ঢাকা ০১:২৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬, ৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
রূপপুরে বালিশ-কাণ্ডের চেয়েও বড় দুর্নীতির তথ্য ফাঁস ৮০০ কোটি টাকায় বেঙ্গল গ্রুপের ২৬ তলা ‘সুইস টাওয়ার’ কিনছে পূবালী ব্যাংক ৫০ হাজার টাকার বেতনে কোটি টাকার সম্পদ-শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশলীকে ঘিরে অনুসন্ধান কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসাবরক্ষক মাসুম রেজার বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে স্ত্রী-সন্তানসহ জালিয়াতি, হাজার কোটি টাকার কর ফাঁকি ও দুর্নীতির অভিযোগ নারায়ণগঞ্জ গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী হারুনের বিরুদ্ধে কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ নোয়াখালী মেডিকেল কলেজ প্রকল্পে ২৫৪ কোটি টাকার টেন্ডার জালিয়াতির অভিযোগ ঢামেকে কোটি টাকার অর্থ লোপাটের অভিযোগে তোলপাড়, অভিযুক্ত ৩ কর্মকর্তা থার্ড টার্মিনালে অনুমোদন ছাড়াই ৩ হাজার ২০০ কোটি টাকা ব্যয় অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়েছেন রাজউকের পলাশ

অস্ত্রোপচারেও বের হলো না গুলি, নিউরোসায়েন্সে নেওয়া হচ্ছে হুজাইফাকে

মিয়ানমার সীমান্তের ওপার থেকে আসা গুলি মুখের ডান পাশ দিয়ে প্রবেশ করে তা মস্তিস্কে মারাত্মকভাবে আঘাত করেছে নয় বছর বয়সী শিশু হুজাইফা আফনানের। তবে গুলিটি বের না হয়ে রয়ে গেছে মস্তিষ্কে। মস্তিস্কের খুব ক্রিটিক্যাল জায়গায় গুলিটা থাকায় টানা কয়েকঘণ্টা ধরে জটিল অস্ত্রোপচার করেও গুলিটি বের করতে পারেননি চিকিৎসকরা। গুলিটি যেস্থানে আটকে আছে সেটিকে মস্তিস্কের ‘বিপজ্জনক’ জায়গা বলছেন তারা। তাই গুলিটি বের করতে চাইলেই হুমকিতে পড়বে শিশুটির জীবন। এ অবস্থায় শিশুটিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরো সায়েন্সেস অ্যান্ড হসপিটালে নেওয়া হচ্ছে।

মঙ্গলবার বিষয়টি সমকালকে নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তসলিম উদ্দিন।

তিনি জানান, মস্তিষ্কে জমাটবদ্ধ রক্ত অপসারণ করতে ও রক্ত চলাচল স্বাভাবিক রাখতে হুজাইফার মাথার খুলি খুলে ফ্রিজে সংরক্ষণ করতে হয়েছে।

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তসলিম উদ্দিন বলেন, মঙ্গলবার বেলা ১১টায় শিশু হুজাইফার চিকিৎসার জন্য গঠিত মেডিকেল বোর্ডের বৈঠকে তাকে দ্রুত রাজধানীতে স্থানান্তরের সুপারিশ করা হয়।

আইসিইউ বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. হারুন অর রশিদ সমকালকে বলেন, ‘গুলিটি শিশুটির মস্তিস্কের ডেঞ্জারাস স্থানে রয়েছে। যে কারণে অস্ত্রোপচার করেও গুলিটি বের করা যায়নি। শারীরিক সার্বিক বিষয় বিবেচনা করে রক্ত চলাচল স্বাভাবিক রাখতে শিশুটির মাথার খুলিটি খুলে আপাতত ফ্রিজে রাখা হয়েছে। গুলিটি যেখানে আটকে আছে সেখানে একসাথে অনেকগুলো রক্তসঞ্চালন লাইন রয়েছে। সেখান থেকে গুলিটি নিতে চাইলে আরও বিপদ বাড়তে পারে। এতে হুমকিতেও পড়তে পারে শিশুটির জীবন। তার শারীরিক অবস্থার তেমন উন্নতি না হওয়ায় আমরাও চিন্তিত। এই অবস্থায় পর্যবেক্ষণে রেখেছি। তাকে সুস্থ করে সব ধরনের চেষ্টাই করছি আমরা।’

শিশুটির চাচা মোহাম্মদ এরশাদ বলেন, ‘আমার ভাতিজাটা নিথর হয়ে শয্যায় পড়ে আছে। তাই কিছুই ভালো লাগছে না। জটিল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করেও গুলিটি বের করতে পারেননি চিকিৎসকরা। কারণ গুলিটি নাকি মস্তিস্কের বিপজ্জনক স্থানে আটকে আছে। মেয়েটা কখন সুস্থ হবে?’ এমনটি বলতে বলতে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।

গত রোববার সকাল ৯টার দিকে বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে ছোড়া গুলিতে গুরুতর আহত হয় শিশু হুজাইফা। পরে তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় বিকেলে চমেক হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হওয়ায় পরে তাকে লাইফ সাপোর্টে রেখে চিকিৎসা দেন চিকিৎসকরা। ওইদিন মধ্যরাতে তার একটি জটিল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করা হয়। তবে জটিল অস্ত্রোপচার করেও মাথার ভেতর থেকে গুলি বের করা সম্ভব হয়নি।

