ঢাকা ০৮:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
প্রধানমন্ত্রীর বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি: কালুখালীর সকল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একযোগে বৃক্ষরোপণ বিদেশি মালিকানাধীন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নিয়ম তৃতীয় বিয়ে নিয়ে ‘মহাবিপদে’ আমির খান! খেলা শুরুর আগে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের দুই গ্রুপের মধ্যে তুমুল মারামারি, আটক ৩ সমগ্র উত্তরবঙ্গের ইয়াবার ডিলার শা আপেল কে নিয়ে নানান বিতর্কের গুণজন যৌন নিপীড়ন মামলায় ৫৬ লাখ ডলারের বেশি ক্ষতিপূরণ দিলেন ট্রাম্প শেখ হাসিনা ও ১০ শিল্প গ্রুপের ৭৬ হাজার কোটি টাকার সম্পদ জব্দ বাংলাদেশে বিয়ের ব্যাপারে নাগরিকদের সতর্ক করল চীন বিনা প্রেসক্রিপশনে অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি রোধে কঠোর অভিযান চলবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী “পীরগঞ্জে ১৪৪ ধারা ভঙ্গের অভিযোগ: কলেজ-মসজিদের রাস্তা বন্ধ, এলাকায় উত্তেজনা”

ফলাফল পুনর্গণনার দাবিতে রংপুর ডিসি অফিস ঘেরাও

  • রংপুর প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় ০৪:১০:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৬১৪ বার পড়া হয়েছে

রংপুরের তিনটি সংসদীয় আসনের ফলাফল পুনর্গণনার দাবিতে জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কার্যালয় ঘেরাও করে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন বিএনপি প্রার্থী ও তার সমর্থকরা। রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে তারা বিক্ষোভ করেন।

বিক্ষোভকারীরা রংপুর-৪ (পীরগাছা-কাউনিয়া), রংপুর-৩ (সদর) ও রংপুর-৬ (পীরগঞ্জ) আসনে পুনরায় ভোট গণনার দাবি জানান। এসময় তারা এনসিপি প্রার্থী আখতার হোসেন ও জেলা প্রশাসককে ‘ভোট চোর’ আখ্যা দিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন।

বিক্ষোভ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন রংপুর-৪ আসনের বিএনপি প্রার্থী এমদাদুল হক ভরসা, রংপুর-৩ আসনের প্রার্থী সামসুজ্জামান সামু এবং রংপুর-৬ আসনের প্রার্থী সাইফুল ইসলাম।

রংপুর-৪ আসনের বিএনপি প্রার্থী এমদাদুল হক ভরসা অভিযোগ করে বলেন, ‘এই নির্বাচনে আমি শতভাগ আশাবাদী ছিলাম যে জনগণের রায়ে আমি নির্বাচিত হব। কিন্তু বিকেল ৩টা থেকে ৫টার মধ্যে আমাদের প্রতিপক্ষ এনসিপির প্রার্থী যেভাবে মব সৃষ্টি করেছে এবং প্রশাসনের সহায়তায় ফলাফল ইঞ্জিনিয়ারিং করেছে, তা নজিরবিহীন।’

তিনি দাবি করেন, গত শুক্রবার সকাল ১১টা থেকে দুপুর ৩টা পর্যন্ত জেলা প্রশাসকের বাংলোতে গিয়ে দেখা করার চেষ্টা করেও কোনো সাড়া পাননি। তার ভাষায়, আমার একটাই দাবি-যে ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে, তা পুনর্গণনা করতে হবে। রংপুর-৩ আসনের বিএনপি প্রার্থী সামসুজ্জামান সামু বলেন, আমরা নিয়মতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ পন্থায় আন্দোলন শুরু করেছি। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও প্রভাব বিস্তারের কারণে প্রকৃত ফলাফল প্রতিফলিত হয়নি।

এর আগে শনিবার কাউনিয়া উপজেলার মীরবাগ এলাকায় এমদাদুল হক ভরসার সমর্থকরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন।
রংপুর-৩ (সদর ও সিটি করপোরেশনের ১০ থেকে ৩৩ নম্বর ওয়ার্ড) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর প্রার্থী মাহবুবুর রহমান বেলাল ১ লাখ ৭৮ হাজার ৬৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির সামসুজ্জামান সামু পেয়েছেন ৮৪ হাজার ৫৭৮ ভোট।

রংপুর-৪ (পীরগাছা-কাউনিয়া) আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) প্রার্থী আখতার হোসেন শাপলা কলি প্রতীকে ১ লাখ ৪৯ হাজার ৯৬৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির এমদাদুল হক ভরসা পেয়েছেন ১ লাখ ৪০ হাজার ৫৬৪ ভোট।

একই আসনে জাতীয় পার্টি প্রার্থী আবু নাসের শাহ মো. মাহবুবার রহমান পেয়েছেন ৩৩ হাজার ৬৬৪ ভোট।
রংপুর-৬ (পীরগঞ্জ) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী নুরুল আমীন ১ লাখ ২০ হাজার ১২৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির সাইফুল ইসলাম পেয়েছেন ১ লাখ ১৭ হাজার ৭০৩ ভোট। বিক্ষোভ চলাকালে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে কার্যালয় চত্বরে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়।

