সংবাদ শিরোনাম ::
মোহাম্মদপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ‘দুর্নীতির সাম্রাজ্য’ অভিযোগের পাহাড় কাদির ও সহকারী হারিসের বিরুদ্ধে বিজিবি-র‍্যাবের যৌথ অভিযানে কাভার্ড ভ্যানসহ ভারতীয় শাড়ি ও কসমেটিক্স আটক এলেঙ্গাকে উপজেলা করার দাবিতে সংসদে এমপির বক্তব্য, কালিহাতীজুড়ে সমালোচনার ঝড় বিস্তর অনিয়মের অভিযোগের পরও বহাল ডিআইজি (প্রিজন্স) কামাল হোসেন ফায়ার সার্ভিসের দুর্নীতিবাজ সাদ্দাম ও রাব্বির সন্ধ্যার মধ্যে দেশের ১১ জেলায় বজ্রবৃষ্টির শঙ্কা বিধ্বস্ত ভেনেজুয়েলায় আবারও ভূমিকম্পের আঘাত, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৪৩০ বোরহানউদ্দিনে পুলিশের অভিযানে ১০ পিস ইয়াবাসহ দুই মা’দ’ক কারবারি গ্রেপ্তার মাদক ও সামাজিক অবক্ষয় রোধে মুরাদনগরে জনসমাবেশ পেলে-ম্যারাডোনা-রোনালদো যা পারেননি, তা-ই করে দেখালেন মেসি
প্রশ্নের মুখে আইন

হত্যা মামলার আসামি হয়েও ১৪ মাস ধরাছোঁয়ার বাইরে শওকত

জুলাই বিপ্লবের রক্তক্ষয়ী দিনগুলোতে রাজধানীর বাড্ডায় মাদরাসা শিক্ষক হাফেজ মো. মাসুদুর রহমান হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার ৫৪ নম্বর আসামি হয়েও ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন জাহাজ ভাঙা ব্যবসায়ী শওকত আলী চৌধুরী। ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বাড্ডা লিংক রোডে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সরাসরি হুকুম ও অংশগ্রহণের মাধ্যমে গুলিবর্ষণ করে শিক্ষক মাসুদুর রহমানকে হত্যার অভিযোগে এই মামলাটি দায়ের করা হয় (মামলা নং-০৫, ধারা ৩০২/৩৪ পেনাল কোড)। ওই মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রধান আসামি করা হলেও ৫৪ নম্বর আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয় শওকত আলী চৌধুরীকে, যাকে মামলার নথিতে ‘আওয়ামী লীগ নেতা’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

বিস্ময়কর বিষয় হলো, গত ৯ নভেম্বর মামলাটি দায়ের হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও তাকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। এমনকি ৩০২ ধারার মতো গুরুতর হত্যা মামলার আসামি হয়েও তিনি এখন পর্যন্ত আদালত থেকে কোনো জামিন গ্রহণ করেননি। আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরোয়ানাভুক্ত আসামি হওয়া সত্ত্বেও এভাবে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ানো এবং নির্বিঘ্নে ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করা আইনের শাসনের জন্য বড় চপেটাঘাত। ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, গ্রেপ্তার এড়াতে এবং মামলার চার্জশিট থেকে নিজের নাম সরিয়ে নিতে শওকত আলী চৌধুরী তার বিপুল অর্থবল ও রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগাচ্ছেন।

জাহাজ ভাঙা ব্যবসার আড়ালে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচারের গুরুতর অভিযোগ রয়েছে ৫৬ বছর বয়সী এই ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে। বাদীর দাবি, পুলিশ তার অবস্থান শনাক্ত করতে পারছে না বলে দায় এড়ালেও বাস্তবে তিনি ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে প্রকাশ্যেই বিচরণ করছেন। এই ‘রহস্যজনক’ নির্লিপ্ততায় মামলার ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম উৎকণ্ঠা ও হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন শহীদ মাসুদুর রহমানের স্বজনরা। মামলার বাদী শাকিল ক্ষোভ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, যেখানে অন্য আসামিরা ধরা পড়ছে, সেখানে প্রভাবশালী হওয়ার কারণে শওকত আলীর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়া বিচারহীনতার সংস্কৃতিরই বহিঃপ্রকাশ।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মোহাম্মদপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ‘দুর্নীতির সাম্রাজ্য’ অভিযোগের পাহাড় কাদির ও সহকারী হারিসের বিরুদ্ধে

প্রশ্নের মুখে আইন

হত্যা মামলার আসামি হয়েও ১৪ মাস ধরাছোঁয়ার বাইরে শওকত

আপডেট সময় ০৫:১৪:১১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬

জুলাই বিপ্লবের রক্তক্ষয়ী দিনগুলোতে রাজধানীর বাড্ডায় মাদরাসা শিক্ষক হাফেজ মো. মাসুদুর রহমান হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার ৫৪ নম্বর আসামি হয়েও ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন জাহাজ ভাঙা ব্যবসায়ী শওকত আলী চৌধুরী। ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বাড্ডা লিংক রোডে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সরাসরি হুকুম ও অংশগ্রহণের মাধ্যমে গুলিবর্ষণ করে শিক্ষক মাসুদুর রহমানকে হত্যার অভিযোগে এই মামলাটি দায়ের করা হয় (মামলা নং-০৫, ধারা ৩০২/৩৪ পেনাল কোড)। ওই মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রধান আসামি করা হলেও ৫৪ নম্বর আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয় শওকত আলী চৌধুরীকে, যাকে মামলার নথিতে ‘আওয়ামী লীগ নেতা’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

বিস্ময়কর বিষয় হলো, গত ৯ নভেম্বর মামলাটি দায়ের হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও তাকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। এমনকি ৩০২ ধারার মতো গুরুতর হত্যা মামলার আসামি হয়েও তিনি এখন পর্যন্ত আদালত থেকে কোনো জামিন গ্রহণ করেননি। আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরোয়ানাভুক্ত আসামি হওয়া সত্ত্বেও এভাবে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ানো এবং নির্বিঘ্নে ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করা আইনের শাসনের জন্য বড় চপেটাঘাত। ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, গ্রেপ্তার এড়াতে এবং মামলার চার্জশিট থেকে নিজের নাম সরিয়ে নিতে শওকত আলী চৌধুরী তার বিপুল অর্থবল ও রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগাচ্ছেন।

জাহাজ ভাঙা ব্যবসার আড়ালে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচারের গুরুতর অভিযোগ রয়েছে ৫৬ বছর বয়সী এই ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে। বাদীর দাবি, পুলিশ তার অবস্থান শনাক্ত করতে পারছে না বলে দায় এড়ালেও বাস্তবে তিনি ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে প্রকাশ্যেই বিচরণ করছেন। এই ‘রহস্যজনক’ নির্লিপ্ততায় মামলার ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম উৎকণ্ঠা ও হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন শহীদ মাসুদুর রহমানের স্বজনরা। মামলার বাদী শাকিল ক্ষোভ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, যেখানে অন্য আসামিরা ধরা পড়ছে, সেখানে প্রভাবশালী হওয়ার কারণে শওকত আলীর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়া বিচারহীনতার সংস্কৃতিরই বহিঃপ্রকাশ।