৬:নং দুয়ারিয়া ইউনিয়ন দুর্গাপুর মন্দিরকে ঘিরে প্রতিবছরের মতো এবারও দেশ-বিদেশ থেকে ভক্ত ও দর্শনার্থীর ঢল নেমেছে। পাহাড়ি আঁকাবাঁকা পথ বেয়ে ভক্তরা শিবের আরাধনায় অংশ নিতে ভোর থেকেই মন্দিরমুখী হচ্ছেন। “বোল বাম” ধ্বনি, শঙ্খধ্বনি ও ঘণ্টার আওয়াজে মুখরিত হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা।
ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী শিব চতুর্দশী সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান উৎসব। এ উপলক্ষে ভক্তরা উপবাস, জপ-তপ, পূজাভিষেক এবং বিশেষ প্রার্থনায় অংশ নিচ্ছেন। পঞ্জিকা অনুযায়ী ফাল্গুন মাসের কৃষ্ণপক্ষের চতুর্দশী তিথিতে পালিত হয় এই পূজা, যা মহা শিবরাত্রি হিসেবেও পরিচিত। মন্দির প্রাঙ্গণে সারাদিনব্যাপী পূজা-অর্চনা, প্রসাদ বিতরণ ও ধর্মীয় আলোচনা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
আয়োজক দুর্গাপুর মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক জানানঃ, ধর্মীয় অনুষ্ঠান নির্বিঘ্ন ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে নেওয়া হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি। পূজারী ও তীর্থযাত্রীদের জন্য অস্থায়ী আবাসন, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ, চিকিৎসা সেবা এবং স্যানিটেশন ব্যবস্থার আয়োজন করা হয়েছে। পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবক টিম সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্যা জানানঃ শুধু ধর্মীয় অনুষ্ঠানই নয়, মেলা উপকূলীয় অঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মিলনমেলা হিসেবেও পরিচিত। মেলা উপলক্ষে মন্দির সংলগ্ন এলাকায় বসেছে শতাধিক দোকান। ধর্মীয় সামগ্রী, খেলনা, মাটির পণ্য, হস্তশিল্প, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যসহ নানা পণ্যের সমাহারে মুখর হয়ে উঠেছে মেলার মাঠ। স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্যও এটি বড় অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরি করে।
লালপুর থানার অফিসার ইনচার্জ জানান: মেলায় আগত দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে কঠোর ব্যবস্থা। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে মোবাইল টিম কাজ করছে।
স্থানীয়রা জানান, দুর্গাপুর মন্দির মেলা শুধু ধর্মীয় বিশ্বাসের বিষয় নয়—এটি দুর্গাপুর ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির প্রতীক। যুগের পর যুগ ধরে এই আয়োজন উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ ও সামাজিক বন্ধন দৃঢ় করে আসছে। উৎসবমুখর পরিবেশে পাহাড়, সমুদ্র আর ধর্মীয় আবহ মিলিয়ে মহেশখালী এখন পরিণত হয়েছে এক অনন্য তীর্থভূমিতে। আগামী ৭ দিন ধরে চলবে পূজা, আরাধনা ও মেলা
মোঃ শিহাব উদ্দিন টোকন স্টাফ রিপোর্টার নাটোর 





















