ঢাকা ০১:৩১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
হঠাৎ পরিদর্শনে গিয়ে চিকিৎসকসহ দুই স্বাস্থ্যকর্মীকে বরখাস্ত করলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী তরুণ উদ্ভাবকরাই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ : প্রধানমন্ত্রী কালিয়াকৈরে ৫০ ভিক্ষুক পরিবারের পুনর্বাসনে ২৪ লাখ টাকার বকনা গরু বিতরণ জুলাইয়ে রেমিট্যান্স এলো ২৮৫ কোটি ৯০ লাখ ডলার ফেনী পাসপোর্ট অফিসের এডি জাহাঙ্গীরকে ঘিরে দালাল সিন্ডিকেটের অভিযোগ সিলেটে দল বদলেছে, দখল বদলায়নি; চাঁদাবাজি চলছে আগের মতোই ডিএনসিসি প্রশাসক ও ঢাকা-১৮ এর এমপির ওপর হামলার চেষ্টার অভিযোগ রায়পুরায় মোমেন মিয়া কে গুলি করে হত্যা, আহত ৩ বরগুনায় ডিবির অভিযানে ৩ কেজি গাঁজাসহ মাদক কারবারি গ্রেফতার চট্টগ্রাম গণপূর্তে প্রকৌশলী মেহেদী ও এনডিইকে ঘিরে ৫০ লাখ টাকার ঘুষের অভিযোগ

শীতে রুম হিটার ব্যবহারে যেসব সতর্কতা মেনে চলবেন

শীতের প্রকোপ বেড়েছে। অনেকেই কনকনে এই ঠান্ডায় ঘরকে উষ্ণ ও আরামদায়ক রাখতে রুম হিটার ব্যবহার করছেন। এতে ঘরে উষ্ণ হচ্ছে ঠিকই, তবে অসাবধানতায় এটি ডেকে আনতে পারে ভয়াবহ বিপদ। দীর্ঘক্ষণ রুম হিটার ব্যবহার করা স্বাস্থ্যের জন্য যেমন ক্ষতিকর হতে পারে, তেমনি যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ঘটতে পারে অগ্নিকাণ্ডও।

সঠিক নিয়মে ব্যবহার করলে রুম হিটার নিরাপদ, কিন্তু এর কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও ঝুঁকি রয়েছে। যেমন- বাতাসের আর্দ্রতা হ্রাস: রুম হিটার বাতাসের জলীয় বাষ্প বা আর্দ্রতা শুষে নেয়। এর ফলে ঘরের বাতাস অতিরিক্ত শুষ্ক হয়ে যায়, যা ত্বক ও চোখের জন্য অনেক ক্ষতিকর।

অক্সিজেনের স্বল্পতা: গ্যাস বা কয়লাভিত্তিক কিছু হিটার এবং সস্তা ইলেকট্রিক হিটার অনেক সময় ঘরের অক্সিজেন পুড়িয়ে কার্বন মনোক্সাইড তৈরি করতে পারে। এর ফলে শ্বাসকষ্ট হতে পারে।

অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি: হিটারের ওপর কাপড় শুকানো বা দাহ্য পদার্থের কাছে রাখা থেকে আগুন লাগার ঘটনা ঘটনা প্রায়ই ঘটে।

ঘর পুরোপুরি বন্ধ করা ঠিক নয়
হিটার চালানোর সময় ঘরের দরজা বা জানলা একদম ছিদ্রহীনভাবে বন্ধ রাখা ঠিক নয়। দরজা-জানালা সামান্য ফাঁক রাখুন যাতে অক্সিজেন চলাচল করতে পারে। এর ফলে কার্বন মনোক্সাইড বিষক্রিয়ার ঝুঁকি কমে।

