ঢাকা ০৭:০০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
হঠাৎ পরিদর্শনে গিয়ে চিকিৎসকসহ দুই স্বাস্থ্যকর্মীকে বরখাস্ত করলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী তরুণ উদ্ভাবকরাই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ : প্রধানমন্ত্রী কালিয়াকৈরে ৫০ ভিক্ষুক পরিবারের পুনর্বাসনে ২৪ লাখ টাকার বকনা গরু বিতরণ জুলাইয়ে রেমিট্যান্স এলো ২৮৫ কোটি ৯০ লাখ ডলার ফেনী পাসপোর্ট অফিসের এডি জাহাঙ্গীরকে ঘিরে দালাল সিন্ডিকেটের অভিযোগ সিলেটে দল বদলেছে, দখল বদলায়নি; চাঁদাবাজি চলছে আগের মতোই ডিএনসিসি প্রশাসক ও ঢাকা-১৮ এর এমপির ওপর হামলার চেষ্টার অভিযোগ রায়পুরায় মোমেন মিয়া কে গুলি করে হত্যা, আহত ৩ বরগুনায় ডিবির অভিযানে ৩ কেজি গাঁজাসহ মাদক কারবারি গ্রেফতার চট্টগ্রাম গণপূর্তে প্রকৌশলী মেহেদী ও এনডিইকে ঘিরে ৫০ লাখ টাকার ঘুষের অভিযোগ

মায়ের পুষ্টিহীনতা বাড়াতে পারে শিশুর ডায়াবেটিস ও হৃদরোগের ঝুঁকি

  • লাইফস্টাইল
  • আপডেট সময় ০৩:৩৮:২৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৬৫৫ বার পড়া হয়েছে

মায়ের অপুষ্টি এবং ভিটামিনের ঘাটতির কারণে শিশুর শরীরেও হরমোনের গোলমাল হতে পারে। অনেক সময়েই দেখা যায়, গর্ভাবস্থায় রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ করে বেড়ে যেতে পারে। সেই থেকে প্রসবের পর শিশুর শরীরেও তার প্রভাব পড়ে। পরে সেই শিশুই ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হয়ে থাকে। সে জন্য মায়ের খাওয়া-দাওয়ার অভ্যাসের ওপরেই শিশুর শরীরের স্বাস্থ্য নির্ভর করে— এমনটিই দাবি করা হয়েছে গবেষণায়।

শিশুর ডায়াবেটিস বা জেস্টেশনাল ডায়াবেটিস নিয়ে গবেষণা হচ্ছে বিশ্বজুড়েই। এ বিষয়ে ম্যাটারনাল নিউট্রিশন স্টাডির (পিএমএনএস) গবেষকরা জানিয়েছেন, মায়ের শরীরে যদি ভিটামিন বি১২, ফোলেটের ঘাটতি থাকে এবং হবু মা যদি অপুষ্টির শিকার হন, তাহলে শিশুর টাইপ ২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। এমনকি সেই শিশুর হার্টের রোগও সৃষ্টি হতে পারে।

বয়স্ক মানুষের ডায়াবেটিস হয় টাইপ-টু। কিন্তু শিশুদের ক্ষেত্রে হয় টাইপ-ওয়ান। এমনকি কৈশোরে টাইপ ৫ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হতেও দেখা গেছে। শরীরে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে ইনসুলিন হরমোন। শিশুর ইনসুলিনের ঘাটতি হয়। তাদের অগ্ন্যাশয়ের যে বিটা কোষগুলো থেকে ইনসুলিনের ক্ষরণ হয়, সেগুলো নষ্ট হয়ে যায়। ইনসুলিন ক্ষরণ না হওয়ায় রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যায়। আবার অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, শরীরে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স তৈরি হয়, সে ক্ষেত্রে ইনসুলিনের ক্ষরণ হলেও সেটি আর ঠিকমতো কাজ করতে পারে না। এসবের সূত্রপাত হতে পারে সেই গর্ভাবস্থাতেই।

যদি হবু মায়ের শরীরে পুষ্টির ঘাটতি হয়, তাহলে গর্ভস্থ শিশুর শরীরের নানা অঙ্গ ঠিকমতো সুগঠিত হতে পারে না। বিশেষ করে অগ্ন্যাশয়ের গঠন ঠিকমতো হয় না। ফলে ইনসুলিন হরমোন ক্ষরণে তারতম্য দেখা দেয়।

গবেষকরা আরও জানিয়েছেন, ইনসুলিন হরমোন যেহেতু ঠিকমতো কাজ করে না, তাই রক্তে শর্করার মাত্রাও বাড়তে থাকে। ফলে খুব কম বয়সেই টাইপ ২ ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। আগে মনে করা হতো, গর্ভাবস্থায় হরমোনের তারতম্য হলে মায়ের রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যায় ও গর্ভস্থ শিশুর ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। অর্থাৎ যাকে বলে জেস্টেশনাল ডায়াবেটিস।

কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, গর্ভাবস্থায় শুধু নয়, শৈশবে মায়েরও যদি অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার অভ্যাস থাকে এবং ওই বয়স থেকেই শরীরে পুষ্টির ঘাটতি হতে থাকে, তাহলে পরবর্তী সময় জেস্টেশনাল ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়বে। আর সে থেকে শিশু জন্মের পর তারও ডায়াবেটিস হওয়ার আশঙ্কা থেকে যাবে। শুধু তাই নয়, এতে সিজারের সময় রক্তপাতের আশঙ্কা থাকে, সংক্রমণের আশঙ্কা বেড়ে যায় এবং নবজাতকের রক্তে সুগার কমে যেতে পারে৷ বাড়াবাড়ি রকমের জন্ডিস বা শ্বাসকষ্ট হতেও পারে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

হঠাৎ পরিদর্শনে গিয়ে চিকিৎসকসহ দুই স্বাস্থ্যকর্মীকে বরখাস্ত করলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী

মায়ের পুষ্টিহীনতা বাড়াতে পারে শিশুর ডায়াবেটিস ও হৃদরোগের ঝুঁকি

আপডেট সময় ০৩:৩৮:২৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬

মায়ের অপুষ্টি এবং ভিটামিনের ঘাটতির কারণে শিশুর শরীরেও হরমোনের গোলমাল হতে পারে। অনেক সময়েই দেখা যায়, গর্ভাবস্থায় রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ করে বেড়ে যেতে পারে। সেই থেকে প্রসবের পর শিশুর শরীরেও তার প্রভাব পড়ে। পরে সেই শিশুই ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হয়ে থাকে। সে জন্য মায়ের খাওয়া-দাওয়ার অভ্যাসের ওপরেই শিশুর শরীরের স্বাস্থ্য নির্ভর করে— এমনটিই দাবি করা হয়েছে গবেষণায়।

শিশুর ডায়াবেটিস বা জেস্টেশনাল ডায়াবেটিস নিয়ে গবেষণা হচ্ছে বিশ্বজুড়েই। এ বিষয়ে ম্যাটারনাল নিউট্রিশন স্টাডির (পিএমএনএস) গবেষকরা জানিয়েছেন, মায়ের শরীরে যদি ভিটামিন বি১২, ফোলেটের ঘাটতি থাকে এবং হবু মা যদি অপুষ্টির শিকার হন, তাহলে শিশুর টাইপ ২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। এমনকি সেই শিশুর হার্টের রোগও সৃষ্টি হতে পারে।

বয়স্ক মানুষের ডায়াবেটিস হয় টাইপ-টু। কিন্তু শিশুদের ক্ষেত্রে হয় টাইপ-ওয়ান। এমনকি কৈশোরে টাইপ ৫ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হতেও দেখা গেছে। শরীরে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে ইনসুলিন হরমোন। শিশুর ইনসুলিনের ঘাটতি হয়। তাদের অগ্ন্যাশয়ের যে বিটা কোষগুলো থেকে ইনসুলিনের ক্ষরণ হয়, সেগুলো নষ্ট হয়ে যায়। ইনসুলিন ক্ষরণ না হওয়ায় রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যায়। আবার অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, শরীরে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স তৈরি হয়, সে ক্ষেত্রে ইনসুলিনের ক্ষরণ হলেও সেটি আর ঠিকমতো কাজ করতে পারে না। এসবের সূত্রপাত হতে পারে সেই গর্ভাবস্থাতেই।

যদি হবু মায়ের শরীরে পুষ্টির ঘাটতি হয়, তাহলে গর্ভস্থ শিশুর শরীরের নানা অঙ্গ ঠিকমতো সুগঠিত হতে পারে না। বিশেষ করে অগ্ন্যাশয়ের গঠন ঠিকমতো হয় না। ফলে ইনসুলিন হরমোন ক্ষরণে তারতম্য দেখা দেয়।

গবেষকরা আরও জানিয়েছেন, ইনসুলিন হরমোন যেহেতু ঠিকমতো কাজ করে না, তাই রক্তে শর্করার মাত্রাও বাড়তে থাকে। ফলে খুব কম বয়সেই টাইপ ২ ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। আগে মনে করা হতো, গর্ভাবস্থায় হরমোনের তারতম্য হলে মায়ের রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যায় ও গর্ভস্থ শিশুর ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। অর্থাৎ যাকে বলে জেস্টেশনাল ডায়াবেটিস।

কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, গর্ভাবস্থায় শুধু নয়, শৈশবে মায়েরও যদি অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার অভ্যাস থাকে এবং ওই বয়স থেকেই শরীরে পুষ্টির ঘাটতি হতে থাকে, তাহলে পরবর্তী সময় জেস্টেশনাল ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়বে। আর সে থেকে শিশু জন্মের পর তারও ডায়াবেটিস হওয়ার আশঙ্কা থেকে যাবে। শুধু তাই নয়, এতে সিজারের সময় রক্তপাতের আশঙ্কা থাকে, সংক্রমণের আশঙ্কা বেড়ে যায় এবং নবজাতকের রক্তে সুগার কমে যেতে পারে৷ বাড়াবাড়ি রকমের জন্ডিস বা শ্বাসকষ্ট হতেও পারে।