ঢাকা ০৫:২৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
আওয়ামী দোসরদের পুনর্বাসনের অভিযোগে এসআরডিআইতে বিতর্ক, তদন্তের দাবি বঙ্গভবন ছাড়লেন মো. সাহাবুদ্দিন নীলফামারী সদরের ইটাখোলায় রাস্তার সংস্কার কাজ বিলম্ব করায় এলাকাবাসীর মানববন্ধন সাবেক রাষ্ট্রপতি আইন অনুযায়ী সব সুবিধা পাবেন : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কসবায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে বাস, আহত অন্তত ২০ শতাধিক উদ্ভাবনী প্রকল্প নিয়ে শুরু আইপিএসসি বিজ্ঞান ও সাংস্কৃতিক উৎসব হাসিনা-বেনজীরসহ ৮ জনের নামে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানালেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি সেনাসদর নির্বাচনী পর্ষদ-২০২৬ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী রাজৈরে মাদারীপুর ২ আসনের সংসদ সদস্য উপজেলা নিজ অফিসে প্রথম কার্য দিবস শুরু

খাবার খাচ্ছে না বাঘিনীটি বাঁ পায়ে গভীর ক্ষত

  • খুলনা প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় ০৫:৪৫:২৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৬৪০ বার পড়া হয়েছে

সুন্দরবনে হরিণ শিকারিদের পাতা ফাঁদে আটকে পড়া বাঘিনীটি উদ্ধারের পর নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। গত রোববার সন্ধ্যার পর প্রাণীটি খুলনার বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের রেসকিউ সেন্টারে নেওয়া হয়। বর্তমানে সেখানেই চিকিৎসা চলছে। তবে উদ্ধারের ২৪ ঘণ্টা পরও ট্রমা কাটেনি। সোমবার দুপুর পর্যন্ত খাবার মুখে দেয়নি বাঘিনীটি। কয়েক দিন ধরে ফাঁদে আটকে থাকায় কোনো খাবার পায়নি। এ কারণে প্রাণীটি শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে। আপাতত স্যালাইন মিশ্রিত পানি পান করছে।

গত শনিবার দুপুরের পর বন বিভাগের কাছে খবর আসে, হরিণ শিকারের ফাঁদে একটি বাঘ আটকে রয়েছে। রোববার দুপুরে ‘ট্রানকুইলাইজার গান’ দিয়ে ইনজেকশন পুশ করে অচেতনের পর প্রাণীটি ফাঁদ থেকে উদ্ধার করা হয়। প্রথমে জানা গিয়েছিল বাঘটি পুরুষ। তবে গতকাল বন বিভাগ নিশ্চিত করে, এটি পূর্ণ বয়স্ক বাঘিনী। ওজন প্রায় ১০০ কেজি।

প্রায় চার-পাঁচ দিন ধরে প্রাণীটি আটকা ছিল বলে ধারণা করছেন বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞরা। বন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, টানা কয়েক দিন ধারালো ও মজবুত ফাঁদে আটকে থেকে সামনের বাঁ পায়ে গভীর ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছে। পায়ের নিচের অংশে রক্ত চলাচল দীর্ঘ সময় বন্ধ ছিল। সেখানে ঘায়ের মতো তৈরি হয়েছে। উদ্ধারের পর সেখানে জীবাণুনাশক স্প্রে দিয়েছেন চিকিৎসকরা। বাঘিনীটি এখনও আশঙ্কামুক্ত নয়।
বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা নির্মল কুমার পাল জানান, খুলনায় নেওয়ার পর রাতে বাঘিনীর চেতনা ফেরে। রাত ১০টায় একবার উঠে বসে। তবে কিছু মুখে দেয়নি। আগে থেকেই স্যালাইন মিশ্রিত পানি দেওয়া হয়েছিল। সোমবার সকালে অল্প করে পানি পান করেছে। কিন্তু অন্য কোনো খাবার মুখে তোলেনি।

তিনি জানান, বাঘিনীকে আস্ত মুরগি দেওয়া হয়েছিল। না খাওয়ায় পরে মুরগি কেটে টুকরো করে দেওয়া হয়। দুপুর পর্যন্ত তাও মুখে দেয়নি। তাকে গরুর কলিজা দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকায় বাঘিনীটি দুর্বল হয়ে পড়ে। খাবার না খাওয়ায় কিছুটা দুশ্চিন্তা হচ্ছিল। এ ছাড়া বাঁ পায়ে তৈরি হওয়া গভীর ক্ষত প্রাণীটিকে কষ্ট দিচ্ছে।
নির্মল কুমার পাল বলেন, কয়েক দিন ধরে ফাঁদে আটকা থাকায় বাঘিনীটির মধ্যে এক ধরনের ট্রমা তৈরি হয়েছে। রোববার সারারাত খাঁচা থেকে বের হয়নি। সোমবার দুপুর পর্যন্ত মাত্র দুইবার বের হয়েছে। মানুষ দেখে তার মধ্যে যেন আতঙ্ক তৈরি না হয়, সেজন্য খাঁচার চারপাশে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রের ভেতর কোনো মানুষ প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। গাজীপুর সাফারি পার্কের ভেটেরিনারি সার্জন জুলকার নাইমের তত্ত্বাবধানে বাঘিনীর চিকিৎসা চলছে।

