চলছে যৌন হয়রানির মামলা, মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ আছে, আছে যৌন হয়রানির অভিযোগও; রক্তাক্ত জখম করে জেল খাটার নজিরও রয়েছে, শুটারদের সঙ্গে অপ্রীতিকর ঘটনায় বহিষ্কৃতও হয়েছেন—যার বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড়, সেই জি এম হায়দারকে রক্ষায় উঠেপড়ে লেগেছে বাংলাদেশ শুটিং স্পোর্টস ফেডারেশন!
গতকাল গুলশান শুটিং কমপ্লেক্সের সভাকক্ষে এ-সংক্রান্ত সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছিল। সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বাংলাদেশ শুটিং স্পোর্টস ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস আরা খানম। বক্তব্যে দাবি করা হয়েছে, ‘সাবেক ও বর্তমান শুটাররা আবেগনির্ভর মিথ্যাচারের মাধ্যমে ফেডারেশন ও কর্মকর্তাদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপপ্রয়াস চালাচ্ছেন।’ সাবেক-বর্তমান শুটারদের কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর আগে বাংলাদেশ শুটিং স্পোর্টস ফেডারেশন সংবাদ সম্মেলনের আমন্ত্রণপত্রের গণমাধ্যমে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছে গণমাধ্যমকে। যেখানে উল্লেখ করা হয়েছিল, ‘ফেডারেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় পরিকল্পিত, উদ্দেশ্যেপ্রণোদিত, ভিত্তিহীন এবং বিভ্রান্তিকর প্রোপাগান্ডা, মিথ্যাচার ও মানহানিকর তথ্য প্রচার করা হচ্ছে।’
এমন দাবি যে পাগলের প্রলাপ, তা প্রমাণিত হয় বিগত কয়েক বছরের শুটিং কর্মকাণ্ডের গভীরে প্রবেশ করলে। যেখানে দেখা যাচ্ছে, মামলা, হামলা, যৌন হয়রানি, মানসিক নির্যাতন এবং নানা অপ্রীতিকর ঘটনার সুস্পষ্ট এবং সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছিল যুগ্ম সম্পাদক পদ থেকে সম্প্রতি অব্যাহতি পাওয়া জি এম হায়দারের বিরুদ্ধে।
সংবাদ সম্মেলনে ‘অপপ্রচার’ সংক্রান্ত যে দাবি করা হয়েছে, সেটা আদৌ যৌক্তিক কি না, তা পরিষ্কার হবে সাম্প্রতিক নানা ঘটনায় দৃষ্টি রাখলে। চলুন বিভিন্ন ঘটনায় চোখ বোলানো যাক। জি এম হায়দারের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগে ২৮ নভেম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা করেছেন সাবেক শুটার শারমিন আক্তার রত্না; যার আইনি কার্যক্রম বর্তমানে চলমান। মানসিক নির্যাতন ও হয়রানির অভিযোগ এনে একই ব্যক্তির বিরুদ্ধে ২৬ নভেম্বর গুলশান থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন শুটার কামরুন নাহার কলি। সম্প্রতি আরেক শুটার তাসমিয়াতি এমা জি এম হায়দারের বিরুদ্ধে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে (এনএসসি) অভিযোগ করেন। তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি ঘটনার তদন্ত করে। যার প্রতিবেদনও দেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে জি এম হায়দারকে বর্তমান কমিটি থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
একই ব্যক্তি অতীতে ঢাকা শুটিং ক্লাবের এক কর্মকর্তাকে রক্তাক্ত জখম করার ঘটনায় দণ্ডিত হয়ে কারাভোগ করেন। এক নারী শুটারের সঙ্গে আপত্তিকর ফোনকল রেকর্ডও ফাঁস হয় তার। শুটিং অঙ্গনে অপ্রীতিকর কর্মকাণ্ড এবং শুটারদের সঙ্গে অনৈতিক ও কুরুচিপূর্ণ কর্মকাণ্ডের জন্য ২০২১ সালে বাংলাদেশ শুটিং স্পোর্টস ফেডারেশন থেকে বহিষ্কৃত হন সেই ব্যক্তি।
এই জি এম হায়দার ছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে শুটিং ফেডারেশনের অন্য কোনো কর্মকর্তাকে নিয়ে কারোর গুরুতর অভিযোগ ছিল না, কিংবা কোনো কর্মকর্তাকে নিয়ে নেতিবাচক সংবাদও প্রকাশিত হয়নি। এ অবস্থায় বাংলাদেশ শুটিং ফেডারেশনের সংবাদ সম্মেলন যে বিতর্কিত জি এম হায়দারকেই ইঙ্গিত করা হয়েছে—এটা পরিষ্কার। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, যাকে কমিটি থেকে প্রত্যাহার করেছে ক্রীড়াঙ্গনের অভিভাবক সংস্থা এনএসসি, যার বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড়; তার পক্ষে গলা ফাটানো কার স্বার্থে!
নিজস্ব প্রতিবেদক 




