পানির পাত্র রাখা
বাতাসের আর্দ্রতা বজায় রাখতে হিটারের থেকে কিছুটা দূরে এক বাটি পানি রেখে দিন। এটি ঘরের বাতাসকে অতিরিক্ত শুষ্ক হতে বাধা দেবে। এর ফলে নাক-মুখ শুকিয়ে যাওয়া বা গলার অস্বস্তি কমবে।

দাহ্য বস্তু থেকে দূরত্ব
বিছানা, পর্দা, আসবাবপত্র বা কাগজের স্তূপ থেকে হিটারটি অন্তত ৩ ফুট দূরে রাখুন। হিটারের গায়ে কোনো কাপড় বা তোয়ালে শুকোতে দেওয়া যাবে না।

সরাসরি মাটিতে এবং শক্ত সমতলে রাখা
হিটার সবসময় শক্ত ও সমতল মেঝেতে রাখুন। কার্পেট বা ম্যাটের ওপর হিটার রাখলে তা অতিরিক্ত গরম হয়ে আগুন লাগার ঝুঁকি থাকে।

শিশুদের থেকে দূরে রাখা
শিশুরা কৌতূহলবশত অনেক সময় হিটারের গায়ে হাত দিতে পারে। এ কারণে হিটার এমন উচ্চতায় বা স্থানে রাখুন যেখানে শিশুর হাত না পৌঁছায়।

ব্যবহারের সময়সীমা নিয়ন্ত্রণ
সারারাত হিটার চালিয়ে ঘুমানো ঠিক নয়। ঘুমানোর কিছুক্ষণ আগে রুম গরম করে হিটার বন্ধ করে দেওয়া সবচেয়ে নিরাপদ।

পাওয়ার স্ট্রিপ বা মাল্টিপ্লাগ এড়িয়ে চলা
রুম হিটার প্রচুর বিদ্যুৎ টানে। তাই এটি সরাসরি দেওয়ালের মেইন সকেটে লাগানো উচিত। মাল্টিপ্লাগ ব্যবহার করলে তা গরম হয়ে গলে যেতে পারে বা শর্ট সার্কিট হতে পারে। সেন্সর ও সেফটি ফিচার চেক করা
হিটার কেনার সময় তাতে ‘অটো কাট-অফ’ বা ‘টিপ-ওভার সুইচ’ সুবিধা আছে কি না দেখে নিন।

নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ
হিটারের কয়েলে ধুলো জমে থাকলে তা থেকে দুর্গন্ধ বের হতে পারে বা যান্ত্রিক সমস্যা হতে পারে। ব্যবহারের আগে শুকনো কাপড় দিয়ে পরিষ্কার করুন।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

হঠাৎ পরিদর্শনে গিয়ে চিকিৎসকসহ দুই স্বাস্থ্যকর্মীকে বরখাস্ত করলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী

শীতে রুম হিটার ব্যবহারে যেসব সতর্কতা মেনে চলবেন

আপডেট সময় ০৩:৪১:৪৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ জানুয়ারী ২০২৬

শীতের প্রকোপ বেড়েছে। অনেকেই কনকনে এই ঠান্ডায় ঘরকে উষ্ণ ও আরামদায়ক রাখতে রুম হিটার ব্যবহার করছেন। এতে ঘরে উষ্ণ হচ্ছে ঠিকই, তবে অসাবধানতায় এটি ডেকে আনতে পারে ভয়াবহ বিপদ। দীর্ঘক্ষণ রুম হিটার ব্যবহার করা স্বাস্থ্যের জন্য যেমন ক্ষতিকর হতে পারে, তেমনি যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ঘটতে পারে অগ্নিকাণ্ডও।

সঠিক নিয়মে ব্যবহার করলে রুম হিটার নিরাপদ, কিন্তু এর কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও ঝুঁকি রয়েছে। যেমন- বাতাসের আর্দ্রতা হ্রাস: রুম হিটার বাতাসের জলীয় বাষ্প বা আর্দ্রতা শুষে নেয়। এর ফলে ঘরের বাতাস অতিরিক্ত শুষ্ক হয়ে যায়, যা ত্বক ও চোখের জন্য অনেক ক্ষতিকর।

