ঢাকা ০৮:৪৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
গুড়ায় পাউবোর ভুয়া প্রকল্পে ২১ কোটি টাকা আত্মসাৎ, অনুসন্ধানে দুদক প্রধানমন্ত্রীর আগ্রহের ট্রাফিক সিগন্যাল প্রকল্প আ.লীগ নেতাদের হাতে চীনের তিব্বতে ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অস্ত্র তৈরির বিজ্ঞাপন, লালমাইয়ে যুবক আটক বড়লেখায় জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবসে র‍্যালি ও আলোচনা সভা শিবগঞ্জে ইউএনও মাজহারুল ইসলাম ও স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত নাহিদ উজ্জামানকে সংবর্ধনা রংপুর মেডিকেলে আগুন, বিদ্যুৎহীনতায় ব্যাহত চিকিৎসাসেবা লালপুরে ৯০ পিস ইয়াবা ও নগদ টাকাসহ স্বামী-স্ত্রী আটক দক্ষিণ কোরিয়ায় কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে প্রতিমন্ত্রীর সফর হজযাত্রীদের কোরবানির অর্থ নিয়ে অনিয়ম, এজেন্সিকে জরিমানা

জাফলংয়ে পাথর-বালু লুটের মহোৎসব, নেপথ্যে শক্তিশালী চাঁদাবাজ সিন্ডিকেট

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় ০৪:০১:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৭২৩ বার পড়া হয়েছে

প্রকৃতি কন্যা খ্যাত সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার জাফলংয়ে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজ ও পাথরখেকো চক্র। আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর ব্যস্ততার সুযোগ নিয়ে জাফলংয়ের পিয়াইন নদী ও আশপাশ এলাকায় বালু ও পাথর লুটপাটের মহোৎসব শুরু হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাজনৈতিক অস্থিরতাকে কাজে লাগিয়ে জাফলংয়ের বল্লাঘাট, জিরো পয়েন্ট এবং মন্দিরের জুম এলাকায় সক্রিয় হয়ে উঠেছে বেশ কয়েকটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট। রাতের আঁধারে এমনকি দিনের আলোতেও নিষিদ্ধ পন্থায় বালু ও পাথর উত্তোলন করা হচ্ছে। এসব অবৈধ কর্মকাণ্ড থেকে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করছে ওই চক্রের সদস্যরা।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, চাঁদাবাজ চক্রের সদস্যরা এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। সাধারণ ব্যবসায়ী বা পরিবহন শ্রমিকরা এই চক্রের দাবিকৃত চাঁদা না দিলে শারীরিক লাঞ্ছনার শিকার হতে হচ্ছে। নির্বাচনের ডামাডোলে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি কিছুটা শিথিল হওয়ার সুযোগে তারা এখন আরও বেশি বেপরোয়া।

অনিয়ন্ত্রিতভাবে বালু ও পাথর উত্তোলনের ফলে জাফলংয়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য যেমন নষ্ট হচ্ছে, তেমনি হুমকিতে পড়ছে পিয়াইন নদীর তীরবর্তী জনপদ। বড় বড় গর্ত খুঁড়ে পাথর তোলায় ধসের ঝুঁকিতে রয়েছে চা বাগান ও স্থানীয় বসতবাড়ি।
এই বিষয়ে গোয়াইনঘাট থানা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অবৈধ বালু উত্তোলন ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।
উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরে জাফলংয়ে পাথর উত্তোলন বন্ধ থাকলেও একটি প্রভাবশালী চক্র উচ্চ আদালতের দোহাই দিয়ে বা রাতের আঁধারে চুরি করে সম্পদ লুট করে আসছে, যা এখন চরম আকার ধারণ করেছে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

গুড়ায় পাউবোর ভুয়া প্রকল্পে ২১ কোটি টাকা আত্মসাৎ, অনুসন্ধানে দুদক

জাফলংয়ে পাথর-বালু লুটের মহোৎসব, নেপথ্যে শক্তিশালী চাঁদাবাজ সিন্ডিকেট

আপডেট সময় ০৪:০১:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারী ২০২৬

প্রকৃতি কন্যা খ্যাত সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার জাফলংয়ে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজ ও পাথরখেকো চক্র। আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর ব্যস্ততার সুযোগ নিয়ে জাফলংয়ের পিয়াইন নদী ও আশপাশ এলাকায় বালু ও পাথর লুটপাটের মহোৎসব শুরু হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাজনৈতিক অস্থিরতাকে কাজে লাগিয়ে জাফলংয়ের বল্লাঘাট, জিরো পয়েন্ট এবং মন্দিরের জুম এলাকায় সক্রিয় হয়ে উঠেছে বেশ কয়েকটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট। রাতের আঁধারে এমনকি দিনের আলোতেও নিষিদ্ধ পন্থায় বালু ও পাথর উত্তোলন করা হচ্ছে। এসব অবৈধ কর্মকাণ্ড থেকে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করছে ওই চক্রের সদস্যরা।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, চাঁদাবাজ চক্রের সদস্যরা এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। সাধারণ ব্যবসায়ী বা পরিবহন শ্রমিকরা এই চক্রের দাবিকৃত চাঁদা না দিলে শারীরিক লাঞ্ছনার শিকার হতে হচ্ছে। নির্বাচনের ডামাডোলে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি কিছুটা শিথিল হওয়ার সুযোগে তারা এখন আরও বেশি বেপরোয়া।

অনিয়ন্ত্রিতভাবে বালু ও পাথর উত্তোলনের ফলে জাফলংয়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য যেমন নষ্ট হচ্ছে, তেমনি হুমকিতে পড়ছে পিয়াইন নদীর তীরবর্তী জনপদ। বড় বড় গর্ত খুঁড়ে পাথর তোলায় ধসের ঝুঁকিতে রয়েছে চা বাগান ও স্থানীয় বসতবাড়ি।
এই বিষয়ে গোয়াইনঘাট থানা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অবৈধ বালু উত্তোলন ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।
উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরে জাফলংয়ে পাথর উত্তোলন বন্ধ থাকলেও একটি প্রভাবশালী চক্র উচ্চ আদালতের দোহাই দিয়ে বা রাতের আঁধারে চুরি করে সম্পদ লুট করে আসছে, যা এখন চরম আকার ধারণ করেছে।