ঢাকা ০৮:৪৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
জাগৃকে লটারির আড়ালে বদলি বাণিজ্য: অভিযোগের কাঠগড়ায় পরিচালক ফকির মুনওয়ার হোসেন অপুর ‘প্রিয় বন্ধু’কে ঘিরে নেটিজেনদের কৌতূহল প্রেসিডেন্টের প্রাসাদে হুথিদের হামলা, উত্তেজনা তুঙ্গে ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা নির্ধারণ করে অধ্যাদেশ জারি এশীয় সহযোগিতা জোরদারে সিকা সম্মেলনে বাংলাদেশের তিন প্রস্তাব পূজা এলে নিরাপত্তা নিয়ে ভাবতে হবে না, এমন বাংলাদেশ চাই: নাহিদ ইসলাম এলাচ মজুত, জিরায় মেয়াদের তথ্য নেই: চট্টগ্রামে জরিমানা ১ লাখ ৫ হাজার টাকা গণপূর্তের গুরুত্বপূর্ণ বিভাগের দায়িত্বে আওয়ামী লীগ নেতার সন্তান প্রকৌশলী রেজা তৈমূর মালিক বামনায় মাদক-জুয়া ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স স্কুলে মারামারি করা স্বামী-স্ত্রী দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা, বদলির সুপারিশ

জাফলংয়ে পাথর-বালু লুটের মহোৎসব, নেপথ্যে শক্তিশালী চাঁদাবাজ সিন্ডিকেট

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় ০৪:০১:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৭১৭ বার পড়া হয়েছে

প্রকৃতি কন্যা খ্যাত সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার জাফলংয়ে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজ ও পাথরখেকো চক্র। আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর ব্যস্ততার সুযোগ নিয়ে জাফলংয়ের পিয়াইন নদী ও আশপাশ এলাকায় বালু ও পাথর লুটপাটের মহোৎসব শুরু হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাজনৈতিক অস্থিরতাকে কাজে লাগিয়ে জাফলংয়ের বল্লাঘাট, জিরো পয়েন্ট এবং মন্দিরের জুম এলাকায় সক্রিয় হয়ে উঠেছে বেশ কয়েকটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট। রাতের আঁধারে এমনকি দিনের আলোতেও নিষিদ্ধ পন্থায় বালু ও পাথর উত্তোলন করা হচ্ছে। এসব অবৈধ কর্মকাণ্ড থেকে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করছে ওই চক্রের সদস্যরা।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, চাঁদাবাজ চক্রের সদস্যরা এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। সাধারণ ব্যবসায়ী বা পরিবহন শ্রমিকরা এই চক্রের দাবিকৃত চাঁদা না দিলে শারীরিক লাঞ্ছনার শিকার হতে হচ্ছে। নির্বাচনের ডামাডোলে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি কিছুটা শিথিল হওয়ার সুযোগে তারা এখন আরও বেশি বেপরোয়া।

অনিয়ন্ত্রিতভাবে বালু ও পাথর উত্তোলনের ফলে জাফলংয়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য যেমন নষ্ট হচ্ছে, তেমনি হুমকিতে পড়ছে পিয়াইন নদীর তীরবর্তী জনপদ। বড় বড় গর্ত খুঁড়ে পাথর তোলায় ধসের ঝুঁকিতে রয়েছে চা বাগান ও স্থানীয় বসতবাড়ি।
এই বিষয়ে গোয়াইনঘাট থানা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অবৈধ বালু উত্তোলন ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।
উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরে জাফলংয়ে পাথর উত্তোলন বন্ধ থাকলেও একটি প্রভাবশালী চক্র উচ্চ আদালতের দোহাই দিয়ে বা রাতের আঁধারে চুরি করে সম্পদ লুট করে আসছে, যা এখন চরম আকার ধারণ করেছে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জাগৃকে লটারির আড়ালে বদলি বাণিজ্য: অভিযোগের কাঠগড়ায় পরিচালক ফকির মুনওয়ার হোসেন

জাফলংয়ে পাথর-বালু লুটের মহোৎসব, নেপথ্যে শক্তিশালী চাঁদাবাজ সিন্ডিকেট

আপডেট সময় ০৪:০১:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারী ২০২৬

প্রকৃতি কন্যা খ্যাত সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার জাফলংয়ে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজ ও পাথরখেকো চক্র। আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর ব্যস্ততার সুযোগ নিয়ে জাফলংয়ের পিয়াইন নদী ও আশপাশ এলাকায় বালু ও পাথর লুটপাটের মহোৎসব শুরু হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাজনৈতিক অস্থিরতাকে কাজে লাগিয়ে জাফলংয়ের বল্লাঘাট, জিরো পয়েন্ট এবং মন্দিরের জুম এলাকায় সক্রিয় হয়ে উঠেছে বেশ কয়েকটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট। রাতের আঁধারে এমনকি দিনের আলোতেও নিষিদ্ধ পন্থায় বালু ও পাথর উত্তোলন করা হচ্ছে। এসব অবৈধ কর্মকাণ্ড থেকে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করছে ওই চক্রের সদস্যরা।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, চাঁদাবাজ চক্রের সদস্যরা এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। সাধারণ ব্যবসায়ী বা পরিবহন শ্রমিকরা এই চক্রের দাবিকৃত চাঁদা না দিলে শারীরিক লাঞ্ছনার শিকার হতে হচ্ছে। নির্বাচনের ডামাডোলে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি কিছুটা শিথিল হওয়ার সুযোগে তারা এখন আরও বেশি বেপরোয়া।

অনিয়ন্ত্রিতভাবে বালু ও পাথর উত্তোলনের ফলে জাফলংয়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য যেমন নষ্ট হচ্ছে, তেমনি হুমকিতে পড়ছে পিয়াইন নদীর তীরবর্তী জনপদ। বড় বড় গর্ত খুঁড়ে পাথর তোলায় ধসের ঝুঁকিতে রয়েছে চা বাগান ও স্থানীয় বসতবাড়ি।
এই বিষয়ে গোয়াইনঘাট থানা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অবৈধ বালু উত্তোলন ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।
উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরে জাফলংয়ে পাথর উত্তোলন বন্ধ থাকলেও একটি প্রভাবশালী চক্র উচ্চ আদালতের দোহাই দিয়ে বা রাতের আঁধারে চুরি করে সম্পদ লুট করে আসছে, যা এখন চরম আকার ধারণ করেছে।