ঢাকা ১০:৫৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬, ২০ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

চাগোস দ্বীপপুঞ্জ চুক্তি নিয়ে যুক্তরাজ্যকে কটাক্ষ ট্রাম্পের

  • অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৮:১৩:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৫৪০ বার পড়া হয়েছে

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাজ্যের চাগোস দ্বীপপুঞ্জের সার্বভৌমত্ব ছাড়ার চুক্তিকে—যার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটি থাকা একটি দ্বীপও রয়েছে—‘সম্পূর্ণ দুর্বলতা’ ও ‘চরম বোকামি’ বলে আক্রমণ করেছেন। তিনি বলেন, এই ঘটনাই প্রমাণ করে কেন তিনি গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণ করতে চান।

গত বছর ওয়াশিংটন ওই চুক্তিকে সমর্থন দিয়েছিল, যার আওতায় ভারত মহাসাগরের দ্বীপগুলো মরিশাসকে দেওয়া হলেও ডিয়েগো গার্সিয়া ঘাঁটির ওপর যুক্তরাজ্যের নিয়ন্ত্রণ ৯৯ বছরের লিজে বজায় রাখা হয়েছিল।

তবে ট্রাম্প ট্রুথ সোশালে দেওয়া এক তীব্র ভাষার পোস্টে সেই অবস্থান পাল্টে বলেন, ‘অবিশ্বাস্যভাবে, আমাদের “দারুণ মেধাবী” ন্যাটো মিত্র যুক্তরাজ্য বর্তমানে ডিয়েগো গার্সিয়া দ্বীপ—যেখানে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে—কোনো কারণ ছাড়াই মরিশাসকে দিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে।

তিনি যোগ করেন, ‘চীন ও রাশিয়া যে এই সম্পূর্ণ দুর্বলতার কাজটি লক্ষ্য করেছে, এতে কোনো সন্দেহ নেই… যুক্তরাজ্যের এত গুরুত্বপূর্ণ ভূমি ছেড়ে দেওয়া চরম বোকামির কাজ এবং জাতীয় নিরাপত্তার দীর্ঘ তালিকায় এটি আরেকটি কারণ—যার জন্য গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণ করতেই হবে।’

ট্রাম্পের এই মন্তব্য প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সঙ্গে সম্পর্কের ওপর নতুন চাপ সৃষ্টি করেছে। স্টারমার এই সপ্তাহে চীন ও রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান উপস্থিতির মোকাবেলায় যেকোনো উপায়ে গ্রিনল্যান্ড দখলের ট্রাম্পের উচ্চাকাঙ্ক্ষার বিরোধিতা করে কথা বলেছিলেন।

ট্রাম্পের চাগোস সংক্রান্ত মন্তব্যের জবাবে ব্রিটিশ সরকার জানায়, চুক্তিটি জাতীয় নিরাপত্তার কারণেই করা হয়েছে।

এক মুখপাত্র বলেন, ‘আদালতের রায় আমাদের অবস্থান দুর্বল করে দেওয়ায় এবং ভবিষ্যতে ঘাঁটিটি নির্ধারিতভাবে পরিচালনা করা অসম্ভব হয়ে পড়ার আশঙ্কায় আমরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
চাগোস দ্বীপপুঞ্জের ৬টি প্রধান এটলসহ মোট ৬০০টির বেশি দ্বীপ মালদ্বীপের প্রায় ৫০০ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং আফ্রিকা ও ইন্দোনেশিয়ার মাঝামাঝি অবস্থিত। সেখানে প্রায় চার হাজার মানুষ অবস্থান করছেন।

১৯৬০ ও ১৯৭০-এর দশকের শেষভাগে ডিয়েগো গার্সিয়া এটলে ঘাঁটি স্থাপনের জন্য যুক্তরাজ্য জোরপূর্বক প্রায় দুই হাজার আদিবাসী চাগোসবাসীকে উৎখাত করেছিল।

পরে সাবেক উপনিবেশ মরিশাসকে সার্বভৌমত্ব দেওয়া হয় এবং ওই স্থাপনাটি সুরক্ষিত রাখতে যুক্তরাজ্য বছরেঁ ১৩৬ মিলিয়ন ডলার পরিশোধ করছে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

