মজুদ করায় ব্যবসায়ীরা এই কৃত্রিম সংকট তৈরির সুযোগ পাচ্ছেন। ফ্রিজে অধিক পরিমান লেবু মজুদ রাখছেন কেউ কেউ। অন্তত এক সপ্তাহ আগে থেকেই অনেকে বেশি পরিমান লেবু কিনে নেয়ায় চাহিদার তুলনায় এই সংকটের তৈরি হয়েছে।

কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) ভাইস প্রেসিডেন্ট এসএম নাজের হোসাইন বলেন, প্রতি বছর রোজা শুরুর আগে এসব পণ্যের চাহিদা তৈরি হয়। তাই সুযোগ বুঝে বাড়তি দাম নিয়ে বিক্রেতারা ক্রেতাকে ঠকায়।

তিনি মনে করেন, ক্রেতারা এক দিনের পণ্যের তুলনায় ১০ দিনের পণ্য কেনেন। যে কারণে বিক্রেতারা দাম বাড়াতে সুযোগ পান। তাই প্রয়োজনের তুলনায় বেশি পণ্য কেনা ঠিক হবে না। আর অযৌক্তিকভাবে পণ্যের দাম বাড়ানোর জন্য অসাধুদের আইনের আওতায় আনতে হবে।