ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শিল্পাঞ্চল অধ্যুষিত ও ভিআইপি হিসেবে পরিচিত গাজীপুর-২ আসনে বড় ব্যবধানে বিজয় অর্জন করেছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এম. মঞ্জুরুল করিম রনি। বিজয়ী হওয়ার পর কেন্দ্রীয় মসজিদে দোয়া, নিজ হাতে বিলবোর্ড অপসারণ এবং পিতার কবর জিয়ারতের মধ্য দিয়ে ব্যতিক্রমী সূচনা করেন তিনি।
ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৮৭ হাজার ৫৬১ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আলী নাসের খান (শাপলা কলি) পেয়েছেন ১ লাখ ৩৮ হাজার ৩৯২ ভোট। ফলে ৪৯ হাজার ১৬৯ ভোটের ব্যবধানে জয় নিশ্চিত হয় রনির। নির্বাচন কমিশন সব কেন্দ্রের ফলাফল একত্রিত ও যাচাই-বাছাই শেষে তাকে বেসরকারিভাবে বিজয়ী ঘোষণা করে। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিরতিহীনভাবে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। বিভিন্ন কেন্দ্রে সকাল থেকেই ভোটারদের দীর্ঘ লাইন লক্ষ্য করা যায়। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সতর্ক উপস্থিতিতে কোথাও বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
নিজ গ্রামের সালনা মাদ্রাসা কেন্দ্রে লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দেন এম. মঞ্জুরুল করিম রনি। ফলাফল ঘোষণার পর তিনি বলেন, এ বিজয় আমার একার নয়, গাজীপুরবাসীর। দীর্ঘ ১৭ বছর পর মানুষ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পেরেছে। জনগণের রায়ই চূড়ান্ত। আমি গাজীপুরবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞ। তিনি আরও বলেন, দেশনেতা তারেক রহমান-এর নেতৃত্বে দেশে গণতন্ত্র সুসংহত হবে এবং মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে। গাজীপুরকে একটি আধুনিক, উন্নত ও মাদকমুক্ত নগরীতে পরিণত করার অঙ্গীকারও ব্যক্ত করেন তিনি।
গাজীপুরে মেট্রোরেল সম্প্রসারণ, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে সংযোগ, তীব্র যানজট নিরসনে রেলগেটের ওপর ওভারপাস নির্মাণ, শিল্পাঞ্চলের অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার প্রতিশ্রুতি দেন। আপনারা আমাকে পাঁচ বছরের জন্য দায়িত্ব দিয়েছেন। আমি আমার পিতার আদর্শ বুকে ধারণ করে আপনাদের পাশে থাকব,-বলেন রনি।
তিনি তার পিতা সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী অধ্যাপক মান্নানের অবদানের কথা স্মরণ করে বলেন, ১৯৯১ সালে গাজীপুরবাসী তাকে বিপুল ভোটে নির্বাচিত করেছিলেন এবং তিনি এলাকার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন।
বিজয়ের পর শুক্রবার গাজীপুর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ-এ জুমার নামাজের আগে মহান আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করেন রনি। নামাজ শেষে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। পরে তিনি নিজ হাতে সড়কের পাশের বিলবোর্ড ও ফেস্টুন অপসারণ করেন। বিকেলে বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত করে তাদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শিল্পসমৃদ্ধ ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ গাজীপুর অঞ্চলের এ ফলাফল স্থানীয় রাজনৈতিক সমীকরণে তাৎপর্যপূর্ণ প্রভাব ফেলবে। ফলাফল ঘোষণার পর বিভিন্ন এলাকায় আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরণ করা হয়।
নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য এম. মঞ্জুরুল করিম রনি বলেন, আমি সকলের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করব-যারা আমাকে ভোট দিয়েছেন এবং যারা দেননি, সবার জন্য সমানভাবে উন্নয়নের রাজনীতি করব।
গাজীপুর প্রতিনিধি 



















