ঢাকা ০৪:৩৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৫ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

ইতিহাস গড়লেন সিইসি, বিভাজন ছাড়াই ২৯৬ এমপির শপথ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য পদে নির্বাচিতদের কোনো বিভাজন ছাড়াই শপথ পাঠ করিয়ে ইতিহাস গড়লেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে জাতীয় সংসদের শপথ কক্ষে সিইসি পর্যায়ক্রমে নির্বাচিতদের শপথবাক্য পাঠ করান।

দেশের সংসদীয় ইতিহাসে দ্বিতীয় কোনো সিইসি হিসেবে তিনি এই বিরল দায়িত্ব পালন করলেন। এর আগে ১৯৯১ সালে তৎকালীন সিইসি বিচারপতি আব্দুর রউফ এই সুযোগ পেলেও সেবার রাজনৈতিক বিভাজনের কারণে সব সদস্যকে তিনি শপথ করাতে পারেননি। তবে এবার কোনো বিতর্ক বা বিভাজন ছাড়াই সংসদ সদস্যরা প্রধান নির্বাচন কমিশনারের অধীনে শপথ নিলেন।

সংবিধান অনুযায়ী, জাতীয় সংসদের স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার অনুপস্থিত থাকলে বা দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হলে শপথ পাঠ করানোর দায়িত্ব সিইসির ওপর বর্তায়। জুলাই অভ্যুত্থানের পর দ্বাদশ সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী পদত্যাগ করে আত্মগোপনে রয়েছেন এবং ডেপুটি স্পিকার বর্তমানে কারাবন্দি। এই শূন্যতায় সংবিধানের ১৪৮ (২ক) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংসদ সচিবালয় থেকে সিইসিকে শপথ পাঠ করানোর অনুরোধ জানানো হয়।

সংসদ সচিবালয়ের সচিব কানিজ মওলা গত ১৬ ফেব্রুয়ারি সিইসিকে লেখা চিঠিতে জানান, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২৯৭টি আসনের গেজেট প্রকাশিত হয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী গেজেট প্রকাশের পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে নির্ধারিত ব্যক্তি (স্পিকার) শপথ করাতে ব্যর্থ হলে পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে সিইসি সেই দায়িত্ব পালন করবেন।

ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এর আগে ১৯৯১ সালে এরশাদ সরকারের পতনের পর পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিইসি বিচারপতি আব্দুর রউফ সংসদ সদস্যদের শপথ পড়িয়েছিলেন। তবে সেই ঘটনাটি ছিল ভিন্ন প্রেক্ষাপটে। এবারের শপথ অনুষ্ঠানে কোনো রাজনৈতিক বিভাজন দেখা যায়নি। ‘জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫’-এর অনুচ্ছেদ ৮ অনুযায়ী, নির্বাচিত প্রতিনিধিরা প্রথমে সংসদ সদস্য হিসেবে এবং পরবর্তীতে একই অনুষ্ঠানে ‘পরিষদ সদস্য’ হিসেবে শপথগ্রহণ করেন।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ভেঙে দেওয়া হলো অন্তর্বর্তী সরকার

ইতিহাস গড়লেন সিইসি, বিভাজন ছাড়াই ২৯৬ এমপির শপথ

আপডেট সময় ০৫:৫১:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য পদে নির্বাচিতদের কোনো বিভাজন ছাড়াই শপথ পাঠ করিয়ে ইতিহাস গড়লেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে জাতীয় সংসদের শপথ কক্ষে সিইসি পর্যায়ক্রমে নির্বাচিতদের শপথবাক্য পাঠ করান।

দেশের সংসদীয় ইতিহাসে দ্বিতীয় কোনো সিইসি হিসেবে তিনি এই বিরল দায়িত্ব পালন করলেন। এর আগে ১৯৯১ সালে তৎকালীন সিইসি বিচারপতি আব্দুর রউফ এই সুযোগ পেলেও সেবার রাজনৈতিক বিভাজনের কারণে সব সদস্যকে তিনি শপথ করাতে পারেননি। তবে এবার কোনো বিতর্ক বা বিভাজন ছাড়াই সংসদ সদস্যরা প্রধান নির্বাচন কমিশনারের অধীনে শপথ নিলেন।

সংবিধান অনুযায়ী, জাতীয় সংসদের স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার অনুপস্থিত থাকলে বা দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হলে শপথ পাঠ করানোর দায়িত্ব সিইসির ওপর বর্তায়। জুলাই অভ্যুত্থানের পর দ্বাদশ সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী পদত্যাগ করে আত্মগোপনে রয়েছেন এবং ডেপুটি স্পিকার বর্তমানে কারাবন্দি। এই শূন্যতায় সংবিধানের ১৪৮ (২ক) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংসদ সচিবালয় থেকে সিইসিকে শপথ পাঠ করানোর অনুরোধ জানানো হয়।

সংসদ সচিবালয়ের সচিব কানিজ মওলা গত ১৬ ফেব্রুয়ারি সিইসিকে লেখা চিঠিতে জানান, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২৯৭টি আসনের গেজেট প্রকাশিত হয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী গেজেট প্রকাশের পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে নির্ধারিত ব্যক্তি (স্পিকার) শপথ করাতে ব্যর্থ হলে পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে সিইসি সেই দায়িত্ব পালন করবেন।

ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এর আগে ১৯৯১ সালে এরশাদ সরকারের পতনের পর পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিইসি বিচারপতি আব্দুর রউফ সংসদ সদস্যদের শপথ পড়িয়েছিলেন। তবে সেই ঘটনাটি ছিল ভিন্ন প্রেক্ষাপটে। এবারের শপথ অনুষ্ঠানে কোনো রাজনৈতিক বিভাজন দেখা যায়নি। ‘জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫’-এর অনুচ্ছেদ ৮ অনুযায়ী, নির্বাচিত প্রতিনিধিরা প্রথমে সংসদ সদস্য হিসেবে এবং পরবর্তীতে একই অনুষ্ঠানে ‘পরিষদ সদস্য’ হিসেবে শপথগ্রহণ করেন।