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আওয়ামী দোসরদের পুনর্বাসনের অভিযোগে এসআরডিআইতে বিতর্ক, তদন্তের দাবি

খাবার খাচ্ছে না বাঘিনীটি বাঁ পায়ে গভীর ক্ষত

আপডেট সময় ০৫:৪৫:২৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারী ২০২৬

সুন্দরবনে হরিণ শিকারিদের পাতা ফাঁদে আটকে পড়া বাঘিনীটি উদ্ধারের পর নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। গত রোববার সন্ধ্যার পর প্রাণীটি খুলনার বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের রেসকিউ সেন্টারে নেওয়া হয়। বর্তমানে সেখানেই চিকিৎসা চলছে। তবে উদ্ধারের ২৪ ঘণ্টা পরও ট্রমা কাটেনি। সোমবার দুপুর পর্যন্ত খাবার মুখে দেয়নি বাঘিনীটি। কয়েক দিন ধরে ফাঁদে আটকে থাকায় কোনো খাবার পায়নি। এ কারণে প্রাণীটি শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে। আপাতত স্যালাইন মিশ্রিত পানি পান করছে।

গত শনিবার দুপুরের পর বন বিভাগের কাছে খবর আসে, হরিণ শিকারের ফাঁদে একটি বাঘ আটকে রয়েছে। রোববার দুপুরে ‘ট্রানকুইলাইজার গান’ দিয়ে ইনজেকশন পুশ করে অচেতনের পর প্রাণীটি ফাঁদ থেকে উদ্ধার করা হয়। প্রথমে জানা গিয়েছিল বাঘটি পুরুষ। তবে গতকাল বন বিভাগ নিশ্চিত করে, এটি পূর্ণ বয়স্ক বাঘিনী। ওজন প্রায় ১০০ কেজি।

প্রায় চার-পাঁচ দিন ধরে প্রাণীটি আটকা ছিল বলে ধারণা করছেন বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞরা। বন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, টানা কয়েক দিন ধারালো ও মজবুত ফাঁদে আটকে থেকে সামনের বাঁ পায়ে গভীর ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছে। পায়ের নিচের অংশে রক্ত চলাচল দীর্ঘ সময় বন্ধ ছিল। সেখানে ঘায়ের মতো তৈরি হয়েছে। উদ্ধারের পর সেখানে জীবাণুনাশক স্প্রে দিয়েছেন চিকিৎসকরা। বাঘিনীটি এখনও আশঙ্কামুক্ত নয়।
বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা নির্মল কুমার পাল জানান, খুলনায় নেওয়ার পর রাতে বাঘিনীর চেতনা ফেরে। রাত ১০টায় একবার উঠে বসে। তবে কিছু মুখে দেয়নি। আগে থেকেই স্যালাইন মিশ্রিত পানি দেওয়া হয়েছিল। সোমবার সকালে অল্প করে পানি পান করেছে। কিন্তু অন্য কোনো খাবার মুখে তোলেনি।

তিনি জানান, বাঘিনীকে আস্ত মুরগি দেওয়া হয়েছিল। না খাওয়ায় পরে মুরগি কেটে টুকরো করে দেওয়া হয়। দুপুর পর্যন্ত তাও মুখে দেয়নি। তাকে গরুর কলিজা দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকায় বাঘিনীটি দুর্বল হয়ে পড়ে। খাবার না খাওয়ায় কিছুটা দুশ্চিন্তা হচ্ছিল। এ ছাড়া বাঁ পায়ে তৈরি হওয়া গভীর ক্ষত প্রাণীটিকে কষ্ট দিচ্ছে।
নির্মল কুমার পাল বলেন, কয়েক দিন ধরে ফাঁদে আটকা থাকায় বাঘিনীটির মধ্যে এক ধরনের ট্রমা তৈরি হয়েছে। রোববার সারারাত খাঁচা থেকে বের হয়নি। সোমবার দুপুর পর্যন্ত মাত্র দুইবার বের হয়েছে। মানুষ দেখে তার মধ্যে যেন আতঙ্ক তৈরি না হয়, সেজন্য খাঁচার চারপাশে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রের ভেতর কোনো মানুষ প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। গাজীপুর সাফারি পার্কের ভেটেরিনারি সার্জন জুলকার নাইমের তত্ত্বাবধানে বাঘিনীর চিকিৎসা চলছে।