ইয়েমেনের সৌদি সমর্থিত সরকারের মিত্র একটি গোষ্ঠীর গাড়িবহরে বোমা হামলায় পাঁচজন নিহত এবং তিনজন আহত হয়েছেন বলে দেশটির কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানিয়েছে। বুধবার এই হামলায় লক্ষ্যবস্তু ছিল সরকারপন্থী ‘জায়ান্টস ব্রিগেডস’-এর এক কমান্ডার হামদি শুকরিকে বহনকারী বহর।
বার্তা সংস্থা এএফপিকে এক নিরাপত্তা সূত্র জানায়, আদেন শহরের উত্তরের জাওলা এলাকায় সড়কের পাশে রাখা একটি গাড়িবোমা শুকরির বহর যাওয়ার সময় বিস্ফোরিত হয়। হামলায় হামদি শুকরি প্রাণে বেঁচে গেলেও, একটি চিকিৎসা সূত্র জানিয়েছে, তার পায়ে বোমার ধাতব টুকরোর আঘাত লেগেছে।
ইয়েমেনে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসও এই হামলার নিন্দা জানিয়েছে। তারা একে ইয়েমেন সরকারের সঙ্গে যুক্ত একটি সামরিক বহরের ওপর বিনা উসকানির হামলা বলে উল্লেখ করেছে।
ইয়েমেনের প্রেসিডেনশিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিল রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে। কাউন্সিলের বিবৃতিতে বলা হয়, এই বোমা হামলা দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্থিতিশীল করার প্রচেষ্টা নস্যাৎ করার একটি মরিয়া চেষ্টা।
সৌদি আরবের সহায়তায় যখন বাস্তব অগ্রগতি হচ্ছে, ঠিক সেই সময়েই এই হামলা চালানো হয়েছে বলে তারা দাবি করেছে।
বিবৃতিতে আরো বলা হয়, এই ‘বিশ্বাসঘাতক সন্ত্রাসী হামলার’ জবাবে সরকার কার্যকর ও কঠোর ব্যবস্থা নেবে। হামলাকারীদের খুঁজে বের করা হবে এবং তাদের সহযোগী নেটওয়ার্ক ধ্বংস করা হবে বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সাবা নিউজ এজেন্সি। তবে সরকার এই হামলার জন্য কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে দায়ি করেনি।
কাউন্সিল এক বিবৃতিতে দেশের সব রাজনৈতিক দল ও শক্তির প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছে, ‘অরাজকতা, ধ্বংসাত্মক শক্তি ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। এই অপরাধকে এমন একটি ঘটনা হিসেবে দেখতে হবে, যা সবাইকে প্রভাবিত করে।’ বিবৃতিতে আরো বলা হয়, ‘রাষ্ট্র নিজেই যখন হামলার লক্ষ্যবস্তু, তখন রাজনৈতিক মতভেদ নীরবতা বা দ্বিধার কারণ হতে পারে না।’
উল্লেখ্য, ২০১৪ সাল থেকে ইয়েমেন গৃহযুদ্ধে জড়িত। ওই বছর ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা রাজধানী সানাসহ বড় অংশ দখল করে এবং তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আবদ-রাব্বু মানসুর হাদির সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে।
এই সংঘাতের কারণে সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যেও উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।
সূত্র : আলজাজিরা।
অনলাইন ডেস্ক 

