হুজাইফা আফনান টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মোহাম্মদ জসিমের মেয়ে। হুজাইফা লম্বাবিল হাজি মোহাম্মদ হোসেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ে। সে জসিমের একমাত্র মেয়ে, তার আরও দুটি ছেলে রয়েছে। পেশায় তিনি একজন মাছ বিক্রেতা।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রূপপুরে বালিশ-কাণ্ডের চেয়েও বড় দুর্নীতির তথ্য ফাঁস

অস্ত্রোপচারেও বের হলো না গুলি, নিউরোসায়েন্সে নেওয়া হচ্ছে হুজাইফাকে

আপডেট সময় ০৬:১৭:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬

মিয়ানমার সীমান্তের ওপার থেকে আসা গুলি মুখের ডান পাশ দিয়ে প্রবেশ করে তা মস্তিস্কে মারাত্মকভাবে আঘাত করেছে নয় বছর বয়সী শিশু হুজাইফা আফনানের। তবে গুলিটি বের না হয়ে রয়ে গেছে মস্তিষ্কে। মস্তিস্কের খুব ক্রিটিক্যাল জায়গায় গুলিটা থাকায় টানা কয়েকঘণ্টা ধরে জটিল অস্ত্রোপচার করেও গুলিটি বের করতে পারেননি চিকিৎসকরা। গুলিটি যেস্থানে আটকে আছে সেটিকে মস্তিস্কের ‘বিপজ্জনক’ জায়গা বলছেন তারা। তাই গুলিটি বের করতে চাইলেই হুমকিতে পড়বে শিশুটির জীবন। এ অবস্থায় শিশুটিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরো সায়েন্সেস অ্যান্ড হসপিটালে নেওয়া হচ্ছে।

মঙ্গলবার বিষয়টি সমকালকে নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তসলিম উদ্দিন।

তিনি জানান, মস্তিষ্কে জমাটবদ্ধ রক্ত অপসারণ করতে ও রক্ত চলাচল স্বাভাবিক রাখতে হুজাইফার মাথার খুলি খুলে ফ্রিজে সংরক্ষণ করতে হয়েছে।

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তসলিম উদ্দিন বলেন, মঙ্গলবার বেলা ১১টায় শিশু হুজাইফার চিকিৎসার জন্য গঠিত মেডিকেল বোর্ডের বৈঠকে তাকে দ্রুত রাজধানীতে স্থানান্তরের সুপারিশ করা হয়।

আইসিইউ বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. হারুন অর রশিদ সমকালকে বলেন, ‘গুলিটি শিশুটির মস্তিস্কের ডেঞ্জারাস স্থানে রয়েছে। যে কারণে অস্ত্রোপচার করেও গুলিটি বের করা যায়নি। শারীরিক সার্বিক বিষয় বিবেচনা করে রক্ত চলাচল স্বাভাবিক রাখতে শিশুটির মাথার খুলিটি খুলে আপাতত ফ্রিজে রাখা হয়েছে। গুলিটি যেখানে আটকে আছে সেখানে একসাথে অনেকগুলো রক্তসঞ্চালন লাইন রয়েছে। সেখান থেকে গুলিটি নিতে চাইলে আরও বিপদ বাড়তে পারে। এতে হুমকিতেও পড়তে পারে শিশুটির জীবন। তার শারীরিক অবস্থার তেমন উন্নতি না হওয়ায় আমরাও চিন্তিত। এই অবস্থায় পর্যবেক্ষণে রেখেছি। তাকে সুস্থ করে সব ধরনের চেষ্টাই করছি আমরা।’

শিশুটির চাচা মোহাম্মদ এরশাদ বলেন, ‘আমার ভাতিজাটা নিথর হয়ে শয্যায় পড়ে আছে। তাই কিছুই ভালো লাগছে না। জটিল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করেও গুলিটি বের করতে পারেননি চিকিৎসকরা। কারণ গুলিটি নাকি মস্তিস্কের বিপজ্জনক স্থানে আটকে আছে। মেয়েটা কখন সুস্থ হবে?’ এমনটি বলতে বলতে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।

গত রোববার সকাল ৯টার দিকে বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে ছোড়া গুলিতে গুরুতর আহত হয় শিশু হুজাইফা। পরে তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় বিকেলে চমেক হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হওয়ায় পরে তাকে লাইফ সাপোর্টে রেখে চিকিৎসা দেন চিকিৎসকরা। ওইদিন মধ্যরাতে তার একটি জটিল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করা হয়। তবে জটিল অস্ত্রোপচার করেও মাথার ভেতর থেকে গুলি বের করা সম্ভব হয়নি।

হুজাইফা আফনান টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মোহাম্মদ জসিমের মেয়ে। হুজাইফা লম্বাবিল হাজি মোহাম্মদ হোসেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ে। সে জসিমের একমাত্র মেয়ে, তার আরও দুটি ছেলে রয়েছে। পেশায় তিনি একজন মাছ বিক্রেতা।