চাগোস দ্বীপপুঞ্জ চুক্তি নিয়ে যুক্তরাজ্যকে কটাক্ষ ট্রাম্পের

আপডেট সময় ০৮:১৩:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাজ্যের চাগোস দ্বীপপুঞ্জের সার্বভৌমত্ব ছাড়ার চুক্তিকে—যার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটি থাকা একটি দ্বীপও রয়েছে—‘সম্পূর্ণ দুর্বলতা’ ও ‘চরম বোকামি’ বলে আক্রমণ করেছেন। তিনি বলেন, এই ঘটনাই প্রমাণ করে কেন তিনি গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণ করতে চান।

গত বছর ওয়াশিংটন ওই চুক্তিকে সমর্থন দিয়েছিল, যার আওতায় ভারত মহাসাগরের দ্বীপগুলো মরিশাসকে দেওয়া হলেও ডিয়েগো গার্সিয়া ঘাঁটির ওপর যুক্তরাজ্যের নিয়ন্ত্রণ ৯৯ বছরের লিজে বজায় রাখা হয়েছিল।

তবে ট্রাম্প ট্রুথ সোশালে দেওয়া এক তীব্র ভাষার পোস্টে সেই অবস্থান পাল্টে বলেন, ‘অবিশ্বাস্যভাবে, আমাদের “দারুণ মেধাবী” ন্যাটো মিত্র যুক্তরাজ্য বর্তমানে ডিয়েগো গার্সিয়া দ্বীপ—যেখানে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে—কোনো কারণ ছাড়াই মরিশাসকে দিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে।

তিনি যোগ করেন, ‘চীন ও রাশিয়া যে এই সম্পূর্ণ দুর্বলতার কাজটি লক্ষ্য করেছে, এতে কোনো সন্দেহ নেই… যুক্তরাজ্যের এত গুরুত্বপূর্ণ ভূমি ছেড়ে দেওয়া চরম বোকামির কাজ এবং জাতীয় নিরাপত্তার দীর্ঘ তালিকায় এটি আরেকটি কারণ—যার জন্য গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণ করতেই হবে।’

ট্রাম্পের এই মন্তব্য প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সঙ্গে সম্পর্কের ওপর নতুন চাপ সৃষ্টি করেছে। স্টারমার এই সপ্তাহে চীন ও রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান উপস্থিতির মোকাবেলায় যেকোনো উপায়ে গ্রিনল্যান্ড দখলের ট্রাম্পের উচ্চাকাঙ্ক্ষার বিরোধিতা করে কথা বলেছিলেন।

ট্রাম্পের চাগোস সংক্রান্ত মন্তব্যের জবাবে ব্রিটিশ সরকার জানায়, চুক্তিটি জাতীয় নিরাপত্তার কারণেই করা হয়েছে।

এক মুখপাত্র বলেন, ‘আদালতের রায় আমাদের অবস্থান দুর্বল করে দেওয়ায় এবং ভবিষ্যতে ঘাঁটিটি নির্ধারিতভাবে পরিচালনা করা অসম্ভব হয়ে পড়ার আশঙ্কায় আমরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
চাগোস দ্বীপপুঞ্জের ৬টি প্রধান এটলসহ মোট ৬০০টির বেশি দ্বীপ মালদ্বীপের প্রায় ৫০০ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং আফ্রিকা ও ইন্দোনেশিয়ার মাঝামাঝি অবস্থিত। সেখানে প্রায় চার হাজার মানুষ অবস্থান করছেন।

১৯৬০ ও ১৯৭০-এর দশকের শেষভাগে ডিয়েগো গার্সিয়া এটলে ঘাঁটি স্থাপনের জন্য যুক্তরাজ্য জোরপূর্বক প্রায় দুই হাজার আদিবাসী চাগোসবাসীকে উৎখাত করেছিল।

পরে সাবেক উপনিবেশ মরিশাসকে সার্বভৌমত্ব দেওয়া হয় এবং ওই স্থাপনাটি সুরক্ষিত রাখতে যুক্তরাজ্য বছরেঁ ১৩৬ মিলিয়ন ডলার পরিশোধ করছে।