অক্সিজেনের স্বল্পতা: গ্যাস বা কয়লাভিত্তিক কিছু হিটার এবং সস্তা ইলেকট্রিক হিটার অনেক সময় ঘরের অক্সিজেন পুড়িয়ে কার্বন মনোক্সাইড তৈরি করতে পারে। এর ফলে শ্বাসকষ্ট হতে পারে।

অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি: হিটারের ওপর কাপড় শুকানো বা দাহ্য পদার্থের কাছে রাখা থেকে আগুন লাগার ঘটনা ঘটনা প্রায়ই ঘটে।

ঘর পুরোপুরি বন্ধ করা ঠিক নয়
হিটার চালানোর সময় ঘরের দরজা বা জানলা একদম ছিদ্রহীনভাবে বন্ধ রাখা ঠিক নয়। দরজা-জানালা সামান্য ফাঁক রাখুন যাতে অক্সিজেন চলাচল করতে পারে। এর ফলে কার্বন মনোক্সাইড বিষক্রিয়ার ঝুঁকি কমে।

পানির পাত্র রাখা
বাতাসের আর্দ্রতা বজায় রাখতে হিটারের থেকে কিছুটা দূরে এক বাটি পানি রেখে দিন। এটি ঘরের বাতাসকে অতিরিক্ত শুষ্ক হতে বাধা দেবে। এর ফলে নাক-মুখ শুকিয়ে যাওয়া বা গলার অস্বস্তি কমবে।

দাহ্য বস্তু থেকে দূরত্ব
বিছানা, পর্দা, আসবাবপত্র বা কাগজের স্তূপ থেকে হিটারটি অন্তত ৩ ফুট দূরে রাখুন। হিটারের গায়ে কোনো কাপড় বা তোয়ালে শুকোতে দেওয়া যাবে না।

সরাসরি মাটিতে এবং শক্ত সমতলে রাখা
হিটার সবসময় শক্ত ও সমতল মেঝেতে রাখুন। কার্পেট বা ম্যাটের ওপর হিটার রাখলে তা অতিরিক্ত গরম হয়ে আগুন লাগার ঝুঁকি থাকে।

শিশুদের থেকে দূরে রাখা
শিশুরা কৌতূহলবশত অনেক সময় হিটারের গায়ে হাত দিতে পারে। এ কারণে হিটার এমন উচ্চতায় বা স্থানে রাখুন যেখানে শিশুর হাত না পৌঁছায়।

ব্যবহারের সময়সীমা নিয়ন্ত্রণ
সারারাত হিটার চালিয়ে ঘুমানো ঠিক নয়। ঘুমানোর কিছুক্ষণ আগে রুম গরম করে হিটার বন্ধ করে দেওয়া সবচেয়ে নিরাপদ।

পাওয়ার স্ট্রিপ বা মাল্টিপ্লাগ এড়িয়ে চলা
রুম হিটার প্রচুর বিদ্যুৎ টানে। তাই এটি সরাসরি দেওয়ালের মেইন সকেটে লাগানো উচিত। মাল্টিপ্লাগ ব্যবহার করলে তা গরম হয়ে গলে যেতে পারে বা শর্ট সার্কিট হতে পারে। সেন্সর ও সেফটি ফিচার চেক করা
হিটার কেনার সময় তাতে ‘অটো কাট-অফ’ বা ‘টিপ-ওভার সুইচ’ সুবিধা আছে কি না দেখে নিন।

নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ
হিটারের কয়েলে ধুলো জমে থাকলে তা থেকে দুর্গন্ধ বের হতে পারে বা যান্ত্রিক সমস্যা হতে পারে। ব্যবহারের আগে শুকনো কাপড় দিয়ে পরিষ্কার করুন।