বিএনপি নেতারা জানিয়েছেন, দ্রুত পুনর্গণনার উদ্যোগ না নেওয়া হলে তারা আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করবেন। অন্যদিকে, সংশ্লিষ্ট আসনের বিজয়ীরা এখনো প্রকাশ্যে অভিযোগের জবাব দেননি।

তিনটি আসনের ফলাফল ঘিরে সৃষ্ট এই উত্তেজনা রংপুরের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। পুনর্গণনার দাবি মেনে নেওয়া হবে কি না-এখন সেদিকেই তাকিয়ে সংশ্লিষ্ট মহল ও ভোটাররা।

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রধানমন্ত্রীর বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি: কালুখালীর সকল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একযোগে বৃক্ষরোপণ

ফলাফল পুনর্গণনার দাবিতে রংপুর ডিসি অফিস ঘেরাও

আপডেট সময় ০৪:১০:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

রংপুরের তিনটি সংসদীয় আসনের ফলাফল পুনর্গণনার দাবিতে জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কার্যালয় ঘেরাও করে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন বিএনপি প্রার্থী ও তার সমর্থকরা। রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে তারা বিক্ষোভ করেন।

বিক্ষোভকারীরা রংপুর-৪ (পীরগাছা-কাউনিয়া), রংপুর-৩ (সদর) ও রংপুর-৬ (পীরগঞ্জ) আসনে পুনরায় ভোট গণনার দাবি জানান। এসময় তারা এনসিপি প্রার্থী আখতার হোসেন ও জেলা প্রশাসককে ‘ভোট চোর’ আখ্যা দিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন।

বিক্ষোভ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন রংপুর-৪ আসনের বিএনপি প্রার্থী এমদাদুল হক ভরসা, রংপুর-৩ আসনের প্রার্থী সামসুজ্জামান সামু এবং রংপুর-৬ আসনের প্রার্থী সাইফুল ইসলাম।

রংপুর-৪ আসনের বিএনপি প্রার্থী এমদাদুল হক ভরসা অভিযোগ করে বলেন, ‘এই নির্বাচনে আমি শতভাগ আশাবাদী ছিলাম যে জনগণের রায়ে আমি নির্বাচিত হব। কিন্তু বিকেল ৩টা থেকে ৫টার মধ্যে আমাদের প্রতিপক্ষ এনসিপির প্রার্থী যেভাবে মব সৃষ্টি করেছে এবং প্রশাসনের সহায়তায় ফলাফল ইঞ্জিনিয়ারিং করেছে, তা নজিরবিহীন।’

তিনি দাবি করেন, গত শুক্রবার সকাল ১১টা থেকে দুপুর ৩টা পর্যন্ত জেলা প্রশাসকের বাংলোতে গিয়ে দেখা করার চেষ্টা করেও কোনো সাড়া পাননি। তার ভাষায়, আমার একটাই দাবি-যে ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে, তা পুনর্গণনা করতে হবে। রংপুর-৩ আসনের বিএনপি প্রার্থী সামসুজ্জামান সামু বলেন, আমরা নিয়মতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ পন্থায় আন্দোলন শুরু করেছি। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও প্রভাব বিস্তারের কারণে প্রকৃত ফলাফল প্রতিফলিত হয়নি।

এর আগে শনিবার কাউনিয়া উপজেলার মীরবাগ এলাকায় এমদাদুল হক ভরসার সমর্থকরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন।
রংপুর-৩ (সদর ও সিটি করপোরেশনের ১০ থেকে ৩৩ নম্বর ওয়ার্ড) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর প্রার্থী মাহবুবুর রহমান বেলাল ১ লাখ ৭৮ হাজার ৬৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির সামসুজ্জামান সামু পেয়েছেন ৮৪ হাজার ৫৭৮ ভোট।

রংপুর-৪ (পীরগাছা-কাউনিয়া) আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) প্রার্থী আখতার হোসেন শাপলা কলি প্রতীকে ১ লাখ ৪৯ হাজার ৯৬৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির এমদাদুল হক ভরসা পেয়েছেন ১ লাখ ৪০ হাজার ৫৬৪ ভোট।

একই আসনে জাতীয় পার্টি প্রার্থী আবু নাসের শাহ মো. মাহবুবার রহমান পেয়েছেন ৩৩ হাজার ৬৬৪ ভোট।
রংপুর-৬ (পীরগঞ্জ) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী নুরুল আমীন ১ লাখ ২০ হাজার ১২৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির সাইফুল ইসলাম পেয়েছেন ১ লাখ ১৭ হাজার ৭০৩ ভোট। বিক্ষোভ চলাকালে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে কার্যালয় চত্বরে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়।

বিএনপি নেতারা জানিয়েছেন, দ্রুত পুনর্গণনার উদ্যোগ না নেওয়া হলে তারা আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করবেন। অন্যদিকে, সংশ্লিষ্ট আসনের বিজয়ীরা এখনো প্রকাশ্যে অভিযোগের জবাব দেননি।

তিনটি আসনের ফলাফল ঘিরে সৃষ্ট এই উত্তেজনা রংপুরের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। পুনর্গণনার দাবি মেনে নেওয়া হবে কি না-এখন সেদিকেই তাকিয়ে সংশ্লিষ্ট মহল ও ভোটাররা।